আদালত উপেক্ষা করে ভূমি দপ্তরের ভবন!

নওগাঁয় বিরোধপূর্ণ একটি জমি নিয়ে হাইকোর্টের রুল জারি করেছেন। এছাড়া ওই জমিতে নিম্নœ আদালতের স্থিতাবস্থা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমি যে অবস্থায় রয়েছে তেমনটিই থাকবে, নির্মাণ করা যাবে না কোন স্থাপনা। আদালতের এমন নির্দেশনা না মেনে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে ভূমি অফিস নির্মাণ করছে নওগাঁ সদর উপজেলা প্রশাসন।

এ নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবি জানিয়ে, গত শুক্রবার সকালে নওগাঁ প্যারিমোহন সাধারণ গ্রন্থাগার লাইব্রেরি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই জমির দাবিদার আকবর আলী নামে এক ব্যক্তি। আকবর আলী বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার সান্তাহার পৌরসভার বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আকবর আলী বলেন, ১৯৮৭ সালে তিনি নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের খাট্টা শাহাপুর মৌজায় সোয়া ১৭ শতক জায়গা ক্রয় করেন। যার দাগ নম্বর সাবেক ৯৮৭/৯৮৮, হাল ৭৯৬/৭৯৭। ওই জমিটি নয়নজলী (চৌবাচ্চা) হিসেবে খতিয়ানভুক্ত। জমিটি ক্রয়ের পর সেখানে বালু দ্বারা ভরাট করে স মিল (করাত কল) করে ৩৫ বছর যাবত ব্যবসা করে আসতেছিলেন। কিন্তু আমার সোয়া ১৭ শতক জমিসহ খাট্টা শাহাপুর মৌজার ৩৫ শতক জমি সরকারি গেজেটে ভুলক্রমে পরিত্যক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে সম্পত্তিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হতে ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর দলিল সংশোধন ও ওই জমির ওপর স্থিতিবস্থা চেয়ে ২০০৩ সালে নওগঁাঁ যুগ্ন-জেলা জজ আদালতে মামলা করেন আকবর আলী। আদালত সেই মামলার শুনানি নিয়ে ২০০৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমির ওপর স্থিতিবস্থা আদেশ জারি করেন। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।

লিখিত আরও বলা হয়, সম্প্রতি নওগঁাঁ সদর উপজেলা প্রশাসন ওই জমিতে ভূমি অফিস নির্মাণের তোড়জোড় শুরু করলে আকবর আলী হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। আদালত ওই রিটের শুনানি নিয়ে চলতি বছরের ৯ মার্চ বিবদমান জমিটি খাস খতিয়ানভুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে নওগাঁ জেলা প্রশাসক, নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে আদেশ দেন। কিন্তু বিবাদীরা চার সপ্তাহ পার হলেও সেই রুলের জবাব না দিয়ে আদালতের নিদের্শ উপেক্ষা করে বিবদমান জমিতে গত ১৮ জুলাই থেকে বোয়ালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

রবিবার, ২৪ জুলাই ২০২২ , ০৯ শ্রাবণ ১৪২৯ ২৫ জিলহজ ১৪৪৩

আদালত উপেক্ষা করে ভূমি দপ্তরের ভবন!

জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ

নওগাঁয় বিরোধপূর্ণ একটি জমি নিয়ে হাইকোর্টের রুল জারি করেছেন। এছাড়া ওই জমিতে নিম্নœ আদালতের স্থিতাবস্থা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমি যে অবস্থায় রয়েছে তেমনটিই থাকবে, নির্মাণ করা যাবে না কোন স্থাপনা। আদালতের এমন নির্দেশনা না মেনে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে ভূমি অফিস নির্মাণ করছে নওগাঁ সদর উপজেলা প্রশাসন।

এ নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবি জানিয়ে, গত শুক্রবার সকালে নওগাঁ প্যারিমোহন সাধারণ গ্রন্থাগার লাইব্রেরি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই জমির দাবিদার আকবর আলী নামে এক ব্যক্তি। আকবর আলী বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার সান্তাহার পৌরসভার বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আকবর আলী বলেন, ১৯৮৭ সালে তিনি নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের খাট্টা শাহাপুর মৌজায় সোয়া ১৭ শতক জায়গা ক্রয় করেন। যার দাগ নম্বর সাবেক ৯৮৭/৯৮৮, হাল ৭৯৬/৭৯৭। ওই জমিটি নয়নজলী (চৌবাচ্চা) হিসেবে খতিয়ানভুক্ত। জমিটি ক্রয়ের পর সেখানে বালু দ্বারা ভরাট করে স মিল (করাত কল) করে ৩৫ বছর যাবত ব্যবসা করে আসতেছিলেন। কিন্তু আমার সোয়া ১৭ শতক জমিসহ খাট্টা শাহাপুর মৌজার ৩৫ শতক জমি সরকারি গেজেটে ভুলক্রমে পরিত্যক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে সম্পত্তিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হতে ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর দলিল সংশোধন ও ওই জমির ওপর স্থিতিবস্থা চেয়ে ২০০৩ সালে নওগঁাঁ যুগ্ন-জেলা জজ আদালতে মামলা করেন আকবর আলী। আদালত সেই মামলার শুনানি নিয়ে ২০০৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমির ওপর স্থিতিবস্থা আদেশ জারি করেন। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।

লিখিত আরও বলা হয়, সম্প্রতি নওগঁাঁ সদর উপজেলা প্রশাসন ওই জমিতে ভূমি অফিস নির্মাণের তোড়জোড় শুরু করলে আকবর আলী হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। আদালত ওই রিটের শুনানি নিয়ে চলতি বছরের ৯ মার্চ বিবদমান জমিটি খাস খতিয়ানভুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে নওগাঁ জেলা প্রশাসক, নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে আদেশ দেন। কিন্তু বিবাদীরা চার সপ্তাহ পার হলেও সেই রুলের জবাব না দিয়ে আদালতের নিদের্শ উপেক্ষা করে বিবদমান জমিতে গত ১৮ জুলাই থেকে বোয়ালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণের কাজ শুরু করেন।