মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সংকট গৃহিণীদের ভোগান্তি

মুন্সীগঞ্জে বাসাবাড়িতে তীব্র গ্যাস সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এর ফলে মহাবিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ পরিস্থিতিতে তিন বেলার রান্না এক বেলাতে শেষ করছেন। অনেকে সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। আবার অনেকে লাড়কি বা কেরোসিন চুলার ওপর নির্ভরশীল হচ্ছেন। কোথাও কোথাও সকালের দিকে গ্যাস চলে যাচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও রাতের বেলায় গ্যাসের দেখা মিলছে। তাতে রাতেই রান্নাবান্না সেরে নিচ্ছেন গৃহিনীরা।

মুন্সীগঞ্জে আগে শীতের দিনে গ্যাস সংকট দেখা দিতো। এখন গরমেও সেই গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। তার ফলে মুন্সীগঞ্জে নিত্যদিনের রান্না বান্নায় গৃহিনীরা এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। একদিকে মুন্সীগঞ্জে কোনভাবে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে গ্যাসের দাম প্রতিবছর বেড়েই চলেছে পাগলা ঘোড়ার মতো। তার ফলে গ্যাস ব্যবহার না করেই প্রতি মাসে গ্যাসের মাসিক বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে গ্যাস গ্রাহকদের । এতে দুটানার মধ্যে রয়েছেন বর্তমানে গ্যাস গ্রাহকরা। অনেকে গ্যাস লাইন ছেড়ে দিতে পারছেন না। এর কারণ হচ্ছে নতুন করে আবাসিক এলাকায় গ্যাস লাইন বন্ধ রাখা হয়েছে। তাতে গ্যাস গ্রাহকরা বাধ্য হচ্ছেন গ্যাস ব্যবহার না করেই গ্যাসের বিল দিয়ে যেতে।

এদিকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অসাধু কতিপয় কর্মচারীদের সহযোগিতায় মুন্সীগঞ্জে একাধিক অবৈধ গ্যাস লাইন ব্যবহার করছেন অনেকেই। সেখান থেকে অনেকেই মাসিক অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাতে অনেকেই ইতোমধ্যে টাকার কুমির বনে গেছেন বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি মুক্তারপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। অনেক সময়ে লোক দেখানো অবৈধ গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন নাটকের মহড়া দেখানো হয়ে থাকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জ অফিস থেকে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা রহস্যজনক কারণে অন্তরালেই রয়ে যায়।

এদিকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সম্পূর্ণভাবে চলে যাচ্ছে। এরপর দুপুর ২টার দিকে কিছু কিছু বাসা বাড়িতে গ্যাস আসতে থাকে রেশন পদ্ধতিতে। এ সময় নতুন গ্যাস লাইনে গ্যাস কিছুটা পাওয়া গেলেও পুরাতন লাইনে কোনভাবেই গ্যাস পাওয়া যায় না। গ্যাসের এ পদ্ধতিতে আবার অনেকে সন্ধ্যার পরে গ্যাস পেয়ে থাকেন বলেও জানা গেছে। এ পরিস্থিতি বর্তমানে গরম বা শীতের দিনেও সমান তালে চলতে থাকে মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সংকট। তবে আগে শীতের দিনে এ পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু চলতি অর্থ বছরে গরমের সময়েও শীতের দিনের পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে গ্যাস সংকট।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হচ্ছে যে, শীতের দিনে ঠান্ডার কারণে গ্যাস শীতে জমে যাওয়ায় মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সংকটের সৃষ্টি হতো। এখন গরমের দিনে আবাসিক এলাকায় গ্যাস না থাকার বিষয়ে তারা এখন ভিন্ন কথা বলছেন। এ বিষয়ে বর্তমানে তাদের বক্তব্য হচ্ছে যে, এখন মুন্সীগঞ্জে চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম হচ্ছে। তাই মুন্সীগঞ্জে আবাসিক এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ার কারণে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। তাদের দু’ধরনের সাজানো তোতা পাখির মতো কথা বলার ভঙ্গিমায় মুন্সীগঞ্জে আবাসিক গ্যাস গ্রাহকরা বড়ই কষ্টের মধ্যে দিনপাত করছেন গ্যাস ব্যবহারকারী গ্রাহকরা।

একাধিক সূত্র মতে, মুন্সীগঞ্জে আবাসিক এলাকায় গ্যাস সংকট কৃত্রিম বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পিছনে বড় ধরণের কারসাজি হচ্ছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জ শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজোসে। পশ্চিম মুক্তারপুরে হচ্ছে মুন্সীগঞ্জের গ্যাস লাইনের মুল চাবিকাঠি ও নাটের গুরুর আস্তানা। সেখান থেকে বিশেষ কায়দায় নির্ধারিত সময়ের জন্য মুন্সীগঞ্জের গ্যাস লাইন বন্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জে শাখা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। মুন্সীগঞ্জের গ্যাস লাইন বন্ধ রেখে সেই সময়টাতে সেখানকার শিল্প কারখানাতে গ্যাস সরবরাহ করা হয় বলে অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের আবাসিক গ্যাস ব্যবহারকারীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপসহ এ বিষয়ে তদন্ত কামনা করেছেন। তাতে থলের বিড়াল বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। এদিকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জ শাখা মুন্সীগঞ্জে গ্যাস লাইন ও গ্যাস সংকট সম্পর্কে জনসাধারণদের ধারণা দিতেন ঘুমপাড়ানি ওষুধের মতো। সেগুলো হচ্ছে যে, একটি পাইপ লাইনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ হয়। নারায়ণগঞ্জের চাহিদা মেটানোর পর পাইপলাইনে গ্যাস না থাকায় মুন্সীগঞ্জের গ্রাহকরা গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছে না। এক পাইপলাইনে দুই জেলায় গ্যাস সরবরাহ করাই মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সঙ্কটের অন্যতম প্রধান কারণ।

সে সঙ্গে যুক্ত রয়েছে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহে ঘাটতি। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সংকট আরও প্রকট হয়েছে। তাই নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের গ্যাস সরবরাহ লাইন পৃথক করা না হলে মুন্সীগঞ্জের গ্যাস সংকট নিরসন সম্ভব নয় বলেও মনে করছেন কতিপয় কর্মকর্তারা। এ বিষয়টি অতীতের বক্তব্য দিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জ শাখার কর্তা ব্যক্তিরা নিজেদের আত্মপক্ষে সমর্থন নিতেন। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জের শাখা কর্মকর্তারা ওই বক্তব্য থেকে সরে এসে বর্তমানে শীতে ও গরমে দুই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু এ বিষয়ে ইতোপূর্বে ব্যাপক লেখালেখির কারণে মুন্সীগঞ্জের জন্য নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে পৃথক গ্যাস লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তারপরেও মুন্সীগঞ্জে গ্যাস ব্যবস্থায় কোন ধরনের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে লুকোচুরির মাধ্যমে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জ শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জ শাখায় গ্যাস ব্যবস্থাপনায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এখানে যুগের পর যুগ ধরে ঘাপটি মেরে চাকরি কওে যাচ্ছেন বহাল তবিয়তে। অনেক বিভাগে অনেককে বদলি করা হলেও এখানকার লোকজনদেরকে সাধারণত বদলি করা হয় না যুগের পর যুগ ধরে। এর রহস্যটা কি? তার ফলে এখানে অনিয়মে বাসা বেধেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জের এ অফিসে। অতি দ্রুত এখান থেকে তাদেরকে অন্যত্র বদলি করা হলে অনেকেই এখান থেকে কোন কোন সুফল পেলেও পেতে পারে এ যাত্রা থেকে।

মুক্তারপুরের নদীর এপারে গ্যাসের চাপের অজুহাতে এখানে বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংকট দেখা দিচ্ছে বলে এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জের গ্যাস কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন। কিন্তু নদীর ওপারে এমনটি হচ্ছে না বলে জানা গেছে। সেখানেও বাসাবাড়িতে গ্যাস লাইন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে সব সময়েই। একই গ্যাস লাইনে দু’রকমের ব্যবস্থা রহস্যজনক ব্যবহারের বিষয়টি প্রশ্নের উঁকিঝুঁকি মারছে অনেকের মনে।

এদিকে মুন্সীগঞ্জে আবাসিক এলাকায় যেখানে এ গ্যাস লাইন শেষ হয়েছে, সেখানে অনেকেই সারাদিনের পরিবর্তে রাতে গ্যাসের দেখা মিলতে পারে এক বেলার জন্য। এর প্রধানত কারণ হচ্ছে গ্যাসের চাপ কমে গেলে এমনটি হয়ে থাকে বলে গ্যাস কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন। এ বিষয়টি শীত মৌসুমে সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে বলে জানা গেছে। তখন এখানকার লোকজনের গ্যাসের একবেলাতেই তিন বেলার রান্না করে রাখেন রাতের দিকে। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভাস্থ দেওভোগ এলাকায় এ পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক বধুকে রাত জাগতে হয় রান্নাবান্নার জন্য।

অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যেও দিব্যি গ্যাস রয়েছে কিছু কিছু বাসাবাড়িতে। সেখানে সব সময়ে কেন গ্যাস থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সব মহলে? একাধিক সূত্র মতে জানা গেছে, চলামান গ্যাস লাইনে কম্পেয়ার মেশিন বসিয়ে চুম্বুকের মতো গ্যাস টেনে নেয়া হয় এসব বাসাবাড়িতে। এমনটি অভিযোগ উঠেছে ঐসব বাসাবাড়ির বিরুদ্ধে। ঐসব বাসাবাড়ির মালিকরা প্রভাবশালী থাকায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জের শাখা তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নিতে পারে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এভাবেই চলছে নিত্যদিনে মুন্সীগঞ্জে গ্যাসের ব্যবস্থা।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জের শাখা ব্যবস্থাপক মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মুন্সীগঞ্জে সাড়ে ৯ হাজার আবাসিক লাইন রয়েছে। আর ৪৫টি শিল্প কারখানায় লাইন রয়েছে।

তিনি আরো জানান, মুন্সীগঞ্জে প্রতিদিনের জন্য গ্যাসের চাহিদা রয়েছে দুই হাজার ৩৪৬ মিলিয়ন কিউবিক ফিট (এমএমসিএফডি)। কিন্তু এখানে এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে এক হাজার ৮০০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট (এমএমসিএফডি)। সেই হিসেবে চাহিদা অনুযায়ী এখানে প্রতিদিন ঘাটতি রয়েছে ৫৪৬ মিলিয়ন কিউবিক ফিট (এমএমসিএফডি)। তাতে মুন্সীগঞ্জে প্রতিদিনই চাহিদার তুলনায় গ্যাস সংকট থেকেই যাচ্ছে।

সোমবার, ২৫ জুলাই ২০২২ , ১০ শ্রাবণ ১৪২৯ ২৬ জিলহজ ১৪৪৩

মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সংকট গৃহিণীদের ভোগান্তি

প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জে বাসাবাড়িতে তীব্র গ্যাস সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এর ফলে মহাবিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ পরিস্থিতিতে তিন বেলার রান্না এক বেলাতে শেষ করছেন। অনেকে সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। আবার অনেকে লাড়কি বা কেরোসিন চুলার ওপর নির্ভরশীল হচ্ছেন। কোথাও কোথাও সকালের দিকে গ্যাস চলে যাচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও রাতের বেলায় গ্যাসের দেখা মিলছে। তাতে রাতেই রান্নাবান্না সেরে নিচ্ছেন গৃহিনীরা।

মুন্সীগঞ্জে আগে শীতের দিনে গ্যাস সংকট দেখা দিতো। এখন গরমেও সেই গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। তার ফলে মুন্সীগঞ্জে নিত্যদিনের রান্না বান্নায় গৃহিনীরা এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। একদিকে মুন্সীগঞ্জে কোনভাবে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে গ্যাসের দাম প্রতিবছর বেড়েই চলেছে পাগলা ঘোড়ার মতো। তার ফলে গ্যাস ব্যবহার না করেই প্রতি মাসে গ্যাসের মাসিক বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে গ্যাস গ্রাহকদের । এতে দুটানার মধ্যে রয়েছেন বর্তমানে গ্যাস গ্রাহকরা। অনেকে গ্যাস লাইন ছেড়ে দিতে পারছেন না। এর কারণ হচ্ছে নতুন করে আবাসিক এলাকায় গ্যাস লাইন বন্ধ রাখা হয়েছে। তাতে গ্যাস গ্রাহকরা বাধ্য হচ্ছেন গ্যাস ব্যবহার না করেই গ্যাসের বিল দিয়ে যেতে।

এদিকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অসাধু কতিপয় কর্মচারীদের সহযোগিতায় মুন্সীগঞ্জে একাধিক অবৈধ গ্যাস লাইন ব্যবহার করছেন অনেকেই। সেখান থেকে অনেকেই মাসিক অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাতে অনেকেই ইতোমধ্যে টাকার কুমির বনে গেছেন বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি মুক্তারপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। অনেক সময়ে লোক দেখানো অবৈধ গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন নাটকের মহড়া দেখানো হয়ে থাকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জ অফিস থেকে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা রহস্যজনক কারণে অন্তরালেই রয়ে যায়।

এদিকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সম্পূর্ণভাবে চলে যাচ্ছে। এরপর দুপুর ২টার দিকে কিছু কিছু বাসা বাড়িতে গ্যাস আসতে থাকে রেশন পদ্ধতিতে। এ সময় নতুন গ্যাস লাইনে গ্যাস কিছুটা পাওয়া গেলেও পুরাতন লাইনে কোনভাবেই গ্যাস পাওয়া যায় না। গ্যাসের এ পদ্ধতিতে আবার অনেকে সন্ধ্যার পরে গ্যাস পেয়ে থাকেন বলেও জানা গেছে। এ পরিস্থিতি বর্তমানে গরম বা শীতের দিনেও সমান তালে চলতে থাকে মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সংকট। তবে আগে শীতের দিনে এ পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু চলতি অর্থ বছরে গরমের সময়েও শীতের দিনের পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে গ্যাস সংকট।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হচ্ছে যে, শীতের দিনে ঠান্ডার কারণে গ্যাস শীতে জমে যাওয়ায় মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সংকটের সৃষ্টি হতো। এখন গরমের দিনে আবাসিক এলাকায় গ্যাস না থাকার বিষয়ে তারা এখন ভিন্ন কথা বলছেন। এ বিষয়ে বর্তমানে তাদের বক্তব্য হচ্ছে যে, এখন মুন্সীগঞ্জে চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম হচ্ছে। তাই মুন্সীগঞ্জে আবাসিক এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ার কারণে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। তাদের দু’ধরনের সাজানো তোতা পাখির মতো কথা বলার ভঙ্গিমায় মুন্সীগঞ্জে আবাসিক গ্যাস গ্রাহকরা বড়ই কষ্টের মধ্যে দিনপাত করছেন গ্যাস ব্যবহারকারী গ্রাহকরা।

একাধিক সূত্র মতে, মুন্সীগঞ্জে আবাসিক এলাকায় গ্যাস সংকট কৃত্রিম বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পিছনে বড় ধরণের কারসাজি হচ্ছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জ শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজোসে। পশ্চিম মুক্তারপুরে হচ্ছে মুন্সীগঞ্জের গ্যাস লাইনের মুল চাবিকাঠি ও নাটের গুরুর আস্তানা। সেখান থেকে বিশেষ কায়দায় নির্ধারিত সময়ের জন্য মুন্সীগঞ্জের গ্যাস লাইন বন্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জে শাখা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। মুন্সীগঞ্জের গ্যাস লাইন বন্ধ রেখে সেই সময়টাতে সেখানকার শিল্প কারখানাতে গ্যাস সরবরাহ করা হয় বলে অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের আবাসিক গ্যাস ব্যবহারকারীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপসহ এ বিষয়ে তদন্ত কামনা করেছেন। তাতে থলের বিড়াল বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। এদিকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জ শাখা মুন্সীগঞ্জে গ্যাস লাইন ও গ্যাস সংকট সম্পর্কে জনসাধারণদের ধারণা দিতেন ঘুমপাড়ানি ওষুধের মতো। সেগুলো হচ্ছে যে, একটি পাইপ লাইনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ হয়। নারায়ণগঞ্জের চাহিদা মেটানোর পর পাইপলাইনে গ্যাস না থাকায় মুন্সীগঞ্জের গ্রাহকরা গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছে না। এক পাইপলাইনে দুই জেলায় গ্যাস সরবরাহ করাই মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সঙ্কটের অন্যতম প্রধান কারণ।

সে সঙ্গে যুক্ত রয়েছে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহে ঘাটতি। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সংকট আরও প্রকট হয়েছে। তাই নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের গ্যাস সরবরাহ লাইন পৃথক করা না হলে মুন্সীগঞ্জের গ্যাস সংকট নিরসন সম্ভব নয় বলেও মনে করছেন কতিপয় কর্মকর্তারা। এ বিষয়টি অতীতের বক্তব্য দিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জ শাখার কর্তা ব্যক্তিরা নিজেদের আত্মপক্ষে সমর্থন নিতেন। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জের শাখা কর্মকর্তারা ওই বক্তব্য থেকে সরে এসে বর্তমানে শীতে ও গরমে দুই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু এ বিষয়ে ইতোপূর্বে ব্যাপক লেখালেখির কারণে মুন্সীগঞ্জের জন্য নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে পৃথক গ্যাস লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তারপরেও মুন্সীগঞ্জে গ্যাস ব্যবস্থায় কোন ধরনের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে লুকোচুরির মাধ্যমে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জ শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জ শাখায় গ্যাস ব্যবস্থাপনায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এখানে যুগের পর যুগ ধরে ঘাপটি মেরে চাকরি কওে যাচ্ছেন বহাল তবিয়তে। অনেক বিভাগে অনেককে বদলি করা হলেও এখানকার লোকজনদেরকে সাধারণত বদলি করা হয় না যুগের পর যুগ ধরে। এর রহস্যটা কি? তার ফলে এখানে অনিয়মে বাসা বেধেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জের এ অফিসে। অতি দ্রুত এখান থেকে তাদেরকে অন্যত্র বদলি করা হলে অনেকেই এখান থেকে কোন কোন সুফল পেলেও পেতে পারে এ যাত্রা থেকে।

মুক্তারপুরের নদীর এপারে গ্যাসের চাপের অজুহাতে এখানে বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংকট দেখা দিচ্ছে বলে এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জের গ্যাস কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন। কিন্তু নদীর ওপারে এমনটি হচ্ছে না বলে জানা গেছে। সেখানেও বাসাবাড়িতে গ্যাস লাইন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে সব সময়েই। একই গ্যাস লাইনে দু’রকমের ব্যবস্থা রহস্যজনক ব্যবহারের বিষয়টি প্রশ্নের উঁকিঝুঁকি মারছে অনেকের মনে।

এদিকে মুন্সীগঞ্জে আবাসিক এলাকায় যেখানে এ গ্যাস লাইন শেষ হয়েছে, সেখানে অনেকেই সারাদিনের পরিবর্তে রাতে গ্যাসের দেখা মিলতে পারে এক বেলার জন্য। এর প্রধানত কারণ হচ্ছে গ্যাসের চাপ কমে গেলে এমনটি হয়ে থাকে বলে গ্যাস কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন। এ বিষয়টি শীত মৌসুমে সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে বলে জানা গেছে। তখন এখানকার লোকজনের গ্যাসের একবেলাতেই তিন বেলার রান্না করে রাখেন রাতের দিকে। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভাস্থ দেওভোগ এলাকায় এ পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক বধুকে রাত জাগতে হয় রান্নাবান্নার জন্য।

অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যেও দিব্যি গ্যাস রয়েছে কিছু কিছু বাসাবাড়িতে। সেখানে সব সময়ে কেন গ্যাস থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সব মহলে? একাধিক সূত্র মতে জানা গেছে, চলামান গ্যাস লাইনে কম্পেয়ার মেশিন বসিয়ে চুম্বুকের মতো গ্যাস টেনে নেয়া হয় এসব বাসাবাড়িতে। এমনটি অভিযোগ উঠেছে ঐসব বাসাবাড়ির বিরুদ্ধে। ঐসব বাসাবাড়ির মালিকরা প্রভাবশালী থাকায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জের শাখা তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নিতে পারে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এভাবেই চলছে নিত্যদিনে মুন্সীগঞ্জে গ্যাসের ব্যবস্থা।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মুন্সীগঞ্জের শাখা ব্যবস্থাপক মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মুন্সীগঞ্জে সাড়ে ৯ হাজার আবাসিক লাইন রয়েছে। আর ৪৫টি শিল্প কারখানায় লাইন রয়েছে।

তিনি আরো জানান, মুন্সীগঞ্জে প্রতিদিনের জন্য গ্যাসের চাহিদা রয়েছে দুই হাজার ৩৪৬ মিলিয়ন কিউবিক ফিট (এমএমসিএফডি)। কিন্তু এখানে এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে এক হাজার ৮০০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট (এমএমসিএফডি)। সেই হিসেবে চাহিদা অনুযায়ী এখানে প্রতিদিন ঘাটতি রয়েছে ৫৪৬ মিলিয়ন কিউবিক ফিট (এমএমসিএফডি)। তাতে মুন্সীগঞ্জে প্রতিদিনই চাহিদার তুলনায় গ্যাস সংকট থেকেই যাচ্ছে।