ভোজ্যতেলের মজুদ ও কৃত্রিম সংকট

সারাদেশে অভিযান : তেল জব্দ, জরিমানা

গতকাল দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে মজুদদার ভোজ্যতেল ব্যাবসায়ীদের জরিমানা, জব্দ ও নায্যমূলো বিক্রি করা হয়েছে। জব্দ হওয়া তেলের মধ্যে বেশিরভাগই সয়াবিন, এর মধ্যে কিছু পাম অয়েলও আছে।

ঈদের আগে থেকেই বাজারে ভোজ্যতেলের মজুদ এ কৃত্রিম সংকট চলছে। সরকার কর্তৃক তেলের বাড়তি দাম নির্ধারণের পরেও অধিকাংশ বাজারই ভোজ্যতেলশূন্য। অথচ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও পুলিশের অভিযানে হঠাৎ করেই পুরো বাংলাদেশ যেন সয়াবিন তেলের ‘খনি’তে পরিণত হয়েছে। কখনও সয়াবিন তেলের ‘খনি’র সন্ধান মিলছে ঘরের বাংকারে আবার কখনও গোডাউনের ভেতরে। আর দেশকে সয়াবিন তেলের খনিতে পরিণত করেছে অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। আগের কম দামে তেল কিনে নতুন বাড়তি দামে বিক্রি করতে সারাদেশে তারা লুকিয়ে রেখেছিল সয়াবিন তেল। সেগুলোরই এখন সন্ধান মিলছে এক এক করে।

রাজশাহীতে এক গোডাউনে মিলল ১৮ হাজার ১২৬ লিটার তেল

জেলা বার্তা পবিরেশক জানিয়েছেন, শহরের গুদাম থেকে বেরিয়ে আসছে মজুদকৃত হাজার হাজার লিটার তেল। গতকাল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এই অভিযান চালিয়ে এক গোডাউন থেকে ১৮ হাজার ১২৬ লিটার তেল উদ্ধার করেছে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিকে অভিযান চালিয়ে নগরীর সাহেব বাজার আরডিএ মার্কেটের মজিবুর স্টোর নামে একটি গোডাউন হতে তেল জব্দ করা হয়। অবৈধভাবে ভোজ্যতেল মজুদ করার অপরাধে মজিবুর স্টোরের মালিক মজিবুর রহমানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এই বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ বলেন, আগে হতেই আমাদের কাছে তথ্য ছিল মজিবুর স্টোরে ভোজ্যতেল মজুদ রাখা হয়েছে । প্রথমে তারা তেল রাখায় বিষয়টি অস্বীকার করছিল পরে আমরা গোডাউনে গেলে তেল পাই। এজন্য মজিবুর স্টোরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজারে জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করা আরও সাড়ে ৯৩ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে পুলিশ।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, এ সময় সেখানে পাঁচটি গোডাউনে ৪৫৪ ড্রামে ৯২ হাজার ৬১৬ লিটার সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। এর মধ্যে সরকার অ্যান্ড সন্সের গোডাউনে ৭৪ ড্রাম এবং তার গোডাউনের সামনে দাঁড়ানো ট্রাকে ৬০ ড্রাম, এন্তাজ স্টোরের গুদামে ১৪২ ড্রাম, মেসার্স পাল অ্যান্ড ব্রাদার্সের গুদামে ১০৩ ড্রাম ও রিয়া স্টোরের গোডাউনে ৭৫ ড্রাম তেল জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, প্রতি ড্রামে রয়েছে ২০৪ লিটার তেল। সবাই তেলগুলো মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মজুদদারদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানায় পুলিশ।

এর আগে, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অবৈধভাবে সয়াবিন তেল মজুদ ও নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করার অভিযোগে রাজশাহীর তিন ব্যবসায়ীকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক অপূর্ব অধিকারী ও সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ নগরীতে এই অভিযান চালান।

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ জানান, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা নগরীর সাহেব বাজার ও বহরমপুর এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় সাহেব বাজার এলাকার মেসার্স হুমায়ুন স্টোরে ১৩২ বোতল সয়াবিন তেল মজুদ পাওয়া যায়। বোতলজাত সয়াবিন তেল মজুদ রেখেছিলেন বিক্রেতা হুমায়ুন কবীর। এই ঘটনায় তাকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জব্দকৃত ১৩২ বোতল সয়াবিন তেল গায়ের দামে বিক্রি করে ব্যবসায়ীকে টাকা দেয়া হয়।

একই অভিযানে সাহেব বাজার এলাকার মেসার্স পাপ্পু অ্যান্ড ব্রাদার্সকেও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক নজরুল ইসলাম নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি দামে বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি করছিলেন।

তিনি বলেন, আলাদা অভিযানে নগরীর বহরমপুর মোড় এলাকার মেসার্স নুরুন্নবি ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি মূল্যে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি করছিলেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক নুরুন্নবী।

রংপুরে ৫১ হাজার লিটার ভোজ্যতেলের সন্ধান :

জেলা বার্তা পবিরেশক জানিয়েছেন, নগরীর নিউ সেনপাড়া এলাকায় দুটি তেল ব্যবসায়ীর গুদামে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সংরক্ষণ উদ্যোগে গতকাল ব্যবসায়ীর গুদামে অভিযান চালিয়ে ৫১ হাজার লিটার ভোজ্যতেলের সন্ধান পেয়েছে। অভিযোগ উঠেছে ওই দুই ব্যবসায়ী ওইসব ভোজ্যতেল গুদামজাত করে রেখে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রয় করার পরিকল্পনা করছিল। পরে দুই ব্যবসায়ীর প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেইসঙ্গে সব তেল ন্যায্যমূল্যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভোক্তাদের কাছে বিক্রির আদেশ দেয়া হয়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুরের সহকারী পরিচালক আফসানা পারভীনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আফসানা পারভীনের নেতৃত্বে একটি টিম পুলিশের সহায়তায় নগরীর নিউ সেনপাড়া এলাকায় জেপাল ট্রেডার্র্সের মালিক বিশ্বজিৎ পাল এবং আজিজুল ইসলামের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৮৭২ লিটার সোয়াবিন তেল এবং ৩৭ হাজার ৩৩২ লিটার পাম ওয়েল মজুদ পাওয়া যায়।

ওই দুই ব্যবসায়ী সয়াবিন তেল ও পাম ওয়েল অবৈধভাবে মজুদ করে রেখেছে বলে প্রমাণ পায়। শুধু তাই নয়, তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রয় করার জন্যই অবৈধ মজুদ করে রেখেছিল বলে অভিযোগ পাওয়ার পর দুই ব্যবসায়ীর প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেইসঙ্গে মজুদ করা তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে একদিনের মধ্যে বিক্রি করার আদেশ দেয় হয়। তিনি জানান, আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কুমিল্লায় ৫ দোকানে জরিমানা

জেলা বার্তা পরিবেশক জানান, ভোজ্যতেল মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার দায়ে কুমিল্লায় ৫টি দোকানে ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গতকাল দুপুরে জেলার পদুয়ার বাজার বিশ^রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এ জরিমানা আদায় করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আসাদুল ইসলাম জানান, নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে দুপুরে পদুয়ার বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভোজ্যতেল মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ৫টি দোকান থেকে জরিমানা আদায় করা হয়। অবৈধভাবে পণ্য মজুদ রাখা এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি প্রতিরোধে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বাগেরহাটে ৫ হাজার লিটার তেল জব্দ বাগেরহাট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলা শহরে অবৈধভাবে মজুদ করা ৫ হাজার ২০০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রাষ্ট্রের একটি গেয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বিকেলে শহরের নাগের বাজার ও তেলপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই তেল জব্দ করা হয়।

অবৈধভাবে মজুদের দায়ে ৩ ব্যবসায়ীকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ তেলের মধ্যে বোতলজাত ৫৬০ লিটার তেল গায়ের দামে খুচরা ভোক্তাদের কাছে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া ড্রামে ডেলে রাখা অবশিষ্ট তেল দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারনির্ধারিত দামে বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল ইমরান বলেন, জব্দ তেলের মধ্যে পাঁচ লিটারের বোতল ৭৬০ টাকা, ২ লিটার ৩৩৫ টাকা এবং ৮ লিটার এক হাজার ২৮০ টাকা করে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি করা হয়। এমন উদ্যোগে বেজায় খুশি স্থানীয়রা।

