ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’ দুর্বল হয়ে পড়ছে তবে চলছে বর্ষণ

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’র প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এর প্রভাবে গতকাল দুপুর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হলকা-ভারী বর্ষণ হচ্ছে।

তবে ঘূর্ণিঝড় ‘আসপানি’র বাংলাদেশে আঘাত হানার আর কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। গতকাল সচিবালয়ে দুটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আজ অন্ধ্রপ্রদেশে আঘাত হেনে দুর্বল হয়ে গেছে। বাংলাদেশে আঘাত হানার আর কোন সম্ভাবনা নেই।’

এছাড়া প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের বিশষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ২৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ১৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরের অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় আসানি দুর্বল হতে শুরু করেছে; উপকূলে আঘাত না হেনে, বৃষ্টি ঝরাতে ঝরাতে সাগরেই এর শেষ হতে পারে। গতকাল মধ্যরাত নাগাদ ভারতের উত্তর অন্ধ্র উপকূল এবং ওড়িশার কাছাকাছি পৌঁছবে আসানি। এরপর বাঁক নিয়ে উত্তর অন্ধ্র এবং ওড়িশা উপকূল ছুঁয়ে এগোতে পারে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে।

গতকাল মধ্যরাত থেকে আজ সকালের মধ্যে আসানি দুর্বল হয়ে ফের ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, এ ঝড় সম্ভবত উপকূল অতিক্রম করে স্থলভাগে আসবে না। বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমেই আরও দুর্বল হতে হতে নি¤œচাপে পরিণত হবে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সোমবার দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়ায়। আর ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে।

বুধবার, ১১ মে ২০২২ , ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ০৮ শাওয়াল ১৪৪৩

ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’ দুর্বল হয়ে পড়ছে তবে চলছে বর্ষণ

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’র প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এর প্রভাবে গতকাল দুপুর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হলকা-ভারী বর্ষণ হচ্ছে।

তবে ঘূর্ণিঝড় ‘আসপানি’র বাংলাদেশে আঘাত হানার আর কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। গতকাল সচিবালয়ে দুটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আজ অন্ধ্রপ্রদেশে আঘাত হেনে দুর্বল হয়ে গেছে। বাংলাদেশে আঘাত হানার আর কোন সম্ভাবনা নেই।’

এছাড়া প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের বিশষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ২৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ১৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরের অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় আসানি দুর্বল হতে শুরু করেছে; উপকূলে আঘাত না হেনে, বৃষ্টি ঝরাতে ঝরাতে সাগরেই এর শেষ হতে পারে। গতকাল মধ্যরাত নাগাদ ভারতের উত্তর অন্ধ্র উপকূল এবং ওড়িশার কাছাকাছি পৌঁছবে আসানি। এরপর বাঁক নিয়ে উত্তর অন্ধ্র এবং ওড়িশা উপকূল ছুঁয়ে এগোতে পারে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে।

গতকাল মধ্যরাত থেকে আজ সকালের মধ্যে আসানি দুর্বল হয়ে ফের ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, এ ঝড় সম্ভবত উপকূল অতিক্রম করে স্থলভাগে আসবে না। বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমেই আরও দুর্বল হতে হতে নি¤œচাপে পরিণত হবে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সোমবার দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়ায়। আর ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে।