রসিক দুর্নীতি তদন্তে দুদক অভিযানে নেমেছে

রংপুর সিটি করপোরেশনের সড়কে নিম্নমানের এলইডি লাইট ও খুটি স্থাপন বিধি বহির্ভূতভাবে কয়েক কোটি টাকার বিল প্রদানসহ টেন্ডার ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স এবং লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি ক্রয়সহ বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা এবং রংপুর থেকে দুদকের পরিচালকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল রংপুর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু কাগজপত্র জব্দ করছে এবং সুনির্দিষ্ট বেশ কিছু কাগজপত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ করতে বলেছে। গত বুধবার প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী দুদকের অভিযানের বিষয়টি গতকাল জানাজানি হলে নগরজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এদিকে ঢাকা থেকে দুদকের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দলের রংপুর সিটি করপোরেশেনে অভিযান চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুরের সমন্নিত দুদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান। অভিযানের সময় তিনিসহ অন্য কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে রংপুর সিটি করপোরেশনের সড়কে বাতি স্থাপনে দুর্নীতিসহ টেন্ডার ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ক্রয়সহ বিভিন্ন প্রকল্পের চরম দুর্নীতি কোটি কোটি টাকা লুটপাটের বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য ইতোমধ্যে ঢাকার প্রধান কার্যালয়য়ের দুদক কর্মকর্তা মনিষা বিশ্বাস তদন্ত করেছেন।

এরই মধ্যে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ করপোরেশনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঢাকায় তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই দুর্নীতির অনেক দালিলিক প্রমাণ দুদক সংগ্রহ করেছে। যেহেতু ওই সব ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা মনিষা বিশ্বাসের সঙ্গে তদন্ত কাজে শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া নামে একজন পরিচালকও মনিটরিং করছেন সে কারণে তারই অংশ হিসেবে দুদকের তদন্ত দল রংপুর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে আসেন।

তারা রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন মিয়াসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বেশ কিছু কাগজপত্র জব্দ করেন। সিটি মেয়র মোস্তফা হজ করতে মক্কায় অবস্থান করায় তার সাক্ষাৎকার নেয়া যায়নি। এছাড়া এর মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির কাগজপত্রের তালিকা এক সপ্তাহের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে রংপুর সমন্নিত দুদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন ইতোমধ্যে রংপুরে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পের দুর্নীতির অনুসন্ধান অনেক আগেই শুরু হয়েছে। অনেক কাগজপত্র সিজ করা হয়েছে। মামলার তদন্তে মনিটরিং কর্মকর্তা প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে তিনিসহ আরও দুইজন সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানান। তিনি আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য রংপুর সিটি করপোরেশনের সড়কে এলইডি বাতি ও বৈদ্যুতিক খুটি স্থাপন কাজে ৪৯ কোটি টাকার টেন্ডারে সব নিয়ম উপেক্ষা করে কাজের দরপত্র আহ্বান কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কিন্তু টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী জার্মান অথবা ফ্রান্সের তৈরি এলইডি বাতি না দিয়ে নিম্নœমানের চীনের তৈরি বাতি সরবরাহ করা হয়। একইভাবে বৈদ্যুতিক খুটিও অত্যন্ত নিম্নমানের। এর পরেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫ কোটি টাকারও বেশি বিল প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে সিটি মেয়র দুইবার চিঠি দিয়ে নিম্নমানের বাতি অপসারণ করার লিখিত চিঠি দিলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা অপসারণ করেনি। এ কারণে কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। তারপরেও ওই প্রতিষ্ঠানকে কিছু অর্থ বিল দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার, ০৯ জুলাই ২০২২ , ২৫ আষাড় ১৪২৮ ২৯ জিলহজ ১৪৪৩

রসিক দুর্নীতি তদন্তে দুদক অভিযানে নেমেছে

লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর

রংপুর সিটি করপোরেশনের সড়কে নিম্নমানের এলইডি লাইট ও খুটি স্থাপন বিধি বহির্ভূতভাবে কয়েক কোটি টাকার বিল প্রদানসহ টেন্ডার ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স এবং লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি ক্রয়সহ বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা এবং রংপুর থেকে দুদকের পরিচালকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল রংপুর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু কাগজপত্র জব্দ করছে এবং সুনির্দিষ্ট বেশ কিছু কাগজপত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ করতে বলেছে। গত বুধবার প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী দুদকের অভিযানের বিষয়টি গতকাল জানাজানি হলে নগরজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এদিকে ঢাকা থেকে দুদকের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দলের রংপুর সিটি করপোরেশেনে অভিযান চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুরের সমন্নিত দুদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান। অভিযানের সময় তিনিসহ অন্য কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে রংপুর সিটি করপোরেশনের সড়কে বাতি স্থাপনে দুর্নীতিসহ টেন্ডার ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ক্রয়সহ বিভিন্ন প্রকল্পের চরম দুর্নীতি কোটি কোটি টাকা লুটপাটের বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য ইতোমধ্যে ঢাকার প্রধান কার্যালয়য়ের দুদক কর্মকর্তা মনিষা বিশ্বাস তদন্ত করেছেন।

এরই মধ্যে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ করপোরেশনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঢাকায় তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই দুর্নীতির অনেক দালিলিক প্রমাণ দুদক সংগ্রহ করেছে। যেহেতু ওই সব ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা মনিষা বিশ্বাসের সঙ্গে তদন্ত কাজে শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া নামে একজন পরিচালকও মনিটরিং করছেন সে কারণে তারই অংশ হিসেবে দুদকের তদন্ত দল রংপুর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে আসেন।

তারা রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন মিয়াসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বেশ কিছু কাগজপত্র জব্দ করেন। সিটি মেয়র মোস্তফা হজ করতে মক্কায় অবস্থান করায় তার সাক্ষাৎকার নেয়া যায়নি। এছাড়া এর মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির কাগজপত্রের তালিকা এক সপ্তাহের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে রংপুর সমন্নিত দুদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন ইতোমধ্যে রংপুরে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পের দুর্নীতির অনুসন্ধান অনেক আগেই শুরু হয়েছে। অনেক কাগজপত্র সিজ করা হয়েছে। মামলার তদন্তে মনিটরিং কর্মকর্তা প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে তিনিসহ আরও দুইজন সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানান। তিনি আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য রংপুর সিটি করপোরেশনের সড়কে এলইডি বাতি ও বৈদ্যুতিক খুটি স্থাপন কাজে ৪৯ কোটি টাকার টেন্ডারে সব নিয়ম উপেক্ষা করে কাজের দরপত্র আহ্বান কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কিন্তু টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী জার্মান অথবা ফ্রান্সের তৈরি এলইডি বাতি না দিয়ে নিম্নœমানের চীনের তৈরি বাতি সরবরাহ করা হয়। একইভাবে বৈদ্যুতিক খুটিও অত্যন্ত নিম্নমানের। এর পরেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫ কোটি টাকারও বেশি বিল প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে সিটি মেয়র দুইবার চিঠি দিয়ে নিম্নমানের বাতি অপসারণ করার লিখিত চিঠি দিলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা অপসারণ করেনি। এ কারণে কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। তারপরেও ওই প্রতিষ্ঠানকে কিছু অর্থ বিল দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।