‘উপাত্ত সুরক্ষা আইন’ ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় ঝুঁকি

সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক : টিআইবি

সরকারের ‘উপাত্ত সুরক্ষা আইন ২০২২’ খসড়াটিতে সরকারি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এটি সংবিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। তাই আইনের খসড়াটি ঢেলে সাজাতে হবে বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে সাধুবাদ ও স্বাগত জানানো হয়। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘যেভাবে খসড়া তৈরি করা হয়েছে তাতে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার নামে সরকার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের কোন সুযোগ রাখছে কিনা তা ভেবে দেখতে হবে।’

গতকাল টিআইবি আয়োজিত ‘উপাত্ত সুরক্ষা আইন ২০২২ (খসড়া) : পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক আইনটির মূল্যায়নের বিস্তারিত তুলে ধরতে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এটিকে (খসড়া) ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে ঢেলে সাজিয়ে আইনটি প্রণয়ন করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খসড়ায় কিছু কিছু শব্দ বা ধারণার কোন সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। এটা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’ আইনের শিরোনামটিও যথাযথ হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

খসড়ায় আইনের দুর্বলতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রয়োগিক দুর্বলতার বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সিকে সীমাহীন ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এটার কোন দরকার ছিল না। এই সীমাহীন ক্ষমতা মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর তদন্ত ক্ষমতা পুলিশের হাতে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এর জন্য বিশেষ জ্ঞান প্রয়োজন। এজন্য বিশেষিত বাহিনীর হাতে তদন্ত ক্ষমতা দেয়া উচিত।’ তিনি জানান, শ্রীলঙ্কা এই আইনটি তৈরি করে ফেলেছে। ভারত, নেপাল, ভুটান উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

অনুষ্ঠানে মূল উপস্থাপনা (পর্যালোচনা ও সুপারিশ) তুলে ধরেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মঞ্জুর-ই-আলম। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ইন্টারনেট ইকোসিস্টেমে যেখানে সবক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাবিষয়ক একটিমাত্র আইন দিয়ে সব ধরনের অবস্থা মোকাবিলা করা সহজ নয় বা চিন্তা করা উচিতও নয়, বরং এটি যথেষ্ট ঝামেলাপূর্ণ কাজ। তারপরও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এ বিষয়ে একটি আইন করার উদ্যোগ গ্রহণকে আমরা অবশ্যই সাধুবাদ জানাই।’

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব মালয়ের সিনিয়র লেকচারার ড. এরশাদুল আমিন। তিনি জানান, বিশ্বের ১৯২টি দেশের মধ্যে ১৩৭টি দেশে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘খসড়ায় অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ শব্দের সংজ্ঞা দেয়া হয়নি। ব্যক্তিগত তথ্যের কোন সংজ্ঞা বা উদাহরণ খসড়ায় অনুপস্থিত। এসব বিষয় নিয়ে আরও পর্যালোচনা হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

মঙ্গলবার, ১০ মে ২০২২ , ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ ০৭ শাওয়াল ১৪৪৩

‘উপাত্ত সুরক্ষা আইন’ ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় ঝুঁকি

সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক : টিআইবি

সরকারের ‘উপাত্ত সুরক্ষা আইন ২০২২’ খসড়াটিতে সরকারি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এটি সংবিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। তাই আইনের খসড়াটি ঢেলে সাজাতে হবে বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে সাধুবাদ ও স্বাগত জানানো হয়। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘যেভাবে খসড়া তৈরি করা হয়েছে তাতে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার নামে সরকার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের কোন সুযোগ রাখছে কিনা তা ভেবে দেখতে হবে।’

গতকাল টিআইবি আয়োজিত ‘উপাত্ত সুরক্ষা আইন ২০২২ (খসড়া) : পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক আইনটির মূল্যায়নের বিস্তারিত তুলে ধরতে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এটিকে (খসড়া) ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে ঢেলে সাজিয়ে আইনটি প্রণয়ন করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খসড়ায় কিছু কিছু শব্দ বা ধারণার কোন সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। এটা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’ আইনের শিরোনামটিও যথাযথ হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

খসড়ায় আইনের দুর্বলতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রয়োগিক দুর্বলতার বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সিকে সীমাহীন ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এটার কোন দরকার ছিল না। এই সীমাহীন ক্ষমতা মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর তদন্ত ক্ষমতা পুলিশের হাতে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এর জন্য বিশেষ জ্ঞান প্রয়োজন। এজন্য বিশেষিত বাহিনীর হাতে তদন্ত ক্ষমতা দেয়া উচিত।’ তিনি জানান, শ্রীলঙ্কা এই আইনটি তৈরি করে ফেলেছে। ভারত, নেপাল, ভুটান উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

অনুষ্ঠানে মূল উপস্থাপনা (পর্যালোচনা ও সুপারিশ) তুলে ধরেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মঞ্জুর-ই-আলম। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ইন্টারনেট ইকোসিস্টেমে যেখানে সবক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাবিষয়ক একটিমাত্র আইন দিয়ে সব ধরনের অবস্থা মোকাবিলা করা সহজ নয় বা চিন্তা করা উচিতও নয়, বরং এটি যথেষ্ট ঝামেলাপূর্ণ কাজ। তারপরও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এ বিষয়ে একটি আইন করার উদ্যোগ গ্রহণকে আমরা অবশ্যই সাধুবাদ জানাই।’

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব মালয়ের সিনিয়র লেকচারার ড. এরশাদুল আমিন। তিনি জানান, বিশ্বের ১৯২টি দেশের মধ্যে ১৩৭টি দেশে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘খসড়ায় অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ শব্দের সংজ্ঞা দেয়া হয়নি। ব্যক্তিগত তথ্যের কোন সংজ্ঞা বা উদাহরণ খসড়ায় অনুপস্থিত। এসব বিষয় নিয়ে আরও পর্যালোচনা হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।