মেম্বার-বখাটের অত্যাচারে এসএসসি পরীক্ষার্থী গ্রামছাড়া

বখাটের অত্যাচারে এক হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীর আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় মেম্বার সুবিচার পাইয়ে দেয়ার নামে ওই শিক্ষার্থীকে গ্রাম ছাড়া করেছে বলে পরিবারটির অভিযোগ। বর্তমান ওই মেম্বার বখাটের পক্ষ নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মোটা অংকের টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের কেশবপুর উপজেলার বরনডালি গ্রামে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বরনডালি গ্রামের দীনমজুর শাহীনুর মোল্যার মেয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। প্রতিদিনের ন্যায় মেয়েটি প্রতিবেশী মনিরুল মোল্যার বাড়িতে তার মেয়ের কাছে প্রাইভেট পড়তে য়ায়। এ সময় মেয়েটির ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে লম্পট মনিরুল মোল্যার। এরই সূত্র ধরে, সে প্রায় সময় যেখানে সেখানে মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জুন রাতে মনিরুল মোল্যার বাড়িতে মেয়েটিকে একা পেয়ে সে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। ওই রাতেই মেয়েটি সমস্ত ঘটনা তার প্রতিবেশী এক চাচী ও মা-বাবাকে জানায়। এরপর থেকে লম্পট মনিরুল মোল্যা গা ঢাকা দেয়। হতদরিদ্র পরিবারটি স্থানীয় মেম্বারের হুকুমে মেয়েটিকে সাতক্ষীরায় তার এক আতœীয় বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় তার আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিৎ হয়ে পড়েছে।

ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মেম্বার জামায়াত নেতা শহিদুল ইসলাম মনিরুল মোল্যার পক্ষ নিয়ে মোটা অংকের মিশন নিয়ে মাঠে নামেছে। ঘটনাটি এক সপ্তাহ অতিবাহিত হতে চললেও হতদরিদ্র পরিবারটি বিচার না পাওয়ায় অবশেষে গত রোববার তার দুলাভাই মাহাবুর দফাদার বাদি হয়ে মনিরুল ইসলাম ও মেম্বার শহিদুল ইসলামকে আসামী করে কেশবপুর থানায় অভিযোগ করেছে। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নির্যাতিত মেয়েটির বড় বোন রেশমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা গবীর মানুষ। মামলার ঝুটঝামেলা ছাড়াও বোনের ভবিষ্যৎ ও বিয়ের কথা বিবেচনা করে কোথাও অভিযোগ দিতে চাইনি। কিন্তু স্থানীয় মেম্বার শহিদুল ইসলাম বিচারের নামে সময় ক্ষেপণ করে আমার বোনকে বাড়ি থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় তার পরীক্ষা দেয়া হবে কিনা তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন।

এ ব্যাপারে মেম্বার শহিদুল ইসলাম বলেন, যতখানি শোনা যাচ্ছে আসলে ঘটনাটি অতখানি নয়। মনিরুল মেয়েটিকে কোন শ্লীলতাহানি ঘটায়নি। বিষয়টি মীমাংশা করে দেয়া হয়েছে।

কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বোরহান উদ্দীন বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি সরেজমিনে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে উপপরিদর্শক হাসানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২ , ২৩ আষাড় ১৪২৮ ২৭ জিলহজ ১৪৪৩

মেম্বার-বখাটের অত্যাচারে এসএসসি পরীক্ষার্থী গ্রামছাড়া

প্রতিনিধি, কেশবপুর (যশোর)

বখাটের অত্যাচারে এক হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীর আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় মেম্বার সুবিচার পাইয়ে দেয়ার নামে ওই শিক্ষার্থীকে গ্রাম ছাড়া করেছে বলে পরিবারটির অভিযোগ। বর্তমান ওই মেম্বার বখাটের পক্ষ নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মোটা অংকের টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের কেশবপুর উপজেলার বরনডালি গ্রামে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বরনডালি গ্রামের দীনমজুর শাহীনুর মোল্যার মেয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। প্রতিদিনের ন্যায় মেয়েটি প্রতিবেশী মনিরুল মোল্যার বাড়িতে তার মেয়ের কাছে প্রাইভেট পড়তে য়ায়। এ সময় মেয়েটির ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে লম্পট মনিরুল মোল্যার। এরই সূত্র ধরে, সে প্রায় সময় যেখানে সেখানে মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জুন রাতে মনিরুল মোল্যার বাড়িতে মেয়েটিকে একা পেয়ে সে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। ওই রাতেই মেয়েটি সমস্ত ঘটনা তার প্রতিবেশী এক চাচী ও মা-বাবাকে জানায়। এরপর থেকে লম্পট মনিরুল মোল্যা গা ঢাকা দেয়। হতদরিদ্র পরিবারটি স্থানীয় মেম্বারের হুকুমে মেয়েটিকে সাতক্ষীরায় তার এক আতœীয় বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় তার আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিৎ হয়ে পড়েছে।

ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মেম্বার জামায়াত নেতা শহিদুল ইসলাম মনিরুল মোল্যার পক্ষ নিয়ে মোটা অংকের মিশন নিয়ে মাঠে নামেছে। ঘটনাটি এক সপ্তাহ অতিবাহিত হতে চললেও হতদরিদ্র পরিবারটি বিচার না পাওয়ায় অবশেষে গত রোববার তার দুলাভাই মাহাবুর দফাদার বাদি হয়ে মনিরুল ইসলাম ও মেম্বার শহিদুল ইসলামকে আসামী করে কেশবপুর থানায় অভিযোগ করেছে। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নির্যাতিত মেয়েটির বড় বোন রেশমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা গবীর মানুষ। মামলার ঝুটঝামেলা ছাড়াও বোনের ভবিষ্যৎ ও বিয়ের কথা বিবেচনা করে কোথাও অভিযোগ দিতে চাইনি। কিন্তু স্থানীয় মেম্বার শহিদুল ইসলাম বিচারের নামে সময় ক্ষেপণ করে আমার বোনকে বাড়ি থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় তার পরীক্ষা দেয়া হবে কিনা তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন।

এ ব্যাপারে মেম্বার শহিদুল ইসলাম বলেন, যতখানি শোনা যাচ্ছে আসলে ঘটনাটি অতখানি নয়। মনিরুল মেয়েটিকে কোন শ্লীলতাহানি ঘটায়নি। বিষয়টি মীমাংশা করে দেয়া হয়েছে।

কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বোরহান উদ্দীন বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি সরেজমিনে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে উপপরিদর্শক হাসানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।