লোডশেডিংয়ের প্রভাবে কল কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত

তাপপ্রবাহে জনজীবন দুর্বিষহ

বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং ও প্রচ- দাবদাহে দিনাজপুরে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আর লোডশেডিংয়ের কারণে চালকল, কোল্ড স্টোরেজসহ জেলার শিল্প-কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা বলছেন, চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দিনাজপুরে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

দেশের একমাত্র বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী এসএম ওয়াজেদ আলী সরকার জানিয়েছেন, ৩টি ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা ৫২৫ মেগাওয়াট। এই কেন্দ্র হতে গতকাল সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের স্বার্থে পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছি।

প্রচ- দাবদাহে গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমে বিদ্যুতের যাওয়া আসায় গরমে কষ্ট বেড়েছে মানুষের। বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরম সহ্য করতে না পেরে বাড়ির বাইরে রাস্তায় শিশু-বৃদ্ধদের নিয়ে গভীর রাতেও রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেছে। ঠিকমতো বিদ্যুৎ না থাকায় শহরে কমেছে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক।

দিনাজপুর আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, মধ্য জুলাইয়ের পর ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তখন তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তিনি বলেন, দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে মৃদু তাপপ্রবাহ চলছে। যার ফলে গরমের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে । সপ্তাহের শুরুতে মঙ্গলবার দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। চলমান মৃদু তাপপ্রবাহ মধ্য জুলাই পর্যন্ত বিরাজ করতে পারে বলে তিনি জানান।

দিনাজপুরের বিদ্যুৎ বিভাগের (পরিচালন ও সংরক্ষণ, সার্কেল দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান জানিয়েছেন, দিনাজপুর জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ২০৯ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৫০/৬০ শতাংশ। এই কারণে এলাকা ভাগ করে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে আমরা মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় রেখে লোডশেডিং দিচ্ছি। অন্যদিকে উৎপাদনের চাকা সচল রাখতে কলকারখানাগুলোতে নজর রাখতে হচ্ছে। ব্যাপকমাত্রায় উৎপাদন বিঘিœত হলে তা সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলবে।

দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার সমিতির অধীনে দিনে বিদ্যুতের চাহিদা ৮০ মেগাওয়াট এবং রাতে চাহিদা ১০০ মেগাওয়াট। সরবরাহ মিলছে ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট। দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. শহীদ উদ্দীন জানিয়েছেন, দিনে তার চাহিদা ৫০ মেগাওয়াট এবং রাতে ৬৫ মেগাওয়াট। সরবরাহ মিলছে ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

দিনাজপুর শিল্প ও বণিক সমিতির সহ-সভাপতি জর্জিস আনম জানিয়েছেন, দিনাজপুর জেলার অর্থনৈতিক মেরুদ-ই হচ্ছে কৃষি। তাই এখানে কৃষির ওপর নির্ভর করে চালকল, কোল্ড স্টোরেজ, পাটকল, সরিষা তেল মিল, ডাল মিলসহ নানা ধরনের অ্যাগ্রোবেজড কলকারখানা গড়ে উঠেছে।

লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে জেনারেটর দিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে উৎপাদিত পণ্যের ওপর প্রভাব পড়ছে। তাতে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। তাছাড়া ঘনঘন লোডশেডিংয়ের যন্ত্রপাতির ওপর চাপ পড়ছে। এ ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। যে সমস্ত চটকল তাদের উৎপাদিত পণ্য বিভিন্ন দেশে রপ্তানির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে আছে তারা চুক্তি অনুয়ায়ী বিদেশে পণ্য রপ্তানি করতে পারবেন না।

আরও খবর
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় বিশ্বের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে
শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ষষ্ঠবর্ষে শহীদদের স্মরণ
এক জেলা থেকে অন্য জেলায় মোটরসাইকেল চলবে ‘অতি জরুরি’ ক্ষেত্রে, তবে আগে অনুমতি নিতে হবে
সচিবালয়ে শেষ মুহূর্তের কর্মব্যস্ততা, দুপুরের আগেই ফাঁকা
রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা পরিবর্তন ও যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদে ঢাবি শিক্ষার্থীর অবস্থান
পদ্মা সেতু দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের স্বস্তির ঈদযাত্রা
নোয়াখালীতে ছাত্রলীগ নেতাকে জবাই করে হত্যা
কুষ্টিয়ায় নিখোঁজের ৫ দিন পর সাংবাদিকের লাশ উদ্ধার
সাভারে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে ঘুরমুখো মানুষ
ডেলিভারি সিস্টেম হ্যাক করে পণ্য হাতিয়ে নিত চক্রটি

