এনসিটিবির পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী ২০২৩-এ সব বিষয়ে পরীক্ষা

আগামী বছরের (২০২৩) এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সব বিষয়ে নেয়া হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত ২০২২ সালের পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী সব বিষয়ে এ পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

৮ মে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে এক চিঠিতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। একই সময়ে অন্য এক চিঠিতে চলতি বছরের এই দুই পরীক্ষার নম্বর বিভাজন প্রকাশ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।

তবে চলতি অর্থাৎ ২০২২ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দুই ঘণ্টায় নেয়া হবে এবং নম্বর হবে বিষয় ভেদে ৪৫-৫৫ নম্বরের মধ্যে। সাধারণত ১০০ নম্বরের পরীক্ষা তিন ঘণ্টায় নেয়া হয়। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২২ আগস্ট শুরু হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর তপন কুমার সরকার স্বাক্ষরিত চিঠিতে আরও বলা হয়, আগামী বছর ২০২৩ সালে এসএসসি পর্যায়ে আইসিটি পরীক্ষার পূর্ণ নম্বর ৫০ এবং অন্য প্রতিটি বিষয়ে ৩ ঘণ্টায় ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর এইচএসসি পর্যায়ে প্রতিটি বিষয়ে তিন ঘণ্টা সময়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

চলতি বছরের দুই পরীক্ষার নম্বর বণ্টন প্রকাশ :

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চিঠিতে বলা হয়েছে, এ বছর এইচএসসির প্রতিটি বিষয়ের প্রতি পত্রে দুই ঘণ্টার পরীক্ষা নেয়া হবে। এর মধ্যে ২০ মিনিট নৈর্ব্যক্তিক এবং এক ঘণ্টা ৪০ মিনিটে রচনামূলক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

বিজ্ঞান বিভাগে ব্যবহারিকসহ সব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি পত্রে ৪৫ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে, যার মধ্যে রচনামূলকে ৩০ নম্বর ও নৈর্ব্যত্তিকে ১৫ নম্বর থাকবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ব্যবহারিক ছাড়া অন্য বিষয়গুলোতে প্রতি পত্রে ৫৫ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে, যার মধ্যে ৪০ নম্বর রচনামূলক পরীক্ষা ও ১৫ নম্বরের নৈর্ব্যত্তিক পরীক্ষা নেয়া হবে। তবে বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা ৫০ নম্বরের হবে।

ব্যবহারিক ছাড়া বিষয়েগুলোর রচনামূলকের ৪০ নম্বরকে ৭০ নম্বরে এবং নৈর্ব্যক্তিকের ১৫ নম্বরকে ৩০ নম্বরে রূপান্তর করে ফল প্রস্তুতের কথা জানিয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড বলেছে, ব্যবহারিকসহ বিষয়গুলোর রচনামূলক পরীক্ষার ৩০ নম্বরকে ৫০ নম্বরে এবং নৈর্ব্যক্তিকের ১৫ নম্বরকে ২৫ নম্বরে রূপান্তর করে ফল প্রস্তুত করা হবে। বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের ৫০ নম্বরকে ১০০ নম্বরে রূপান্তর করা হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠানো নম্বর বিভাজনের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার নম্বর বিভাজন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, রসায়ন প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, উচ্চতর গণিত প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের মতো বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিকসহ প্রতি পত্রে মোট ৪৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এরমধ্যে রচনামূলকে ৩০ ও নৈর্ব্যক্তিকে ১৫ নম্বর থাকবে। রচনামূলক অংশে প্রতিটি পত্রে থাকবে মোট ৮টি প্রশ্ন। এরমধ্যে ৩টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। প্রতিটিতে থাকবে ১০ নম্বর। নৈর্ব্যত্তিকে ২৫টি প্রশ্ন থাকবে, যার মধ্যে ১৫টির উত্তর করতে হবে। প্রতিটির মান ১ নম্বর।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড বলছে, ব্যবহারিক বিষয়ে প্রতি পত্রের পরীক্ষার ৩০ নম্বরকে ৫০ নম্বরে এবং নৈর্ব্যত্তিকের ১৫ নম্বরকে ২৫ নম্বরে রূপান্তর করে শিক্ষার্থীদের মোট নম্বর নির্ধারণ করা হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ও ব্যবহারিক ছাড়া বাকি বিষয়গুলোতে প্রতি পত্রে মোট ৫৫ নম্বরে পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে রচনামূলকে ৪০ নম্বর ও নৈর্ব্যত্তিকে ১৫ নম্বর থাকবে। রচনামূলক অংশে ১১টি প্রশ্ন থাকলেও ৪টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। প্রতিটিতে ১০ নম্বর। আর নৈর্ব্যত্তিকে ৩০টি প্রশ্নের মধ্যে ১৫টির উত্তর করতে হবে। প্রতিটির মান ১ নম্বর।

এছাড়া মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থীদের ৪০ নম্বরকে ৭০ নম্বরে এবং নৈর্ব্যত্তিকের ১৫ নম্বরকে ৩০ নম্বরে রূপান্তর করে পরীক্ষার্থীদের মোট নম্বর নির্ধারণ করা হবে।

মঙ্গলবার, ১০ মে ২০২২ , ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ ০৭ শাওয়াল ১৪৪৩

