ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’ এগিয়ে আসছে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’ নিয়ে আবহাওয়াবিদরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঝড়ের গতি-প্রকৃতি নিয়ে আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন তারা। কোথায় কখন আঘাত হানবে সেটা জানতে আরও দুই দিন সময় লাগবে জানিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তার আশপাশের এলাকায় থাকা নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে গতকাল সকালে ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’তে পরিণত হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। সে কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোকে দুই নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ১২ মে বৃহস্পতিবার ভারতীয় উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’র বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা এখন পর্যন্ত নেই বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।

এদিকে ‘আসানি’র প্রভাবে রাজধানীসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে বৃষ্টি স্বস্তি এনেছে। বৈশাখের প্রচন্ড গরমে মানুষ যখন অস্থির তখন বৃষ্টির ছোঁয়া মানুষকে স্বস্তি দিলেও হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি বাইরে বেরোনো মানুষদের দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে। আধাঘণ্টার বৃষ্টিতে মিরপুর থেকে শুরু করে ফার্মগেট পর্যন্ত এলাকায় পানি কাদায় একাকার হয়ে গেলেও পল্টন, মতিঝিলে এসে রোদের দেখা মেলে। এটাই ‘আসানি’র বৈশিষ্ট্য বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে যেকোন সময় তুমুল ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা আছে বলেও জানান তারা।

কোন দুর্ঘটনা যেন না ঘটে এজন্য আবহাওয়া অধিদপ্তর গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’ যদি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলের দিকে আসে, তাহলে তা মাঝারি মাত্রার ঝড়ে পরিণত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেটি কোথায় গিয়ে আঘাত করবে তা আরও দুদিন পর বলা যাবে। ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ এখন ঘণ্টায় ১৬ কিলোমিটার।

লঘুচাপটি গতকাল সকালে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ১৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। যেদিকে যাচ্ছে এটি যদি সেদিকে ধাবিত হয় তাহলে ভারতের বিশাখাপত্তম, উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানার পর বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে।

তিনি বলেন, আবহাওয়াবিদ এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া অফিস ধারণা করছে, আগামী ১২ মে সকালে ঘূর্ণিঝড়টি বিশাখাপতœম, ভুবনেশ্বর, পশ্চিমবঙ্গ স্পর্শ করে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে। বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এছাড়া ‘আসানি’র প্রভাবে বাংলাদেশে ঝড়-বৃষ্টি হবে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস হবে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এনামুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় যেকোন সময় যেকোন দিকে মোড় নিতে পারে। এখন এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে ধাবিত হচ্ছে। এটি যদি উত্তর দিকে ধাবিত হয়, তাহলে আমাদের দেশের সাতক্ষীরা, খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীতে আঘাত হানতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে সভা করেছি, তাদের সচেতন করে দেয়া হয়েছে। মাঠে আছে সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকরা। তারা ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা প্রচার করছে। আমরা আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করার নির্দেশনা দিয়েছি। সেগুলোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ। সেখানে রান্না করা খাবার দেয়ার জন্য চাল ও অর্থ দিয়েছি। মোটামুটি প্রস্তুতি আছে। করোনার কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষকে আশ্রয় দেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।

সোমবার, ০৯ মে ২০২২ , ২৬ বৈশাখ ১৪২৮ ০৬ শাওয়াল ১৪৪৩

ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’ এগিয়ে আসছে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’ নিয়ে আবহাওয়াবিদরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঝড়ের গতি-প্রকৃতি নিয়ে আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন তারা। কোথায় কখন আঘাত হানবে সেটা জানতে আরও দুই দিন সময় লাগবে জানিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তার আশপাশের এলাকায় থাকা নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে গতকাল সকালে ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’তে পরিণত হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। সে কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোকে দুই নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ১২ মে বৃহস্পতিবার ভারতীয় উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’র বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা এখন পর্যন্ত নেই বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।

এদিকে ‘আসানি’র প্রভাবে রাজধানীসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে বৃষ্টি স্বস্তি এনেছে। বৈশাখের প্রচন্ড গরমে মানুষ যখন অস্থির তখন বৃষ্টির ছোঁয়া মানুষকে স্বস্তি দিলেও হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি বাইরে বেরোনো মানুষদের দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে। আধাঘণ্টার বৃষ্টিতে মিরপুর থেকে শুরু করে ফার্মগেট পর্যন্ত এলাকায় পানি কাদায় একাকার হয়ে গেলেও পল্টন, মতিঝিলে এসে রোদের দেখা মেলে। এটাই ‘আসানি’র বৈশিষ্ট্য বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে যেকোন সময় তুমুল ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা আছে বলেও জানান তারা।

কোন দুর্ঘটনা যেন না ঘটে এজন্য আবহাওয়া অধিদপ্তর গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’ যদি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলের দিকে আসে, তাহলে তা মাঝারি মাত্রার ঝড়ে পরিণত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেটি কোথায় গিয়ে আঘাত করবে তা আরও দুদিন পর বলা যাবে। ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ এখন ঘণ্টায় ১৬ কিলোমিটার।

লঘুচাপটি গতকাল সকালে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ১৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। যেদিকে যাচ্ছে এটি যদি সেদিকে ধাবিত হয় তাহলে ভারতের বিশাখাপত্তম, উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানার পর বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে।

তিনি বলেন, আবহাওয়াবিদ এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া অফিস ধারণা করছে, আগামী ১২ মে সকালে ঘূর্ণিঝড়টি বিশাখাপতœম, ভুবনেশ্বর, পশ্চিমবঙ্গ স্পর্শ করে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে। বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এছাড়া ‘আসানি’র প্রভাবে বাংলাদেশে ঝড়-বৃষ্টি হবে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস হবে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এনামুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় যেকোন সময় যেকোন দিকে মোড় নিতে পারে। এখন এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে ধাবিত হচ্ছে। এটি যদি উত্তর দিকে ধাবিত হয়, তাহলে আমাদের দেশের সাতক্ষীরা, খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীতে আঘাত হানতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে সভা করেছি, তাদের সচেতন করে দেয়া হয়েছে। মাঠে আছে সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকরা। তারা ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা প্রচার করছে। আমরা আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করার নির্দেশনা দিয়েছি। সেগুলোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ। সেখানে রান্না করা খাবার দেয়ার জন্য চাল ও অর্থ দিয়েছি। মোটামুটি প্রস্তুতি আছে। করোনার কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষকে আশ্রয় দেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।