জব্দ-জরিমানার পরও সংকট কাটছে না ভোজ্যতেলে

সরকার ভোজ্যতেলের দর ঠিক করে দেয়ার পাঁচ দিনেও বাজারে সংকট কাটেনি। দেশে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে গতকাল চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীতে ৪ হাজার ৫৫০ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করেছে। পাবনায় প্রায় এক লাখ লিটার সয়াবিন উদ্ধার করা হয়, পরে তা ন্যায্যমূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। ফরিদপুরে মজুদ করা ও বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগে দুটি দোকানে জরিমানাসহ সাময়িক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এখনও দেশের অনেক স্থানে ক্রেতারা বাজারে ও অলিগলির দোকানে নির্ধারিত মূল্যে সয়াবিন তেল পাননি। কিন্তু জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও পুলিশের অভিযানে গুদাম থেকে বেরিয়ে আসছে ব্যবসায়ীদের মজুদ করা হাজার হাজার লিটার তেল।

নোয়াখালীতে ২ হাজার ৩৫০ লিটার তেল জব্দ, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা : নোয়াখালী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার বেগমগঞ্জের চৌমুহনী বাজারে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জেলা শাখা ভোজ্যতেল বাজারে বেশি মূল্যে বিক্রির আশায় মজুদ করা ২ হাজার ৩৫০ লিটার তেল জব্দ করেছে। ঘটনায় এনএস ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা ও নিউ ভাই ভাই স্টোরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। জব্দকৃত তেলগুলো সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে খুচরামূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।

গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চৌমুহনী বাজারের বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া।

তিনি জানান, ভোজ্যতেলের বাজার তদারকি, নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সকাল থেকে চৌমুহনীর বিভিন্ন স্থানে ভোজ্যতেল মজুদকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে তেলের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।’

চট্টগ্রামে দুই হাজার ২০০ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, মহানগরীর চৌমুহনীতে কর্ণফুলী মার্কেটের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে দুই হাজার ২০০ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় প্রতিষ্ঠান মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেখানে ৭৬০ টাকার তেল বিক্রি হচ্ছিল ৯৮৫ টাকায়।

গতকাল দুপুরে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দোকান মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকার রশিদ অ্যান্ড ব্রাদার্সে এক লিটারের প্রায় ৩০০ বোতল তেল উদ্ধার করা হয়। এ কারণে দোকান মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

ফরিদপুরে জরিমানাসহ দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ : ফরিদপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার গোয়ালচামট মহল্লা এলাকায় মজুদ করা ও বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয় বোতলজাত ও খোলা অবস্থায় মোট ২৯১ লিটার তেল। একই সঙ্গে ১০ দিনের জন্য ওই প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

গতকাল শহরের গোয়ালচামট মহল্লা এলাকায় অবস্থিত হেলিপোর্ট বাজারে জেলা ভোক্তা অধিদপ্তর পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ। অভিযানকালে ওই বাজারের আসাদ স্টোর থেকে ১৫০ লিটার বোতলজাত তেল জব্দ করা হয়। একই পরিমাণ তেল গুদামজাত করে রাখায় ওই দোকানের স্বত্বাধিকারী ফরিদপুর সদরের গঙ্গাবর্দী এলকার মো. মোকসেদ আলীকে (৩৮) ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী ১০ দিনের জন্য দোকানটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

মো. মোকসেদ আলী দাবি করেন, ‘তিনি তেল গুদামজাত করেননি। গত বৃহস্পতিবার তিনি ওই এলাকায় অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে ওই তেল কিনেছেন।’

পরে অভিযান চালানো হয় ওই বাজারে অবস্থিত মফিজ স্টোরে। ওই দোকান থেকে এক লিটারের ৪১ বোতল এবং ১০০ লিটার খোলা তেল জব্দ করা হয়। ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বোতলে প্রতি লিটার তেলের দাম ১৬০ টাকা লেখা থাকলেও প্রতি লিটার তেল ২৫০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করা হচ্ছিল।

অভিযানকালে মফিজ স্টোরের স্বত্বাধিকারী মফিজউদ্দিন শেখকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানটিও ১০ দিনের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।

সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ বলেন, ‘২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার আইনের ৫৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ওই দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা ও দোকান দুটি ১০ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা

হয়।’ এ সময় জ্যেষ্ঠ জেলা বিপণন কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন ও জেলা সেনিটারি পরিদর্শক বজলুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

পাবনায় প্রায় এক লাখ লিটার সয়াবিন উদ্ধার : পাবনা থেকে নিজস্ব বার্তা পরিবেশক জানিয়েছেন, জেলার ঈশ্বরদী, বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর গুদামে অভিযান চালিয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রায় সাড়ে ৪০০ ব্যারেল প্রায় এক লাখ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে। অনেক নাটকীয়তার পর সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এসএম জামাল আহমেদ ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করে অবৈধভাবে তেল মজুদ করার অপরাধে গুদামের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে তিন দিনের মধ্যে উদ্ধার করা তেল সরকার নির্ধারিত দামে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, সাঁথিয়া উপজেলার সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ড এলাকার মেসার্স হাজী স্টোরের মনোহারি দোকান অবস্থিত। দোকানের মালিক আবদুল আউয়াল হাজী কয়েক দিন আগে করমজা ঋষিপাড়ায় অবস্থিত তার গুদামে সয়াবিন তেল মজুদ করে রাখেন।

