বেসরকারিভাবে হজে সর্বনিম্ন খরচ ৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা

হজযাত্রীদের জন্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ব্যবস্থাপনায় কোরবানির খরচ ব্যতীত হজ পালনে মাথাপিছু সর্বনিম্ন খরচ হবে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৪ টাকা। গতকাল রাজধানীর নয়া পল্টনে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজটির নাম ‘সাধারণ প্যাকেজ’। এর আওতায় হজযাত্রীদের পবিত্র হারাম শরিফের বাইরের চত্বরের সীমানার ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ মিটার দূরত্বে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

হাব জানিয়েছে, প্যাকেজ ঘোষণার পর রাজকীয় সৌদি সরকার কর্তৃক অতিরিক্ত কোন ফি আরোপ করা হলে তা প্যাকেজ মূল্য হিসেবে গণ্য হবে এবং হজযাত্রীকে পরিশোধ করতে হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেক হজযাত্রী হজ প্যাকেজের টাকা ১৮ মে’র মধ্যে এজেন্সির ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে বা এজেন্সির অফিসে জমা দিয়ে টাকার রশিদ নিতে হবে।

হাব জানায়, হজযাত্রীদের পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকতে হবে। যাদের জন্ম ১৯৫৭ সালের ৩০ জুন বা তার আগে, সেসব হজযাত্রী এ বছর হজে যেতে পারবেন না। কোরবানির খরচ বাবদ প্রত্যেক হজযাত্রীকে কমপক্ষে ৮১০ সৌদি রিয়াল বা ১৯ হাজার টাকা আলাদাভাবে নিজ দায়িত্বে সঙ্গে নিতে হবে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৮ জুলাই (৯ জিলহজ মোতাবেক) পবিত্র হজ পালিত হওয়ার কথা। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৩ হাজার ৫৮৫ জন পবিত্র হজে যেতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে হাব জানায়, প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিষেধক টিকা নিতে হবে। সৌদি আরবে যাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড-১৯-এর আরটিপিসিআর পরীক্ষা করে নেগেটিভ সনদ নিতে হবে।

শিডিউল ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহন না করার দাবি জানিয়ে হাব সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, হজযাত্রী পরিবহনে আলাদা ফ্লাইট (ডেডিকেটেড ফেরি ফ্লাইট) হিসাব করেই উড়োজাহাজের সর্বোচ্চ মূল্য জাহাজের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু গত বছরগুলোতে এয়ারলাইনসগুলো শিডিউল ফ্লাইট হজযাত্রী পরিবহন করেছে। এ বছর হজযাত্রীদের সৌদি অংশের ইমিগ্রেশন ঢাকাতেই সম্পন্ন করতে হবে। এটি নিশ্চিত করার জন্য কোনভাবেই শিডিউল ফ্লাইট হজযাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

এ বছরের বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজে খরচ বাড়ল কেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হাব সভাপতি বলেন, বাড়িভাড়া ও অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জের জন্য হজ প্যাকেজের মূল্য বেড়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ হিসেবে আপাতত খরচ ধরা হয়েছে ৬১ হাজার ২৩৬ টাকা। এই অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ এখনও নির্ধারিত হয়নি। সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ আজ সকাল পর্যন্ত এ খরচ নিশ্চিত করেনি। এ তথ্য আজ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এর আগেই গত বুধবার বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয় হজে যাওয়ার জন্য দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করে। ওইদিন সচিবালয়ে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কমিটির সভা শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেন, প্যাকেজ-১ এ হজে যেতে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ টাকা খরচ হবে। এ প্যাকেজের যাত্রীরা মসজিদুল হারামের ১ হাজার মিটার দূরত্বের মধ্যে থাকবেন।

তিনি বলেন, সর্বনিম্ন প্যাকেজ ৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা (প্যাকেজ-২) নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্যাকেজের আওতায় হজযাত্রীরা মক্কার মসজিদুল হারামের ১ হাজার ৫০০ মিটারের মধ্যে অবস্থান করবেন। ২০২০ সালের তুলনায় সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ-১ এর দাম বেড়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৩৪০ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর দাম বেড়েছে ১ লাখ ২ হাজার ১৫০ টাকা।

মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের জন্য ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩০ টাকার প্যাকেজ প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজ এজেন্সিগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২ এর সঙ্গে মিল রেখে একাধিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে।

