সংকটকালে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হলেন রনিল বিক্রমাসিংহে

রাজাপাকসে ও তার ছেলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

সংকটকালে শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে। গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান লঙ্কান প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। শ্রীলঙ্কাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর এ তথ্য জানিয়েছে।

৭৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এ রাজনীতিবিদ শ্রীলঙ্কার ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) নেতা। লঙ্কান সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে শপথ নেন বিক্রমাসিংহে এবং তারপর আশীর্বাদ নিতে শ্রীলঙ্কার ঐতিহ্যবাহী ওয়ালুকারমা মন্দিরে যান।

মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগের পর থেকেই জল্পনা-কল্পনা চলছিল, বিপদকালে কে হবেন শ্রীলঙ্কার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী? এর মধ্যেই গত বুধবার গোতাবায়া রাজাপাকসের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিক্রমাসিংহে। তারপর থেকেই গুঞ্জন শুরু হয়, আগে পাঁচবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা রনিল বিক্রমাসিংহই দেশের হাল ধরতে চলেছেন।

সর্বপ্রথম ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিক্রমাসিংহে। এরপর ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল, ২০১৫ থেকে ২০১৫ (১০০ দিন), ২০১৫ থেকে ২০১৮ এবং ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি লঙ্কান প্রধানমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করেন। কিন্তু এর দুই মাস পরেই তাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

১৯৪৯ সালের ২৪ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন রনিল বিক্রমাসিংহে। ১৯৭৭ সালে প্রথমবারের মতো দেশটির সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি সবচেয়ে কম বয়সে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন। ১৯৯৪ সালের পর থেকে ইউএনপির রাজনীতিতে যুক্ত রনিল বিক্রমাসিংহে।

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে ভুগছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা। দেশটির চারদিকে এখন শুধুই হাহাকার। চলছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। তেল সংগ্রহের জন্য হাজার-হাজার মানুষ লাইনে ভিড় করছে। কাগজের অভাবে স্কুল পর্যায়ের পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে শ্রীলঙ্কা। কারণ কাগজ আমদানির মতো বৈদেশিক মুদ্রা তাদের কাছে নেই। বিদেশি ঋণের ভারে আজ জর্জরিত দ্বীপরাষ্ট্রটি। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় ঠেকেছে, তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যয়ও মেটাতে পারছে না। যার ফলে জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছুঁয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় গত মাসখানেকের বেশি সময় ধরে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। গত সোমবার সরকার সমর্থকদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ এবং দেশজুড়ে জ্বালা-পোড়াওয়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপক্ষে। জনরোষের মুখে কলম্বোর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে সেনা পাহারায় পালিয়ে একটি নৌঘাঁটিতে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। এরপর বিক্ষোভ দমনে দেশজুড়ে কারফিউ জারির পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও পুলিশকে গুলি চালানোর ক্ষমতা দেয়া হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ চলছিল।

দেশের অর্থনীতির এমন দুরবস্থার জন্য দায়ী করে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও তার ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগ দাবিতে রাস্তায় নামে লঙ্কান জনগণ। শুরুর দিকে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও ধীরে ধীরে তা সহিংস হয়ে ওঠে। বিশেষ করে, গত সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকার সমর্থকদের হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এক রাতের মধ্যে আগুন দেয়া হয় মন্ত্রী-এমপিসহ অর্ধশতাধিক নেতার বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। বিক্ষোভ-সহিংসতায় প্রাণ হারান এক এমপি, আহত হন আরও একজন। হামলার শিকার হয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারাও। পরে চাপের মুখে পদত্যাগ করেন লঙ্কান প্রধানমন্ত্রী। তবে প্রেসিডেন্টকেও ক্ষমতা ছাড়তে হবে দাবি করে এখনও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।

প্রধান বিরোধী দল সমাজি জনা বালাভেগায়া (এসজেবি) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নিতে রাজি হলেও সেজন্য প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের শর্ত দিয়েছিল তারা। এর মধ্যে গতকাল সন্ধ্যায় রনিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া। পরে জাতির উদ্দেশে ভাষণে চলতি সপ্তাহের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারপরেও বিক্ষোভ চলছিল।

