২৬ হাজার পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ‘ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য জমি ও গৃহ প্রদান’ কার্যক্রমের আওতায় আরও ২৬ হাজার ২২৯টি ঘর দেয়া হচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী এসব ঘর হস্তান্তর করবেন। মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে এসব পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে দুই শতক জমিসহ আধাপাকা নতুন ঘর।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। তিনি বলেন, আগামী ২১ জুলাই ২৬ হাজার ২২৯টি ঘর প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে হস্তান্তরিত হবে। এছাড়া নির্মাণাধীন রয়েছে ৮ হাজার ৬৬৭টি ঘর। মুখ্য সচিব আরও জানান, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত বরাদ্দকৃত মোট একক গৃহের সংখ্যা হচ্ছে এক লাখ ৮৫ হাজার ১২৯টি। এ পর্যন্ত একক গৃহের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ৪ হাজার ২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

সরকারের এ কার্যক্রমের ফলে দুটি জেলা ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পঞ্চগড় এবং মাগুরা জেলায় আর কোন গৃহহীন-ভূমিহীন নেই। এটি আমাদের জন্য একটি বিশাল অর্জন।

মুখ্য সচিব বলেন, উন্নয়নের ছোঁয়া এখন বাংলাদেশের সর্বত্র। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর দেয়ার এ প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকি।

৫২টি উপজেলার উপকারভোগীরা সেদিন এসব ঘরে উঠবেন এরই মধ্যে সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন। ঘরগুলোতে আরসিসি পিলার, গ্রেড ভিম, টানা লিংকটারসহ বেশ কিছু বিষয় সংযোজন করার কথা জানান প্রকল্প পরিচালক।

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙনকবলিত ভূমি-গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ‘আশ্রয়ণ’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। এ প্রকল্পের আওতায় কয়েক লাখ ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীদের মধ্যে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী, হিজড়া, বেদে সম্প্রদায়সহ সমাজের পিছিয়ে পড়া ভাসমান বিভিন্ন জনগোষ্ঠীও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে ৬৫ হাজার ৬৭৪টি পরিবারের জন্য ঘর তৈরি করা হচ্ছে। চরাঞ্চলে বিশেষ নকশায় নির্মিত হচ্ছে এক হাজার ২৪২টি ঘর। প্রধানমন্ত্রী গত ২৬ এপ্রিল ঈদুল ফিতরের উপহার হিসেবে তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম ধাপে ৩২ হাজার ৯০৪টি ঘর ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে হস্তান্তর করেন। বাকি ৩২ হাজার ৭৭০টির মধ্যে আরও ২৬ হাজার ২২৯টি ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে। আরও ৬ হাজার ৫৪১টি ঘরের নির্মাণকাজও প্রায় শেষের পথে।

মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই ২০২২ , ০৪ শ্রাবণ ১৪২৯ ২০ জিলহজ ১৪৪৩

২৬ হাজার পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ‘ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য জমি ও গৃহ প্রদান’ কার্যক্রমের আওতায় আরও ২৬ হাজার ২২৯টি ঘর দেয়া হচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী এসব ঘর হস্তান্তর করবেন। মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে এসব পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে দুই শতক জমিসহ আধাপাকা নতুন ঘর।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। তিনি বলেন, আগামী ২১ জুলাই ২৬ হাজার ২২৯টি ঘর প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে হস্তান্তরিত হবে। এছাড়া নির্মাণাধীন রয়েছে ৮ হাজার ৬৬৭টি ঘর। মুখ্য সচিব আরও জানান, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত বরাদ্দকৃত মোট একক গৃহের সংখ্যা হচ্ছে এক লাখ ৮৫ হাজার ১২৯টি। এ পর্যন্ত একক গৃহের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ৪ হাজার ২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

সরকারের এ কার্যক্রমের ফলে দুটি জেলা ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পঞ্চগড় এবং মাগুরা জেলায় আর কোন গৃহহীন-ভূমিহীন নেই। এটি আমাদের জন্য একটি বিশাল অর্জন।

মুখ্য সচিব বলেন, উন্নয়নের ছোঁয়া এখন বাংলাদেশের সর্বত্র। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর দেয়ার এ প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকি।

৫২টি উপজেলার উপকারভোগীরা সেদিন এসব ঘরে উঠবেন এরই মধ্যে সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন। ঘরগুলোতে আরসিসি পিলার, গ্রেড ভিম, টানা লিংকটারসহ বেশ কিছু বিষয় সংযোজন করার কথা জানান প্রকল্প পরিচালক।

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙনকবলিত ভূমি-গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ‘আশ্রয়ণ’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। এ প্রকল্পের আওতায় কয়েক লাখ ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীদের মধ্যে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী, হিজড়া, বেদে সম্প্রদায়সহ সমাজের পিছিয়ে পড়া ভাসমান বিভিন্ন জনগোষ্ঠীও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে ৬৫ হাজার ৬৭৪টি পরিবারের জন্য ঘর তৈরি করা হচ্ছে। চরাঞ্চলে বিশেষ নকশায় নির্মিত হচ্ছে এক হাজার ২৪২টি ঘর। প্রধানমন্ত্রী গত ২৬ এপ্রিল ঈদুল ফিতরের উপহার হিসেবে তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম ধাপে ৩২ হাজার ৯০৪টি ঘর ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে হস্তান্তর করেন। বাকি ৩২ হাজার ৭৭০টির মধ্যে আরও ২৬ হাজার ২২৯টি ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে। আরও ৬ হাজার ৫৪১টি ঘরের নির্মাণকাজও প্রায় শেষের পথে।