ভাই ভাতিজার নির্যাতনে হাসপাতালে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ

নীলফামারী ডোমারে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাই ও ভাতিজার লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন প্রতিবন্ধী আব্দুস সালাম(৭০) নামে এক বৃদ্ধ। আহত আব্দুস সালাম জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত হাকিমদ্দিনের ছেলে।

গত সোমবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আব্দুস সালাম জানান,গত শনিবার সকালে মির্জাগঞ্জ রেল স্টেশন বাজার সংলগ্ন ফকিরপাড়া গ্রামে আমার ভাই ভাতিজারা পরিকল্পিতভাবে মারধর করে আহত করে। তিনি আরো জানান আমার বাবা আমাকে ২৮ শতক জমি অছিয়ত করে গেছে। ওই জমিতে ২০১০ সালে বসত বাড়ী তৈরি করি। সেই বাড়ীতে বসবাস করা অবস্থায় ২০১৫ সালে আমার বড় ভাই মাজেদুল ইসলাম শাহ আমার বাড়ীটি ভেঙ্গে দেয়। আমি আবারো বাড়ী তৈরি করে সেখানে স্ত্রীসহ বসবাস করলে আমার বড় ভাইসহ ভাতিজারা বিভিন্ন সময় আমার পরিবাবের উপর নির্যাতন করে। আমি বয়স্ক মানুষ। একটি পায়ের সমস্যা। চলতে অনেক কষ্ট হয়। গত শনিবার আমার অছিয়ত ও দলিল কৃত জমিতে আমার বড় ভাই লোকজন দিয়ে কাজ করাতে থাকে। আমি কাজ করতে নিষেধ করলে আমার বড় ভাই মাজেদুল ইসলাম, তার ছেলে জামাল উদ্দিন ও আসাদুল আমাকে বেধরক মারপিট করে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহৃ সংবাদ প্রতিনিধিকে দেখান।

আব্দুস সালামের ছেলে মনোয়ার হোসেন জানান, আমার জ্যাঠার সাথে সাড়ে তিন বিঘা জমি নিয়ে দ্ব›ন্দ্ব চলছে। আমি বাহিরে লেখা পড়ার করার সুবাদে বাবা ও মা বাড়িতে থাকতেন। ২০১৪ সালে আমাদের নামে মামলা করেন আমার জ্যাঠা। মামলা করার পর থেকে আমার বাবা মাকে বিভিন্ন সময় মারপিটসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার পরিবারকে হয়রানি করে আসছে। গত শনিবার আমার বৃদ্ধ বাবাকে বেধরক মারপিট করে। বর্তমানে আমার বাবা ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। ২০০৩ সালে বাবার ডান পায়ে ইনফেকশন হওয়া গোড়ালী পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে। তখন থেকে বাবা ঠিকমত চলাচল করতে পারে না। আমি ও আমার পরিবার মিথ্যা মামলা ও হয়রানীর হাত থেকে বাঁচতে চাই।

জোড়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হাবীব বাবু মারপিটের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উভয় পক্ষে জমি নিয়ে পারিবারিক ভাবে দ্বন্দ¦ চলছে। আদালতে তাদের মামলা চলমান আছে। গত দেড় মাস আগে একটি শালিস বৈঠক করা হয়েছে। আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত ঐ জমিতে উভয় পক্ষের কোন লোকজন যাবে না বলে কথা হয়।

বুধবার, ২৭ জুলাই ২০২২ , ১২ শ্রাবণ ১৪২৯ ২৮ জিলহজ ১৪৪৩

ভাই ভাতিজার নির্যাতনে হাসপাতালে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ

প্রতিনিধি, ডোমার (নীলফামারী )

নীলফামারী ডোমারে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাই ও ভাতিজার লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন প্রতিবন্ধী আব্দুস সালাম(৭০) নামে এক বৃদ্ধ। আহত আব্দুস সালাম জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত হাকিমদ্দিনের ছেলে।

গত সোমবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আব্দুস সালাম জানান,গত শনিবার সকালে মির্জাগঞ্জ রেল স্টেশন বাজার সংলগ্ন ফকিরপাড়া গ্রামে আমার ভাই ভাতিজারা পরিকল্পিতভাবে মারধর করে আহত করে। তিনি আরো জানান আমার বাবা আমাকে ২৮ শতক জমি অছিয়ত করে গেছে। ওই জমিতে ২০১০ সালে বসত বাড়ী তৈরি করি। সেই বাড়ীতে বসবাস করা অবস্থায় ২০১৫ সালে আমার বড় ভাই মাজেদুল ইসলাম শাহ আমার বাড়ীটি ভেঙ্গে দেয়। আমি আবারো বাড়ী তৈরি করে সেখানে স্ত্রীসহ বসবাস করলে আমার বড় ভাইসহ ভাতিজারা বিভিন্ন সময় আমার পরিবাবের উপর নির্যাতন করে। আমি বয়স্ক মানুষ। একটি পায়ের সমস্যা। চলতে অনেক কষ্ট হয়। গত শনিবার আমার অছিয়ত ও দলিল কৃত জমিতে আমার বড় ভাই লোকজন দিয়ে কাজ করাতে থাকে। আমি কাজ করতে নিষেধ করলে আমার বড় ভাই মাজেদুল ইসলাম, তার ছেলে জামাল উদ্দিন ও আসাদুল আমাকে বেধরক মারপিট করে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহৃ সংবাদ প্রতিনিধিকে দেখান।

আব্দুস সালামের ছেলে মনোয়ার হোসেন জানান, আমার জ্যাঠার সাথে সাড়ে তিন বিঘা জমি নিয়ে দ্ব›ন্দ্ব চলছে। আমি বাহিরে লেখা পড়ার করার সুবাদে বাবা ও মা বাড়িতে থাকতেন। ২০১৪ সালে আমাদের নামে মামলা করেন আমার জ্যাঠা। মামলা করার পর থেকে আমার বাবা মাকে বিভিন্ন সময় মারপিটসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার পরিবারকে হয়রানি করে আসছে। গত শনিবার আমার বৃদ্ধ বাবাকে বেধরক মারপিট করে। বর্তমানে আমার বাবা ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। ২০০৩ সালে বাবার ডান পায়ে ইনফেকশন হওয়া গোড়ালী পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে। তখন থেকে বাবা ঠিকমত চলাচল করতে পারে না। আমি ও আমার পরিবার মিথ্যা মামলা ও হয়রানীর হাত থেকে বাঁচতে চাই।

জোড়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হাবীব বাবু মারপিটের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উভয় পক্ষে জমি নিয়ে পারিবারিক ভাবে দ্বন্দ¦ চলছে। আদালতে তাদের মামলা চলমান আছে। গত দেড় মাস আগে একটি শালিস বৈঠক করা হয়েছে। আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত ঐ জমিতে উভয় পক্ষের কোন লোকজন যাবে না বলে কথা হয়।