গোপন সূত্রে এ বিষয়ে খবর পেয়ে সাঁথিয়া উপজেলা প্রশাসন ১২ মে দুপুর আড়াইটার দিকে সেই গুদামে অভিযান চালায়। অভিযানে সেখানে অবৈধভাবে মজুদ করা ২১৭ ব্যারেল প্রায় ৪০ হাজার ১৪৫ লিটার সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। এতে মেসার্স হাজী স্টোরের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া উদ্ধার করা তেল আগামী তিন দিনের মধ্যে সরকারি দামে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়।

সাঁথিয়ার ইউএনও এসএম জামাল আহমেদ বলেন, ‘অবৈধভাবে ও অসৎ উদ্দেশে ওই গুদামে তেল মজুদ করা হয়েছিল বলে প্রতীয়মান হওয়ায় গুদাম মালিককে ৫০ হাজার টাকা জমিরানা করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে জব্দ করা সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করে আমার কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

পাবনা শহরের দিলালপুর এলাকার একটি গোডাউনে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল মজুদের সন্ধান পেয়েছে। ভোজ্যতেল মজুদ করার অপরাধে গোডাউনের মালিক তেল ব্যবসায়ীকে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনর্চাজ আতাউর রহমান খন্দকার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গত বুধবার রাত ৯টার দিকে পাবনা শহরের দিলালপুর এলাকার তেল ব্যবসায়ী উত্তম কুমার কুন্ডুর গোডাউনে অভিযান চালায়। অভিযানে ওই গোডাউনে ৪৬ হাজার ৪০০ লিটার ভোজ্যতেলের মজুদ পাওয়া যায়।

তেল মজুদের সঠিক কোন কাগজ দেখাতে না পারায় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল হাছনাত ব্যবসায়ী উত্তম কুমার কুন্ডুকে অবৈধভাবে ভোজ্যতেল মজুদ করার অপরাধে দেড় লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের সাজা দেন। ততক্ষণিক টাকা পরিশোধ করায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

শনিবার, ১৪ মে ২০২২ , ৩১ বৈশাখ ১৪২৮ ১২ শাওয়াল ১৪৪৩

জব্দ-জরিমানার পরও সংকট কাটছে না ভোজ্যতেলে

সংবাদ ডেস্ক

সরকার ভোজ্যতেলের দর ঠিক করে দেয়ার পাঁচ দিনেও বাজারে সংকট কাটেনি। দেশে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে গতকাল চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীতে ৪ হাজার ৫৫০ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করেছে। পাবনায় প্রায় এক লাখ লিটার সয়াবিন উদ্ধার করা হয়, পরে তা ন্যায্যমূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। ফরিদপুরে মজুদ করা ও বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগে দুটি দোকানে জরিমানাসহ সাময়িক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এখনও দেশের অনেক স্থানে ক্রেতারা বাজারে ও অলিগলির দোকানে নির্ধারিত মূল্যে সয়াবিন তেল পাননি। কিন্তু জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও পুলিশের অভিযানে গুদাম থেকে বেরিয়ে আসছে ব্যবসায়ীদের মজুদ করা হাজার হাজার লিটার তেল।

নোয়াখালীতে ২ হাজার ৩৫০ লিটার তেল জব্দ, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা : নোয়াখালী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার বেগমগঞ্জের চৌমুহনী বাজারে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জেলা শাখা ভোজ্যতেল বাজারে বেশি মূল্যে বিক্রির আশায় মজুদ করা ২ হাজার ৩৫০ লিটার তেল জব্দ করেছে। ঘটনায় এনএস ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা ও নিউ ভাই ভাই স্টোরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। জব্দকৃত তেলগুলো সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে খুচরামূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।

গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চৌমুহনী বাজারের বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া।

তিনি জানান, ভোজ্যতেলের বাজার তদারকি, নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সকাল থেকে চৌমুহনীর বিভিন্ন স্থানে ভোজ্যতেল মজুদকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে তেলের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।’

চট্টগ্রামে দুই হাজার ২০০ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, মহানগরীর চৌমুহনীতে কর্ণফুলী মার্কেটের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে দুই হাজার ২০০ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় প্রতিষ্ঠান মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেখানে ৭৬০ টাকার তেল বিক্রি হচ্ছিল ৯৮৫ টাকায়।

গতকাল দুপুরে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দোকান মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকার রশিদ অ্যান্ড ব্রাদার্সে এক লিটারের প্রায় ৩০০ বোতল তেল উদ্ধার করা হয়। এ কারণে দোকান মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