শুক্রবার, ০৮ জুলাই ২০২২ , ২৪ আষাড় ১৪২৮ ২৮ জিলহজ ১৪৪৩

দিনাজপুরে চাহিদার ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ চলমান

লোডশেডিংয়ের প্রভাবে কল কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত

তাপপ্রবাহে জনজীবন দুর্বিষহ

চিত্ত ঘোষ, দিনাজপুর

বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং ও প্রচ- দাবদাহে দিনাজপুরে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আর লোডশেডিংয়ের কারণে চালকল, কোল্ড স্টোরেজসহ জেলার শিল্প-কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা বলছেন, চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দিনাজপুরে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

দেশের একমাত্র বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী এসএম ওয়াজেদ আলী সরকার জানিয়েছেন, ৩টি ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা ৫২৫ মেগাওয়াট। এই কেন্দ্র হতে গতকাল সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের স্বার্থে পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছি।

প্রচ- দাবদাহে গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমে বিদ্যুতের যাওয়া আসায় গরমে কষ্ট বেড়েছে মানুষের। বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরম সহ্য করতে না পেরে বাড়ির বাইরে রাস্তায় শিশু-বৃদ্ধদের নিয়ে গভীর রাতেও রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেছে। ঠিকমতো বিদ্যুৎ না থাকায় শহরে কমেছে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক।

দিনাজপুর আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, মধ্য জুলাইয়ের পর ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তখন তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তিনি বলেন, দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে মৃদু তাপপ্রবাহ চলছে। যার ফলে গরমের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে । সপ্তাহের শুরুতে মঙ্গলবার দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। চলমান মৃদু তাপপ্রবাহ মধ্য জুলাই পর্যন্ত বিরাজ করতে পারে বলে তিনি জানান।

দিনাজপুরের বিদ্যুৎ বিভাগের (পরিচালন ও সংরক্ষণ, সার্কেল দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান জানিয়েছেন, দিনাজপুর জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ২০৯ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৫০/৬০ শতাংশ। এই কারণে এলাকা ভাগ করে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে আমরা মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় রেখে লোডশেডিং দিচ্ছি। অন্যদিকে উৎপাদনের চাকা সচল রাখতে কলকারখানাগুলোতে নজর রাখতে হচ্ছে। ব্যাপকমাত্রায় উৎপাদন বিঘিœত হলে তা সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলবে।

দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার সমিতির অধীনে দিনে বিদ্যুতের চাহিদা ৮০ মেগাওয়াট এবং রাতে চাহিদা ১০০ মেগাওয়াট। সরবরাহ মিলছে ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট। দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. শহীদ উদ্দীন জানিয়েছেন, দিনে তার চাহিদা ৫০ মেগাওয়াট এবং রাতে ৬৫ মেগাওয়াট। সরবরাহ মিলছে ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

দিনাজপুর শিল্প ও বণিক সমিতির সহ-সভাপতি জর্জিস আনম জানিয়েছেন, দিনাজপুর জেলার অর্থনৈতিক মেরুদ-ই হচ্ছে কৃষি। তাই এখানে কৃষির ওপর নির্ভর করে চালকল, কোল্ড স্টোরেজ, পাটকল, সরিষা তেল মিল, ডাল মিলসহ নানা ধরনের অ্যাগ্রোবেজড কলকারখানা গড়ে উঠেছে।

লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে জেনারেটর দিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে উৎপাদিত পণ্যের ওপর প্রভাব পড়ছে। তাতে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। তাছাড়া ঘনঘন লোডশেডিংয়ের যন্ত্রপাতির ওপর চাপ পড়ছে। এ ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। যে সমস্ত চটকল তাদের উৎপাদিত পণ্য বিভিন্ন দেশে রপ্তানির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে আছে তারা চুক্তি অনুয়ায়ী বিদেশে পণ্য রপ্তানি করতে পারবেন না।