সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ

প্রজ্ঞাপন জারি

সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরনের বিদেশে ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। বিভিন্ন ধরনের কর্মশালা ও সেমিনারের উদ্দেশে বিদেশ সফরও এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত হবে। পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত এই সফর বন্ধ থাকবে। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৬ অধিশাখা থেকে এ বিষয়ে ‘পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সব প্রকাশ বৈদেশিক ভ্রমণ সীমিতকরণ’ শীর্ষক এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের এক্সপোজার ভিজিট, স্টাডি ট্যুর বা এপিএ ও ইনোভেশনের আওতাভুক্ত ভ্রমণ এবং ওয়ার্কশপ বা সেমিনারে অংশগ্রহণসহ সব ধরনের বৈদেশিক ভ্রমণ বন্ধ থাকবে।

উন্নয়ন বাজেট ও পরিচালন বাজেট- উভয় ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে এবং অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এই পরিপত্রের মাধ্যমে পরবর্তী কোন আদেশ না আসা পর্যন্ত সব ধরনের সরকারি কর্মকর্তার যেকোন ধরনের বিদেশ সফরের সুযোগ আপাতত বন্ধ হয়ে গেল।

এর আগে গত বুধবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে লাগাম টানতে যাচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। শুধু তাই নয়, বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো এখন বন্ধ রেখে পরে শুরু করার জন্য বলা হয়েছে।

অহেতুক ব্যয় কমাতে উদ্যোগ নেয়া হলেও সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বেড়ে গেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যে সফরগুলো আগে অনুমোদন দেয়া হয়েছে সেগুলোই যাচ্ছে। নতুন বিদেশ সফর অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, যদি কোন প্রয়োজন না থাকে, তাহলে বিদেশ সফর আর নয়। যদি কোন বিশেষ প্রয়োজন হয় তাহলে তারা যাবেন, অন্যথায় কেউ যাবেন না।’

রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যে সার্বিক অবস্থা সেটি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। সুসময়ের জন্য, এক্সটারনাল ভার্নাবিলিটিগুলোর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।’ সেদিন অর্থমন্ত্রীর এমন কথার পর গতকাল সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করলো অর্থ মন্ত্রণালয়।

এছাড়া ডলারের ওপর চাপ কমাতে সম্প্রতি আমদানি নিরুৎসাহিত করতে পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিলাসী পণ্যে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম অর্থ জমা রাখতে হবে। আমদানি নিরুৎসাহিত করতে এর আগে গত ১১ এপ্রিল ব্যাংকগুলোকে অত্যাবশ্যকীয় নয় এমন ভোগ্যপণ্যের জন্য ঋণপত্র মার্জিন বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এতেও সুফল আসেনি। উল্টো আমদানি আরও বেড়ে যায়।

আমদানি বেড়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি দেখা দেয়। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুন-মার্চ) চলতি হিসাবের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪০৭ কোটি ডলার। ঘাটতির এই পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ গুণ বেশি। এই ঘাটতি মোকাবিলায় ডলারের ওপর চাপ কমানোর উদ্যোগ নেয় সরকার।

শুক্রবার, ১৩ মে ২০২২ , ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ ১০ শাওয়াল ১৪৪৩

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ

প্রজ্ঞাপন জারি

সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরনের বিদেশে ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। বিভিন্ন ধরনের কর্মশালা ও সেমিনারের উদ্দেশে বিদেশ সফরও এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত হবে। পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত এই সফর বন্ধ থাকবে। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৬ অধিশাখা থেকে এ বিষয়ে ‘পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সব প্রকাশ বৈদেশিক ভ্রমণ সীমিতকরণ’ শীর্ষক এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের এক্সপোজার ভিজিট, স্টাডি ট্যুর বা এপিএ ও ইনোভেশনের আওতাভুক্ত ভ্রমণ এবং ওয়ার্কশপ বা সেমিনারে অংশগ্রহণসহ সব ধরনের বৈদেশিক ভ্রমণ বন্ধ থাকবে।

উন্নয়ন বাজেট ও পরিচালন বাজেট- উভয় ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে এবং অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এই পরিপত্রের মাধ্যমে পরবর্তী কোন আদেশ না আসা পর্যন্ত সব ধরনের সরকারি কর্মকর্তার যেকোন ধরনের বিদেশ সফরের সুযোগ আপাতত বন্ধ হয়ে গেল।

এর আগে গত বুধবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে লাগাম টানতে যাচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। শুধু তাই নয়, বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো এখন বন্ধ রেখে পরে শুরু করার জন্য বলা হয়েছে।

অহেতুক ব্যয় কমাতে উদ্যোগ নেয়া হলেও সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বেড়ে গেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যে সফরগুলো আগে অনুমোদন দেয়া হয়েছে সেগুলোই যাচ্ছে। নতুন বিদেশ সফর অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, যদি কোন প্রয়োজন না থাকে, তাহলে বিদেশ সফর আর নয়। যদি কোন বিশেষ প্রয়োজন হয় তাহলে তারা যাবেন, অন্যথায় কেউ যাবেন না।’

রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যে সার্বিক অবস্থা সেটি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। সুসময়ের জন্য, এক্সটারনাল ভার্নাবিলিটিগুলোর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।’ সেদিন অর্থমন্ত্রীর এমন কথার পর গতকাল সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করলো অর্থ মন্ত্রণালয়।

এছাড়া ডলারের ওপর চাপ কমাতে সম্প্রতি আমদানি নিরুৎসাহিত করতে পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিলাসী পণ্যে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম অর্থ জমা রাখতে হবে। আমদানি নিরুৎসাহিত করতে এর আগে গত ১১ এপ্রিল ব্যাংকগুলোকে অত্যাবশ্যকীয় নয় এমন ভোগ্যপণ্যের জন্য ঋণপত্র মার্জিন বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এতেও সুফল আসেনি। উল্টো আমদানি আরও বেড়ে যায়।

আমদানি বেড়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি দেখা দেয়। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুন-মার্চ) চলতি হিসাবের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪০৭ কোটি ডলার। ঘাটতির এই পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ গুণ বেশি। এই ঘাটতি মোকাবিলায় ডলারের ওপর চাপ কমানোর উদ্যোগ নেয় সরকার।