এমপিদের দেশত্যাগ ঠেকাতে বিমানবন্দরে অবরোধ

শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভকারীদের তা-ব গতকালও অব্যাহত ছিল। দেশটির সংসদ সদস্যদের দেশত্যাগ ঠেকাতে বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এ পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ ঠেকাতে সেনা ও পুলিশ বাহিনীকে জরুরি ক্ষমতা প্রদান করেছে দেশটির সরকার।

গতকাল সূর্য উদয়ের আগের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন টেম্পল ট্রিজ থেকে সশস্ত্র বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে সপরিবারে কলম্বো ছেড়েছেন দেশটির সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। বিক্ষোভকারীরা রাজাপাকসের পৈত্রিক ভিটায় অগ্নিসংযোগ করেছে। মাহিন্দা রাজাপাকসে অবস্থান নেয়া নৌ-ঘাঁটির কাছেও বিক্ষোভ করা হয়েছে। এদিকে মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর প্রধান বিরোধী দল সামাজি জানা বালাবউইগেয়ায়া (এসজিবে) শর্ত সাপেক্ষে সরকারের দায়িত্ব নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। তাদের শর্ত মাহিন্দার ছোট ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসেকে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়তে হবে।

অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দেশটির ক্ষমতাধর রাজাপাকসে পরিবারকে দায়ী করে দীর্ঘদিন বিক্ষোভ করে আসছিল দেশটির জনগণ। ফলে গত এপ্রিলে একযোগে মন্ত্রীসভার সব সদস্যদের পদত্যাগ এবং সর্বশেষ গত সোমবার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করেন। কিন্তু তাতেও থামানো যায়নি বিক্ষোভকারীদের।

শ্রীলঙ্কার সংসদ সদস্যদের দেশত্যাগ ঠেকাতে বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতুনাযেকে অবস্থিত শ্রীলঙ্কার প্রধান বিমানবন্দর অবরোধ করেছে একদল তরুণ। বন্দরনায?েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশদ্বারে গাড়ি রেখে অবস্থান নিয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দিয়ে বিমানবন্দরের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করেছে তারা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসেকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং কোন সংসদ সদস্য দেশত্যাগ করতে পারবে না।

এ পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ ঠেকাতে সেনা ও পুলিশ বাহিনীকে জরুরি ক্ষমতা প্রদান করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। এই ক্ষমতাবলে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের সুযোগ পাবে নিরাপত্তা বাহিনী।

এদিকে গতকাল ভোরবেলায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন টেম্পল ট্রিজ থেকে সশস্ত্র বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে সপরিবারে কলম্বো ছেড়েছেন শ্রীলঙ্কার সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া তাদের গোপন বিদায়ের ভিডিওচিত্র টুইটারে প্রকাশ করেছে শ্রীলঙ্কার দৈনিক পত্রিকা ডেইলি মিরর।

শ্রীলঙ্কার প্রধান বিরোধী দল সামাজি জানা বালাবউইগেয়ায়া (এসজিবে) মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর সরকারের দায়িত্ব নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এজন্য তারা শর্ত দিয়েছে মাহিন্দার ছোট ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসকে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়তে হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর এক টুইটে এ তথ্য জানানো হয়, শ্রীলঙ্কার চলমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। আমরা শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

এর আগে মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগের আগ থেকে সরকার সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপরই দেশজুড়ে কারফিউ জারি করে পুলিশ। তাতেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। কলম্বোতে কারফিউ জারি থাকা সত্ত্বেও রাস্তায় নেমেছে দেশটির হাজার হাজার মানুষ। দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসেরও পদত্যাগ চাইছেন তারা। বিক্ষোভকারীরা রাজাপাকসের পৈত্রিক ভিটায় অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন এমপি ও একজন বিচারপতির বাড়িও। কলম্বোয় সহিংসতায় এখন পর্যন্ত সংসদ সদস্যসহ ৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত দুইশ’ জন।

করোনা মহামারী, উচ্চাভিলাষী ও অলাভজনক বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারের বিপুল বিনিয়োগ, ত্রুটিপূর্ণ করনীতি ও সরকারি অব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে শ্রীলঙ্কা। পরিণত হয়েছে ঋণ খেলাপিতেও। মাসের পর মাস ধরে এই সংকট চলতে থাকায় এক পর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে শ্রীলঙ্কার জনগণ। যা রূপ নেয় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে।

বুধবার, ১১ মে ২০২২ , ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ০৮ শাওয়াল ১৪৪৩