এসএসসি ও এইচএসসি

এনসিটিবির পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী ২০২৩-এ সব বিষয়ে পরীক্ষা

আগামী বছরের (২০২৩) এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সব বিষয়ে নেয়া হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত ২০২২ সালের পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী সব বিষয়ে এ পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

৮ মে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে এক চিঠিতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। একই সময়ে অন্য এক চিঠিতে চলতি বছরের এই দুই পরীক্ষার নম্বর বিভাজন প্রকাশ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।

তবে চলতি অর্থাৎ ২০২২ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দুই ঘণ্টায় নেয়া হবে এবং নম্বর হবে বিষয় ভেদে ৪৫-৫৫ নম্বরের মধ্যে। সাধারণত ১০০ নম্বরের পরীক্ষা তিন ঘণ্টায় নেয়া হয়। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২২ আগস্ট শুরু হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর তপন কুমার সরকার স্বাক্ষরিত চিঠিতে আরও বলা হয়, আগামী বছর ২০২৩ সালে এসএসসি পর্যায়ে আইসিটি পরীক্ষার পূর্ণ নম্বর ৫০ এবং অন্য প্রতিটি বিষয়ে ৩ ঘণ্টায় ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর এইচএসসি পর্যায়ে প্রতিটি বিষয়ে তিন ঘণ্টা সময়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

চলতি বছরের দুই পরীক্ষার নম্বর বণ্টন প্রকাশ :

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের চিঠিতে বলা হয়েছে, এ বছর এইচএসসির প্রতিটি বিষয়ের প্রতি পত্রে দুই ঘণ্টার পরীক্ষা নেয়া হবে। এর মধ্যে ২০ মিনিট নৈর্ব্যক্তিক এবং এক ঘণ্টা ৪০ মিনিটে রচনামূলক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

বিজ্ঞান বিভাগে ব্যবহারিকসহ সব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি পত্রে ৪৫ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে, যার মধ্যে রচনামূলকে ৩০ নম্বর ও নৈর্ব্যত্তিকে ১৫ নম্বর থাকবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ব্যবহারিক ছাড়া অন্য বিষয়গুলোতে প্রতি পত্রে ৫৫ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে, যার মধ্যে ৪০ নম্বর রচনামূলক পরীক্ষা ও ১৫ নম্বরের নৈর্ব্যত্তিক পরীক্ষা নেয়া হবে। তবে বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা ৫০ নম্বরের হবে।

ব্যবহারিক ছাড়া বিষয়েগুলোর রচনামূলকের ৪০ নম্বরকে ৭০ নম্বরে এবং নৈর্ব্যক্তিকের ১৫ নম্বরকে ৩০ নম্বরে রূপান্তর করে ফল প্রস্তুতের কথা জানিয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড বলেছে, ব্যবহারিকসহ বিষয়গুলোর রচনামূলক পরীক্ষার ৩০ নম্বরকে ৫০ নম্বরে এবং নৈর্ব্যক্তিকের ১৫ নম্বরকে ২৫ নম্বরে রূপান্তর করে ফল প্রস্তুত করা হবে। বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের ৫০ নম্বরকে ১০০ নম্বরে রূপান্তর করা হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠানো নম্বর বিভাজনের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার নম্বর বিভাজন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, রসায়ন প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, উচ্চতর গণিত প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের মতো বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিকসহ প্রতি পত্রে মোট ৪৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এরমধ্যে রচনামূলকে ৩০ ও নৈর্ব্যক্তিকে ১৫ নম্বর থাকবে। রচনামূলক অংশে প্রতিটি পত্রে থাকবে মোট ৮টি প্রশ্ন। এরমধ্যে ৩টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। প্রতিটিতে থাকবে ১০ নম্বর। নৈর্ব্যত্তিকে ২৫টি প্রশ্ন থাকবে, যার মধ্যে ১৫টির উত্তর করতে হবে। প্রতিটির মান ১ নম্বর।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড বলছে, ব্যবহারিক বিষয়ে প্রতি পত্রের পরীক্ষার ৩০ নম্বরকে ৫০ নম্বরে এবং নৈর্ব্যত্তিকের ১৫ নম্বরকে ২৫ নম্বরে রূপান্তর করে শিক্ষার্থীদের মোট নম্বর নির্ধারণ করা হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ও ব্যবহারিক ছাড়া বাকি বিষয়গুলোতে প্রতি পত্রে মোট ৫৫ নম্বরে পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে রচনামূলকে ৪০ নম্বর ও নৈর্ব্যত্তিকে ১৫ নম্বর থাকবে। রচনামূলক অংশে ১১টি প্রশ্ন থাকলেও ৪টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। প্রতিটিতে ১০ নম্বর। আর নৈর্ব্যত্তিকে ৩০টি প্রশ্নের মধ্যে ১৫টির উত্তর করতে হবে। প্রতিটির মান ১ নম্বর।

এছাড়া মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থীদের ৪০ নম্বরকে ৭০ নম্বরে এবং নৈর্ব্যত্তিকের ১৫ নম্বরকে ৩০ নম্বরে রূপান্তর করে পরীক্ষার্থীদের মোট নম্বর নির্ধারণ করা হবে।