নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে ধারণ হলো ইত্যাদি

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে গিয়ে ইত্যাদি ধারণের ধারাবাহিকতায় এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ছাত্রজীবনের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালের দরিরামপুরে। মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে কবির ছাত্রজীবনের স্মৃতিবিজড়িত দরিরামপুর স্কুলে তারই শ্রেণিকক্ষের সামনে। আমাদের জাতীয় কবির ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকীকে সামনে রেখে এবং তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীনা’র শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কবি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালের এই স্থানকে বেছে নেয়া হয়। ধারণ করা হয় ১৭ জুলাই। এই পর্বটি একযোগে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচার হবে আগামী ২৯ জুলাই, শুক্রবার-রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর। ইত্যাদির রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। ইত্যাদি স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

দর্শকদের বাঁধভাঙা জোয়ারে পুরো মাঠই ছিলো দর্শকপূর্ণ। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকটি ভবনের ছাদ, আশপাশের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ছাদ, গাছপালা সবকিছুতেই ছিলো দর্শক পরিপূর্ণ। স্থানীয়রা জানান, ইতোপূর্বে ত্রিশালে কখনও কোন অনুষ্ঠানে এত দর্শক সমাগম হয়নি। প্রচ- তাপদাহ থাকা সত্ত্বেও দর্শকরা ছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত। ইত্যাদির ধারণ উপলক্ষে সেদিন বর্ণিল আলো এবং জাতীয় কবির বিভিন্ন অমর কবিতা ও তার প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো দৃষ্টিনন্দন মঞ্চে ইত্যাদির ধারণ অনুষ্ঠান চলে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। এই দীর্ঘ সময়ে দর্শকরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো ইত্যাদির বিভিন্ন নান্দনিক পর্ব দেখার পাশাপাশি অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন একটি ভালো অনুষ্ঠান করতে হলে কতটা শ্রম দিতে হয়। কিছুক্ষণ পরপরই চলছিলো লক্ষাধিক দর্শকের উচ্ছ্বাসপূর্ণ চিৎকার আর তালি বৃষ্টি। এবারের অনুষ্ঠানে একটি জনপ্রিয় নজরুল সংগীত গেয়েছেন এ সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বাপ্পা মজুমদার ও প্রিয়াংকা গোপ। আর তাদের সহযোগিতা করছেন আরও একদল নজরুল সংগীত শিল্পী। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদি। রয়েছে জাতীয় কবির তিনটি গান ও দুটি কবিতার সমন্বয়ে সৃষ্ট একটি সংগীতের সঙ্গে স্থানীয় প্রায় শতাধিক নৃত্যশিল্পীর নাচ। সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদি, নৃত্যপরিচালনা করেছেন মনিরুল ইসলাম মুকুল।

এবারের পর্বেও রয়েছে কয়েকটি হৃদয় ছোঁয়া প্রতিবেদন। রয়েছে নজরুলের ত্রিশাল অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণী। রয়েছে চাল নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের চালবাজির চালচিত্র। পিএইচডি ডিগ্রিধারী একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তির বিশাল কৃষি কর্মকা-ের উপর রয়েছে একটি প্রতিবেদন। রয়েছে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানার আবদুল মালেকের উপর একটি হৃদয়ছোঁয়া মানবিক প্রতিবেদন। এবারের পর্বে রয়েছে গ্রিসের অ্যাক্রোপোলিসের উপর একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন।

দর্শকপর্বের নিয়ম অনুযায়ী ধারণস্থান ত্রিশাল এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মাঝখান থেকে ৪ জন দর্শক নির্বাচন করা হয়। ২য় পর্ব সাজানো হয়েছে কিছু নজরুল সংগীত ও লোক সংগীত নিয়ে। এই পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিরল বাদ্যযন্ত্র সংগ্রাহক ময়মনসিংহের সন্তান জনাব রেজাউল করিম আসলামকে। দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের বিশাল আয়োজনে সাজানো হয়েছিল দর্শকপর্ব। এই পর্বে দর্শকরা কিছু দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে নতুনভাবে পরিচিত হবেন। নিয়মিত পর্বসহ এবারো রয়েছে বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু নাট্যাংশ।

রবিবার, ২৪ জুলাই ২০২২ , ০৯ শ্রাবণ ১৪২৯ ২৫ জিলহজ ১৪৪৩

নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে ধারণ হলো ইত্যাদি

বিনোদন প্রতিবেদক

image

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে গিয়ে ইত্যাদি ধারণের ধারাবাহিকতায় এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ছাত্রজীবনের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালের দরিরামপুরে। মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে কবির ছাত্রজীবনের স্মৃতিবিজড়িত দরিরামপুর স্কুলে তারই শ্রেণিকক্ষের সামনে। আমাদের জাতীয় কবির ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকীকে সামনে রেখে এবং তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীনা’র শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কবি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালের এই স্থানকে বেছে নেয়া হয়। ধারণ করা হয় ১৭ জুলাই। এই পর্বটি একযোগে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচার হবে আগামী ২৯ জুলাই, শুক্রবার-রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর। ইত্যাদির রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। ইত্যাদি স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

দর্শকদের বাঁধভাঙা জোয়ারে পুরো মাঠই ছিলো দর্শকপূর্ণ। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকটি ভবনের ছাদ, আশপাশের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ছাদ, গাছপালা সবকিছুতেই ছিলো দর্শক পরিপূর্ণ। স্থানীয়রা জানান, ইতোপূর্বে ত্রিশালে কখনও কোন অনুষ্ঠানে এত দর্শক সমাগম হয়নি। প্রচ- তাপদাহ থাকা সত্ত্বেও দর্শকরা ছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত। ইত্যাদির ধারণ উপলক্ষে সেদিন বর্ণিল আলো এবং জাতীয় কবির বিভিন্ন অমর কবিতা ও তার প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো দৃষ্টিনন্দন মঞ্চে ইত্যাদির ধারণ অনুষ্ঠান চলে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। এই দীর্ঘ সময়ে দর্শকরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো ইত্যাদির বিভিন্ন নান্দনিক পর্ব দেখার পাশাপাশি অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন একটি ভালো অনুষ্ঠান করতে হলে কতটা শ্রম দিতে হয়। কিছুক্ষণ পরপরই চলছিলো লক্ষাধিক দর্শকের উচ্ছ্বাসপূর্ণ চিৎকার আর তালি বৃষ্টি। এবারের অনুষ্ঠানে একটি জনপ্রিয় নজরুল সংগীত গেয়েছেন এ সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বাপ্পা মজুমদার ও প্রিয়াংকা গোপ। আর তাদের সহযোগিতা করছেন আরও একদল নজরুল সংগীত শিল্পী। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদি। রয়েছে জাতীয় কবির তিনটি গান ও দুটি কবিতার সমন্বয়ে সৃষ্ট একটি সংগীতের সঙ্গে স্থানীয় প্রায় শতাধিক নৃত্যশিল্পীর নাচ। সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদি, নৃত্যপরিচালনা করেছেন মনিরুল ইসলাম মুকুল।

এবারের পর্বেও রয়েছে কয়েকটি হৃদয় ছোঁয়া প্রতিবেদন। রয়েছে নজরুলের ত্রিশাল অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণী। রয়েছে চাল নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের চালবাজির চালচিত্র। পিএইচডি ডিগ্রিধারী একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তির বিশাল কৃষি কর্মকা-ের উপর রয়েছে একটি প্রতিবেদন। রয়েছে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানার আবদুল মালেকের উপর একটি হৃদয়ছোঁয়া মানবিক প্রতিবেদন। এবারের পর্বে রয়েছে গ্রিসের অ্যাক্রোপোলিসের উপর একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন।

দর্শকপর্বের নিয়ম অনুযায়ী ধারণস্থান ত্রিশাল এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মাঝখান থেকে ৪ জন দর্শক নির্বাচন করা হয়। ২য় পর্ব সাজানো হয়েছে কিছু নজরুল সংগীত ও লোক সংগীত নিয়ে। এই পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিরল বাদ্যযন্ত্র সংগ্রাহক ময়মনসিংহের সন্তান জনাব রেজাউল করিম আসলামকে। দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের বিশাল আয়োজনে সাজানো হয়েছিল দর্শকপর্ব। এই পর্বে দর্শকরা কিছু দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে নতুনভাবে পরিচিত হবেন। নিয়মিত পর্বসহ এবারো রয়েছে বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু নাট্যাংশ।