শ্রীলঙ্কায় সংঘাত সংঘর্ষ

এমপিদের দেশত্যাগ ঠেকাতে বিমানবন্দরে অবরোধ

শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভকারীদের তা-ব গতকালও অব্যাহত ছিল। দেশটির সংসদ সদস্যদের দেশত্যাগ ঠেকাতে বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এ পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ ঠেকাতে সেনা ও পুলিশ বাহিনীকে জরুরি ক্ষমতা প্রদান করেছে দেশটির সরকার।

গতকাল সূর্য উদয়ের আগের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন টেম্পল ট্রিজ থেকে সশস্ত্র বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে সপরিবারে কলম্বো ছেড়েছেন দেশটির সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। বিক্ষোভকারীরা রাজাপাকসের পৈত্রিক ভিটায় অগ্নিসংযোগ করেছে। মাহিন্দা রাজাপাকসে অবস্থান নেয়া নৌ-ঘাঁটির কাছেও বিক্ষোভ করা হয়েছে। এদিকে মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর প্রধান বিরোধী দল সামাজি জানা বালাবউইগেয়ায়া (এসজিবে) শর্ত সাপেক্ষে সরকারের দায়িত্ব নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। তাদের শর্ত মাহিন্দার ছোট ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসেকে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়তে হবে।

অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দেশটির ক্ষমতাধর রাজাপাকসে পরিবারকে দায়ী করে দীর্ঘদিন বিক্ষোভ করে আসছিল দেশটির জনগণ। ফলে গত এপ্রিলে একযোগে মন্ত্রীসভার সব সদস্যদের পদত্যাগ এবং সর্বশেষ গত সোমবার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করেন। কিন্তু তাতেও থামানো যায়নি বিক্ষোভকারীদের।

শ্রীলঙ্কার সংসদ সদস্যদের দেশত্যাগ ঠেকাতে বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতুনাযেকে অবস্থিত শ্রীলঙ্কার প্রধান বিমানবন্দর অবরোধ করেছে একদল তরুণ। বন্দরনায?েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশদ্বারে গাড়ি রেখে অবস্থান নিয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দিয়ে বিমানবন্দরের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করেছে তারা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসেকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং কোন সংসদ সদস্য দেশত্যাগ করতে পারবে না।

এ পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ ঠেকাতে সেনা ও পুলিশ বাহিনীকে জরুরি ক্ষমতা প্রদান করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। এই ক্ষমতাবলে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের সুযোগ পাবে নিরাপত্তা বাহিনী।

এদিকে গতকাল ভোরবেলায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন টেম্পল ট্রিজ থেকে সশস্ত্র বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে সপরিবারে কলম্বো ছেড়েছেন শ্রীলঙ্কার সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া তাদের গোপন বিদায়ের ভিডিওচিত্র টুইটারে প্রকাশ করেছে শ্রীলঙ্কার দৈনিক পত্রিকা ডেইলি মিরর।

শ্রীলঙ্কার প্রধান বিরোধী দল সামাজি জানা বালাবউইগেয়ায়া (এসজিবে) মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর সরকারের দায়িত্ব নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এজন্য তারা শর্ত দিয়েছে মাহিন্দার ছোট ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসকে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়তে হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর এক টুইটে এ তথ্য জানানো হয়, শ্রীলঙ্কার চলমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। আমরা শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

এর আগে মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগের আগ থেকে সরকার সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপরই দেশজুড়ে কারফিউ জারি করে পুলিশ। তাতেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। কলম্বোতে কারফিউ জারি থাকা সত্ত্বেও রাস্তায় নেমেছে দেশটির হাজার হাজার মানুষ। দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসেরও পদত্যাগ চাইছেন তারা। বিক্ষোভকারীরা রাজাপাকসের পৈত্রিক ভিটায় অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন এমপি ও একজন বিচারপতির বাড়িও। কলম্বোয় সহিংসতায় এখন পর্যন্ত সংসদ সদস্যসহ ৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত দুইশ’ জন।

করোনা মহামারী, উচ্চাভিলাষী ও অলাভজনক বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারের বিপুল বিনিয়োগ, ত্রুটিপূর্ণ করনীতি ও সরকারি অব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে শ্রীলঙ্কা। পরিণত হয়েছে ঋণ খেলাপিতেও। মাসের পর মাস ধরে এই সংকট চলতে থাকায় এক পর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে শ্রীলঙ্কার জনগণ। যা রূপ নেয় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে।