কাজ হারানো নারীদের প্রতি সুদৃষ্টি দিন

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। কিন্তু কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে বরাবরই নারীরা অনেকটা পিছিয়ে। করোনাকালে কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক কর্মজীবী নারী। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে বাংলাদেশে নারীদের সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ ছিল তৈরি পোশাক খাত, কৃষি খাত এবং গৃহকর্মী হিসেবে। করোনা নারীদের এই কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রগুলো ওলট-পালট করে দিয়েছে। চাকরি হারানোর পাশাপাশি নারীরা সহিংসতারও শিকার হচ্ছেন। করোনাকালে নারীদের প্রতি অর্থনৈতিক চাপ ও পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছে ব্যাপক মাত্রায়।

করোনা সংকটে নারী-পুরুষ উভয়েই কাজ হারালেও পুরুষের চাইতে নারী কর্মজীবীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। কারণ, পুরুষরা দ্রুত অন্যত্র কাজ খুঁজে নিলেও নারীর ক্ষেত্রে এ সুযোগ কম। প্রাতিষ্ঠানিক খাতের চেয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নারীরা কাজ হারিয়েছেন বেশি। মহামারিতে এসব খাতে কর্মরত নারীরাই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে পোশাক খাত এবং প্রবাসী নারী শ্রমিক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষি ও গৃহকর্মে জড়িত নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের এক গবেষণায় বলা হয়, করোনায় নারী নেতৃত্বাধীন পরিবারের আয় কমেছে ৮০ শতাংশ। করোনায় নারীদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্ক করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও।

যেসব নারী সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী তারা গোটা পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই শহর ছেড়েছেন, ফিরে গেছেন গ্রামে। সেখানেও সংসারের অভাব মোচন হচ্ছে না। অনেক নারীর কাজ বাজার নির্ভর। তারা বাজারে গিয়ে নিজেদের পণ্য বিক্রি করেন। কিন্তু মহামারির ফলে সেটি কমে গেছে। এ ছাড়া যেসব নারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তা ছিলেন তারা নিজেদের আয় দিয়ে ব্যবসা চালাতেন। কিন্তু আয় ও ব্যবসা চালানোর চক্রাকার ব্যবস্থাটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তাদের ব্যবসাও নষ্ট হয়ে গেছে। তাই করোনাকালে কাজ হারানো নারীদেরকে কাজে ফেরাতে সরকারি-বেসরকারি প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে। তদের কাজে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেতে হবে।

লিমন আহমেদ

শনিবার, ১৬ জুলাই ২০২২ , ০১ শ্রাবণ ১৪২৯ ১৭ জিলহজ ১৪৪৩

কাজ হারানো নারীদের প্রতি সুদৃষ্টি দিন

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। কিন্তু কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে বরাবরই নারীরা অনেকটা পিছিয়ে। করোনাকালে কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক কর্মজীবী নারী। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে বাংলাদেশে নারীদের সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ ছিল তৈরি পোশাক খাত, কৃষি খাত এবং গৃহকর্মী হিসেবে। করোনা নারীদের এই কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রগুলো ওলট-পালট করে দিয়েছে। চাকরি হারানোর পাশাপাশি নারীরা সহিংসতারও শিকার হচ্ছেন। করোনাকালে নারীদের প্রতি অর্থনৈতিক চাপ ও পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছে ব্যাপক মাত্রায়।

করোনা সংকটে নারী-পুরুষ উভয়েই কাজ হারালেও পুরুষের চাইতে নারী কর্মজীবীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। কারণ, পুরুষরা দ্রুত অন্যত্র কাজ খুঁজে নিলেও নারীর ক্ষেত্রে এ সুযোগ কম। প্রাতিষ্ঠানিক খাতের চেয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নারীরা কাজ হারিয়েছেন বেশি। মহামারিতে এসব খাতে কর্মরত নারীরাই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে পোশাক খাত এবং প্রবাসী নারী শ্রমিক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষি ও গৃহকর্মে জড়িত নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের এক গবেষণায় বলা হয়, করোনায় নারী নেতৃত্বাধীন পরিবারের আয় কমেছে ৮০ শতাংশ। করোনায় নারীদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্ক করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও।

যেসব নারী সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী তারা গোটা পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই শহর ছেড়েছেন, ফিরে গেছেন গ্রামে। সেখানেও সংসারের অভাব মোচন হচ্ছে না। অনেক নারীর কাজ বাজার নির্ভর। তারা বাজারে গিয়ে নিজেদের পণ্য বিক্রি করেন। কিন্তু মহামারির ফলে সেটি কমে গেছে। এ ছাড়া যেসব নারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তা ছিলেন তারা নিজেদের আয় দিয়ে ব্যবসা চালাতেন। কিন্তু আয় ও ব্যবসা চালানোর চক্রাকার ব্যবস্থাটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তাদের ব্যবসাও নষ্ট হয়ে গেছে। তাই করোনাকালে কাজ হারানো নারীদেরকে কাজে ফেরাতে সরকারি-বেসরকারি প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে। তদের কাজে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেতে হবে।

লিমন আহমেদ