সাত বছরেও বিচার হয়নি, পুত্র শোকে কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে গেছেন মা

বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা

পুত্র শোকে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের চোখের আলো নিভে গেছে। বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা। অনটনের সংসার চলছে চরম কষ্টে। খুনিদের শাস্তি দেখে যাওয়ার প্রত্যাশায় ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থেকে চোখের লোনা জলে বুক ভাসান বাবা-মা। হত্যার ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার পাননি মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র মুক্তাগাছার আবু সাদাত খালেদ মোশাররফের পরিবার। বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাবা শহিদুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সুবিচার চায় পরিবার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৩ মে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ-সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত্ব ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মুজাটি চরপাড়া গ্রামের শহীদুল ইসলামের বড় ছেলে আবু সাদাত খালেদ মোশাররফ নিহত হন। নিহত মোশাররফের বাবা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় ২৬ জনকে আসামি করে ২০১৫ সালের ১৩ মে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আসামিরা সবাই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। এরপর মামলা আর খুব বেশি গতি পায়নি। অধিকাংশ আসামি জামিনে রয়েছে। কেউ কেউ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। হত্যা মামলার আসামিরা প্রায় সবাই এখন স্বাভাবিক জীবন ফিরেছে। তবে স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরতে পারেনি নিহত মোশাররফের পরিবার। নানা কারণে বার বার মামলার তারিখ পড়লেও বিচার প্রক্রিয়ার খুব একটা অগ্রগতি হয়নি।

চলতি মাসের ২৯ মে এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তিনি। পর পর তিনবার মুক্তাগাছার ৬নং মানকোন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মোশাররফ খুবই মেধাবী ছিল। মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষ করে মাস্টার্স পড়ছিল। ইতোমধ্যে সে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আশা ছিল অভাবের সংসারে এবার হয়তো মিলতে সুখের হাতছানি। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য থেকেই মোশাররফ সেখানে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। কিন্তু খুনিরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে সব পথরুদ্ধ করে দেয়।

তিনি জানান, ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে মোশাররফের মা সেলিনা খাতুনের দুটি চোখই এখন অন্ধ হয়ে গেছে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি। ছোট ছেলেটা এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা করছে। কিন্তু অর্থের অভাবে তিনি এখন আর কিছুই করতে পারছেন না। দল দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকলেও কেউ তার কোন খোঁজ নেয়নি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অন্তত প্রিয় সন্তান হত্যার বিচার দেখে যেতে চান। সেজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মোশাররফের মা সেলিনা খাতুন সন্তানের কথা উঠতেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি কিছুই চাই না। যারা আমার কলিজার টুকরা সন্তানকে খুন করেছে আমি তাদের বিচার চাই। সেজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চান।

শুক্রবার, ১৩ মে ২০২২ , ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ ১০ শাওয়াল ১৪৪৩

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র মোশাররফ হত্যা

সাত বছরেও বিচার হয়নি, পুত্র শোকে কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে গেছেন মা

বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা

পুত্র শোকে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের চোখের আলো নিভে গেছে। বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা। অনটনের সংসার চলছে চরম কষ্টে। খুনিদের শাস্তি দেখে যাওয়ার প্রত্যাশায় ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থেকে চোখের লোনা জলে বুক ভাসান বাবা-মা। হত্যার ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার পাননি মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র মুক্তাগাছার আবু সাদাত খালেদ মোশাররফের পরিবার। বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাবা শহিদুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সুবিচার চায় পরিবার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৩ মে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ-সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত্ব ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মুজাটি চরপাড়া গ্রামের শহীদুল ইসলামের বড় ছেলে আবু সাদাত খালেদ মোশাররফ নিহত হন। নিহত মোশাররফের বাবা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় ২৬ জনকে আসামি করে ২০১৫ সালের ১৩ মে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আসামিরা সবাই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। এরপর মামলা আর খুব বেশি গতি পায়নি। অধিকাংশ আসামি জামিনে রয়েছে। কেউ কেউ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। হত্যা মামলার আসামিরা প্রায় সবাই এখন স্বাভাবিক জীবন ফিরেছে। তবে স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরতে পারেনি নিহত মোশাররফের পরিবার। নানা কারণে বার বার মামলার তারিখ পড়লেও বিচার প্রক্রিয়ার খুব একটা অগ্রগতি হয়নি।

চলতি মাসের ২৯ মে এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তিনি। পর পর তিনবার মুক্তাগাছার ৬নং মানকোন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মোশাররফ খুবই মেধাবী ছিল। মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষ করে মাস্টার্স পড়ছিল। ইতোমধ্যে সে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আশা ছিল অভাবের সংসারে এবার হয়তো মিলতে সুখের হাতছানি। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য থেকেই মোশাররফ সেখানে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। কিন্তু খুনিরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে সব পথরুদ্ধ করে দেয়।

তিনি জানান, ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে মোশাররফের মা সেলিনা খাতুনের দুটি চোখই এখন অন্ধ হয়ে গেছে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি। ছোট ছেলেটা এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা করছে। কিন্তু অর্থের অভাবে তিনি এখন আর কিছুই করতে পারছেন না। দল দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকলেও কেউ তার কোন খোঁজ নেয়নি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অন্তত প্রিয় সন্তান হত্যার বিচার দেখে যেতে চান। সেজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মোশাররফের মা সেলিনা খাতুন সন্তানের কথা উঠতেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি কিছুই চাই না। যারা আমার কলিজার টুকরা সন্তানকে খুন করেছে আমি তাদের বিচার চাই। সেজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চান।