গতকাল সকালে ইউএনপির নেতারা জানান, তাদের নেতা রনিল বিক্রমাসিংহে নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। এর মধ্যে প্রধান বিরোধী দল এসজেবির নেতা সাজিথ প্রেমাদাসাও প্রধানমন্ত্রী হতে রাজি জানিয়ে প্রেসিডেন্টকে চিঠি লেখেন। তবে সেখানে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খর্ব এবং তার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করার শর্ত দিয়েছিলেন তিনি। সাজিথ প্রেমাদাসার ওই চিঠির বিষয়ে আর কিছু জানা যায়নি। গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন রনিল বিক্রমাসিংহে। তিনি এখন শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত করতে পারবেন কি-না তা বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

করোনার ধাক্কার পাশাপাশি সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্দশার মুখে পড়ে শ্রীলঙ্কা। গত কয়েক মাস ধরে খাবার, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে পড়েছে দেশটি। ব্যাপকভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, চলছে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট। ঋণের চাপ আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গতকাল দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নন্দলাল বিরাসিংহে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাদের হাতে বৈদেশিক মুদ্রার যে মজুদ আছে, তা দিয়ে সপ্তাহখানেকের বেশি আমদানিপ্রক্রিয়া চালানো সম্ভব হবে না। সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ছাড়া সে আলোচনা এগোবে না।

মাহিন্দা রাজাপাকসে ও তার মিত্রদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

শ্রীলঙ্কার সদ্যসাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। একইসঙ্গে তার রাজনীতিবিদ ছেলে নমল ও ১৫ সহযোগীর ওপরও একই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় এই আদেশ দিয়েছে আদালত।

রাজধানী কলম্বোর আদালতের এক বিচারক গত সোমবার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা তদন্ত করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। এই হামলার জেরে অন্তত ৯ জন নিহত এবং ব্যাপক সহিংস ঘটনা ঘটে।

আদালতের এক কর্মকর্তা জানান, ওই ঘটনায় মাহিন্দা রাজাপাকসে এবং তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আদালতে আবেদন জানানো হয়। তবে বিচারক ওই আবেদন বাতিল করে দেন কারণ যেকোন সন্দেহভাজনকে আটকের ক্ষমতা পুলিশের রয়েছে।

শুক্রবার, ১৩ মে ২০২২ , ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ ১০ শাওয়াল ১৪৪৩

সংকটকালে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হলেন রনিল বিক্রমাসিংহে

রাজাপাকসে ও তার ছেলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

image

সংকটকালে শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে। গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান লঙ্কান প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। শ্রীলঙ্কাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর এ তথ্য জানিয়েছে।

৭৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এ রাজনীতিবিদ শ্রীলঙ্কার ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) নেতা। লঙ্কান সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে শপথ নেন বিক্রমাসিংহে এবং তারপর আশীর্বাদ নিতে শ্রীলঙ্কার ঐতিহ্যবাহী ওয়ালুকারমা মন্দিরে যান।

মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগের পর থেকেই জল্পনা-কল্পনা চলছিল, বিপদকালে কে হবেন শ্রীলঙ্কার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী? এর মধ্যেই গত বুধবার গোতাবায়া রাজাপাকসের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিক্রমাসিংহে। তারপর থেকেই গুঞ্জন শুরু হয়, আগে পাঁচবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা রনিল বিক্রমাসিংহই দেশের হাল ধরতে চলেছেন।

সর্বপ্রথম ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিক্রমাসিংহে। এরপর ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল, ২০১৫ থেকে ২০১৫ (১০০ দিন), ২০১৫ থেকে ২০১৮ এবং ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি লঙ্কান প্রধানমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করেন। কিন্তু এর দুই মাস পরেই তাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

১৯৪৯ সালের ২৪ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন রনিল বিক্রমাসিংহে। ১৯৭৭ সালে প্রথমবারের মতো দেশটির সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি সবচেয়ে কম বয়সে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন। ১৯৯৪ সালের পর থেকে ইউএনপির রাজনীতিতে যুক্ত রনিল বিক্রমাসিংহে।

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে ভুগছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা। দেশটির চারদিকে এখন শুধুই হাহাকার। চলছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। তেল সংগ্রহের জন্য হাজার-হাজার মানুষ লাইনে ভিড় করছে। কাগজের অভাবে স্কুল পর্যায়ের পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে শ্রীলঙ্কা। কারণ কাগজ আমদানির মতো বৈদেশিক মুদ্রা তাদের কাছে নেই। বিদেশি ঋণের ভারে আজ জর্জরিত দ্বীপরাষ্ট্রটি। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় ঠেকেছে, তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যয়ও মেটাতে পারছে না। যার ফলে জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছুঁয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় গত মাসখানেকের বেশি সময় ধরে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। গত সোমবার সরকার সমর্থকদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ এবং দেশজুড়ে জ্বালা-পোড়াওয়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপক্ষে। জনরোষের মুখে কলম্বোর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে সেনা পাহারায় পালিয়ে একটি নৌঘাঁটিতে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। এরপর বিক্ষোভ দমনে দেশজুড়ে কারফিউ জারির পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও পুলিশকে গুলি চালানোর ক্ষমতা দেয়া হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ চলছিল।

দেশের অর্থনীতির এমন দুরবস্থার জন্য দায়ী করে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও তার ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগ দাবিতে রাস্তায় নামে লঙ্কান জনগণ। শুরুর দিকে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও ধীরে ধীরে তা সহিংস হয়ে ওঠে। বিশেষ করে, গত সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকার সমর্থকদের হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এক রাতের মধ্যে আগুন দেয়া হয় মন্ত্রী-এমপিসহ অর্ধশতাধিক নেতার বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। বিক্ষোভ-সহিংসতায় প্রাণ হারান এক এমপি, আহত হন আরও একজন। হামলার শিকার হয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারাও। পরে চাপের মুখে পদত্যাগ করেন লঙ্কান প্রধানমন্ত্রী। তবে প্রেসিডেন্টকেও ক্ষমতা ছাড়তে হবে দাবি করে এখনও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।

প্রধান বিরোধী দল সমাজি জনা বালাভেগায়া (এসজেবি) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নিতে রাজি হলেও সেজন্য প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের শর্ত দিয়েছিল তারা। এর মধ্যে গতকাল সন্ধ্যায় রনিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া। পরে জাতির উদ্দেশে ভাষণে চলতি সপ্তাহের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারপরেও বিক্ষোভ চলছিল।

গতকাল সকালে ইউএনপির নেতারা জানান, তাদের নেতা রনিল বিক্রমাসিংহে নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। এর মধ্যে প্রধান বিরোধী দল এসজেবির নেতা সাজিথ প্রেমাদাসাও প্রধানমন্ত্রী হতে রাজি জানিয়ে প্রেসিডেন্টকে চিঠি লেখেন। তবে সেখানে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খর্ব এবং তার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করার শর্ত দিয়েছিলেন তিনি। সাজিথ প্রেমাদাসার ওই চিঠির বিষয়ে আর কিছু জানা যায়নি। গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন রনিল বিক্রমাসিংহে। তিনি এখন শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত করতে পারবেন কি-না তা বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

করোনার ধাক্কার পাশাপাশি সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্দশার মুখে পড়ে শ্রীলঙ্কা। গত কয়েক মাস ধরে খাবার, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে পড়েছে দেশটি। ব্যাপকভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, চলছে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট। ঋণের চাপ আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গতকাল দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নন্দলাল বিরাসিংহে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাদের হাতে বৈদেশিক মুদ্রার যে মজুদ আছে, তা দিয়ে সপ্তাহখানেকের বেশি আমদানিপ্রক্রিয়া চালানো সম্ভব হবে না। সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ছাড়া সে আলোচনা এগোবে না।

মাহিন্দা রাজাপাকসে ও তার মিত্রদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

শ্রীলঙ্কার সদ্যসাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। একইসঙ্গে তার রাজনীতিবিদ ছেলে নমল ও ১৫ সহযোগীর ওপরও একই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় এই আদেশ দিয়েছে আদালত।

রাজধানী কলম্বোর আদালতের এক বিচারক গত সোমবার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা তদন্ত করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। এই হামলার জেরে অন্তত ৯ জন নিহত এবং ব্যাপক সহিংস ঘটনা ঘটে।

আদালতের এক কর্মকর্তা জানান, ওই ঘটনায় মাহিন্দা রাজাপাকসে এবং তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আদালতে আবেদন জানানো হয়। তবে বিচারক ওই আবেদন বাতিল করে দেন কারণ যেকোন সন্দেহভাজনকে আটকের ক্ষমতা পুলিশের রয়েছে।