তিনি আরও বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৪৫ ধারায় তেলপট্টি এলাকার মেসার্স শ্রী ভা-ারকে ৭০ হাজার, মেসার্স সুভাষ চন্দ্র পালকে ১০ হাজার এবং পাল অ্যান্ড সন্সকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই তিন ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে ৫ হাজার ২০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কুষ্টিয়ায় মিলল ৭০০ লিটার সয়াবিন তেল জেলা বার্তা পরিবেশক জানায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে একটি গোডাউন ৭০০ লিটার সয়াবিন তেল পাওয়া গেছে। ঈদের আগে ক্রয় করা প্যাকেটজাত এই তেল বাজারে বিক্রি না করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় অবৈধভাবে গোডাউনে মজুদ করে রাখা হয়েছিল।

গতকাল কুমারখালী পৌরসভার তহ বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি টিম। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন অধিদপ্তরের কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক সুচন্দন ম-ল। তিনি জানান, এ সময় সয়াবিন তেল মজুদ ও বেশি দামে বিক্রি করার অপরাধে বাদশা স্টোরের মালিক বাদশা মিয়াকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তিনি আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে তারা কুমারখালী শহরের তহ বাজার ২নং এলাকার বাদশা স্টোরের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় গোডাউনে প্যাকেটজাত ৭০০ লিটার সয়াবিন তেল মজুদ পাওয়া যায়। তেলগুলো ঈদের আগে কম দামে ক্রয় করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় মজুদ করে রাখা হয়েছিল। পরে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সয়াবিন তেল বিক্রির দায়ে গোডাউনের মালিক বাদশা মিয়াকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং তার গোডাউনে মজুদ করে রাখা থাকা ৭০০ লিটার সয়াবিন তেল তাক্ষণিকভাবে মাইকিং করে ১৬০ টাকা দরে সাধারণ মানুষের মাঝে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।

সুচন্দন ম-ল আরও জানান, জেলায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

প্রসঙ্গত এর আগের দিন মঙ্গলবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া শহরের বড় বাজার এলাকায় মেসার্স ফুড প্রোডাক্টস নামের একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার লিটার সয়াবিন তেল মজুদ পান। এ সময় বিক্রি না করে মজুদ রাখায় দায়ে ওই গোডাউন মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সিলেটে সাড়ে চার হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ

সিলেট প্রতিনিধি জানান, শহরে ব্যবসায়ীদের গুদাম সাড়ে চার হাজার লিটার সয়াবিল তেল জব্দ করা হয়েছে। গতকাল নগরীর কাজিটুলায় একটি গুদাম ও একটি বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই উদ্ধারের ন্যায্যমূল্যে খুচরা ব্যবসায়ী, দোকানি এবং সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে র?্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র?্যাব)-৯ ও ভোক্তা অধিকার।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও র?্যাব-৯ সূত্র জানায়, নগরীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কালিঘাটের ‘কামাল বাদ্রার্স’-এর মালিক হিলভিউ কনভেনশন হলের পাশে ‘রাবেয়া খাতুন মা মনি’ নামক বাসা এবং স্থানীয় কাউন্সিলর কার্যালয়ের পাশের একটি বাসায় ৪ হাজার ৭৫৫ লিটার সয়াবিন তেল মজুদ করে রাখেন। তারা দোকানে ‘তেল নাই’ বলে জানাতেন।

চট্টগ্রামে বেশি দামে তেল বিক্রিতে জরিমানা গুনল দুই দোকানি

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, মহানগরীর কর্নেলহাটে বেশি দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করার অভিযোগে ২ দোকানকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গতকাল এ জরিমানা করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. দিদার হোসেন বলেন, কর্নেলহাটে বাড়তি দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করায় মেসার্স জামাল অ্যান্ড ব্রাদার্সকে ৫০ হাজার টাকা ও বিনিময় স্টোরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগে কেনা খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েল তেল নতুন দরে বিক্রি করতে কর্নেলহাটের জামাল অ্যান্ড ব্রাদার্স ৪ হাজার লিটার ও বিনিময় স্টোর ১৩০ লিটার তেল মজুদ করে রেখেছিল। এ অপরাধে জামাল অ্যান্ড ব্রাদার্সকে ৫০ হাজার ও বিনিময় স্টোরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি জামাল অ্যান্ড ব্রাদার্সকে মজুদ করা সয়াবিন ও পাম তেল পুরোনো দামে বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিনিময় স্টোরে মজুদ রাখা ১৩০ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তাৎক্ষণিক ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়

বৃহস্পতিবার, ১২ মে ২০২২ , ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ০৯ শাওয়াল ১৪৪৩

ভোজ্যতেলের মজুদ ও কৃত্রিম সংকট

সারাদেশে অভিযান : তেল জব্দ, জরিমানা

image

দেশের বিভিন্নস্থানে ভোজ্যতেলের গোপন মজুদের সন্ধান পেয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অভিযান চালায়। গতকাল রংপুরের এক ব্যবসায়ীর গুদামের মজুদের চিত্র -সংবাদ

গতকাল দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে মজুদদার ভোজ্যতেল ব্যাবসায়ীদের জরিমানা, জব্দ ও নায্যমূলো বিক্রি করা হয়েছে। জব্দ হওয়া তেলের মধ্যে বেশিরভাগই সয়াবিন, এর মধ্যে কিছু পাম অয়েলও আছে।

ঈদের আগে থেকেই বাজারে ভোজ্যতেলের মজুদ এ কৃত্রিম সংকট চলছে। সরকার কর্তৃক তেলের বাড়তি দাম নির্ধারণের পরেও অধিকাংশ বাজারই ভোজ্যতেলশূন্য। অথচ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও পুলিশের অভিযানে হঠাৎ করেই পুরো বাংলাদেশ যেন সয়াবিন তেলের ‘খনি’তে পরিণত হয়েছে। কখনও সয়াবিন তেলের ‘খনি’র সন্ধান মিলছে ঘরের বাংকারে আবার কখনও গোডাউনের ভেতরে। আর দেশকে সয়াবিন তেলের খনিতে পরিণত করেছে অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। আগের কম দামে তেল কিনে নতুন বাড়তি দামে বিক্রি করতে সারাদেশে তারা লুকিয়ে রেখেছিল সয়াবিন তেল। সেগুলোরই এখন সন্ধান মিলছে এক এক করে।

রাজশাহীতে এক গোডাউনে মিলল ১৮ হাজার ১২৬ লিটার তেল

জেলা বার্তা পবিরেশক জানিয়েছেন, শহরের গুদাম থেকে বেরিয়ে আসছে মজুদকৃত হাজার হাজার লিটার তেল। গতকাল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এই অভিযান চালিয়ে এক গোডাউন থেকে ১৮ হাজার ১২৬ লিটার তেল উদ্ধার করেছে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিকে অভিযান চালিয়ে নগরীর সাহেব বাজার আরডিএ মার্কেটের মজিবুর স্টোর নামে একটি গোডাউন হতে তেল জব্দ করা হয়। অবৈধভাবে ভোজ্যতেল মজুদ করার অপরাধে মজিবুর স্টোরের মালিক মজিবুর রহমানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এই বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ বলেন, আগে হতেই আমাদের কাছে তথ্য ছিল মজিবুর স্টোরে ভোজ্যতেল মজুদ রাখা হয়েছে । প্রথমে তারা তেল রাখায় বিষয়টি অস্বীকার করছিল পরে আমরা গোডাউনে গেলে তেল পাই। এজন্য মজিবুর স্টোরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজারে জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করা আরও সাড়ে ৯৩ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে পুলিশ।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, এ সময় সেখানে পাঁচটি গোডাউনে ৪৫৪ ড্রামে ৯২ হাজার ৬১৬ লিটার সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। এর মধ্যে সরকার অ্যান্ড সন্সের গোডাউনে ৭৪ ড্রাম এবং তার গোডাউনের সামনে দাঁড়ানো ট্রাকে ৬০ ড্রাম, এন্তাজ স্টোরের গুদামে ১৪২ ড্রাম, মেসার্স পাল অ্যান্ড ব্রাদার্সের গুদামে ১০৩ ড্রাম ও রিয়া স্টোরের গোডাউনে ৭৫ ড্রাম তেল জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, প্রতি ড্রামে রয়েছে ২০৪ লিটার তেল। সবাই তেলগুলো মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মজুদদারদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানায় পুলিশ।

এর আগে, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অবৈধভাবে সয়াবিন তেল মজুদ ও নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করার অভিযোগে রাজশাহীর তিন ব্যবসায়ীকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক অপূর্ব অধিকারী ও সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ নগরীতে এই অভিযান চালান।

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ জানান, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা নগরীর সাহেব বাজার ও বহরমপুর এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় সাহেব বাজার এলাকার মেসার্স হুমায়ুন স্টোরে ১৩২ বোতল সয়াবিন তেল মজুদ পাওয়া যায়। বোতলজাত সয়াবিন তেল মজুদ রেখেছিলেন বিক্রেতা হুমায়ুন কবীর। এই ঘটনায় তাকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জব্দকৃত ১৩২ বোতল সয়াবিন তেল গায়ের দামে বিক্রি করে ব্যবসায়ীকে টাকা দেয়া হয়।

