রাশিয়ার গ্যাস বন্ধের আশঙ্কায় ব্যবহার ১৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত ইইউ’র

রাশিয়া গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে, এমন আশঙ্কার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের গ্যাসের ব্যবহার ১৫ শতাংশ হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপে আজ থেকেই গ্যাসের সরবরাহ কমে যাচ্ছে, কারণ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি গ্যাযপ্রম জানিয়েছে, তারা নর্ড স্ট্রিম ওয়ান পাইপলাইন দিয়ে জার্মানিতে গ্যাসের সরবরাহ পূর্ণ ক্ষমতার এক পঞ্চমাংশে নামিয়ে আনবে।

রাশিয়া গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেয়ায় প্রায় এক ডজন ইউরোপীয় দেশ এরই মধ্যে চাপের মধ্যে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, এই শীতে যদি রাশিয়া গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় সেজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি মন্ত্রীরা গতকাল এক জরুরি বৈঠকে এ বছরের আগস্ট থেকে মার্চ পর্যন্ত গ্যাসের ব্যবহার কমানোর এক প্রস্তাব অনুমোদন করেন। প্রত্যেকটি সদস্য দেশ স্বেচ্ছায় এই কাজ করবে, তবে গ্যাস সংকট গুরুতর রূপ নিলে এটি বাধ্যতামূলক করা হবে। কিছু দেশ এবং কোন কোন শিল্প খাতকে অবশ্য এই বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা হয়েছে। আয়ারল্যান্ড এবং মাল্টাকে এই চুক্তি মেনে গ্যাসের চাহিদা কমাতে হবে না, কারণ তারা ইউরোপের গ্যাস নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়।

জার্মানির অর্থমন্ত্রী রবার্ট হাবেক বলেছেন, ‘মস্কো গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দিলেও ইউরোপ যে ঐক্যবদ্ধ আছে, এই চুক্তি প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সেই বার্তা দেবে। প্রেসিডেন্ট পুতিন আমাদের মধ্যে ফাটল ধরাতে পারবেন না।’

রাশিয়ার গ্যাযপ্রম বলছে, ‘রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য টারবাইন বন্ধ রাখতে হচ্ছে, সেজন্যেই নর্ড স্ট্রিম ওয়ান দিয়ে গ্যাসের সরবরাহ হ্রাস করতে হয়েছে।’ তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানিবিষয়ক প্রধান কাদরি সিমসন বলেছেন, ‘এটি আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্যাসের সরবরাহের ৪০ শতাংশই আসতো রাশিয়া থেকে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় রাশিয়া পাল্টা এখন গ্যাসকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে রাশিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করছে। রাশিয়া গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে খবর বেরুনোর সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম আরও বেড়ে গেছে। গ্যাস সংকটের কারণে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানি।

বুধবার, ২৭ জুলাই ২০২২ , ১২ শ্রাবণ ১৪২৯ ২৮ জিলহজ ১৪৪৩

রাশিয়ার গ্যাস বন্ধের আশঙ্কায় ব্যবহার ১৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত ইইউ’র

সংবাদ ডেস্ক

রাশিয়া গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে, এমন আশঙ্কার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের গ্যাসের ব্যবহার ১৫ শতাংশ হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপে আজ থেকেই গ্যাসের সরবরাহ কমে যাচ্ছে, কারণ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি গ্যাযপ্রম জানিয়েছে, তারা নর্ড স্ট্রিম ওয়ান পাইপলাইন দিয়ে জার্মানিতে গ্যাসের সরবরাহ পূর্ণ ক্ষমতার এক পঞ্চমাংশে নামিয়ে আনবে।

রাশিয়া গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেয়ায় প্রায় এক ডজন ইউরোপীয় দেশ এরই মধ্যে চাপের মধ্যে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, এই শীতে যদি রাশিয়া গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় সেজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি মন্ত্রীরা গতকাল এক জরুরি বৈঠকে এ বছরের আগস্ট থেকে মার্চ পর্যন্ত গ্যাসের ব্যবহার কমানোর এক প্রস্তাব অনুমোদন করেন। প্রত্যেকটি সদস্য দেশ স্বেচ্ছায় এই কাজ করবে, তবে গ্যাস সংকট গুরুতর রূপ নিলে এটি বাধ্যতামূলক করা হবে। কিছু দেশ এবং কোন কোন শিল্প খাতকে অবশ্য এই বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা হয়েছে। আয়ারল্যান্ড এবং মাল্টাকে এই চুক্তি মেনে গ্যাসের চাহিদা কমাতে হবে না, কারণ তারা ইউরোপের গ্যাস নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়।

জার্মানির অর্থমন্ত্রী রবার্ট হাবেক বলেছেন, ‘মস্কো গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দিলেও ইউরোপ যে ঐক্যবদ্ধ আছে, এই চুক্তি প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সেই বার্তা দেবে। প্রেসিডেন্ট পুতিন আমাদের মধ্যে ফাটল ধরাতে পারবেন না।’

রাশিয়ার গ্যাযপ্রম বলছে, ‘রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য টারবাইন বন্ধ রাখতে হচ্ছে, সেজন্যেই নর্ড স্ট্রিম ওয়ান দিয়ে গ্যাসের সরবরাহ হ্রাস করতে হয়েছে।’ তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানিবিষয়ক প্রধান কাদরি সিমসন বলেছেন, ‘এটি আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্যাসের সরবরাহের ৪০ শতাংশই আসতো রাশিয়া থেকে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় রাশিয়া পাল্টা এখন গ্যাসকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে রাশিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করছে। রাশিয়া গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে খবর বেরুনোর সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম আরও বেড়ে গেছে। গ্যাস সংকটের কারণে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানি।