দৌলতদিয়ায় কর্মস্থলগামী মানুষের অসহনীয় দুর্ভোগ

দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান নৌরুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ এ নৌরুট দিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে ঈদ শেষে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় কর্মস্থলে ফিরছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষ। কর্মস্থলগামী এসব মানুষ দৌলতদিয়া ঘাটে গত তিন দিন ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দৌলতদিয়া ঘাট অভিমুখে মহাসড়কে নদী পারের অপেক্ষায় আটকা পড়ছে হাজার হাজার যানবাহন। গত দুই দিনের মতো গতকালও কর্মস্থলমুখী মানুষের চাপ অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ যানজটে দীর্ঘ সময় আটকে থেকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহায় মানুষ। গতকাল সকালেও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ পৌর জামতলা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার এলাকায় পারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে সহস্রাধিক যানবাহন। প্রচন্ড গরমে ভোগান্তিতে পড়ে ঈদ আনন্দ করতে বাড়ি আসা মানুষেরা ঈদ শেষে মুখে মলিনতা নিয়ে আবার কর্মস্থলে ফিরছেন। গাড়িতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বসে থেকে কোন উপায় না পেয়ে ব্যাগ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে হেঁটেই ফেরিঘাটে রওনা দিয়েছেন অনেকেই। অন্যদিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ মোড় থেকে ৩ শতাধিক পন্যবাহী ট্রাক সিরিয়ালে আটকে রাখা হয়েছে।

এদিকে দুর্ভোগের শিকার এসব মানুষকে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও শরবত পান করিয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে গোয়ালন্দ পৌর ছাত্রলীগ।

দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি নৌরুটে নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরি চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ওই নৌরুটে যানবাহনগুলো এ নৌরুটে আসা, আবার ছুটি শেষ যে কারণে ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘাট এলাকার পরিবেশ ভালো রাখতে জেলা পুলিশ পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন ও নৌপুলিশ ২৫ জন সদস্য ঘাট এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যাবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২১টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ঈদের ছুটি শেষে যাত্রী ও যানবাহন আসছে স্রোতের মতো। যানজট থেকে যাত্রী দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ছোট প্রাইভেটকার ও যাত্রীবাহী বাসকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার, ০৯ মে ২০২২ , ২৬ বৈশাখ ১৪২৮ ০৬ শাওয়াল ১৪৪৩

দৌলতদিয়ায় কর্মস্থলগামী মানুষের অসহনীয় দুর্ভোগ

দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান নৌরুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ এ নৌরুট দিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে ঈদ শেষে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় কর্মস্থলে ফিরছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষ। কর্মস্থলগামী এসব মানুষ দৌলতদিয়া ঘাটে গত তিন দিন ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দৌলতদিয়া ঘাট অভিমুখে মহাসড়কে নদী পারের অপেক্ষায় আটকা পড়ছে হাজার হাজার যানবাহন। গত দুই দিনের মতো গতকালও কর্মস্থলমুখী মানুষের চাপ অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ যানজটে দীর্ঘ সময় আটকে থেকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহায় মানুষ। গতকাল সকালেও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ পৌর জামতলা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার এলাকায় পারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে সহস্রাধিক যানবাহন। প্রচন্ড গরমে ভোগান্তিতে পড়ে ঈদ আনন্দ করতে বাড়ি আসা মানুষেরা ঈদ শেষে মুখে মলিনতা নিয়ে আবার কর্মস্থলে ফিরছেন। গাড়িতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বসে থেকে কোন উপায় না পেয়ে ব্যাগ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে হেঁটেই ফেরিঘাটে রওনা দিয়েছেন অনেকেই। অন্যদিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ মোড় থেকে ৩ শতাধিক পন্যবাহী ট্রাক সিরিয়ালে আটকে রাখা হয়েছে।

এদিকে দুর্ভোগের শিকার এসব মানুষকে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও শরবত পান করিয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে গোয়ালন্দ পৌর ছাত্রলীগ।

দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি নৌরুটে নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরি চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ওই নৌরুটে যানবাহনগুলো এ নৌরুটে আসা, আবার ছুটি শেষ যে কারণে ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘাট এলাকার পরিবেশ ভালো রাখতে জেলা পুলিশ পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন ও নৌপুলিশ ২৫ জন সদস্য ঘাট এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যাবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২১টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ঈদের ছুটি শেষে যাত্রী ও যানবাহন আসছে স্রোতের মতো। যানজট থেকে যাত্রী দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ছোট প্রাইভেটকার ও যাত্রীবাহী বাসকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।