পদ্মা সেতু নিয়ে ধোঁয়াশার কিছু নেই, জুনের শেষেই উদ্বোধন : সেতুমন্ত্রী

পদ্মা সেতুর পিচ ঢালাইয়ের (কারপেটিং) কাজ চলতি মাসেই শেষ হবে। এ পর্যন্ত কারপেটিংয়ের কাজ ৯১ শতাংশ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ভায়াডাক্টের সংযোগ সড়কে কারপেটিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। তবে বৃষ্টির কারণে একটু সমস্যা। আশা করা হচ্ছে ১০-১২ দিনের মধ্যে কারপেটিংয়ের কাজ শেষ হবে। এছাড়া সেতুর লাইটিংয়ের কাজও শেষ পর্যায়ে এখন শুধু বিদুৎ সংযোগ দেয়া বাকি আছে। তাই চলতি বছরের জুনের মধ্যেই পদ্মা সেতু উদ্বোধনের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ হচ্ছে বলে প্রকল্প সূত্র জানায়।

গতকাল রাজধানীর বনানীর সেতু ভবনে এক সভা শেষে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘দক্ষিণ জনপদের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী জুন মাসের শেষ ভাগে তা উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা উদ্বোধনের সামারি পাঠাব। উনি জুন মাসে যেদিন সময় দিবেন সেদিন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হবে।’

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুন সেতুর উদ্বোধন হবে কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সেতুমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই বলছি, না জেনে তো আর বলিছ না। বলেছি, জুনের শেষে উদ্বোধন হবে, ২৩ তারিখে না। পদ্মা সেতু নিয়ে ধোঁয়াশার কিছু নেই। সেতুর কাজ শেষের দিকে আছে, অল্প কিছু কাজ বাকি। যা এই মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।’

নির্মাণ কাজের অগ্রগতি জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার মূল সেতুর প্রায় ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ। প্রকল্পের সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। নদী শাসনের কাজ শেষ হয়েছে ৯২ শতাংশ। সেতুর কারপেটিংয়ের ৯১ শতাংশ কাজ শেষ।’

গত এপ্রিলে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, পদ্মা সেতু চলতি বছরের শেষ নাগাদ যান চলাচলের জন্য

উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। গত ৫ মে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তারিখ পেছানো হয়নি। আগামী জুনেই পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হবে।

সেতুর নাম কী হচ্ছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুরুতে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে, সেখানে ‘শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু’ করার প্রস্তাব করেছি। এরপর বিভিন্ন জায়গায় থেকে বলা হচ্ছে, সংসদেও দাবি উঠেছে, পদ্মা সেতুর নাম শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু করার। আমি এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, কিন্তু তিনি রাজি হচ্ছেন না। তবে আমরা সেতু উদ্বোধনের যে সামারি পাঠাব, সেখানে শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু করার জন্যই নাম প্রস্তাব করব।’

সেতুর টোল ফি বেশি কেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর টোল হারের একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। সেটি আসার পরে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী আমরা কাজ করব। তখনই পদ্মা সেতুর টোল হার চূড়ান্ত হবে।

সভায় মন্ত্রী জানান, সেতু বিভাগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মাণাধীন দুটি টিউব বিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের ২ হাজার ৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে প্রথম টানেল টিউবের রিং প্রতিস্থাপন, বোরিং এবং লেন সø্যাব ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ২৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে দ্বিতীয় টানেল টিউবের রিং প্রতিস্থাপনসহ বোরিং কাজও শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় টানেল টিউবের ২৪৫০ মিটার লেন সø্যাবের মধ্যে ১৬৮৩ মিটার লেন সø্যাব ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে এবং প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৮৫ ভাগ।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব হোসেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম, বিদুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমান, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব মইনুল কবির, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তাফিজুর রহমান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হুমায়ুন কবীর, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মামুন-আল-রশীদ, সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মনজুর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার, ১২ মে ২০২২ , ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ ০৯ শাওয়াল ১৪৪৩

