ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস করা ভুল ছিল : বাণিজ্যমন্ত্রী

তেলের দাম বাড়ার সিদ্ধান্তে খুচরা বিক্রেতারা সংকট সৃষ্টি করেছে : সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান

ভোজ্যতেল নিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের কথা রাখেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস করেছিলাম এটাই আমাদের ব্যর্থতা। বিশ্বাস করা ভুল হয়েছে। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আমরা শিখেছি মানুষকে বিশ্বাস করতে হয়। মিল মালিকরা কথা রাখলেও খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে।’

বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কেন তৈরি হলো, তেলের দাম কেন বাড়ল, তা জানতে গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেলের বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। সেখানে ব্যবসায়ী, মিলারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, এস আলম গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদ, টিকে গ্রুপের পরিচালক শফিকুল আথহার তাসলিম, বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষসহ অন্যরা।

ভোজ্যতেলের দামবৃদ্ধি মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা কি-না জানতে চাইলে টিপু মুনশি বলেন, ‘আমাদের ব্যর্থতা ঠিক, কারণ বলেছিলাম রমজানকে সামনে রেখে দাম বাড়াবেন না। কিন্তু তারা ঈদের ৭দিন সেই কথা রাখেননি। আমাদের সব অর্গানাইজেশনকে বলেছি, যে দাম নির্ধারিত আছে সেটি যাতে ঠিক রাখা হয়।’

ঈদের আগে বাজারে সয়াবিন তেল না পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ৬ ফেব্রুয়ারি দাম ঠিক করেছিলাম। আমাদের সংশ্লিষ্ট সংস্থা কর্তৃক চট্টগ্রাম বন্দরে যে দামে মাল ছাড় হয় সেই অনুযায়ী দামটি নির্ধারণ হয়। ২০ মার্চ আমরা অনুরোধ করায় সরকার ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করায়, তখন ৮ টাকা দাম কমানো হয়। তখন আমরা রমজান মাসে তেলের দাম না বাড়াতে অনুরোধ করেছিলাম, তারা একমত হয়েছিল। মানুষের কথা বিবেচনা করে দাম না বাড়ানোর অনুরোধ করেছিলাম। তাদের বলা হয়েছিল রমজানের পর বসব। যারা বড় প্রতিষ্ঠান তাদের কাছ থেকে সাপ্তাহিক তথ্য নিয়েছি। কিন্তু পথে ঝামেলা হয়েছে। রিটেইলার ও ডিলার কিন্তু জানত রমজানের পর বেড়ে দাম ফিক্সআপ হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের কয়দিন আগে থেকে অনেকে তেল ধরে রাখল। কারচুপিটা এখানে হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে যেন এগুলো না হয় সেটি দেখতে হবে। আমার মনে হচ্ছে তাদের অনুরোধ করা ঠিক হয়নি যে রমজানে তেলের দাম না বাড়ানোর কথাটি বলা, কারণ তাদের যদি একটি দামবৃদ্ধি করে দিতাম তাহলে এটি হতো না। ভারতে তেলের দাম কত? তাদের দামও ১০-১২ টাকা বেশি আছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনিটর করব। ব্যবসায়ীদের চাপ দিতে চাই না। মানুষের ক্রাইসিস হলে ইন্টারফেয়ার করতে হবে। তবে মাঝে অনেকে সুযোগ নিয়েছে, কারণ তারা জানে ঈদের পর দাম বাড়বে। সেজন্য তারা মজুদ করে রেখেছিল। রিটেইলার অপরাধ করলে সংগঠনেরও ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তেলের দাম পরবর্তীতে সমন্বয় কবে হবে জানতে চাইলে টিপু মুনশি বলেন, ‘আমরা আগে এক দেড় মাসের মধ্যে বসতাম। যখন তেলের দাম কমানোর সুযোগ থাকবে তখন আমরা আবার বসব।’

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘কেউ বলছে না গ্লোবাল মার্কেটে তেলের দাম কতটা বেড়েছে। দাম বেড়েছে সেটা সত্য, সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে সেটাও সত্য। কিন্তু কারণটা জানালে মানুষ বুঝতে পারে। তেলের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ বাইরের প্রতি ডিপেন্ডেড থাকতে হয়।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘আগামী জুন মাস থেকে এক কোটি পরিবারকে সুলভমূল্যে তেল দেয়া হবে টিসিবির মাধ্যমে। আপাতত টিসিবির তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। প্রতি লিটার তেল ১১০ টাকা করেই বিক্রি হবে। তেল নিয়ে সিন্ডিকেট হয়নি। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়েছেন।’

সভায় সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ছে এবং বাজারে তেল নেই, এটার জন্য মিলমালিক দায়ী নন। তেল বাজারে আছে, তেল বাজার থেকে শেষ হয়ে যায়নি। হঠাৎ করে ৫ তারিখ তেলের দাম বাড়ার সিদ্ধান্তে বাজারের খুচরা বিক্রেতারা সংকট সৃষ্টি করেছেন।’

ফজলুর রহমান আরও বলেন, ‘পর্যাপ্ত তেলের মজুদ আছে। তেলের সংকট তৈরি করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। দু-এক দিনের মধ্যে বাজারে তেলের সরবরাহ আরও সহজ হবে।’

মঙ্গলবার, ১০ মে ২০২২ , ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ ০৭ শাওয়াল ১৪৪৩

ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস করা ভুল ছিল : বাণিজ্যমন্ত্রী

তেলের দাম বাড়ার সিদ্ধান্তে খুচরা বিক্রেতারা সংকট সৃষ্টি করেছে : সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান

image

ভোজ্যতেল নিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের কথা রাখেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস করেছিলাম এটাই আমাদের ব্যর্থতা। বিশ্বাস করা ভুল হয়েছে। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আমরা শিখেছি মানুষকে বিশ্বাস করতে হয়। মিল মালিকরা কথা রাখলেও খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে।’

বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কেন তৈরি হলো, তেলের দাম কেন বাড়ল, তা জানতে গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেলের বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। সেখানে ব্যবসায়ী, মিলারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, এস আলম গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদ, টিকে গ্রুপের পরিচালক শফিকুল আথহার তাসলিম, বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষসহ অন্যরা।

ভোজ্যতেলের দামবৃদ্ধি মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা কি-না জানতে চাইলে টিপু মুনশি বলেন, ‘আমাদের ব্যর্থতা ঠিক, কারণ বলেছিলাম রমজানকে সামনে রেখে দাম বাড়াবেন না। কিন্তু তারা ঈদের ৭দিন সেই কথা রাখেননি। আমাদের সব অর্গানাইজেশনকে বলেছি, যে দাম নির্ধারিত আছে সেটি যাতে ঠিক রাখা হয়।’

ঈদের আগে বাজারে সয়াবিন তেল না পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ৬ ফেব্রুয়ারি দাম ঠিক করেছিলাম। আমাদের সংশ্লিষ্ট সংস্থা কর্তৃক চট্টগ্রাম বন্দরে যে দামে মাল ছাড় হয় সেই অনুযায়ী দামটি নির্ধারণ হয়। ২০ মার্চ আমরা অনুরোধ করায় সরকার ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করায়, তখন ৮ টাকা দাম কমানো হয়। তখন আমরা রমজান মাসে তেলের দাম না বাড়াতে অনুরোধ করেছিলাম, তারা একমত হয়েছিল। মানুষের কথা বিবেচনা করে দাম না বাড়ানোর অনুরোধ করেছিলাম। তাদের বলা হয়েছিল রমজানের পর বসব। যারা বড় প্রতিষ্ঠান তাদের কাছ থেকে সাপ্তাহিক তথ্য নিয়েছি। কিন্তু পথে ঝামেলা হয়েছে। রিটেইলার ও ডিলার কিন্তু জানত রমজানের পর বেড়ে দাম ফিক্সআপ হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের কয়দিন আগে থেকে অনেকে তেল ধরে রাখল। কারচুপিটা এখানে হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে যেন এগুলো না হয় সেটি দেখতে হবে। আমার মনে হচ্ছে তাদের অনুরোধ করা ঠিক হয়নি যে রমজানে তেলের দাম না বাড়ানোর কথাটি বলা, কারণ তাদের যদি একটি দামবৃদ্ধি করে দিতাম তাহলে এটি হতো না। ভারতে তেলের দাম কত? তাদের দামও ১০-১২ টাকা বেশি আছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনিটর করব। ব্যবসায়ীদের চাপ দিতে চাই না। মানুষের ক্রাইসিস হলে ইন্টারফেয়ার করতে হবে। তবে মাঝে অনেকে সুযোগ নিয়েছে, কারণ তারা জানে ঈদের পর দাম বাড়বে। সেজন্য তারা মজুদ করে রেখেছিল। রিটেইলার অপরাধ করলে সংগঠনেরও ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তেলের দাম পরবর্তীতে সমন্বয় কবে হবে জানতে চাইলে টিপু মুনশি বলেন, ‘আমরা আগে এক দেড় মাসের মধ্যে বসতাম। যখন তেলের দাম কমানোর সুযোগ থাকবে তখন আমরা আবার বসব।’

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘কেউ বলছে না গ্লোবাল মার্কেটে তেলের দাম কতটা বেড়েছে। দাম বেড়েছে সেটা সত্য, সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে সেটাও সত্য। কিন্তু কারণটা জানালে মানুষ বুঝতে পারে। তেলের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ বাইরের প্রতি ডিপেন্ডেড থাকতে হয়।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘আগামী জুন মাস থেকে এক কোটি পরিবারকে সুলভমূল্যে তেল দেয়া হবে টিসিবির মাধ্যমে। আপাতত টিসিবির তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। প্রতি লিটার তেল ১১০ টাকা করেই বিক্রি হবে। তেল নিয়ে সিন্ডিকেট হয়নি। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়েছেন।’

সভায় সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ছে এবং বাজারে তেল নেই, এটার জন্য মিলমালিক দায়ী নন। তেল বাজারে আছে, তেল বাজার থেকে শেষ হয়ে যায়নি। হঠাৎ করে ৫ তারিখ তেলের দাম বাড়ার সিদ্ধান্তে বাজারের খুচরা বিক্রেতারা সংকট সৃষ্টি করেছেন।’

ফজলুর রহমান আরও বলেন, ‘পর্যাপ্ত তেলের মজুদ আছে। তেলের সংকট তৈরি করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। দু-এক দিনের মধ্যে বাজারে তেলের সরবরাহ আরও সহজ হবে।’