আমিরাতের প্রেসিডেন্টের মৃত্যু

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান (৭৩) গতকাল শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ওয়াম এক টুইট বার্তায় বলেছে, প্রেসিডেন্ট কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে দেশের পতাকা অর্ধনমিত করে ৪০ দিনের সরকারি শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে। শোক পালনের পাশাপাশি ফেডারেল ও স্থানীয় পর্যায়ে, মন্ত্রণালয়ে এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সংস্থাগুলো তিন দিন বন্ধ থাকবে।

পৃথক দুই শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। তারা তার পরিবার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশে একজন পরীক্ষিত ও অকৃত্রিম বন্ধুকে হারালো। রাষ্ট্রপতি মরহুম প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি প্রয়াত প্রেসিডেন্টের পরিবার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বেশ কয়েক বছর ধরে নানা ধরনের শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। যে কারণে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকা- থেকে দূরে ছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে তার ভাই ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ আমিরাতের ডি-ফ্যাক্টো শাসক হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার উত্তরসূরীর ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা দেয়া হয়নি।

২০০৪ সালে আমিরাতের প্রথম প্রেসিডেন্ট শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের মৃত্যুর পর তার ছেলে শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। এর এক দশক পর তিনি স্ট্রোকের শিকার হন, তখন থেকেই তাকে জনসম্মুখে খুব বেশি দেখা যায়নি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ারটির নাম প্রয়াত শাসকের নামে বুর্জ খলিফা রাখা হয়। শেখ খলিফা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট এবং আবুধাবির ১৬তম শাসক ছিলেন। ১৯৪৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আমিরাতের আল মুওয়াইজি ফোর্টে জন্মগ্রহণ করেন শেখ খলিফা। আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম প্রেসিডেন্ট শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন তিনি। তার মা ছিলেন শেখা হেসা বিনতে মোহাম্মদ বিন খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তার পুরো নাম ছিল খলিফা বিন জায়েদ বিন সুলতান বিন জায়েদ বিন খলিফা বিন শাখবুত বিন থেয়াব বিন ঈসা বিন নাহিয়ান বিন ফালাহ বিন ইয়াস।

বনি ইয়াস উপজাতীয় কনফেডারেশনের আল বু ফালাহ উপজাতি এবং আল নাহিয়ান শাসক পরিবারের প্রভাবের কেন্দ্র ছিল আল মুওয়াইজি গ্রাম। পিতার নির্মিত শহরের প্রথম স্কুল আল আইনে শিক্ষা লাভ করেছিলেন শেখ খলিফা। প্রয়াত পিতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের কর্মকা-ে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ছিলেন তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের বসবাসের অন্যতম এক আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে সংযুক্ত আমিরাতকে গড়ে তোলেন শেখ খলিফা।

আমিরাতের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মারা যাওয়ায় দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে দুবাইয়ের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শেখ মোহাম্মদ।

শনিবার, ১৪ মে ২০২২ , ৩১ বৈশাখ ১৪২৮ ১২ শাওয়াল ১৪৪৩

আমিরাতের প্রেসিডেন্টের মৃত্যু

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান (৭৩) গতকাল শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ওয়াম এক টুইট বার্তায় বলেছে, প্রেসিডেন্ট কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে দেশের পতাকা অর্ধনমিত করে ৪০ দিনের সরকারি শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে। শোক পালনের পাশাপাশি ফেডারেল ও স্থানীয় পর্যায়ে, মন্ত্রণালয়ে এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সংস্থাগুলো তিন দিন বন্ধ থাকবে।

পৃথক দুই শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। তারা তার পরিবার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশে একজন পরীক্ষিত ও অকৃত্রিম বন্ধুকে হারালো। রাষ্ট্রপতি মরহুম প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি প্রয়াত প্রেসিডেন্টের পরিবার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বেশ কয়েক বছর ধরে নানা ধরনের শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। যে কারণে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকা- থেকে দূরে ছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে তার ভাই ও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ আমিরাতের ডি-ফ্যাক্টো শাসক হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার উত্তরসূরীর ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা দেয়া হয়নি।

২০০৪ সালে আমিরাতের প্রথম প্রেসিডেন্ট শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের মৃত্যুর পর তার ছেলে শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। এর এক দশক পর তিনি স্ট্রোকের শিকার হন, তখন থেকেই তাকে জনসম্মুখে খুব বেশি দেখা যায়নি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ারটির নাম প্রয়াত শাসকের নামে বুর্জ খলিফা রাখা হয়। শেখ খলিফা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট এবং আবুধাবির ১৬তম শাসক ছিলেন। ১৯৪৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আমিরাতের আল মুওয়াইজি ফোর্টে জন্মগ্রহণ করেন শেখ খলিফা। আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম প্রেসিডেন্ট শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন তিনি। তার মা ছিলেন শেখা হেসা বিনতে মোহাম্মদ বিন খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তার পুরো নাম ছিল খলিফা বিন জায়েদ বিন সুলতান বিন জায়েদ বিন খলিফা বিন শাখবুত বিন থেয়াব বিন ঈসা বিন নাহিয়ান বিন ফালাহ বিন ইয়াস।

বনি ইয়াস উপজাতীয় কনফেডারেশনের আল বু ফালাহ উপজাতি এবং আল নাহিয়ান শাসক পরিবারের প্রভাবের কেন্দ্র ছিল আল মুওয়াইজি গ্রাম। পিতার নির্মিত শহরের প্রথম স্কুল আল আইনে শিক্ষা লাভ করেছিলেন শেখ খলিফা। প্রয়াত পিতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের কর্মকা-ে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ছিলেন তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের বসবাসের অন্যতম এক আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে সংযুক্ত আমিরাতকে গড়ে তোলেন শেখ খলিফা।

আমিরাতের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মারা যাওয়ায় দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে দুবাইয়ের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শেখ মোহাম্মদ।