পেট্রল ঢেলে আগুন, মারা গেছে মাদ্রাসাছাত্রী তামান্না

আসামি সাদ্দাম ও তুহিন গ্রেপ্তার

পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হেরে গেলেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নববিবাহিত মাদ্রাসাছাত্রী তামান্না খাতুন (১৮)। গত সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। গত বৃহস্পতিবার তার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তামান্নার ভাই কলেজছাত্র নাইমুর রহমান জানান, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে তার বোন মারা গেছেন। গতকাল আইনি প্রক্রিয়া শেষে বোনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি তালা উপজেলার কাশিপুরে আনা হয়। এ ঘটনায় হওয়া মামলার আসামি সাদ্দাম হোসেন ও তুহিন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তালা উপজেলার বড় কাশিপুর গ্রামের মাদ্রাসাছাত্রী তামান্না খাতুনের সঙ্গে দুই মাস আগে পারিবারিকভাবে জেলা শহরের পুরোনো সাতক্ষীরার ঘোষপাড়া এলাকার ফারহাদ হোসেনের বিয়ে হয়। ঈদের পরদিন স্বামী নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন তামান্না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে স্বামী নিয়ে বাড়ির পাশের কপোতাক্ষ নদের তীরে বেড়াতে যান। রাত ৮টার দিকে হঠাৎ একজন এসে তামান্নাকে ঝাপটে ধরে মুখ চেপে ধরেন। এরপর কয়েকজন তার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় পাশে থাকা স্বামী ফারহাদ তামান্নাকে নিয়ে কপোতাক্ষ নদে ঝাঁপ দেন। চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ এসে তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই রাতেই তামান্নার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

তামান্নার ভাই নাঈমুর রহমান আরও বলেন, কলারোয়া পৌরসভার সাদ্দাম হোসেন নামের এক মালয়েশিয়াপ্রবাসী ছেলের সঙ্গে তার বোনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু গত আড়াই বছরেও দেশে না ফেরায় ভালো পাত্র পেয়ে তামান্নাকে দুই মাস আগে বিয়ে দেন মা-বাবা। এর মধ্যে সাদ্দাম দেশে ফেরেন। এছাড়া আবদুর রউফ নামের এক প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ আছে তাদের। দুই পক্ষ মিলে তার বোন তামান্না ও ভগ্নিপতি ফারহাদকে হত্যার উদ্দেশে শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক লিটন হোসেন জানান, তামান্নার শরীরে পেট্রল ঠেলে আগুন দিলে মুখম-ল ও শরীরের অধিকাংশ স্থান কমবেশি পুড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা তাকে জানান, তামান্নার শরীরের ৪২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তার স্বামী ফারহাদ হোসেনেরও ডান হাতের কিছুটা অংশ পুড়ে গেছে। তিনি আরও জানান, গত শুক্রবার রাতে তিনি ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়ে কথা বলেছিলেন তামান্নার সঙ্গে। তার বর্ণনার সঙ্গে মামলার এজাহারের মিল রয়েছে। শুক্রবার রাতে দেখে মনে হয়েছিল তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।

পাটকেলঘাটা থানার ওসি কাঞ্চন কুমার রায় জানান, শুক্রবার বিকেলে তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানায় তামান্নার বাবা আবদুল হক বাদী হয়ে মালয়েশিয়াপ্রবাসী সাদ্দাম হোসেন এবং প্রতিবেশী আবদুর রউফের ছেলে ফিরোজ, মেয়ের জামাই আবদুল হামিদ ও সালাউদ্দিন, আত্মীয় রাজু আহমেদ ও তুহিন হোসেনের নাম উল্লেখ করে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই রাতে তুহিন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরদিন রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মামলার প্রধান আসামি সাদ্দাম হোসেনকে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বুধবার, ১১ মে ২০২২ , ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ০৮ শাওয়াল ১৪৪৩

পেট্রল ঢেলে আগুন, মারা গেছে মাদ্রাসাছাত্রী তামান্না

আসামি সাদ্দাম ও তুহিন গ্রেপ্তার

পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হেরে গেলেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নববিবাহিত মাদ্রাসাছাত্রী তামান্না খাতুন (১৮)। গত সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। গত বৃহস্পতিবার তার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তামান্নার ভাই কলেজছাত্র নাইমুর রহমান জানান, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে তার বোন মারা গেছেন। গতকাল আইনি প্রক্রিয়া শেষে বোনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি তালা উপজেলার কাশিপুরে আনা হয়। এ ঘটনায় হওয়া মামলার আসামি সাদ্দাম হোসেন ও তুহিন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তালা উপজেলার বড় কাশিপুর গ্রামের মাদ্রাসাছাত্রী তামান্না খাতুনের সঙ্গে দুই মাস আগে পারিবারিকভাবে জেলা শহরের পুরোনো সাতক্ষীরার ঘোষপাড়া এলাকার ফারহাদ হোসেনের বিয়ে হয়। ঈদের পরদিন স্বামী নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন তামান্না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে স্বামী নিয়ে বাড়ির পাশের কপোতাক্ষ নদের তীরে বেড়াতে যান। রাত ৮টার দিকে হঠাৎ একজন এসে তামান্নাকে ঝাপটে ধরে মুখ চেপে ধরেন। এরপর কয়েকজন তার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় পাশে থাকা স্বামী ফারহাদ তামান্নাকে নিয়ে কপোতাক্ষ নদে ঝাঁপ দেন। চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ এসে তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই রাতেই তামান্নার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

তামান্নার ভাই নাঈমুর রহমান আরও বলেন, কলারোয়া পৌরসভার সাদ্দাম হোসেন নামের এক মালয়েশিয়াপ্রবাসী ছেলের সঙ্গে তার বোনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু গত আড়াই বছরেও দেশে না ফেরায় ভালো পাত্র পেয়ে তামান্নাকে দুই মাস আগে বিয়ে দেন মা-বাবা। এর মধ্যে সাদ্দাম দেশে ফেরেন। এছাড়া আবদুর রউফ নামের এক প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ আছে তাদের। দুই পক্ষ মিলে তার বোন তামান্না ও ভগ্নিপতি ফারহাদকে হত্যার উদ্দেশে শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক লিটন হোসেন জানান, তামান্নার শরীরে পেট্রল ঠেলে আগুন দিলে মুখম-ল ও শরীরের অধিকাংশ স্থান কমবেশি পুড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা তাকে জানান, তামান্নার শরীরের ৪২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তার স্বামী ফারহাদ হোসেনেরও ডান হাতের কিছুটা অংশ পুড়ে গেছে। তিনি আরও জানান, গত শুক্রবার রাতে তিনি ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়ে কথা বলেছিলেন তামান্নার সঙ্গে। তার বর্ণনার সঙ্গে মামলার এজাহারের মিল রয়েছে। শুক্রবার রাতে দেখে মনে হয়েছিল তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।

পাটকেলঘাটা থানার ওসি কাঞ্চন কুমার রায় জানান, শুক্রবার বিকেলে তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানায় তামান্নার বাবা আবদুল হক বাদী হয়ে মালয়েশিয়াপ্রবাসী সাদ্দাম হোসেন এবং প্রতিবেশী আবদুর রউফের ছেলে ফিরোজ, মেয়ের জামাই আবদুল হামিদ ও সালাউদ্দিন, আত্মীয় রাজু আহমেদ ও তুহিন হোসেনের নাম উল্লেখ করে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই রাতে তুহিন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরদিন রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মামলার প্রধান আসামি সাদ্দাম হোসেনকে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।