ফরিদপুরে জরিমানাসহ দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ : ফরিদপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার গোয়ালচামট মহল্লা এলাকায় মজুদ করা ও বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয় বোতলজাত ও খোলা অবস্থায় মোট ২৯১ লিটার তেল। একই সঙ্গে ১০ দিনের জন্য ওই প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

গতকাল শহরের গোয়ালচামট মহল্লা এলাকায় অবস্থিত হেলিপোর্ট বাজারে জেলা ভোক্তা অধিদপ্তর পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ। অভিযানকালে ওই বাজারের আসাদ স্টোর থেকে ১৫০ লিটার বোতলজাত তেল জব্দ করা হয়। একই পরিমাণ তেল গুদামজাত করে রাখায় ওই দোকানের স্বত্বাধিকারী ফরিদপুর সদরের গঙ্গাবর্দী এলকার মো. মোকসেদ আলীকে (৩৮) ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী ১০ দিনের জন্য দোকানটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

মো. মোকসেদ আলী দাবি করেন, ‘তিনি তেল গুদামজাত করেননি। গত বৃহস্পতিবার তিনি ওই এলাকায় অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে ওই তেল কিনেছেন।’

পরে অভিযান চালানো হয় ওই বাজারে অবস্থিত মফিজ স্টোরে। ওই দোকান থেকে এক লিটারের ৪১ বোতল এবং ১০০ লিটার খোলা তেল জব্দ করা হয়। ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বোতলে প্রতি লিটার তেলের দাম ১৬০ টাকা লেখা থাকলেও প্রতি লিটার তেল ২৫০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করা হচ্ছিল।

অভিযানকালে মফিজ স্টোরের স্বত্বাধিকারী মফিজউদ্দিন শেখকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানটিও ১০ দিনের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।

সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ বলেন, ‘২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার আইনের ৫৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ওই দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা ও দোকান দুটি ১০ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা

হয়।’ এ সময় জ্যেষ্ঠ জেলা বিপণন কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন ও জেলা সেনিটারি পরিদর্শক বজলুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

পাবনায় প্রায় এক লাখ লিটার সয়াবিন উদ্ধার : পাবনা থেকে নিজস্ব বার্তা পরিবেশক জানিয়েছেন, জেলার ঈশ্বরদী, বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর গুদামে অভিযান চালিয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রায় সাড়ে ৪০০ ব্যারেল প্রায় এক লাখ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে। অনেক নাটকীয়তার পর সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এসএম জামাল আহমেদ ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করে অবৈধভাবে তেল মজুদ করার অপরাধে গুদামের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে তিন দিনের মধ্যে উদ্ধার করা তেল সরকার নির্ধারিত দামে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, সাঁথিয়া উপজেলার সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ড এলাকার মেসার্স হাজী স্টোরের মনোহারি দোকান অবস্থিত। দোকানের মালিক আবদুল আউয়াল হাজী কয়েক দিন আগে করমজা ঋষিপাড়ায় অবস্থিত তার গুদামে সয়াবিন তেল মজুদ করে রাখেন।

গোপন সূত্রে এ বিষয়ে খবর পেয়ে সাঁথিয়া উপজেলা প্রশাসন ১২ মে দুপুর আড়াইটার দিকে সেই গুদামে অভিযান চালায়। অভিযানে সেখানে অবৈধভাবে মজুদ করা ২১৭ ব্যারেল প্রায় ৪০ হাজার ১৪৫ লিটার সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। এতে মেসার্স হাজী স্টোরের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া উদ্ধার করা তেল আগামী তিন দিনের মধ্যে সরকারি দামে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়।

সাঁথিয়ার ইউএনও এসএম জামাল আহমেদ বলেন, ‘অবৈধভাবে ও অসৎ উদ্দেশে ওই গুদামে তেল মজুদ করা হয়েছিল বলে প্রতীয়মান হওয়ায় গুদাম মালিককে ৫০ হাজার টাকা জমিরানা করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে জব্দ করা সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করে আমার কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

পাবনা শহরের দিলালপুর এলাকার একটি গোডাউনে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল মজুদের সন্ধান পেয়েছে। ভোজ্যতেল মজুদ করার অপরাধে গোডাউনের মালিক তেল ব্যবসায়ীকে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনর্চাজ আতাউর রহমান খন্দকার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গত বুধবার রাত ৯টার দিকে পাবনা শহরের দিলালপুর এলাকার তেল ব্যবসায়ী উত্তম কুমার কুন্ডুর গোডাউনে অভিযান চালায়। অভিযানে ওই গোডাউনে ৪৬ হাজার ৪০০ লিটার ভোজ্যতেলের মজুদ পাওয়া যায়।

তেল মজুদের সঠিক কোন কাগজ দেখাতে না পারায় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল হাছনাত ব্যবসায়ী উত্তম কুমার কুন্ডুকে অবৈধভাবে ভোজ্যতেল মজুদ করার অপরাধে দেড় লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের সাজা দেন। ততক্ষণিক টাকা পরিশোধ করায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।