অবশেষে টিটিই শফিকুলের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

রেলমন্ত্রীর নির্দেশে অবশেষে টিকেট পরিদর্শক (টিটিই) শফিকুল ইসলামের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। রেলওয়ের পাকশীর সেই ডিসিও (বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা) নাসির উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। আর বিনা টিকেটে ভ্রমণ করায় রেলমন্ত্রীর আত্মীয়দের জরিমানা করায় টিটিই বরখাস্তের ঘটনায় তদন্ত কমিটির মেয়াদ আরও দুইদিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে সাংবাদিকরা বাড়াবাড়ি করছে, দাবি রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর সেই ভাগ্নে ইমরুল কায়েস প্রান্তর।

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন টিটিইকে বরখাস্ত নিয়ম মেনে করা হয়নি। আর বিনা টিকেটে ট্রেনে ভ্রমণকারীরা তার স্ত্রীর আত্মীয় বলে স্বীকার করেছেন রেলমন্ত্রী। রেল মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল রেলমন্ত্রী বলেন, তিনি জানতেন না তারা তার স্ত্রীর আত্মীয়। তিনি পরে জানতে পেরেছেন। তবে তিনি বলেন, ‘তার স্ত্রী শুধু অভিযোগ করেছেন, কাউকে বরখাস্ত করতে বলেননি।’

গত শনিবার ঢাকায় নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেলমন্ত্রী বলেছিলেন, কারা তার ‘আত্মীয় পরিচয় দিয়েছেন, তাদের তিনি চেনেন না’।

টিকেট পরিদর্শক শফিকুলকে বরখাস্তের কারণ হিসেবে অভিযোগ করা হয়েছিল তিনি যাত্রীদের সঙ্গে ‘দুর্ব্যবহার’ করেন এবং তিনি ‘নেশাগ্রস্ত’। তবে রেল ভবনের কর্মকর্তারা জানান, এর আগে শফিকুলের বিরুদ্ধে এ রকম কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাকে দেখে কখনও নেশাগ্রস্ত মনে হয়নি। ডিসিও তার বিরুদ্ধে লিখিত যে অভিযোগ করেছে তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আর এই কেলেঙ্কারির পর মন্ত্রী বা কর্মকর্তাদের আত্মীয় পরিচয়ে কেউ বাড়তি সুবিধা চাইলেও তা না দিতে রেলকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত ৫ মে রাতে ঈশ্বরদী থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসে ওঠা তিন যাত্রীকে বিনা টিকেটে ভ্রমণের জন্য জরিমানা করেছিলেন টিটিই শফিকুল ইসলাম। ওই তিন যাত্রী রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নিকটাত্মীয়।

এ বিষয়ে রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর মামাতো বোন ইয়াসমিন আক্তার, যিনি ওই তিন যাত্রীর একজন মো. ইমরুল কায়েসের মা, সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার পর রেলমন্ত্রী আমাদের চেনেন না বলায় কষ্ট পেয়েছিলাম। পরে তিনি (রেলমন্ত্রী) নিজেই ফোন দিয়ে বলেছেন, ‘আপা, আমি যা বলেছি, এতে মন খারাপ করবেন না’।’

তবে গতকাল সাংবাদিকদের কাছে সেই ফোনালাপ মিথ্যা বলে দাবি করেন রেলমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে ওনার কথা হয়েছে, এই কথাগুলো ডাহা মিথ্যা। তার সঙ্গে আমার টেলিফোনে কোন কথাই হয় নাই।’

ওই ঘটনায় ‘বিব্রত’ উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘রেলের সেবায় অসন্তুষ্ট হলে সাধারণ যাত্রী ও তার পরিবার হিসেবে অভিযোগ জানাতে পারে। কিন্তু মন্ত্রীর বউ হিসেবে অভিযোগ জানাতে পারে না। এ জায়গাটায় কিছু ব্যত্যয় হয়েছে বলে আমি মনে করি। রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব স্বচ্ছভাবে আমি পালনের চেষ্টা করেছি। এই ঘটনায় আমি বিব্রত।’

টিটিইর বহিষ্কারাদেশটি ‘সঠিক হয়নি’ বললেন মন্ত্রী

গতকাল রেল ভবনে সাংবাদিকদের রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘টিটিইর বহিষ্কারাদেশটি ‘সঠিক হয়নি’। ইতোমধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেহেতু এটা ডিউ প্রসেস (নিয়ম মেনে) করা হয়নি, তাই তার সাসপেনশন অর্ডার (বরখাস্তের আদেশ) আমরা উইথড্র (প্রত্যাহার) করেছি। যে ডিসিও (ডিভিশনাল কর্মাশিয়াল অফিসার) এ ধরনের অর্ডার দিয়েছে, তাকে শোকজ করছি যে, সে এই অর্ডার কীভাবে দিল। একজন যাত্রী ঢাকা আসতেছেন, এই অল্প সময়ের মধ্যে সে লিখিত অভিযোগটা কীভাবে পেল। বোঝা গেল, টেলিফোনে অভিযোগের ভিত্তিতে সে ব্যবস্থা নিয়েছে। এটার ব্যাখ্যা আমরা চেয়েছি।’

বিনা টিকেটের যাত্রীদের জরিমানা করার পর তার স্ত্রী রেলের একজন কর্মকর্তাকে টেলিফোন করে অভিযোগ করেছিলেন স্বীকার করে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘যাত্রীরা যে অভিযোগ করেছে। আমার ওয়াইফও একই রকমের অভিযোগ দিয়েছে। যে লিখিত অভিযোগটা দেয়া হয়েছে, সেটা যখন তাকে জানানো হয়, তখন আমার ওয়াইফও একই রকমের অভিযোগ দিয়েছে যে, এদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয়নি। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে (টিটিইকে বরখাস্ত) করছে কি-না, সেজন্য তো শোকজ করেছি আমরা। এখনও তো ডিসিওর বক্তব্য আমরা পাইনি।’

তবে রেল ভবনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন টিটিএ শফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্তের আগে সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তারা সঙ্গে আলাপ করেনি ডিসিও। মন্ত্রীর স্ত্রীর ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিটিইকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

‘স্ত্রীর আত্মীয়’ এটা আমার জানা ছিল না-দাবি রেলমন্ত্রী

‘রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে বিনা টিকেটে ভ্রমণকারীকে জরিমানা করায় টিটিই বরখাস্তের’ ঘটনা সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি করার পর মন্ত্রী তার স্ত্রীর কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন। তার কথায় টিটিই বরখাস্ত হয়েছেন, সেটাও তিনি জানতেন না বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী বলেন, শনিবার পর্যন্ত তিনি ‘জানতেন না’ যে, বিনা টিকেটে ভ্রমণ করা ওই তিনজন তার আত্মীয়। ‘আমার নিজের ভাইগ্না-ভাগ্নি আছে ৩৭ জন। তাদের ছেলেমেয়ে আছে, পুতি পর্যন্ত আছে। এখন কে কোথায় আত্মীয় পরিচয় দিয়েছে, সেটা তো আমরা পক্ষে জানা সম্ভব না। যাত্রী হয়ে বিনা টিকেটে ভ্রমণ করে, এটা তো নতুন কিছু না। এজন্য টিটিদের কাজ জরিমানা করে রিসিট দেয়।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শোনেন, এই ঘটনা আপনারা যেভাবে শুনেছেন, আমিও সেভাবে শুনেছি। আমি আগাম কিছু শুনিনি। আমার স্ত্রীর খালাতো বোন বা মামাতো বোন দাবী করে যে কথাগুলো বলেছে, আপনারা যেভাবে শুনেছেন, আমিও মন্ত্রী হিসাবে এইভাবে শুনেছি। কিন্তু আমি আগে থেকেই জানতাম বা অমুক আত্মীয়-এটা আমার জানা ছিল না।’

নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘নতুন যাকে আমি স্ত্রী হিসাবে নিলাম, তার আমাকেও বুঝে উঠতে সময় লাগবে। ভুলভ্রান্তি হলে মানুষ তো সেভাবেই দেখবে। এখানে যদি দেখা যায় আমার স্ত্রী কোন দোষ করে থাকে, ইয়ে করে থাকে, কিন্তু এটা আমার নলেজে ছিল না।’

পুরো ঘটনা তদন্তের নির্দেশ

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল রেলমন্ত্রী বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পুরো ঘটনাটা বের হয়ে আসবে।’

টিটিই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা হলে পুরস্কৃত করা হতে পারে, শনিবার গণমাধ্যমকে বলেছিলেন রেলমন্ত্রী। এ বিষয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘প্রমোশনও পেতে পারেন, অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পেতে পারেন, সেটা তারা বিবেচনা করে দেখবেন। একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেই কমিটির রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করবেন।’

