পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী

দেশজুড়ে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ

রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা নাটকীয়তার পর পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। দেশজুড়ে চলমান ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও বিক্ষোভের মুখে গতকাল তার ছোট ভাই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

মাহিন্দা রাজাপাকসে মুখপাত্র রোহান ওয়েলিউইটা জানান, নতুন জোট সরকার গঠনের পথ তৈরি করতে তিনি (মাহিন্দা) পদত্যাগ করেছেন। দেশের জন্য যেকোন আত্মত্যাগ করতে প্রস্তুত তিনি।

এর আগে মাহিন্দার সমর্থক ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের কিছু সময় পর এই পদত্যাগের কথা জানা যায়। বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে ওই সংঘর্ষে ক্ষমতাসীন দলের এক আইনপ্রণেতাসহ দুইজন নিহত হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৩০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রাজধানী কলম্বোর কাছের নিত্তামবুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এরপরই দেশজুড়ে কারফিউ জারি করে পুলিশ।

এদিকে শ্রীলঙ্কার প্রধান বিরোধী নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে তাকে সর্বদলীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পদত্যাগের পর এক টুইটে মাহিন্দা রাজাপাকসে বলেন, জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আপনাদের মনে রাখতে হবে সংঘাত কেবল সংঘাতই বাড়ায়। অর্থনৈতিক সংকটের প্রয়োজন অর্থনৈতিক সমাধান। তা করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শ্রীলঙ্কাভিত্তিক এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার মাহিন্দা রাজাপাকসের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। বৈঠকে দেশের বিক্ষুব্ধ রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত করতে নিজের ভাইকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন তিনি। পরবর্তীতে রাজাপাকসে এসএলপিপির কয়েকজন সংসদ সদস্যকে জানিয়েছিলেন, তিনি গতকাল পদত্যাগ করবেন।

ভারত মহাসাগরীর দ্বীপ দেশটির স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দেশটির ক্ষমতাধর রাজাপাকসে পরিবারকে দায়ী করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে দেশটিতে বেশ কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে।

গত ৯ এপ্রিল থেকে দেশটির বিরোধীরা প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের কার্যালয়ের বাইরে শিবির করে থাকছিলেন। তাদের ওপর রাজাপাকসের অনুগত বাহিনী লাঠিচার্জ করে। এছাড়া সরকার-সমর্থীত যারা পুলিশের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে বিক্ষোভকারীদের তাঁবু এবং অন্য কাঠামো ভেঙে দিয়েছে, পুলিশ তাদের ওপর গ্যাসের শেল ও জলকামান ছুড়েছে।

গত শুক্রবার রাজাপাকসের সরকার সেনাবাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করে। গত রোববার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা উসকানিমূলক এবং হুমকিস্বরূপ আচরণ করছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

এদিকে ট্রেড ইউনিয়নের নেতা রবি কুমুদেশ বলেন, ১৭ মে পার্লামেন্ট শুরু হলে তারা জাতীয় সংসদের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য সরকারি ও বেসরকারি কর্মীদের একত্র করবেন। এছাড়া তিনি প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের বিদায়ের আহ্বান জানান।

প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসকে গত ৩১ মার্চ প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিমালিকানাধীন বাসভবনে হামলা চালানোর চেষ্টার পর থেকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

সরকারের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, চলমান এই সংকটকালে দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনার স্বার্থে সবার সমন্বয়ে একটি সরকার গঠনের জন্য তার ভাই মাহিন্দাকে সরে দাঁড়াতে বলতে পারেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। কিন্তু দেশটির সবচেয়ে বড় বিরোধী দল জানিয়ে দিয়েছে, রাজাপাকসের বংশের কারও দ্বারা পরিচালিত সরকারে যোগ দেবেন না তারা।

২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কায় সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । নির্বাচনকে সামনে রেখে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেন গোতাবায়া রাজাপাকসে। এটাকে তখনকার সরকার নির্বাচনী কৌশল হিসেবেই ধরে নিয়েছিল।

কিন্তু করোনা মহামারী, উচ্চাভিলাষী ও অলাভজনক বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারের বিপুল বিনিয়োগ, ত্রুটিপূর্ণ করনীতি ও সরকারি অব্যবস্থাপনার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় জ্বালানি তেল, খাদ্য, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানি করতে পারছে না শ্রীলঙ্কা। পাশপাশি, বিদেশি মুদ্রার মজুদ কমে যাওয়ার কারণে ঝড়ের গতিতে বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে ভয়াবহ আর্থিক ও মানবিক সংকট। প্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা মেটাতে সরকার ঋণের জন্য শরণাপন্ন হচ্ছে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, চীন ও ভারতসহ অন্য দাতাদের কাছে। এরই মধ্যে ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে দেশটি। যা ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর প্রথম ঘটনা। দেশের শেয়ারবাজারও শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে।

মাসের পর মাস ধরে এই অবস্থা চলতে থাকায় এক পর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন শ্রীলঙ্কার জনগণ। শেষে গত মার্চ থেকে শ্রীলঙ্কার ছোট-বড় সব শহরে শুরু হয় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসের প্রথম সপ্তাহে একসঙ্গে পদত্যাগ করেন মন্ত্রীপরিষদের সব সদস্য। নিজেদের পদ ধরে থাকেন কেবল প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। কিন্তু তাতে কমছিল না বিক্ষোভ।

শ্রীলঙ্কায় গত ২০ বছরের মধ্যে ১২ বছরই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেছেন রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যরা। পাকসে পরিবারের কয়েক ডজন সদস্য সরকারের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তার ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া তার অন্য দুই ভাই দেশটির বন্দর ও কৃষি ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছেন।

