নিষেধাজ্ঞার পরও কক্সবাজারে উত্তাল সাগরে ঝাঁপাঝাঁপি

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’র প্রভাবে কক্সবাজারে সাগর উত্তাল রয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে সাগরের পানি। অন্য দিনের তুলনায় সমুদ্র সৈকতে কমেছে মানুষের উপস্থিতি। তবে হালকা বৃষ্টি ও সতর্কতা সংকেত উপেক্ষা করে সাগরে নামছেন কিছু পর্যটক।

তারপরেও কক্সবাজারে থাকা পর্যটকরা এখনও উদাসীন। গতকাল দুপুর থেকে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেটি মানছেন না অনেকে। উত্তাল ঢেউয়ের মাঝেই তারা নেমে পড়ছেন সাগরে। লাইফগার্ডের কোন নির্দেশনা মানছেন না। দুপুরে সৈকতে আরও দেখা গেছে বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজার হাজার পর্যটক। অনেকে বলছেন, এমন আবহাওয়ায় সাগরে রূপা দেখতে তারা এসেছেন।

অস্বাভাবিক জোয়ারে বেড়েছে সাগরের উচ্চতা। কখনো মাঝারি কখনো গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। মেঘে ঢাকা আকাশে কক্সবাজারের আবহাওয়ায় এখন অনেকটাই গুমোট বেঁধে আছে। এদিকে গত সোমবার রাতে বৃষ্টি হলেও পরদিন সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করায় প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

লাল পতাকা পুঁতে দেয়া হয়েছে সাগরের বিপদ রেখায়। কিন্তু কে শোনে কার কথা। হুঙ্কার করে তেড়ে আসা ঢেউয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে পর্যটকরা। টিউবে চড়ে গা ভাসিয়ে দিচ্ছেন উত্তাল সাগর জলে। অথচ কক্সবাজারে সাগরে আসা পর্যটকরা জানেন, এখন সাগর উত্তাল, বৈরী আবহাওয়ার কথা। এর মধ্যে সমুদ্রে না নামতে সৈকত এলাকায় মাইকিং শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। লাইফগার্ডকর্মীরাও সচেতন করছেন পর্যটকদের।

সৈকতে দায়িত্বরত সি-সেইফ লাইফগার্ড জয়নাল আবেদীন বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় তারা সতর্ক দৃষ্টি রেখেছেন। হাঁটু পানির গভীরে সাগরে না নামার জন্য হ্যান্ড মাইকে বারবার সতর্ক করা হলেও অনেক পর্যটক তা মানছেন না।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ায় সৈকত ভ্রমণে আসা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

তিনি জানান, পর্যটকদের সাগরে নামতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। হোটেলগুলোতেও বলে দেয়া হয়েছে তারা যেন পর্যটকদের এ বিষয়ে বুঝান। এছাড়া সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যরা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও কক্সবাজারে এখনও প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় আসানির প্রভাবে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত জারি করা হয়েছে। অনেক পর্যটক এরই মধ্যে কক্সবাজার ছাড়তে শুরু করেছেন। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র। ঘূর্ণিঝড় প্রবল হলে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে উপকূলের ৫ লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদে আশ্রয় দেয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার, ১১ মে ২০২২ , ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ০৮ শাওয়াল ১৪৪৩

নিষেধাজ্ঞার পরও কক্সবাজারে উত্তাল সাগরে ঝাঁপাঝাঁপি

image

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পর্যটকরা সাগরে ভিড় জমায় -সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’র প্রভাবে কক্সবাজারে সাগর উত্তাল রয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে সাগরের পানি। অন্য দিনের তুলনায় সমুদ্র সৈকতে কমেছে মানুষের উপস্থিতি। তবে হালকা বৃষ্টি ও সতর্কতা সংকেত উপেক্ষা করে সাগরে নামছেন কিছু পর্যটক।

তারপরেও কক্সবাজারে থাকা পর্যটকরা এখনও উদাসীন। গতকাল দুপুর থেকে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেটি মানছেন না অনেকে। উত্তাল ঢেউয়ের মাঝেই তারা নেমে পড়ছেন সাগরে। লাইফগার্ডের কোন নির্দেশনা মানছেন না। দুপুরে সৈকতে আরও দেখা গেছে বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজার হাজার পর্যটক। অনেকে বলছেন, এমন আবহাওয়ায় সাগরে রূপা দেখতে তারা এসেছেন।

অস্বাভাবিক জোয়ারে বেড়েছে সাগরের উচ্চতা। কখনো মাঝারি কখনো গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। মেঘে ঢাকা আকাশে কক্সবাজারের আবহাওয়ায় এখন অনেকটাই গুমোট বেঁধে আছে। এদিকে গত সোমবার রাতে বৃষ্টি হলেও পরদিন সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করায় প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

লাল পতাকা পুঁতে দেয়া হয়েছে সাগরের বিপদ রেখায়। কিন্তু কে শোনে কার কথা। হুঙ্কার করে তেড়ে আসা ঢেউয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে পর্যটকরা। টিউবে চড়ে গা ভাসিয়ে দিচ্ছেন উত্তাল সাগর জলে। অথচ কক্সবাজারে সাগরে আসা পর্যটকরা জানেন, এখন সাগর উত্তাল, বৈরী আবহাওয়ার কথা। এর মধ্যে সমুদ্রে না নামতে সৈকত এলাকায় মাইকিং শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। লাইফগার্ডকর্মীরাও সচেতন করছেন পর্যটকদের।

সৈকতে দায়িত্বরত সি-সেইফ লাইফগার্ড জয়নাল আবেদীন বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় তারা সতর্ক দৃষ্টি রেখেছেন। হাঁটু পানির গভীরে সাগরে না নামার জন্য হ্যান্ড মাইকে বারবার সতর্ক করা হলেও অনেক পর্যটক তা মানছেন না।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ায় সৈকত ভ্রমণে আসা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

তিনি জানান, পর্যটকদের সাগরে নামতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। হোটেলগুলোতেও বলে দেয়া হয়েছে তারা যেন পর্যটকদের এ বিষয়ে বুঝান। এছাড়া সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যরা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও কক্সবাজারে এখনও প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় আসানির প্রভাবে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত জারি করা হয়েছে। অনেক পর্যটক এরই মধ্যে কক্সবাজার ছাড়তে শুরু করেছেন। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্র। ঘূর্ণিঝড় প্রবল হলে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে উপকূলের ৫ লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদে আশ্রয় দেয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।