এই ঘটনায় দুর্নীতির বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ রেলমন্ত্রীকে ‘সাময়িকভাবে পদত্যাগ’ করার আহ্বান জানিয়েছে। এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি এখানে কোত্থেকে আসলো? টিআইবি কে? তাদের তো আরও অপেক্ষা করা উচিৎ ছিল। এইখানে মন্ত্রীর সরাসরি কোন নলেজ বা সম্পৃক্ততা আছে কিনা। কারণ এটা করা হয়েছে একেবারে ডিসিও লেভেলে। এটা ওই লেভেলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তদন্ত কমিটির মেয়াদ আরও দুইদিন বৃদ্ধি করা হয়েছে হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম। তিনি জানান, ওই ঘটনায় সহকারী পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় ৭ মে। ওই কমিটিকে তদন্তের জন্য দুই কার্যদিবস সময় দেয়া হয়েছিল। রোববার তদন্তের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানো হয়েছে।

বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারে স্বস্তি প্রকাশ শফিকুলের

সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করে ধন্যবাদ জনিয়েছেন রেলওয়ের ভ্রাম্যমাণ টিকেট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম। গতকাল দুপুরে পাবনার পাকশীতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয়ের সামনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। যেহেতু আমি রেলওয়ের জন্য কাজ করি, দেশের জন্য কাজ করি, আমাকে আবার কাজে যোগদানের সুযোগ দিয়েছে, তাতে আমি খুশি।’

শফিকুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটাই আমার প্রথম সাময়িক বরখাস্ত। এর আগে কখনও সাময়িক বরখাস্ত হইনি। ওই রাতে যখন আমি গাড়িতে দায়িত্ব পালন করেছি, সেদিন আপ অ্যান্ড ডাউনে ৭৮ হাজার টাকার রাজস্ব আদায় করে জমা দিয়েছি।’

স্বজন হলেও বাড়তি সুবিধা নয় : নির্দেশ রেলকর্মীদের

রেলমন্ত্রীর একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং আত্মীয়-স্বজনের রেফারেন্সে কোন প্রকার অবৈধ সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করার নির্দেশনা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। গতকাল রেলমন্ত্রীর একান্ত সচিব (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই নির্দেশনা জারী করা হয়েছে। যা রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালক, সব স্টেশনের ম্যানেজার, স্টেশন মাস্টার ও ট্রেনের পরিচালককের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, “সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, রেলপথমন্ত্রীর একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের অগোচরে তাদের রেফারেন্সে আত্মীয়/পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্টেশনে টিকেট দাবি করা, ট্রেনে উঠে বিশেষ সুবিধা চাওয়া হচ্ছে। এছাড়া অনেকেই মন্ত্রীর একান্ত সচিব, সহকারী সচিব এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের নিকটাত্মীয় পরিচয় দিয়ে রেলের পরিচালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্য মোবাইলে যোগাযোগ করছেন।”

“এসব বিষয় জানার পর তা রেলপথ মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। এ ধরনের সুবিধা যারা চাচ্ছে,তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া এবং যেসব মোবাইল নম্বর থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে সেই নম্বরগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠিয়ে ওই ব্যক্তিদের সঠিক পরিচয় জানার নির্দেশ দিয়েছেন রেলমন্ত্রী।

এই ধরনের ক্ষেত্রে রেল কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত না হয়ে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অসুসরণ ছাড়া কোনো কার্যক্রম গ্রহণ না করতে বলা হয়েছে চিঠিতে।

সাংবাদিকরা বাড়াবাড়ি করছে, দাবি রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর সেই ভাগ্নের

বিনা টিকেটে ট্রেনে চাপার পর আবার রেলের টিটিইর বরখাস্তের ঘটনার কারণ হওয়া রেলপথমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তার মনির স্বজনরা এখন দুষছেন সাংবাদিকদের। ট্রেন টিকেট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী মনির ভাগ্নে ইমরুল কায়েস প্রান্ত গতকাল রোববার এই ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর ক্ষোভ ঝাড়েন।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নে তিনি ও তার পরিবার ‘বিরক্ত ও বিব্রত’। “আমরা সামগ্রিক বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছিলাম, অথচ সাংবাদিকরা সামান্য একটি বিষয়কে অহেতুক টানা-হেঁচড়া করেছেন। আপনারা এই এ বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করছেন, যেটা না করলেও পারতেন। আমি যা বলার, তদন্ত কমিটিকে বলেছি। আপনাদের সাথে আমার কোনো কথা নেই।”

