ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও সত্তরের ঘূর্ণিঝড়ের প্রামাণিক নাটক

মনজুর শামস

‘মহাবিপ্লবের পদধ্বনি’ মহসিন শস্ত্রপাণির নাট্য সঙ্কলন। সঙ্কলনটিতে মহসিন শস্ত্রপাণির চারটি নাটক প্রকাশ করা হয়েছে। নাটক চারটি হচ্ছে- মহাবিপ্লবের পদধ্বনি, শবের মিছিলে জীবনের জয়গান, লাল তারার কাহিনী ও আজালিয়া পর্বত। নাট্য সংঙ্কলনটির পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৭৬, মূল্য ৪০০ টাকা, প্রকাশ করেছে জনান্তিক (বইমেলায় স্টল নম্বর ০-৩১), প্রচ্ছদ এঁকেছেন মোস্তাফিজ কারিগর।

এ দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলের অগ্রপথিকদের অন্যতম মহসিন শস্ত্রপাণি। ২০১৯ সালের ২ মার্চ এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ঊনসত্তরের গণআন্দোলন এবং একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চে ‘উন্মেষ সাহিত্য-সংস্কৃতি সংসদ’ গণসংস্কৃতির যে উত্তাল ঢেউ তুলেছিল, তিনি ছিলেন তার অন্যতম সংগঠক। গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গড়ে তুলেছিলেন সাংস্কৃতিক লড়াই। দ্রোহী কবিতায়, গণসঙ্গীতে ও নাটকে মানুষকে টেনে এনেছিলেন মহাসংগ্রামের লড়াকু মিছিলে। আর তাই তার মহাবিপ্লবের প্রতিধ্বনি নাটকে যেমন অনিবার্যভাবে ধ্বনিত হয়েছে গণমানুষের প্রাণের স্লোগান ‘আসাদের মন্ত্র- জনগণতন্ত্র’-এর বিপ্লবী প্রত্যয়, তেমনি ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে এ দেশের মানুষকে অবহেলার পরাকাষ্ঠা দেখানো পাকিস্তানী স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠা জনরোষও উঠে এসেছে : ‘...যে দ্যাশে আজ ফসলের খ্যাতে শবের মিছিল, হেয়াই দ্যাশের মানুষ বাঁচতে চাইলে সরকারি নির্যাতন ভোগ করতে হয়। ঢাকা ফিররিয়া এই কতা কইও দ্যাশের মানষের। আর কইও, যে সরকার আমাগো বাঁচতে দেয় না, যে সরকার দুর্যেগে দুর্দিনে সাহায্য করে না হেই সরকার দিয়া আমাগো কাম নাই। এবার আমাগো ভাগ্যেরে আমরা ঘুরামু। শবের মিছিলে আমরা জীবনের জয়গান গাইমু।’

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ১৯৭০ সালের ভীষণ ঘূর্ণিঝড়ের পর উপকূলীয় এলাকায় শুধু লাশ ভাসছিল- মানুষের, গবাদিপশুর আর পাখির; তছনছ হয়ে গিয়েছিল গোটা এলাকা। অথচ এর ১৪ দিন পর তখনকার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান দুর্গত এলাকা সফরে গিয়ে মাত্র ২৫ হাজার টাকা সাহায্য ঘোষণা করেছিলেন। ঘূর্ণিঝড়ের পর মওলানা ভাসানী উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে এসে এক জনসভায় পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীকে ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে অবহেলার জন্য দায়ী করেন এবং বলেন, এ ধরনের আচরণের জন্য পূর্ব পাকিস্তান আলাদা হয়ে যেতে পারে। বাস্তবে ঘটেছিলও তাই। এর কয়েকদিন পর সাধারণ নির্বাচনে এ দেশের মানুষ তার মোক্ষম জবাব দিয়েছিল, যার ফলশ্রুতিতে সূচনা হয়েছিল বায়লাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম। বাংলা সাহিত্যে সেই ঝড়ের লেখা বড় একটা চোখে পড়ে না। মহসিন শস্ত্রপাণির ‘শবের মিছিলে জীবনের জয়গান’ সেদিক দিয়ে অবশ্যই ব্যতিক্রম।

মহাবিপ্লবের পদধ্বনি নাটকে ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের দালিলিক সংলাপে প্রতিবাদের ঢেউ ছড়ায় দর্শকের মনোজগতেও। তেমনই একটি সংলাপ- ‘এখানে রক্ত! এ রাজপথে রক্ত! এ রক্ত আমার ভাইয়ের রক্ত। আমার বাংলা মায়ের সন্তানের রক্ত। ...এ রক্তের প্রতি বিন্দুতে বিন্দুতে কী লেখা জানো বাংলার মানুষ। আমি পড়ে যাই- তোমরা কান পেতে শোনো। কথা বলো না- [আসাদ লিখেছে রক্তের আখরে বাংলার মুক্তি-গান। রুস্তম-মতিয়ুরের রক্তবিন্দুতে তারই প্রতিধ্বনি। আর আমার বিন্দু বিন্দু রক্ত বাংলার মাটিতে ছড়িয়ে বুনে দিয়ে গেলাম মহাবিপ্লবের বীজ। এ বীজ তোমরা যত্ন করো জীবন দিয়ে। এ বীজে চারা হবে- গাছ হবে। মহাবিপ্লবে মুক্ত হবে বাংলাদেশের মানুষ। মুক্ত হবে মেহনতী মানুষ। সকল শোষণ, অত্যাচার আর নির্যাতন থেকে। প্রস্তুত হও বাংলাদেশের মেহনতী ভাইয়েরা সব। এসো ছড়িয়ে দিই বাংলাদেশের প্রান্তরে প্রান্তরে, দিক হতে দিগন্তে এ রক্তের বিন্দুতে লেখা- মহাবিপ্লবের বাণী!’

তার অন্য দুটি নাটক ‘লাল তারার কাহিনী’ এবং ‘আজালিয়া পর্বত’ নাটক দুটিতে চীন বিপ্লবে লং মার্চ চলাকালে চীনা কৃষকদের লড়াই, আত্মদান আর বিজয়ের কাহিনী উঠে এসেছে দর্শকহৃদয়ে আশার আবীর ছড়িয়ে।

‘মহাবিপ্লবের পদধ্বনি’ নাটকটির রচনাকাল ও মঞ্চস্থ হবার সময়কাল জানুয়ারি, ১৯৭০ (শহীদ আসাদসহ আয়ুব-বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করে)। মঞ্চস্থ হয় পল্টন ময়দানে, এখন যেখানে ভাসানী হকি স্টেডিয়াম সেখানে)।

‘শবের মিছিলে জীবনের জয়গান’ নাটকটির রচনাকাল ও মঞ্চস্থ হবার সময়- মার্চ, ১৯৭১ (১৯৭০-র ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ দেয়া কয়েক লক্ষ মানুষকে নিবেদিত, লেখক সেই ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের পরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে গিয়েছিলেন দুর্গত অঞ্চলে। মঞ্চস্থ হয় পল্টন ময়দানে, ১৯৭১-র উত্তাল মার্চে। উন্মেষ ও প্রগতিশীল অন্যান্য সংগঠনের কর্মীরা নাটকটিতে অভিনয় করেছিলেন।

‘লাল তারার কাহিনী’ গণচীনের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ৫ অক্টোবর, ১৯৭৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয়।

আজালিয়া পর্বতের প্রকাশকাল ১৯৭৮। চীন মৈত্রী সমিতি-র সংকলন ‘আহ্বান’-এ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৮ সালেই।

মহসিন শস্ত্রপাণি আজীবন গণমানুষের মুক্তির সংগ্রামে সাংস্কৃতিক লড়াই চালিয়ে গেছেন। এ সঙ্কলনে প্রকাশিত নাটকগুলো সে কথাই আবার মনে করিয়ে দেয়। বইটির অনবদ্য ভূমিকা লিখেছেন উন্মেষ সাহিত্য-সংস্কৃতি সংসদে তার ঘনিষ্ঠ সহযাত্রী কবি মুনির সিরাজ।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন ২০২২ , ৯ আষাড় ১৪২৮ ২৩ জিলকদ ১৪৪৩