শুক্রবার, ১৩ মে ২০২২ , ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ ১০ শাওয়াল ১৪৪৩

বেসরকারিভাবে হজে সর্বনিম্ন খরচ ৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা

হজযাত্রীদের জন্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ব্যবস্থাপনায় কোরবানির খরচ ব্যতীত হজ পালনে মাথাপিছু সর্বনিম্ন খরচ হবে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৪ টাকা। গতকাল রাজধানীর নয়া পল্টনে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজটির নাম ‘সাধারণ প্যাকেজ’। এর আওতায় হজযাত্রীদের পবিত্র হারাম শরিফের বাইরের চত্বরের সীমানার ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ মিটার দূরত্বে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

হাব জানিয়েছে, প্যাকেজ ঘোষণার পর রাজকীয় সৌদি সরকার কর্তৃক অতিরিক্ত কোন ফি আরোপ করা হলে তা প্যাকেজ মূল্য হিসেবে গণ্য হবে এবং হজযাত্রীকে পরিশোধ করতে হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেক হজযাত্রী হজ প্যাকেজের টাকা ১৮ মে’র মধ্যে এজেন্সির ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে বা এজেন্সির অফিসে জমা দিয়ে টাকার রশিদ নিতে হবে।

হাব জানায়, হজযাত্রীদের পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকতে হবে। যাদের জন্ম ১৯৫৭ সালের ৩০ জুন বা তার আগে, সেসব হজযাত্রী এ বছর হজে যেতে পারবেন না। কোরবানির খরচ বাবদ প্রত্যেক হজযাত্রীকে কমপক্ষে ৮১০ সৌদি রিয়াল বা ১৯ হাজার টাকা আলাদাভাবে নিজ দায়িত্বে সঙ্গে নিতে হবে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৮ জুলাই (৯ জিলহজ মোতাবেক) পবিত্র হজ পালিত হওয়ার কথা। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৩ হাজার ৫৮৫ জন পবিত্র হজে যেতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে হাব জানায়, প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিষেধক টিকা নিতে হবে। সৌদি আরবে যাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড-১৯-এর আরটিপিসিআর পরীক্ষা করে নেগেটিভ সনদ নিতে হবে।

শিডিউল ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহন না করার দাবি জানিয়ে হাব সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, হজযাত্রী পরিবহনে আলাদা ফ্লাইট (ডেডিকেটেড ফেরি ফ্লাইট) হিসাব করেই উড়োজাহাজের সর্বোচ্চ মূল্য জাহাজের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু গত বছরগুলোতে এয়ারলাইনসগুলো শিডিউল ফ্লাইট হজযাত্রী পরিবহন করেছে। এ বছর হজযাত্রীদের সৌদি অংশের ইমিগ্রেশন ঢাকাতেই সম্পন্ন করতে হবে। এটি নিশ্চিত করার জন্য কোনভাবেই শিডিউল ফ্লাইট হজযাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

এ বছরের বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজে খরচ বাড়ল কেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হাব সভাপতি বলেন, বাড়িভাড়া ও অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জের জন্য হজ প্যাকেজের মূল্য বেড়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ হিসেবে আপাতত খরচ ধরা হয়েছে ৬১ হাজার ২৩৬ টাকা। এই অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ এখনও নির্ধারিত হয়নি। সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ আজ সকাল পর্যন্ত এ খরচ নিশ্চিত করেনি। এ তথ্য আজ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এর আগেই গত বুধবার বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয় হজে যাওয়ার জন্য দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করে। ওইদিন সচিবালয়ে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কমিটির সভা শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেন, প্যাকেজ-১ এ হজে যেতে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ টাকা খরচ হবে। এ প্যাকেজের যাত্রীরা মসজিদুল হারামের ১ হাজার মিটার দূরত্বের মধ্যে থাকবেন।

তিনি বলেন, সর্বনিম্ন প্যাকেজ ৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা (প্যাকেজ-২) নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্যাকেজের আওতায় হজযাত্রীরা মক্কার মসজিদুল হারামের ১ হাজার ৫০০ মিটারের মধ্যে অবস্থান করবেন। ২০২০ সালের তুলনায় সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ-১ এর দাম বেড়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৩৪০ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর দাম বেড়েছে ১ লাখ ২ হাজার ১৫০ টাকা।

মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের জন্য ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩০ টাকার প্যাকেজ প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজ এজেন্সিগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২ এর সঙ্গে মিল রেখে একাধিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে।