ইভিএম নাকি ব্যালট, সিদ্ধান্ত কমিশনের : সিইসি

রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতও শোনা হবে

ইভিএম নাকি ব্যালট; দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, সেই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত শুনবো। আমরা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো ভোট কোন পদ্ধতিতে ও কেমন হবে। সেটি আমাদের বিষয়। এই বিষয়ে আমরা স্বাধীন।’

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের জন্য প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এসব কথা বলেন।

আগামী বছর ডিসেম্বরে বা পরবর্তী জানুয়ারিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ‘ইভিএমে করার এবং ফেয়ার করার’ কথা বলেন। শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে বিএনপিকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

জবাবে ইভিএমকে পরবর্তী ইস্যু উল্লেখ করে বিএনপির মহাসবিচ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন দিলে বিএনপি ওই নির্বাচনে অংশ নেবে না। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

এদিকে ইভিএম ইস্যুতে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, কোন পদ্ধতিতে ভোট নেয়া হবে, ইভিএমে নাকি ব্যালটে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংশয় ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতার পদে থাকা জিএম কাদের।

ইভিএম ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘ভোটগ্রহণ ইভিএমে কীভাবে হবে, ব্যালটে কীভাবে হবে, কতটা ইভিএমে হবে, কতটা ব্যালটে হবে এসব ব্যাপারে ইসি এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি, বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।’

ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নির্বাচন কমিশন কোন চাপ অনুভব করছে না বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে বিভিন্ন দলের বক্তব্য আসছে। এটা জানি না, এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নাকি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেছেন। এটা স্পষ্ট নয়। আমাদের বক্তব্যও জানানো হয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠান করার দায়িত্ব আমাদের। আপনারা জানেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলা আর বিএনপিপ্রধান বলা, জাসদের কথা বলা এটা ভিন্ন জিনিস। অনেকে তাদের ইচ্ছে ব্যক্ত করতে পারেন।’

সিইসি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত একশর মতো আসনে ইভিএমে ভোট করার সক্ষমতা ইসির আছে। তবে ৩০০ আসনে ইভিএমে ভোট নেয়ার সামর্থ্য এখনও নেই। ৩০০ আসনের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত এখনও ইসি নেয়নি।’

‘সিদ্ধান্ত আমাদের। সবার কথা আমরা বিবেচনা করতে পারি। রাজনৈতিক দল মতামত দিতে পারে, সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে আমরা স্বাধীন।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘ইভিএমে ভোট দেয়ার বিষয়ে আমরা এখনও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। আমরা ইতোমধ্যে অনেকগুলো সভা করেছি। সময় হলে সিদ্ধান্ত হবে। ভোট আমরা পরিচালনা করব, এটা আমাদের এখতিয়ার, পদ্ধতিও আমাদের এখতিয়ারভুক্ত।’

চার নির্বাচন কমিশনার- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবীব খান (অব.), রাশেদা সুলতানা, মো. আলমগীর ও মো. আনিছুর রহমান প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন। ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের ‘শুদ্ধ ও সিদ্ধভাবে’ ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেন সিইসি।

‘এনআইডি পাওয়ার জন্য মানুষের উৎসাহ আছে, কিন্তু ভোটের মাঠে কেন মানুষ যায় না?’, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না। আমাদের দায়িত্ব ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা। আমাদের কর্মীরা ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে মাঠে যাবে।’

বুধবার, ১১ মে ২০২২ , ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ০৮ শাওয়াল ১৪৪৩

ইভিএম নাকি ব্যালট, সিদ্ধান্ত কমিশনের : সিইসি

রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতও শোনা হবে

ইভিএম নাকি ব্যালট; দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, সেই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত শুনবো। আমরা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো ভোট কোন পদ্ধতিতে ও কেমন হবে। সেটি আমাদের বিষয়। এই বিষয়ে আমরা স্বাধীন।’

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের জন্য প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এসব কথা বলেন।

আগামী বছর ডিসেম্বরে বা পরবর্তী জানুয়ারিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ‘ইভিএমে করার এবং ফেয়ার করার’ কথা বলেন। শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে বিএনপিকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

জবাবে ইভিএমকে পরবর্তী ইস্যু উল্লেখ করে বিএনপির মহাসবিচ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন দিলে বিএনপি ওই নির্বাচনে অংশ নেবে না। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

এদিকে ইভিএম ইস্যুতে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, কোন পদ্ধতিতে ভোট নেয়া হবে, ইভিএমে নাকি ব্যালটে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংশয় ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতার পদে থাকা জিএম কাদের।

ইভিএম ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘ভোটগ্রহণ ইভিএমে কীভাবে হবে, ব্যালটে কীভাবে হবে, কতটা ইভিএমে হবে, কতটা ব্যালটে হবে এসব ব্যাপারে ইসি এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি, বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।’

ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নির্বাচন কমিশন কোন চাপ অনুভব করছে না বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে বিভিন্ন দলের বক্তব্য আসছে। এটা জানি না, এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নাকি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেছেন। এটা স্পষ্ট নয়। আমাদের বক্তব্যও জানানো হয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠান করার দায়িত্ব আমাদের। আপনারা জানেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলা আর বিএনপিপ্রধান বলা, জাসদের কথা বলা এটা ভিন্ন জিনিস। অনেকে তাদের ইচ্ছে ব্যক্ত করতে পারেন।’

সিইসি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত একশর মতো আসনে ইভিএমে ভোট করার সক্ষমতা ইসির আছে। তবে ৩০০ আসনে ইভিএমে ভোট নেয়ার সামর্থ্য এখনও নেই। ৩০০ আসনের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত এখনও ইসি নেয়নি।’

‘সিদ্ধান্ত আমাদের। সবার কথা আমরা বিবেচনা করতে পারি। রাজনৈতিক দল মতামত দিতে পারে, সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে আমরা স্বাধীন।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘ইভিএমে ভোট দেয়ার বিষয়ে আমরা এখনও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। আমরা ইতোমধ্যে অনেকগুলো সভা করেছি। সময় হলে সিদ্ধান্ত হবে। ভোট আমরা পরিচালনা করব, এটা আমাদের এখতিয়ার, পদ্ধতিও আমাদের এখতিয়ারভুক্ত।’

চার নির্বাচন কমিশনার- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবীব খান (অব.), রাশেদা সুলতানা, মো. আলমগীর ও মো. আনিছুর রহমান প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন। ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের ‘শুদ্ধ ও সিদ্ধভাবে’ ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেন সিইসি।

‘এনআইডি পাওয়ার জন্য মানুষের উৎসাহ আছে, কিন্তু ভোটের মাঠে কেন মানুষ যায় না?’, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না। আমাদের দায়িত্ব ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা। আমাদের কর্মীরা ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে মাঠে যাবে।’