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও সত্তরের ঘূর্ণিঝড়ের প্রামাণিক নাটক

মনজুর শামস

image

‘মহাবিপ্লবের পদধ্বনি’ মহসিন শস্ত্রপাণির নাট্য সঙ্কলন। সঙ্কলনটিতে মহসিন শস্ত্রপাণির চারটি নাটক প্রকাশ করা হয়েছে। নাটক চারটি হচ্ছে- মহাবিপ্লবের পদধ্বনি, শবের মিছিলে জীবনের জয়গান, লাল তারার কাহিনী ও আজালিয়া পর্বত। নাট্য সংঙ্কলনটির পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৭৬, মূল্য ৪০০ টাকা, প্রকাশ করেছে জনান্তিক (বইমেলায় স্টল নম্বর ০-৩১), প্রচ্ছদ এঁকেছেন মোস্তাফিজ কারিগর।

এ দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলের অগ্রপথিকদের অন্যতম মহসিন শস্ত্রপাণি। ২০১৯ সালের ২ মার্চ এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ঊনসত্তরের গণআন্দোলন এবং একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চে ‘উন্মেষ সাহিত্য-সংস্কৃতি সংসদ’ গণসংস্কৃতির যে উত্তাল ঢেউ তুলেছিল, তিনি ছিলেন তার অন্যতম সংগঠক। গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গড়ে তুলেছিলেন সাংস্কৃতিক লড়াই। দ্রোহী কবিতায়, গণসঙ্গীতে ও নাটকে মানুষকে টেনে এনেছিলেন মহাসংগ্রামের লড়াকু মিছিলে। আর তাই তার মহাবিপ্লবের প্রতিধ্বনি নাটকে যেমন অনিবার্যভাবে ধ্বনিত হয়েছে গণমানুষের প্রাণের স্লোগান ‘আসাদের মন্ত্র- জনগণতন্ত্র’-এর বিপ্লবী প্রত্যয়, তেমনি ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে এ দেশের মানুষকে অবহেলার পরাকাষ্ঠা দেখানো পাকিস্তানী স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠা জনরোষও উঠে এসেছে : ‘...যে দ্যাশে আজ ফসলের খ্যাতে শবের মিছিল, হেয়াই দ্যাশের মানুষ বাঁচতে চাইলে সরকারি নির্যাতন ভোগ করতে হয়। ঢাকা ফিররিয়া এই কতা কইও দ্যাশের মানষের। আর কইও, যে সরকার আমাগো বাঁচতে দেয় না, যে সরকার দুর্যেগে দুর্দিনে সাহায্য করে না হেই সরকার দিয়া আমাগো কাম নাই। এবার আমাগো ভাগ্যেরে আমরা ঘুরামু। শবের মিছিলে আমরা জীবনের জয়গান গাইমু।’

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ১৯৭০ সালের ভীষণ ঘূর্ণিঝড়ের পর উপকূলীয় এলাকায় শুধু লাশ ভাসছিল- মানুষের, গবাদিপশুর আর পাখির; তছনছ হয়ে গিয়েছিল গোটা এলাকা। অথচ এর ১৪ দিন পর তখনকার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান দুর্গত এলাকা সফরে গিয়ে মাত্র ২৫ হাজার টাকা সাহায্য ঘোষণা করেছিলেন। ঘূর্ণিঝড়ের পর মওলানা ভাসানী উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে এসে এক জনসভায় পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীকে ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে অবহেলার জন্য দায়ী করেন এবং বলেন, এ ধরনের আচরণের জন্য পূর্ব পাকিস্তান আলাদা হয়ে যেতে পারে। বাস্তবে ঘটেছিলও তাই। এর কয়েকদিন পর সাধারণ নির্বাচনে এ দেশের মানুষ তার মোক্ষম জবাব দিয়েছিল, যার ফলশ্রুতিতে সূচনা হয়েছিল বায়লাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম। বাংলা সাহিত্যে সেই ঝড়ের লেখা বড় একটা চোখে পড়ে না। মহসিন শস্ত্রপাণির ‘শবের মিছিলে জীবনের জয়গান’ সেদিক দিয়ে অবশ্যই ব্যতিক্রম।

মহাবিপ্লবের পদধ্বনি নাটকে ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের দালিলিক সংলাপে প্রতিবাদের ঢেউ ছড়ায় দর্শকের মনোজগতেও। তেমনই একটি সংলাপ- ‘এখানে রক্ত! এ রাজপথে রক্ত! এ রক্ত আমার ভাইয়ের রক্ত। আমার বাংলা মায়ের সন্তানের রক্ত। ...এ রক্তের প্রতি বিন্দুতে বিন্দুতে কী লেখা জানো বাংলার মানুষ। আমি পড়ে যাই- তোমরা কান পেতে শোনো। কথা বলো না- [আসাদ লিখেছে রক্তের আখরে বাংলার মুক্তি-গান। রুস্তম-মতিয়ুরের রক্তবিন্দুতে তারই প্রতিধ্বনি। আর আমার বিন্দু বিন্দু রক্ত বাংলার মাটিতে ছড়িয়ে বুনে দিয়ে গেলাম মহাবিপ্লবের বীজ। এ বীজ তোমরা যত্ন করো জীবন দিয়ে। এ বীজে চারা হবে- গাছ হবে। মহাবিপ্লবে মুক্ত হবে বাংলাদেশের মানুষ। মুক্ত হবে মেহনতী মানুষ। সকল শোষণ, অত্যাচার আর নির্যাতন থেকে। প্রস্তুত হও বাংলাদেশের মেহনতী ভাইয়েরা সব। এসো ছড়িয়ে দিই বাংলাদেশের প্রান্তরে প্রান্তরে, দিক হতে দিগন্তে এ রক্তের বিন্দুতে লেখা- মহাবিপ্লবের বাণী!’

তার অন্য দুটি নাটক ‘লাল তারার কাহিনী’ এবং ‘আজালিয়া পর্বত’ নাটক দুটিতে চীন বিপ্লবে লং মার্চ চলাকালে চীনা কৃষকদের লড়াই, আত্মদান আর বিজয়ের কাহিনী উঠে এসেছে দর্শকহৃদয়ে আশার আবীর ছড়িয়ে।

‘মহাবিপ্লবের পদধ্বনি’ নাটকটির রচনাকাল ও মঞ্চস্থ হবার সময়কাল জানুয়ারি, ১৯৭০ (শহীদ আসাদসহ আয়ুব-বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করে)। মঞ্চস্থ হয় পল্টন ময়দানে, এখন যেখানে ভাসানী হকি স্টেডিয়াম সেখানে)।

‘শবের মিছিলে জীবনের জয়গান’ নাটকটির রচনাকাল ও মঞ্চস্থ হবার সময়- মার্চ, ১৯৭১ (১৯৭০-র ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ দেয়া কয়েক লক্ষ মানুষকে নিবেদিত, লেখক সেই ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের পরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে গিয়েছিলেন দুর্গত অঞ্চলে। মঞ্চস্থ হয় পল্টন ময়দানে, ১৯৭১-র উত্তাল মার্চে। উন্মেষ ও প্রগতিশীল অন্যান্য সংগঠনের কর্মীরা নাটকটিতে অভিনয় করেছিলেন।

‘লাল তারার কাহিনী’ গণচীনের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ৫ অক্টোবর, ১৯৭৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয়।

আজালিয়া পর্বতের প্রকাশকাল ১৯৭৮। চীন মৈত্রী সমিতি-র সংকলন ‘আহ্বান’-এ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৮ সালেই।

মহসিন শস্ত্রপাণি আজীবন গণমানুষের মুক্তির সংগ্রামে সাংস্কৃতিক লড়াই চালিয়ে গেছেন। এ সঙ্কলনে প্রকাশিত নাটকগুলো সে কথাই আবার মনে করিয়ে দেয়। বইটির অনবদ্য ভূমিকা লিখেছেন উন্মেষ সাহিত্য-সংস্কৃতি সংসদে তার ঘনিষ্ঠ সহযাত্রী কবি মুনির সিরাজ।