সোমবার, ০৯ মে ২০২২ , ২৬ বৈশাখ ১৪২৮ ০৬ শাওয়াল ১৪৪৩

অবশেষে টিটিই শফিকুলের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

image

রেলমন্ত্রীর নির্দেশে অবশেষে টিকেট পরিদর্শক (টিটিই) শফিকুল ইসলামের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। রেলওয়ের পাকশীর সেই ডিসিও (বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা) নাসির উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। আর বিনা টিকেটে ভ্রমণ করায় রেলমন্ত্রীর আত্মীয়দের জরিমানা করায় টিটিই বরখাস্তের ঘটনায় তদন্ত কমিটির মেয়াদ আরও দুইদিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে সাংবাদিকরা বাড়াবাড়ি করছে, দাবি রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর সেই ভাগ্নে ইমরুল কায়েস প্রান্তর।

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন টিটিইকে বরখাস্ত নিয়ম মেনে করা হয়নি। আর বিনা টিকেটে ট্রেনে ভ্রমণকারীরা তার স্ত্রীর আত্মীয় বলে স্বীকার করেছেন রেলমন্ত্রী। রেল মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল রেলমন্ত্রী বলেন, তিনি জানতেন না তারা তার স্ত্রীর আত্মীয়। তিনি পরে জানতে পেরেছেন। তবে তিনি বলেন, ‘তার স্ত্রী শুধু অভিযোগ করেছেন, কাউকে বরখাস্ত করতে বলেননি।’

গত শনিবার ঢাকায় নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেলমন্ত্রী বলেছিলেন, কারা তার ‘আত্মীয় পরিচয় দিয়েছেন, তাদের তিনি চেনেন না’।

টিকেট পরিদর্শক শফিকুলকে বরখাস্তের কারণ হিসেবে অভিযোগ করা হয়েছিল তিনি যাত্রীদের সঙ্গে ‘দুর্ব্যবহার’ করেন এবং তিনি ‘নেশাগ্রস্ত’। তবে রেল ভবনের কর্মকর্তারা জানান, এর আগে শফিকুলের বিরুদ্ধে এ রকম কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাকে দেখে কখনও নেশাগ্রস্ত মনে হয়নি। ডিসিও তার বিরুদ্ধে লিখিত যে অভিযোগ করেছে তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আর এই কেলেঙ্কারির পর মন্ত্রী বা কর্মকর্তাদের আত্মীয় পরিচয়ে কেউ বাড়তি সুবিধা চাইলেও তা না দিতে রেলকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত ৫ মে রাতে ঈশ্বরদী থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসে ওঠা তিন যাত্রীকে বিনা টিকেটে ভ্রমণের জন্য জরিমানা করেছিলেন টিটিই শফিকুল ইসলাম। ওই তিন যাত্রী রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নিকটাত্মীয়।

এ বিষয়ে রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর মামাতো বোন ইয়াসমিন আক্তার, যিনি ওই তিন যাত্রীর একজন মো. ইমরুল কায়েসের মা, সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার পর রেলমন্ত্রী আমাদের চেনেন না বলায় কষ্ট পেয়েছিলাম। পরে তিনি (রেলমন্ত্রী) নিজেই ফোন দিয়ে বলেছেন, ‘আপা, আমি যা বলেছি, এতে মন খারাপ করবেন না’।’

তবে গতকাল সাংবাদিকদের কাছে সেই ফোনালাপ মিথ্যা বলে দাবি করেন রেলমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে ওনার কথা হয়েছে, এই কথাগুলো ডাহা মিথ্যা। তার সঙ্গে আমার টেলিফোনে কোন কথাই হয় নাই।’

ওই ঘটনায় ‘বিব্রত’ উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘রেলের সেবায় অসন্তুষ্ট হলে সাধারণ যাত্রী ও তার পরিবার হিসেবে অভিযোগ জানাতে পারে। কিন্তু মন্ত্রীর বউ হিসেবে অভিযোগ জানাতে পারে না। এ জায়গাটায় কিছু ব্যত্যয় হয়েছে বলে আমি মনে করি। রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব স্বচ্ছভাবে আমি পালনের চেষ্টা করেছি। এই ঘটনায় আমি বিব্রত।’

টিটিইর বহিষ্কারাদেশটি ‘সঠিক হয়নি’ বললেন মন্ত্রী

গতকাল রেল ভবনে সাংবাদিকদের রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘টিটিইর বহিষ্কারাদেশটি ‘সঠিক হয়নি’। ইতোমধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেহেতু এটা ডিউ প্রসেস (নিয়ম মেনে) করা হয়নি, তাই তার সাসপেনশন অর্ডার (বরখাস্তের আদেশ) আমরা উইথড্র (প্রত্যাহার) করেছি। যে ডিসিও (ডিভিশনাল কর্মাশিয়াল অফিসার) এ ধরনের অর্ডার দিয়েছে, তাকে শোকজ করছি যে, সে এই অর্ডার কীভাবে দিল। একজন যাত্রী ঢাকা আসতেছেন, এই অল্প সময়ের মধ্যে সে লিখিত অভিযোগটা কীভাবে পেল। বোঝা গেল, টেলিফোনে অভিযোগের ভিত্তিতে সে ব্যবস্থা নিয়েছে। এটার ব্যাখ্যা আমরা চেয়েছি।’

বিনা টিকেটের যাত্রীদের জরিমানা করার পর তার স্ত্রী রেলের একজন কর্মকর্তাকে টেলিফোন করে অভিযোগ করেছিলেন স্বীকার করে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘যাত্রীরা যে অভিযোগ করেছে। আমার ওয়াইফও একই রকমের অভিযোগ দিয়েছে। যে লিখিত অভিযোগটা দেয়া হয়েছে, সেটা যখন তাকে জানানো হয়, তখন আমার ওয়াইফও একই রকমের অভিযোগ দিয়েছে যে, এদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয়নি। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে (টিটিইকে বরখাস্ত) করছে কি-না, সেজন্য তো শোকজ করেছি আমরা। এখনও তো ডিসিওর বক্তব্য আমরা পাইনি।’

তবে রেল ভবনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন টিটিএ শফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্তের আগে সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তারা সঙ্গে আলাপ করেনি ডিসিও। মন্ত্রীর স্ত্রীর ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিটিইকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

‘স্ত্রীর আত্মীয়’ এটা আমার জানা ছিল না-দাবি রেলমন্ত্রী

‘রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে বিনা টিকেটে ভ্রমণকারীকে জরিমানা করায় টিটিই বরখাস্তের’ ঘটনা সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি করার পর মন্ত্রী তার স্ত্রীর কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন। তার কথায় টিটিই বরখাস্ত হয়েছেন, সেটাও তিনি জানতেন না বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী বলেন, শনিবার পর্যন্ত তিনি ‘জানতেন না’ যে, বিনা টিকেটে ভ্রমণ করা ওই তিনজন তার আত্মীয়। ‘আমার নিজের ভাইগ্না-ভাগ্নি আছে ৩৭ জন। তাদের ছেলেমেয়ে আছে, পুতি পর্যন্ত আছে। এখন কে কোথায় আত্মীয় পরিচয় দিয়েছে, সেটা তো আমরা পক্ষে জানা সম্ভব না। যাত্রী হয়ে বিনা টিকেটে ভ্রমণ করে, এটা তো নতুন কিছু না। এজন্য টিটিদের কাজ জরিমানা করে রিসিট দেয়।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শোনেন, এই ঘটনা আপনারা যেভাবে শুনেছেন, আমিও সেভাবে শুনেছি। আমি আগাম কিছু শুনিনি। আমার স্ত্রীর খালাতো বোন বা মামাতো বোন দাবী করে যে কথাগুলো বলেছে, আপনারা যেভাবে শুনেছেন, আমিও মন্ত্রী হিসাবে এইভাবে শুনেছি। কিন্তু আমি আগে থেকেই জানতাম বা অমুক আত্মীয়-এটা আমার জানা ছিল না।’

নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘নতুন যাকে আমি স্ত্রী হিসাবে নিলাম, তার আমাকেও বুঝে উঠতে সময় লাগবে। ভুলভ্রান্তি হলে মানুষ তো সেভাবেই দেখবে। এখানে যদি দেখা যায় আমার স্ত্রী কোন দোষ করে থাকে, ইয়ে করে থাকে, কিন্তু এটা আমার নলেজে ছিল না।’

পুরো ঘটনা তদন্তের নির্দেশ

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল রেলমন্ত্রী বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পুরো ঘটনাটা বের হয়ে আসবে।’

টিটিই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা হলে পুরস্কৃত করা হতে পারে, শনিবার গণমাধ্যমকে বলেছিলেন রেলমন্ত্রী। এ বিষয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘প্রমোশনও পেতে পারেন, অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পেতে পারেন, সেটা তারা বিবেচনা করে দেখবেন। একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেই কমিটির রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করবেন।’

এই ঘটনায় দুর্নীতির বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ রেলমন্ত্রীকে ‘সাময়িকভাবে পদত্যাগ’ করার আহ্বান জানিয়েছে। এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি এখানে কোত্থেকে আসলো? টিআইবি কে? তাদের তো আরও অপেক্ষা করা উচিৎ ছিল। এইখানে মন্ত্রীর সরাসরি কোন নলেজ বা সম্পৃক্ততা আছে কিনা। কারণ এটা করা হয়েছে একেবারে ডিসিও লেভেলে। এটা ওই লেভেলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তদন্ত কমিটির মেয়াদ আরও দুইদিন বৃদ্ধি করা হয়েছে হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম। তিনি জানান, ওই ঘটনায় সহকারী পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় ৭ মে। ওই কমিটিকে তদন্তের জন্য দুই কার্যদিবস সময় দেয়া হয়েছিল। রোববার তদন্তের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানো হয়েছে।

বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারে স্বস্তি প্রকাশ শফিকুলের

সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করে ধন্যবাদ জনিয়েছেন রেলওয়ের ভ্রাম্যমাণ টিকেট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম। গতকাল দুপুরে পাবনার পাকশীতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয়ের সামনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। যেহেতু আমি রেলওয়ের জন্য কাজ করি, দেশের জন্য কাজ করি, আমাকে আবার কাজে যোগদানের সুযোগ দিয়েছে, তাতে আমি খুশি।’

শফিকুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটাই আমার প্রথম সাময়িক বরখাস্ত। এর আগে কখনও সাময়িক বরখাস্ত হইনি। ওই রাতে যখন আমি গাড়িতে দায়িত্ব পালন করেছি, সেদিন আপ অ্যান্ড ডাউনে ৭৮ হাজার টাকার রাজস্ব আদায় করে জমা দিয়েছি।’

স্বজন হলেও বাড়তি সুবিধা নয় : নির্দেশ রেলকর্মীদের

রেলমন্ত্রীর একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং আত্মীয়-স্বজনের রেফারেন্সে কোন প্রকার অবৈধ সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করার নির্দেশনা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। গতকাল রেলমন্ত্রীর একান্ত সচিব (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই নির্দেশনা জারী করা হয়েছে। যা রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালক, সব স্টেশনের ম্যানেজার, স্টেশন মাস্টার ও ট্রেনের পরিচালককের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, “সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, রেলপথমন্ত্রীর একান্ত সচিব, সহকারী একান্ত সচিব এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের অগোচরে তাদের রেফারেন্সে আত্মীয়/পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্টেশনে টিকেট দাবি করা, ট্রেনে উঠে বিশেষ সুবিধা চাওয়া হচ্ছে। এছাড়া অনেকেই মন্ত্রীর একান্ত সচিব, সহকারী সচিব এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের নিকটাত্মীয় পরিচয় দিয়ে রেলের পরিচালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্য মোবাইলে যোগাযোগ করছেন।”

“এসব বিষয় জানার পর তা রেলপথ মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। এ ধরনের সুবিধা যারা চাচ্ছে,তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া এবং যেসব মোবাইল নম্বর থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে সেই নম্বরগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠিয়ে ওই ব্যক্তিদের সঠিক পরিচয় জানার নির্দেশ দিয়েছেন রেলমন্ত্রী।

এই ধরনের ক্ষেত্রে রেল কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত না হয়ে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অসুসরণ ছাড়া কোনো কার্যক্রম গ্রহণ না করতে বলা হয়েছে চিঠিতে।

সাংবাদিকরা বাড়াবাড়ি করছে, দাবি রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর সেই ভাগ্নের

বিনা টিকেটে ট্রেনে চাপার পর আবার রেলের টিটিইর বরখাস্তের ঘটনার কারণ হওয়া রেলপথমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তার মনির স্বজনরা এখন দুষছেন সাংবাদিকদের। ট্রেন টিকেট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী মনির ভাগ্নে ইমরুল কায়েস প্রান্ত গতকাল রোববার এই ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর ক্ষোভ ঝাড়েন।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নে তিনি ও তার পরিবার ‘বিরক্ত ও বিব্রত’। “আমরা সামগ্রিক বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছিলাম, অথচ সাংবাদিকরা সামান্য একটি বিষয়কে অহেতুক টানা-হেঁচড়া করেছেন। আপনারা এই এ বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করছেন, যেটা না করলেও পারতেন। আমি যা বলার, তদন্ত কমিটিকে বলেছি। আপনাদের সাথে আমার কোনো কথা নেই।”