হাজী সেলিমের খালাসের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দুদকের

সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেয়া ৩ বছরের কারাদ-াদেশ থেকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আপিল করা হয়েছে বলে দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে দুদকের একটি মামলায় বিচারিক আদালত তিন বছরের সাজা দিয়েছিল। সেই সাজা বাতিল করে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এ লিভ টু আপিল করা হয়েছে।

খুরশিদ আলম খান আরও বলেন, এ মামলায় আত্মসমর্পণ করতে বলার ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তা করেননি হাজী সেলিম। তার উচিত ছিল এটা দ্রুত করা। তবে তাকে যে খালাস দেয়া হয়েছে, সেটা সঠিক হয়নি বলেই এ আপিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আবেদনটি আপিল বিভাগের তালিকায় এলে শুনানি হবে বলেও জানান তিনি।

২০২১ সালের ৯ মার্চ হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেয়া ১০ বছর কারাদ-াদেশ বহাল রাখে হাইকোর্ট। তবে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে তিন বছরের দ- থেকে খালাস পান তিনি। বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

ওই দিন আদালতে হাজী সেলিমের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার, আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান মনির।

রায় ঘোষণার পর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছিলেন, দুদক আইনে (২৬-এর ২ ধারা) করা মামলায় সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালত তিন বছরের কারাদ-াদেশ দিয়েছিল। সেই অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় হাজী সেলিমকে তথ্য গোপনের অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, দুদক এ অভিযোগ প্রমাণ কিন্তু দুদক আইনের ২৭(১) ধারা অনুসারে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালত ১০ বছরের কারাদ-াদেশ দিয়েছিল। ওই অভিযোগে তার সাজা বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদ-াদেশের রায় দেয় আদালত।

এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৬৬ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছে, হাইকোর্টের রায় এবং আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ঢাকার স্পেশাল জজ আদালত-৭ এ হাজী সেলিমকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ করতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে।

এদিকে, গত ২৫ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ রায়ের নথি হাতে পান হাজী সেলিম। রায় হাতে পাওয়ার পর হঠাৎ করে বিদেশযাত্রা করেন তিনি। যা নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। পরে তিনি দেশে ফিরে আসেন। আদালতের নির্দেশে আগামী ১৬ মে তিনি বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন এবং আপিল বিভাগে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করে। এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল তাকে দুটি অপরাধের দায়ে ১৩ বছরের কারাদ- দেয় বিচারিক আদালত। এর মধ্যে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের দায়ে ১০ বছর এবং সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় তিন বছর দ- দেয়া হয়।

এরপর ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন হাজী সেলিম। এর ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক রায়ে হাজী সেলিমের সাজা বাতিল করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। ওই আপিলের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায় বাতিল করে পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। এরপর ২০২১ সালের ৯ মার্চে রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

বুধবার, ১১ মে ২০২২ , ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ ০৮ শাওয়াল ১৪৪৩

হাজী সেলিমের খালাসের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দুদকের

সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেয়া ৩ বছরের কারাদ-াদেশ থেকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আপিল করা হয়েছে বলে দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে দুদকের একটি মামলায় বিচারিক আদালত তিন বছরের সাজা দিয়েছিল। সেই সাজা বাতিল করে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এ লিভ টু আপিল করা হয়েছে।

খুরশিদ আলম খান আরও বলেন, এ মামলায় আত্মসমর্পণ করতে বলার ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তা করেননি হাজী সেলিম। তার উচিত ছিল এটা দ্রুত করা। তবে তাকে যে খালাস দেয়া হয়েছে, সেটা সঠিক হয়নি বলেই এ আপিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আবেদনটি আপিল বিভাগের তালিকায় এলে শুনানি হবে বলেও জানান তিনি।

২০২১ সালের ৯ মার্চ হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেয়া ১০ বছর কারাদ-াদেশ বহাল রাখে হাইকোর্ট। তবে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে তিন বছরের দ- থেকে খালাস পান তিনি। বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

ওই দিন আদালতে হাজী সেলিমের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার, আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান মনির।

রায় ঘোষণার পর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছিলেন, দুদক আইনে (২৬-এর ২ ধারা) করা মামলায় সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালত তিন বছরের কারাদ-াদেশ দিয়েছিল। সেই অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় হাজী সেলিমকে তথ্য গোপনের অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, দুদক এ অভিযোগ প্রমাণ কিন্তু দুদক আইনের ২৭(১) ধারা অনুসারে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালত ১০ বছরের কারাদ-াদেশ দিয়েছিল। ওই অভিযোগে তার সাজা বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদ-াদেশের রায় দেয় আদালত।

এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৬৬ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছে, হাইকোর্টের রায় এবং আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ঢাকার স্পেশাল জজ আদালত-৭ এ হাজী সেলিমকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ করতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে।

এদিকে, গত ২৫ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ রায়ের নথি হাতে পান হাজী সেলিম। রায় হাতে পাওয়ার পর হঠাৎ করে বিদেশযাত্রা করেন তিনি। যা নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। পরে তিনি দেশে ফিরে আসেন। আদালতের নির্দেশে আগামী ১৬ মে তিনি বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন এবং আপিল বিভাগে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করে। এ মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল তাকে দুটি অপরাধের দায়ে ১৩ বছরের কারাদ- দেয় বিচারিক আদালত। এর মধ্যে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের দায়ে ১০ বছর এবং সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় তিন বছর দ- দেয়া হয়।

এরপর ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন হাজী সেলিম। এর ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক রায়ে হাজী সেলিমের সাজা বাতিল করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। ওই আপিলের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায় বাতিল করে পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। এরপর ২০২১ সালের ৯ মার্চে রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট।