প্রচণ্ড খরায় খাল-বিল-পুকুরের তলা ফেটে চৌচির, বাড়ছে রোগ

কৃষিনির্ভর রংপুরের পীরগাছায় দীর্ঘ খরা ও প্রচণ্ড তাপদাহের বিরূপ প্রভাব পড়েছে কৃষিক্ষেত্রে । খাল-বিল-পুকুর শুকিয়ে তলার মাটি পর্যন্ত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। মাঠ-ঘাট আর খাল বিল সব ধুসর, বিবর্ণ হয়ে গেছে। নিরাপদ পানির অভাবে জলবসন্ত, জ্বর, ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রকোপ বেড়েই চলছে। দীর্ঘ খরা আর প্রচণ্ড তাপদাহে এ জনপদের মানুষ এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ৯ ইউনিয়নের সব খাল-বিল, মাঠ ঘাট এখন পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। উপজেলার কোথাও কোন কৃষক আমন ধান রোপণ করতে পারে নাই । যেই এলাকায় পানি সেচ দিয়ে আমন রোপণের সুযোগ আছে সেখানকার কৃষকরা পানি সেচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অতীতে এই সময়ে যেই এলকাগুলোতে পানি থাকত ২-৩ ফুট সেখানে বর্তমানে ধুলা উড়াচ্ছে ।

এই খড়ার কারণে আগামী আলু মৌসুমে আলুর চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করছেন সাধারণ কৃষক ও স্থানীয় কৃষিবিদরা। উপজেলায় কয়েক হাজার হেক্টর জমি কৃষকরা আমন চাসের জন্য প্রস্তুত করছেন ইরি ধান চাষের জন্য জমি প্রস্তুতের আদলে । আমন চাষের জন্য প্রস্তুতকৃত জমিগুলোতে চৈত্র মাসের পাট খেতের জন্য প্রস্তুত জমির মতো ধুলা উড়াইতেছে। এমনই একটি এলাকা পীরগাছা সদর ইউনিয়নের চন্ডিপুর, গুয়াবাড়ী, পারুল ইউনিয়নের দেউতি। একই ধরনের ধুলা উড়াইতেছে আমন ধান উৎপাদনের উপযোগী উপজেলার সব মধ্যমানের উঁচু ও উঁচু জমিগুলোতে। কোন কোন পুকুরের তলদেশে খানিকটা পানি থাকলেও তা এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কৃষকসহ সাধারণ মানুষ তাদের নিত্যদিনের ব্যবহারের পানি পর্যন্ত পাচ্ছে না। এ অবস্থা উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়েরই। সব যেন খাঁ খাঁ করছে। লাঙ্গল দিয়ে চাষ করা মাঠে ধূলো উড়াচ্ছে।

এদিকে নিরাপদ পানির সঙ্কটে জলবসন্ত, জ্বর, ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রকোপ বেড়েই চলছে। এছাড়া পানি সঙ্কটে ধান, রবিশস্য ও গাছ-পালা সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে না পারায় রোগবালাই বৃদ্ধিসহ ফলন কম হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধরানা কৃষিবিদদের। পানি না থাকায় দেশী মাছ নষ্ট হচ্ছে পরবর্তীতে দেশি মাছের তীব্র সঙ্কট দেখা দেবে ধারণা করছেন সাধারণ মানুষ।

ছাওলা ইউনিয়নের কৃষক আতাউর জানান, গবাদিপশু মাঠ ছেড়ে পানি খাওয়ার জন্য দৌড়ে ছুটে আসে বাড়ির পুকুরের দিকে। বৃষ্টি না থাকা ও তাপদাহ বেশি থাকায় খামারিরা গবাদিপশু নিয়েও পড়েছেন চরম বিপাকে। এছাড়া এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বহু চাষি হাইব্রিড ধানের আবাদ করেছে। লক লক করে বেড়া ওঠার পরে ধান পাকার আগেই খেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।

চণ্ডিপুর গ্রামের কৃষক ইলিয়াছ আলী জানান, বাপের জনমেও দেখিনি ও শুনিনি এই সময়ে আমন ধান চাসের জমিগুলোতে চৈত্র মাসের মতো ধুলা উড়াতে ।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, বোরো আবাদের জন্য যে পানি দরকার তা খাল থেকে নেয়া হয়েছে। এখন আউশ আবাদে কৃষকদের বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে এ উপজেলার খালগুলোর গভীরত্ব অনেক কম। এ খালগুলো যদি বেশি গভীর করা যায়, তাহলে আগামী দিনগুলোতে বেশি পরিমাণ পানি থাকবে। আর এতে করে কৃষকরা অনেক উপকৃত হবে।

রবিবার, ২৪ জুলাই ২০২২ , ০৯ শ্রাবণ ১৪২৯ ২৫ জিলহজ ১৪৪৩

প্রচণ্ড খরায় খাল-বিল-পুকুরের তলা ফেটে চৌচির, বাড়ছে রোগ

প্রতিনিধি, পীরগাছা(রংপুর)

image

পীরগাছা : তীব্র খরায় ফেটে চৌচির আমন ক্ষেত। নিজের ক্ষেতে দুশ্চিন্তায় অসহায় কৃষক সংবাদ

কৃষিনির্ভর রংপুরের পীরগাছায় দীর্ঘ খরা ও প্রচণ্ড তাপদাহের বিরূপ প্রভাব পড়েছে কৃষিক্ষেত্রে । খাল-বিল-পুকুর শুকিয়ে তলার মাটি পর্যন্ত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। মাঠ-ঘাট আর খাল বিল সব ধুসর, বিবর্ণ হয়ে গেছে। নিরাপদ পানির অভাবে জলবসন্ত, জ্বর, ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রকোপ বেড়েই চলছে। দীর্ঘ খরা আর প্রচণ্ড তাপদাহে এ জনপদের মানুষ এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ৯ ইউনিয়নের সব খাল-বিল, মাঠ ঘাট এখন পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। উপজেলার কোথাও কোন কৃষক আমন ধান রোপণ করতে পারে নাই । যেই এলাকায় পানি সেচ দিয়ে আমন রোপণের সুযোগ আছে সেখানকার কৃষকরা পানি সেচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অতীতে এই সময়ে যেই এলকাগুলোতে পানি থাকত ২-৩ ফুট সেখানে বর্তমানে ধুলা উড়াচ্ছে ।

এই খড়ার কারণে আগামী আলু মৌসুমে আলুর চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করছেন সাধারণ কৃষক ও স্থানীয় কৃষিবিদরা। উপজেলায় কয়েক হাজার হেক্টর জমি কৃষকরা আমন চাসের জন্য প্রস্তুত করছেন ইরি ধান চাষের জন্য জমি প্রস্তুতের আদলে । আমন চাষের জন্য প্রস্তুতকৃত জমিগুলোতে চৈত্র মাসের পাট খেতের জন্য প্রস্তুত জমির মতো ধুলা উড়াইতেছে। এমনই একটি এলাকা পীরগাছা সদর ইউনিয়নের চন্ডিপুর, গুয়াবাড়ী, পারুল ইউনিয়নের দেউতি। একই ধরনের ধুলা উড়াইতেছে আমন ধান উৎপাদনের উপযোগী উপজেলার সব মধ্যমানের উঁচু ও উঁচু জমিগুলোতে। কোন কোন পুকুরের তলদেশে খানিকটা পানি থাকলেও তা এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কৃষকসহ সাধারণ মানুষ তাদের নিত্যদিনের ব্যবহারের পানি পর্যন্ত পাচ্ছে না। এ অবস্থা উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়েরই। সব যেন খাঁ খাঁ করছে। লাঙ্গল দিয়ে চাষ করা মাঠে ধূলো উড়াচ্ছে।

এদিকে নিরাপদ পানির সঙ্কটে জলবসন্ত, জ্বর, ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রকোপ বেড়েই চলছে। এছাড়া পানি সঙ্কটে ধান, রবিশস্য ও গাছ-পালা সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে না পারায় রোগবালাই বৃদ্ধিসহ ফলন কম হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধরানা কৃষিবিদদের। পানি না থাকায় দেশী মাছ নষ্ট হচ্ছে পরবর্তীতে দেশি মাছের তীব্র সঙ্কট দেখা দেবে ধারণা করছেন সাধারণ মানুষ।

ছাওলা ইউনিয়নের কৃষক আতাউর জানান, গবাদিপশু মাঠ ছেড়ে পানি খাওয়ার জন্য দৌড়ে ছুটে আসে বাড়ির পুকুরের দিকে। বৃষ্টি না থাকা ও তাপদাহ বেশি থাকায় খামারিরা গবাদিপশু নিয়েও পড়েছেন চরম বিপাকে। এছাড়া এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বহু চাষি হাইব্রিড ধানের আবাদ করেছে। লক লক করে বেড়া ওঠার পরে ধান পাকার আগেই খেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।

চণ্ডিপুর গ্রামের কৃষক ইলিয়াছ আলী জানান, বাপের জনমেও দেখিনি ও শুনিনি এই সময়ে আমন ধান চাসের জমিগুলোতে চৈত্র মাসের মতো ধুলা উড়াতে ।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, বোরো আবাদের জন্য যে পানি দরকার তা খাল থেকে নেয়া হয়েছে। এখন আউশ আবাদে কৃষকদের বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে এ উপজেলার খালগুলোর গভীরত্ব অনেক কম। এ খালগুলো যদি বেশি গভীর করা যায়, তাহলে আগামী দিনগুলোতে বেশি পরিমাণ পানি থাকবে। আর এতে করে কৃষকরা অনেক উপকৃত হবে।