একই অভিযানে সাহেব বাজার এলাকার মেসার্স পাপ্পু অ্যান্ড ব্রাদার্সকেও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক নজরুল ইসলাম নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি দামে বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি করছিলেন।

তিনি বলেন, আলাদা অভিযানে নগরীর বহরমপুর মোড় এলাকার মেসার্স নুরুন্নবি ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি মূল্যে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি করছিলেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক নুরুন্নবী।

রংপুরে ৫১ হাজার লিটার ভোজ্যতেলের সন্ধান :

জেলা বার্তা পবিরেশক জানিয়েছেন, নগরীর নিউ সেনপাড়া এলাকায় দুটি তেল ব্যবসায়ীর গুদামে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সংরক্ষণ উদ্যোগে গতকাল ব্যবসায়ীর গুদামে অভিযান চালিয়ে ৫১ হাজার লিটার ভোজ্যতেলের সন্ধান পেয়েছে। অভিযোগ উঠেছে ওই দুই ব্যবসায়ী ওইসব ভোজ্যতেল গুদামজাত করে রেখে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রয় করার পরিকল্পনা করছিল। পরে দুই ব্যবসায়ীর প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেইসঙ্গে সব তেল ন্যায্যমূল্যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভোক্তাদের কাছে বিক্রির আদেশ দেয়া হয়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুরের সহকারী পরিচালক আফসানা পারভীনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আফসানা পারভীনের নেতৃত্বে একটি টিম পুলিশের সহায়তায় নগরীর নিউ সেনপাড়া এলাকায় জেপাল ট্রেডার্র্সের মালিক বিশ্বজিৎ পাল এবং আজিজুল ইসলামের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৮৭২ লিটার সোয়াবিন তেল এবং ৩৭ হাজার ৩৩২ লিটার পাম ওয়েল মজুদ পাওয়া যায়।

ওই দুই ব্যবসায়ী সয়াবিন তেল ও পাম ওয়েল অবৈধভাবে মজুদ করে রেখেছে বলে প্রমাণ পায়। শুধু তাই নয়, তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রয় করার জন্যই অবৈধ মজুদ করে রেখেছিল বলে অভিযোগ পাওয়ার পর দুই ব্যবসায়ীর প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেইসঙ্গে মজুদ করা তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে একদিনের মধ্যে বিক্রি করার আদেশ দেয় হয়। তিনি জানান, আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কুমিল্লায় ৫ দোকানে জরিমানা

জেলা বার্তা পরিবেশক জানান, ভোজ্যতেল মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার দায়ে কুমিল্লায় ৫টি দোকানে ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গতকাল দুপুরে জেলার পদুয়ার বাজার বিশ^রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এ জরিমানা আদায় করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আসাদুল ইসলাম জানান, নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে দুপুরে পদুয়ার বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভোজ্যতেল মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ৫টি দোকান থেকে জরিমানা আদায় করা হয়। অবৈধভাবে পণ্য মজুদ রাখা এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি প্রতিরোধে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বাগেরহাটে ৫ হাজার লিটার তেল জব্দ বাগেরহাট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলা শহরে অবৈধভাবে মজুদ করা ৫ হাজার ২০০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রাষ্ট্রের একটি গেয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বিকেলে শহরের নাগের বাজার ও তেলপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই তেল জব্দ করা হয়।

অবৈধভাবে মজুদের দায়ে ৩ ব্যবসায়ীকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ তেলের মধ্যে বোতলজাত ৫৬০ লিটার তেল গায়ের দামে খুচরা ভোক্তাদের কাছে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া ড্রামে ডেলে রাখা অবশিষ্ট তেল দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারনির্ধারিত দামে বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল ইমরান বলেন, জব্দ তেলের মধ্যে পাঁচ লিটারের বোতল ৭৬০ টাকা, ২ লিটার ৩৩৫ টাকা এবং ৮ লিটার এক হাজার ২৮০ টাকা করে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি করা হয়। এমন উদ্যোগে বেজায় খুশি স্থানীয়রা।