মঙ্গলবার, ১০ মে ২০২২ , ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ ০৭ শাওয়াল ১৪৪৩

পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী

দেশজুড়ে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ

রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা নাটকীয়তার পর পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। দেশজুড়ে চলমান ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও বিক্ষোভের মুখে গতকাল তার ছোট ভাই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

মাহিন্দা রাজাপাকসে মুখপাত্র রোহান ওয়েলিউইটা জানান, নতুন জোট সরকার গঠনের পথ তৈরি করতে তিনি (মাহিন্দা) পদত্যাগ করেছেন। দেশের জন্য যেকোন আত্মত্যাগ করতে প্রস্তুত তিনি।

এর আগে মাহিন্দার সমর্থক ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের কিছু সময় পর এই পদত্যাগের কথা জানা যায়। বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে ওই সংঘর্ষে ক্ষমতাসীন দলের এক আইনপ্রণেতাসহ দুইজন নিহত হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৩০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রাজধানী কলম্বোর কাছের নিত্তামবুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এরপরই দেশজুড়ে কারফিউ জারি করে পুলিশ।

এদিকে শ্রীলঙ্কার প্রধান বিরোধী নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে তাকে সর্বদলীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পদত্যাগের পর এক টুইটে মাহিন্দা রাজাপাকসে বলেন, জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আপনাদের মনে রাখতে হবে সংঘাত কেবল সংঘাতই বাড়ায়। অর্থনৈতিক সংকটের প্রয়োজন অর্থনৈতিক সমাধান। তা করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শ্রীলঙ্কাভিত্তিক এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার মাহিন্দা রাজাপাকসের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। বৈঠকে দেশের বিক্ষুব্ধ রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত করতে নিজের ভাইকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন তিনি। পরবর্তীতে রাজাপাকসে এসএলপিপির কয়েকজন সংসদ সদস্যকে জানিয়েছিলেন, তিনি গতকাল পদত্যাগ করবেন।

ভারত মহাসাগরীর দ্বীপ দেশটির স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দেশটির ক্ষমতাধর রাজাপাকসে পরিবারকে দায়ী করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে দেশটিতে বেশ কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে।

গত ৯ এপ্রিল থেকে দেশটির বিরোধীরা প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের কার্যালয়ের বাইরে শিবির করে থাকছিলেন। তাদের ওপর রাজাপাকসের অনুগত বাহিনী লাঠিচার্জ করে। এছাড়া সরকার-সমর্থীত যারা পুলিশের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে বিক্ষোভকারীদের তাঁবু এবং অন্য কাঠামো ভেঙে দিয়েছে, পুলিশ তাদের ওপর গ্যাসের শেল ও জলকামান ছুড়েছে।

গত শুক্রবার রাজাপাকসের সরকার সেনাবাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করে। গত রোববার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা উসকানিমূলক এবং হুমকিস্বরূপ আচরণ করছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

এদিকে ট্রেড ইউনিয়নের নেতা রবি কুমুদেশ বলেন, ১৭ মে পার্লামেন্ট শুরু হলে তারা জাতীয় সংসদের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য সরকারি ও বেসরকারি কর্মীদের একত্র করবেন। এছাড়া তিনি প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের বিদায়ের আহ্বান জানান।

প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসকে গত ৩১ মার্চ প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিমালিকানাধীন বাসভবনে হামলা চালানোর চেষ্টার পর থেকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

সরকারের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, চলমান এই সংকটকালে দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনার স্বার্থে সবার সমন্বয়ে একটি সরকার গঠনের জন্য তার ভাই মাহিন্দাকে সরে দাঁড়াতে বলতে পারেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। কিন্তু দেশটির সবচেয়ে বড় বিরোধী দল জানিয়ে দিয়েছে, রাজাপাকসের বংশের কারও দ্বারা পরিচালিত সরকারে যোগ দেবেন না তারা।

২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কায় সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । নির্বাচনকে সামনে রেখে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেন গোতাবায়া রাজাপাকসে। এটাকে তখনকার সরকার নির্বাচনী কৌশল হিসেবেই ধরে নিয়েছিল।

কিন্তু করোনা মহামারী, উচ্চাভিলাষী ও অলাভজনক বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারের বিপুল বিনিয়োগ, ত্রুটিপূর্ণ করনীতি ও সরকারি অব্যবস্থাপনার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় জ্বালানি তেল, খাদ্য, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানি করতে পারছে না শ্রীলঙ্কা। পাশপাশি, বিদেশি মুদ্রার মজুদ কমে যাওয়ার কারণে ঝড়ের গতিতে বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে ভয়াবহ আর্থিক ও মানবিক সংকট। প্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা মেটাতে সরকার ঋণের জন্য শরণাপন্ন হচ্ছে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, চীন ও ভারতসহ অন্য দাতাদের কাছে। এরই মধ্যে ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে দেশটি। যা ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর প্রথম ঘটনা। দেশের শেয়ারবাজারও শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে।

মাসের পর মাস ধরে এই অবস্থা চলতে থাকায় এক পর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন শ্রীলঙ্কার জনগণ। শেষে গত মার্চ থেকে শ্রীলঙ্কার ছোট-বড় সব শহরে শুরু হয় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসের প্রথম সপ্তাহে একসঙ্গে পদত্যাগ করেন মন্ত্রীপরিষদের সব সদস্য। নিজেদের পদ ধরে থাকেন কেবল প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। কিন্তু তাতে কমছিল না বিক্ষোভ।

শ্রীলঙ্কায় গত ২০ বছরের মধ্যে ১২ বছরই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেছেন রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যরা। পাকসে পরিবারের কয়েক ডজন সদস্য সরকারের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তার ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া তার অন্য দুই ভাই দেশটির বন্দর ও কৃষি ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছেন।