উলিপুরে একই ব্যক্তি দুই বিদ্যালয়ের প্রধান

শিক্ষার্থীশূন্য কাগুজে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে জনমনে ক্ষোভ

কয়েক শতক নিচু জমির ওপর তিনটি ঘর দাঁড়িয়ে আছে। একটি ঘর ভাঙাচোরা আধাপাকা হলেও বাকি দুটি জরাজীর্ণ। একটির চাল আছে বেড়া নেই, অপরটিও ভঙ্গুর। কোন শিক্ষার্থী না থাকলেও কাগজে কলমে এখানে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সম্প্রতি একটি নিম্নœ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, উলিপুর পৌরসভার বাকরের হাট এলাকায় আখতার বানু নামে এক ব্যক্তি মন্ডলপাড়া মিশন এবতেদায়ি মাদরাসা, বাকরের হাট নিম্নœ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও বাকরের হাট ভোকেশনাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। তিনটি বিদ্যালয়ের দুটির প্রধান শিক্ষক আখতার বানু।

স্থানীয়দের দাবি, কাগজে কলমে এসব প্রতিষ্ঠান থাকলেও নেই কোন শিক্ষার্থী। এমনকি এখানে শিক্ষা কার্যক্রম চোখে পড়েনি তাদের। সম্প্রতি বাকরের হাট নিম্নœ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। আখতার বানু অসাধুপায় অবলম্বন করে কারসাজির মাধ্যমে বিদ্যালয়টি এমপিও তালিকাভুক্তি করেছেন বলেও জানান স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আগাছায় ভর্তি নিচু ছোট একটা মাঠ। এর ওপর দাঁড়িয়ে আছে জরাজীর্ণ পরিত্যাক্ত তিনটি টিনশেড ঘর। এসব ঘরে ১০-১১টি ভাঙাচোরা ব্রেঞ্চ রয়েছে। ঘরগুলো ময়লা স্যাঁতস্যাঁতে ও দুর্গন্তযুক্ত। ভাঙাচোরা একটি টয়লেট। দেখলেই মনে হবে বিগত কয়েক বছরেও মানবজাতির পায়ের ছোয়া পড়েনি। এমপিওভুক্ত হওয়ার পর দুজন পরিচ্ছন্ন কর্মী পরিষ্কার করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আর এসব কাজের তদারকি করছেন নিজেকে অফিস সহায়ক পরিচয় দেয়া মিনহাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।

এসময় মিনহাজুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তাদের বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেণীতে ৪১ জন, সপ্তমে ৩০ ও অষ্টমে ৪৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট(জেএসসিতে) ৪৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তবে ওই অফিস সহকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার খাতা ব্যতীত কিছুই দেখাতে পারেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বাজারের ওপাশে (প্রায় ৪০০ মিটার দূরত্ব) বাকরের হাট উচ্চ বিদ্যালয় ও বাকরের হাট ফাজিল মাদরাসা। শুনতেছি এখানেও নাকি স্কুল হয়েছে।

আসাদুজ্জামান নামে এক সহকারী শিক্ষক জানান, বাকরের হাট নিম্নœ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক ভোকেশনালের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন বড় বোন আখতার বানু। তবে এ ব্যাপারে রিপোর্ট না করতে অনুরোধ করেন তিনি।

নিজেকে একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে জড়িত থাকার পরিচয় দিয়ে আখতার বানু বলেন, তার স্কুলে শিক্ষার্থীর সঙ্কট নেই। তবে কিছু বাচ্চা নিয়মিত কিছু অনিয়মিত। এমপিও হয়েছে এখন মাটি ভরাট করে ভবন নির্মাণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ্ মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ভবন নেই শিক্ষার্থী নেই। প্রতিষ্ঠানটির যে অবস্থা এতে এমপিওভুক্ত হওয়ার মতো কোন পরিস্থিতিতে ছিল না। তবে তিন বছরের পরীক্ষার ফলাফল দেখিয়ে এমপিওভুক্ত হয়েছে।

image

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) : একই স্থানে বাকরের হাট নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বাকরের হাট ভোকেশনাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ম-লপাড়া মিশন ইবতেদায়ি মাদরাসার জরাজীর্ণ ঘর -সংবাদ

আরও খবর
লোডশেডিংয়ে ব্যাহত চা প্রক্রিয়াজাতকরণ লোকসানের আশঙ্কায় বাগান মালিক-ব্যবসায়ী
মাত্র ১৬০০ টাকায় মা-মেয়ের বেঁচে থাকার চেষ্টা
ভাই ভাতিজার নির্যাতনে হাসপাতালে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ
শহীদ স্মরণে মুক্তিযোদ্ধাদের পদযাত্রা

বুধবার, ২৭ জুলাই ২০২২ , ১২ শ্রাবণ ১৪২৯ ২৮ জিলহজ ১৪৪৩

উলিপুরে একই ব্যক্তি দুই বিদ্যালয়ের প্রধান

শিক্ষার্থীশূন্য কাগুজে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে জনমনে ক্ষোভ

প্রতিনিধি, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)

image

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) : একই স্থানে বাকরের হাট নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বাকরের হাট ভোকেশনাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ম-লপাড়া মিশন ইবতেদায়ি মাদরাসার জরাজীর্ণ ঘর -সংবাদ

কয়েক শতক নিচু জমির ওপর তিনটি ঘর দাঁড়িয়ে আছে। একটি ঘর ভাঙাচোরা আধাপাকা হলেও বাকি দুটি জরাজীর্ণ। একটির চাল আছে বেড়া নেই, অপরটিও ভঙ্গুর। কোন শিক্ষার্থী না থাকলেও কাগজে কলমে এখানে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সম্প্রতি একটি নিম্নœ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, উলিপুর পৌরসভার বাকরের হাট এলাকায় আখতার বানু নামে এক ব্যক্তি মন্ডলপাড়া মিশন এবতেদায়ি মাদরাসা, বাকরের হাট নিম্নœ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও বাকরের হাট ভোকেশনাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। তিনটি বিদ্যালয়ের দুটির প্রধান শিক্ষক আখতার বানু।

স্থানীয়দের দাবি, কাগজে কলমে এসব প্রতিষ্ঠান থাকলেও নেই কোন শিক্ষার্থী। এমনকি এখানে শিক্ষা কার্যক্রম চোখে পড়েনি তাদের। সম্প্রতি বাকরের হাট নিম্নœ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। আখতার বানু অসাধুপায় অবলম্বন করে কারসাজির মাধ্যমে বিদ্যালয়টি এমপিও তালিকাভুক্তি করেছেন বলেও জানান স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আগাছায় ভর্তি নিচু ছোট একটা মাঠ। এর ওপর দাঁড়িয়ে আছে জরাজীর্ণ পরিত্যাক্ত তিনটি টিনশেড ঘর। এসব ঘরে ১০-১১টি ভাঙাচোরা ব্রেঞ্চ রয়েছে। ঘরগুলো ময়লা স্যাঁতস্যাঁতে ও দুর্গন্তযুক্ত। ভাঙাচোরা একটি টয়লেট। দেখলেই মনে হবে বিগত কয়েক বছরেও মানবজাতির পায়ের ছোয়া পড়েনি। এমপিওভুক্ত হওয়ার পর দুজন পরিচ্ছন্ন কর্মী পরিষ্কার করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আর এসব কাজের তদারকি করছেন নিজেকে অফিস সহায়ক পরিচয় দেয়া মিনহাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।

এসময় মিনহাজুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তাদের বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেণীতে ৪১ জন, সপ্তমে ৩০ ও অষ্টমে ৪৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট(জেএসসিতে) ৪৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তবে ওই অফিস সহকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার খাতা ব্যতীত কিছুই দেখাতে পারেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বাজারের ওপাশে (প্রায় ৪০০ মিটার দূরত্ব) বাকরের হাট উচ্চ বিদ্যালয় ও বাকরের হাট ফাজিল মাদরাসা। শুনতেছি এখানেও নাকি স্কুল হয়েছে।

আসাদুজ্জামান নামে এক সহকারী শিক্ষক জানান, বাকরের হাট নিম্নœ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক ভোকেশনালের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন বড় বোন আখতার বানু। তবে এ ব্যাপারে রিপোর্ট না করতে অনুরোধ করেন তিনি।

নিজেকে একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে জড়িত থাকার পরিচয় দিয়ে আখতার বানু বলেন, তার স্কুলে শিক্ষার্থীর সঙ্কট নেই। তবে কিছু বাচ্চা নিয়মিত কিছু অনিয়মিত। এমপিও হয়েছে এখন মাটি ভরাট করে ভবন নির্মাণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ্ মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ভবন নেই শিক্ষার্থী নেই। প্রতিষ্ঠানটির যে অবস্থা এতে এমপিওভুক্ত হওয়ার মতো কোন পরিস্থিতিতে ছিল না। তবে তিন বছরের পরীক্ষার ফলাফল দেখিয়ে এমপিওভুক্ত হয়েছে।