পদ্মা সেতু নিয়ে ধোঁয়াশার কিছু নেই, জুনের শেষেই উদ্বোধন : সেতুমন্ত্রী

পদ্মা সেতুর পিচ ঢালাইয়ের (কারপেটিং) কাজ চলতি মাসেই শেষ হবে। এ পর্যন্ত কারপেটিংয়ের কাজ ৯১ শতাংশ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ভায়াডাক্টের সংযোগ সড়কে কারপেটিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। তবে বৃষ্টির কারণে একটু সমস্যা। আশা করা হচ্ছে ১০-১২ দিনের মধ্যে কারপেটিংয়ের কাজ শেষ হবে। এছাড়া সেতুর লাইটিংয়ের কাজও শেষ পর্যায়ে এখন শুধু বিদুৎ সংযোগ দেয়া বাকি আছে। তাই চলতি বছরের জুনের মধ্যেই পদ্মা সেতু উদ্বোধনের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ হচ্ছে বলে প্রকল্প সূত্র জানায়।

গতকাল রাজধানীর বনানীর সেতু ভবনে এক সভা শেষে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘দক্ষিণ জনপদের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী জুন মাসের শেষ ভাগে তা উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা উদ্বোধনের সামারি পাঠাব। উনি জুন মাসে যেদিন সময় দিবেন সেদিন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হবে।’

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুন সেতুর উদ্বোধন হবে কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সেতুমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই বলছি, না জেনে তো আর বলিছ না। বলেছি, জুনের শেষে উদ্বোধন হবে, ২৩ তারিখে না। পদ্মা সেতু নিয়ে ধোঁয়াশার কিছু নেই। সেতুর কাজ শেষের দিকে আছে, অল্প কিছু কাজ বাকি। যা এই মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।’

নির্মাণ কাজের অগ্রগতি জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার মূল সেতুর প্রায় ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ। প্রকল্পের সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। নদী শাসনের কাজ শেষ হয়েছে ৯২ শতাংশ। সেতুর কারপেটিংয়ের ৯১ শতাংশ কাজ শেষ।’

গত এপ্রিলে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, পদ্মা সেতু চলতি বছরের শেষ নাগাদ যান চলাচলের জন্য

উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। গত ৫ মে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের তারিখ পেছানো হয়নি। আগামী জুনেই পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হবে।

সেতুর নাম কী হচ্ছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুরুতে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে, সেখানে ‘শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু’ করার প্রস্তাব করেছি। এরপর বিভিন্ন জায়গায় থেকে বলা হচ্ছে, সংসদেও দাবি উঠেছে, পদ্মা সেতুর নাম শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু করার। আমি এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, কিন্তু তিনি রাজি হচ্ছেন না। তবে আমরা সেতু উদ্বোধনের যে সামারি পাঠাব, সেখানে শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু করার জন্যই নাম প্রস্তাব করব।’

সেতুর টোল ফি বেশি কেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর টোল হারের একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। সেটি আসার পরে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী আমরা কাজ করব। তখনই পদ্মা সেতুর টোল হার চূড়ান্ত হবে।

সভায় মন্ত্রী জানান, সেতু বিভাগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মাণাধীন দুটি টিউব বিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের ২ হাজার ৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে প্রথম টানেল টিউবের রিং প্রতিস্থাপন, বোরিং এবং লেন সø্যাব ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ২৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে দ্বিতীয় টানেল টিউবের রিং প্রতিস্থাপনসহ বোরিং কাজও শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় টানেল টিউবের ২৪৫০ মিটার লেন সø্যাবের মধ্যে ১৬৮৩ মিটার লেন সø্যাব ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে এবং প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৮৫ ভাগ।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব হোসেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম, বিদুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমান, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব মইনুল কবির, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তাফিজুর রহমান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হুমায়ুন কবীর, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মামুন-আল-রশীদ, সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মনজুর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।