হেনোলাক্স চেয়ারম্যানের কাছে পাওনা ছিল তিন কোটি টাকা

সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে পরিচয়

ধারাবাহিক ব্যবসায়িক ক্ষতিতে ২০১৬ সাল থেকে কার্যক্রম বন্ধ হতে শুরু করে হেনোলাক্স কোম্পানির। বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে এই হেনোলাক্স কোম্পানিতেই ব্যবসায়িক পার্টনার করতে চেয়ে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়া হয় আগুনে আত্মাহুতি দেয়া গাজী আনিসকে। পরে গাজী আনিস স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে লভ্যাংশ দেয়ার কথা বলে এক কোটি ২৬ লাখ টাকা ধার করে বিনিয়োগ করেন। বিভিন্ন সময় হেনোলাক্স কোম্পানি তাকে ৭৪ লাখ টাকা দিলেও লভ্যাংশসহ কোম্পানির কাছে তার মোট পাওনা দাঁড়ায় তিন কোটি টাকা। মূলত হেনোলাক্স কোম্পানি এই টাকা দিতে গড়িমসি করায় এবং পাওনাদাররা টাকা ফেরত পেতে তাগাদা দেয়ায় হতাশায় মৃত্যুর পথ বেছে নেন গাজী আনিস।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। গত মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আমিন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির (হেনোলাক্স) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী কোম্পানির পরিচালক ফাতেমা আমিনকে। র‌্যাব জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলাও করেছিলেন গাজী আনিস। সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবে।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সাহিত্য চর্চা করতেন গাজী আনিস। ১০-১৫টি কবিতার বইও বের করেছেন। মূলত হেনোলাক্স কোম্পানির পাশে জুপিটার পাবলিকেশন্স থেকে কবিতার বই বের করতেন গাজী আনিস। ফাতেমা আমিনও সাহিত্য চর্চা করতেন। এই সূত্র ধরে তাদের মধ্যে পরিচয়। একপর্যায়ে গাজী আনিসকে প্রলোভন দেখালে চুক্তিনামা ছাড়াই মোট এক কোটি ২৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। পরে বিনিয়োগ-পরবর্তী চূড়ান্ত রেজিস্ট্রি চুক্তিপত্র সম্পাদন করার জন্য ভিকটিম বারবার আসামিদের অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা গড়িমসি করতে থাকেন। এরমধ্যে বিভিন্ন সময় তাকে ৭৬ লাখ টাকা দেন। পরে লভ্যাংশসহ পাওনা ৩ কোটি টাকা আর ফেরত না দিয়ে হেনস্তা-ভয়ভীতিও দেখানো হয়।

গত ৪ জুলাই পাওনা টাকা পরিশোধের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বিকেল গড়ালেও তারা নিহতকে টাকা দেয়া হয়নি। এরপর গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। আশির দশকে হোমিও চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা মো. নুরুল আমিনের বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অঢেল সম্পত্তি রয়েছে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি র‌্যাবকে জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালে শুরু করা হেনোলাক্স কোম্পানি একচেটিয়া ব্যবসা করায় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান খুলতে পেরেছেন।

গাজী আনিসের লাশ দাফন

গাজী আনিসের দাফন মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিনের পান্টি গ্রামে দাফন করা হয়েছে বলে বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান। এ সময় তার স্ত্রী জুমিনা রহমান স্বপ্না এ ঘটনার বিচার দাবি করেন এবং তিন মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান। বড় মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী মেধা রহমান আঁচল তার বাবার পাওনা টাকা উদ্ধারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২ , ২৩ আষাড় ১৪২৮ ২৭ জিলহজ ১৪৪৩

আগুনে আনিসের মৃত্যু

হেনোলাক্স চেয়ারম্যানের কাছে পাওনা ছিল তিন কোটি টাকা

সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে পরিচয়

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

ধারাবাহিক ব্যবসায়িক ক্ষতিতে ২০১৬ সাল থেকে কার্যক্রম বন্ধ হতে শুরু করে হেনোলাক্স কোম্পানির। বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে এই হেনোলাক্স কোম্পানিতেই ব্যবসায়িক পার্টনার করতে চেয়ে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়া হয় আগুনে আত্মাহুতি দেয়া গাজী আনিসকে। পরে গাজী আনিস স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে লভ্যাংশ দেয়ার কথা বলে এক কোটি ২৬ লাখ টাকা ধার করে বিনিয়োগ করেন। বিভিন্ন সময় হেনোলাক্স কোম্পানি তাকে ৭৪ লাখ টাকা দিলেও লভ্যাংশসহ কোম্পানির কাছে তার মোট পাওনা দাঁড়ায় তিন কোটি টাকা। মূলত হেনোলাক্স কোম্পানি এই টাকা দিতে গড়িমসি করায় এবং পাওনাদাররা টাকা ফেরত পেতে তাগাদা দেয়ায় হতাশায় মৃত্যুর পথ বেছে নেন গাজী আনিস।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। গত মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আমিন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির (হেনোলাক্স) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী কোম্পানির পরিচালক ফাতেমা আমিনকে। র‌্যাব জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলাও করেছিলেন গাজী আনিস। সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবে।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সাহিত্য চর্চা করতেন গাজী আনিস। ১০-১৫টি কবিতার বইও বের করেছেন। মূলত হেনোলাক্স কোম্পানির পাশে জুপিটার পাবলিকেশন্স থেকে কবিতার বই বের করতেন গাজী আনিস। ফাতেমা আমিনও সাহিত্য চর্চা করতেন। এই সূত্র ধরে তাদের মধ্যে পরিচয়। একপর্যায়ে গাজী আনিসকে প্রলোভন দেখালে চুক্তিনামা ছাড়াই মোট এক কোটি ২৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। পরে বিনিয়োগ-পরবর্তী চূড়ান্ত রেজিস্ট্রি চুক্তিপত্র সম্পাদন করার জন্য ভিকটিম বারবার আসামিদের অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা গড়িমসি করতে থাকেন। এরমধ্যে বিভিন্ন সময় তাকে ৭৬ লাখ টাকা দেন। পরে লভ্যাংশসহ পাওনা ৩ কোটি টাকা আর ফেরত না দিয়ে হেনস্তা-ভয়ভীতিও দেখানো হয়।

গত ৪ জুলাই পাওনা টাকা পরিশোধের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বিকেল গড়ালেও তারা নিহতকে টাকা দেয়া হয়নি। এরপর গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। আশির দশকে হোমিও চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা মো. নুরুল আমিনের বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অঢেল সম্পত্তি রয়েছে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি র‌্যাবকে জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালে শুরু করা হেনোলাক্স কোম্পানি একচেটিয়া ব্যবসা করায় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান খুলতে পেরেছেন।

গাজী আনিসের লাশ দাফন

গাজী আনিসের দাফন মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিনের পান্টি গ্রামে দাফন করা হয়েছে বলে বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান। এ সময় তার স্ত্রী জুমিনা রহমান স্বপ্না এ ঘটনার বিচার দাবি করেন এবং তিন মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান। বড় মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী মেধা রহমান আঁচল তার বাবার পাওনা টাকা উদ্ধারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।