কক্সবাজারে

১০ মিনিটে ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল হত্যা : র‌্যাব

কক্সবাজারের খুরুশকূলে ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে ১০ মিনিটে কোপানোর পর মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ২০ সদস্যের কিলিং স্কোয়াড়। এ হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি আজিজসহ দুইজনকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।

তবে হত্যার মোটিভ জানাতে না পারলেও বাকি আসামি গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এদিকে ফয়সাল হত্যার ঘটনায় গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে ১৭ জনকে এজাহারনামীয় এবং আরও ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে নিহত ফয়সালের বড় ভাই নাছির উদ্দিন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত ফয়সাল উদ্দিন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি খুরুশকূল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউয়ারপাড়ার মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে। ঘটনার নেতৃত্বদানকারী আজিজ সিকদারের বাড়ি সদরের খুরুশকূল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম ডেইলপাড়ায়। তার বাবার নাম মৃত বাঁচা মিয়া সিকদার।

ফয়সালের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ডেইলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত কুপিয়ে হত্যা করে ফয়সালকে। দলের নেতাকর্মী ও স্বজনদের দাবি ছিল, পুলিশের উপস্থিতিতেই আজিজ সিকদারের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের এই নেতাকে।

এদিকে হত্যা ৩ দিন পর গত মঙ্গলবার রাতে আজিজুল হককে প্রধান আসামি করে ১৭ জনকে এজাহারনামীয় এবং আরও ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে নিহত ফয়সালের বড় ভাই নাছির উদ্দিন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করেন।

এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ঘটনার দিন রাতে এবং পরের দিন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত দুই নারীসহ ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। পরের দিন তাদের ছয়জনকে ৫৪ ধারায় কক্সবাজার আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকে জড়িতদের ধরতে মাঠে আছে পুলিশ।

মামলার বাদী নাছির উদ্দিন বলেন, মামলার প্রধান আসামি আজিজসহ বাকিরা সবাই চিতা বাঘের মতো ভয়ঙ্কর। এই ভয়ঙ্কর আজিজের নেতৃত্বেই পরিকল্পিতভাবে তার ছোট ভাই ফয়সালকে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান তিনি। যেন এভাবে অন্য কাউকে জীবন দিতে না হয়।

এদিকে আলোচিত এ হত্যাকা-ের ঘটনায় গতকাল দুপুরে রামুর র‌্যাব কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং করে র‌্যাব-১৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মঞ্জুর মেহেদী ইসলাম বলেন, চাঞ্চল্যকর হত্যাকা-টি র‌্যাবের নজরে আসলে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কক্সবাজারের লিংক রোডে একটি বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা প্রধান আসামি আজিজ ও ২নং আসামি ফিরোজ আলমকে ডেইলপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেজর মঞ্জুর মেহেদী ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে ১০ মিনিট কোপানোর পর মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ২০ সদস্যের সক্রিয় কিলিং স্কোয়াড়। বাকি আসামি গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে তাদের অভিযান আছে। তবে এখনও পর্যন্ত হত্যার মোটিভ জানা যায়নি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যার মোটিভ বেরিয়ে আসবে বলে আশা করেন তিনি।

ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব পালনে অবহেলা আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে জেলা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২ , ২৩ আষাড় ১৪২৮ ২৭ জিলহজ ১৪৪৩

কক্সবাজারে

১০ মিনিটে ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল হত্যা : র‌্যাব

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার

image

গতকাল রাজধানীর কয়েকটি সড়কে ছিল প্রচণ্ড যানজট -সংবাদ

কক্সবাজারের খুরুশকূলে ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে ১০ মিনিটে কোপানোর পর মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ২০ সদস্যের কিলিং স্কোয়াড়। এ হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি আজিজসহ দুইজনকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।

তবে হত্যার মোটিভ জানাতে না পারলেও বাকি আসামি গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এদিকে ফয়সাল হত্যার ঘটনায় গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে ১৭ জনকে এজাহারনামীয় এবং আরও ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে নিহত ফয়সালের বড় ভাই নাছির উদ্দিন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত ফয়সাল উদ্দিন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি খুরুশকূল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউয়ারপাড়ার মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে। ঘটনার নেতৃত্বদানকারী আজিজ সিকদারের বাড়ি সদরের খুরুশকূল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম ডেইলপাড়ায়। তার বাবার নাম মৃত বাঁচা মিয়া সিকদার।

ফয়সালের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ডেইলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত কুপিয়ে হত্যা করে ফয়সালকে। দলের নেতাকর্মী ও স্বজনদের দাবি ছিল, পুলিশের উপস্থিতিতেই আজিজ সিকদারের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের এই নেতাকে।

এদিকে হত্যা ৩ দিন পর গত মঙ্গলবার রাতে আজিজুল হককে প্রধান আসামি করে ১৭ জনকে এজাহারনামীয় এবং আরও ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে নিহত ফয়সালের বড় ভাই নাছির উদ্দিন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করেন।

এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ঘটনার দিন রাতে এবং পরের দিন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত দুই নারীসহ ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। পরের দিন তাদের ছয়জনকে ৫৪ ধারায় কক্সবাজার আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকে জড়িতদের ধরতে মাঠে আছে পুলিশ।

মামলার বাদী নাছির উদ্দিন বলেন, মামলার প্রধান আসামি আজিজসহ বাকিরা সবাই চিতা বাঘের মতো ভয়ঙ্কর। এই ভয়ঙ্কর আজিজের নেতৃত্বেই পরিকল্পিতভাবে তার ছোট ভাই ফয়সালকে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান তিনি। যেন এভাবে অন্য কাউকে জীবন দিতে না হয়।

এদিকে আলোচিত এ হত্যাকা-ের ঘটনায় গতকাল দুপুরে রামুর র‌্যাব কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং করে র‌্যাব-১৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মঞ্জুর মেহেদী ইসলাম বলেন, চাঞ্চল্যকর হত্যাকা-টি র‌্যাবের নজরে আসলে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কক্সবাজারের লিংক রোডে একটি বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা প্রধান আসামি আজিজ ও ২নং আসামি ফিরোজ আলমকে ডেইলপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেজর মঞ্জুর মেহেদী ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে ১০ মিনিট কোপানোর পর মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ২০ সদস্যের সক্রিয় কিলিং স্কোয়াড়। বাকি আসামি গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে তাদের অভিযান আছে। তবে এখনও পর্যন্ত হত্যার মোটিভ জানা যায়নি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যার মোটিভ বেরিয়ে আসবে বলে আশা করেন তিনি।

ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব পালনে অবহেলা আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে জেলা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।