তিনি আরও বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৪৫ ধারায় তেলপট্টি এলাকার মেসার্স শ্রী ভা-ারকে ৭০ হাজার, মেসার্স সুভাষ চন্দ্র পালকে ১০ হাজার এবং পাল অ্যান্ড সন্সকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই তিন ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে ৫ হাজার ২০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কুষ্টিয়ায় মিলল ৭০০ লিটার সয়াবিন তেল জেলা বার্তা পরিবেশক জানায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে একটি গোডাউন ৭০০ লিটার সয়াবিন তেল পাওয়া গেছে। ঈদের আগে ক্রয় করা প্যাকেটজাত এই তেল বাজারে বিক্রি না করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় অবৈধভাবে গোডাউনে মজুদ করে রাখা হয়েছিল।

গতকাল কুমারখালী পৌরসভার তহ বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি টিম। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন অধিদপ্তরের কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক সুচন্দন ম-ল। তিনি জানান, এ সময় সয়াবিন তেল মজুদ ও বেশি দামে বিক্রি করার অপরাধে বাদশা স্টোরের মালিক বাদশা মিয়াকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তিনি আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে তারা কুমারখালী শহরের তহ বাজার ২নং এলাকার বাদশা স্টোরের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় গোডাউনে প্যাকেটজাত ৭০০ লিটার সয়াবিন তেল মজুদ পাওয়া যায়। তেলগুলো ঈদের আগে কম দামে ক্রয় করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় মজুদ করে রাখা হয়েছিল। পরে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সয়াবিন তেল বিক্রির দায়ে গোডাউনের মালিক বাদশা মিয়াকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং তার গোডাউনে মজুদ করে রাখা থাকা ৭০০ লিটার সয়াবিন তেল তাক্ষণিকভাবে মাইকিং করে ১৬০ টাকা দরে সাধারণ মানুষের মাঝে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।

সুচন্দন ম-ল আরও জানান, জেলায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

প্রসঙ্গত এর আগের দিন মঙ্গলবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া শহরের বড় বাজার এলাকায় মেসার্স ফুড প্রোডাক্টস নামের একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার লিটার সয়াবিন তেল মজুদ পান। এ সময় বিক্রি না করে মজুদ রাখায় দায়ে ওই গোডাউন মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সিলেটে সাড়ে চার হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ

সিলেট প্রতিনিধি জানান, শহরে ব্যবসায়ীদের গুদাম সাড়ে চার হাজার লিটার সয়াবিল তেল জব্দ করা হয়েছে। গতকাল নগরীর কাজিটুলায় একটি গুদাম ও একটি বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই উদ্ধারের ন্যায্যমূল্যে খুচরা ব্যবসায়ী, দোকানি এবং সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে র?্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র?্যাব)-৯ ও ভোক্তা অধিকার।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও র?্যাব-৯ সূত্র জানায়, নগরীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কালিঘাটের ‘কামাল বাদ্রার্স’-এর মালিক হিলভিউ কনভেনশন হলের পাশে ‘রাবেয়া খাতুন মা মনি’ নামক বাসা এবং স্থানীয় কাউন্সিলর কার্যালয়ের পাশের একটি বাসায় ৪ হাজার ৭৫৫ লিটার সয়াবিন তেল মজুদ করে রাখেন। তারা দোকানে ‘তেল নাই’ বলে জানাতেন।

চট্টগ্রামে বেশি দামে তেল বিক্রিতে জরিমানা গুনল দুই দোকানি

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, মহানগরীর কর্নেলহাটে বেশি দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করার অভিযোগে ২ দোকানকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গতকাল এ জরিমানা করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. দিদার হোসেন বলেন, কর্নেলহাটে বাড়তি দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করায় মেসার্স জামাল অ্যান্ড ব্রাদার্সকে ৫০ হাজার টাকা ও বিনিময় স্টোরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগে কেনা খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েল তেল নতুন দরে বিক্রি করতে কর্নেলহাটের জামাল অ্যান্ড ব্রাদার্স ৪ হাজার লিটার ও বিনিময় স্টোর ১৩০ লিটার তেল মজুদ করে রেখেছিল। এ অপরাধে জামাল অ্যান্ড ব্রাদার্সকে ৫০ হাজার ও বিনিময় স্টোরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি জামাল অ্যান্ড ব্রাদার্সকে মজুদ করা সয়াবিন ও পাম তেল পুরোনো দামে বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিনিময় স্টোরে মজুদ রাখা ১৩০ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তাৎক্ষণিক ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়