রংপুরে দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

ঋতু বৈচিত্র্যে আষাঢ় শেষ। এই সময় বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ মানুষকে শীতল করার পরিবর্তে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ মানুষ। সারাদেশেই গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। সূর্যের চোখ রাঙানি মাথার উপর তপ্ত রোদের গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ, হাপিয়ে উঠেছে জনজীবন। এদিকে তীব্র গরমে রংপুর অঞ্চলের জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। প্রতিদিনই সকাল থেকে কড়া রোদ, সঙ্গে গরম হাওয়ায় নাকাল রংপুরবাসী। ভ্যাপসা গরমে সর্দি, কাশি ও জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। প্রচণ্ড দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এই জেলায়। গতকাল রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচণ্ড গরম ও বাতাসের কারণে ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোকসহ নানা রোগবালাই দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড গরম বাতাস বইছে। এ কারণে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে রংপুর অঞ্চলে অস্বাভাবিক আবহাওয়া বিরাজ করছে। একদিনে প্রচণ্ড দাবদাহ অন্যদিকে গরম বাতাসের কারণে তাপমাত্রা গতকাল দুপুর ৩টার দিকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। যেভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, সূর্য কিরণ লম্বালম্বিভাবে আসায় গরমের প্রচণ্ডতা বাড়ছে। বিশেষ করে গরম বাতাস স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। এ তাপমাত্রা বৃদ্ধি আরও ২-৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শামিম আহাম্মেদ জানান, ‘সকালে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করায় রংপুরে প্রদণ্ড দাবদাহ অব্যাহত রয়েছে। তিনি এ অস্বাভাবিক আবহাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া কাউকেই বাড়ি থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে এ সময় বেশি করে পানি পান, শরবতসহ ঠাণ্ডাজাতীয় পানীয় বিশেষ করে লেবুর সরবত ডাবের পানি বেশি বেশি করে পান করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে নগরীর সড়কগুলোতে জনসমাগম খুই কম। বড় বড় শপিংমলগুলো খদ্দেরশূন্য হয়ে পড়েছে। তবে এ গরমে স্বল্প আয়ের মানুষ বিশেষ করে খেতমজুর ও শ্রমিকরা হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে চিকিৎসকরা জানান। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দুই দিন ২৩ জন রোগী হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রচণ্ড গরমে জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকেই হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই ২০২২ , ৩০ আষাঢ় ১৪২৯ ১৫ জিলহজ ১৪৪৩

রংপুরে দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর

ঋতু বৈচিত্র্যে আষাঢ় শেষ। এই সময় বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ মানুষকে শীতল করার পরিবর্তে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ মানুষ। সারাদেশেই গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। সূর্যের চোখ রাঙানি মাথার উপর তপ্ত রোদের গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ, হাপিয়ে উঠেছে জনজীবন। এদিকে তীব্র গরমে রংপুর অঞ্চলের জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। প্রতিদিনই সকাল থেকে কড়া রোদ, সঙ্গে গরম হাওয়ায় নাকাল রংপুরবাসী। ভ্যাপসা গরমে সর্দি, কাশি ও জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। প্রচণ্ড দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এই জেলায়। গতকাল রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচণ্ড গরম ও বাতাসের কারণে ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোকসহ নানা রোগবালাই দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড গরম বাতাস বইছে। এ কারণে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে রংপুর অঞ্চলে অস্বাভাবিক আবহাওয়া বিরাজ করছে। একদিনে প্রচণ্ড দাবদাহ অন্যদিকে গরম বাতাসের কারণে তাপমাত্রা গতকাল দুপুর ৩টার দিকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। যেভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, সূর্য কিরণ লম্বালম্বিভাবে আসায় গরমের প্রচণ্ডতা বাড়ছে। বিশেষ করে গরম বাতাস স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। এ তাপমাত্রা বৃদ্ধি আরও ২-৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শামিম আহাম্মেদ জানান, ‘সকালে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করায় রংপুরে প্রদণ্ড দাবদাহ অব্যাহত রয়েছে। তিনি এ অস্বাভাবিক আবহাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া কাউকেই বাড়ি থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে এ সময় বেশি করে পানি পান, শরবতসহ ঠাণ্ডাজাতীয় পানীয় বিশেষ করে লেবুর সরবত ডাবের পানি বেশি বেশি করে পান করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে নগরীর সড়কগুলোতে জনসমাগম খুই কম। বড় বড় শপিংমলগুলো খদ্দেরশূন্য হয়ে পড়েছে। তবে এ গরমে স্বল্প আয়ের মানুষ বিশেষ করে খেতমজুর ও শ্রমিকরা হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে চিকিৎসকরা জানান। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দুই দিন ২৩ জন রোগী হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রচণ্ড গরমে জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকেই হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।