নির্বাচন না থাকলে রাজনীতি উধাও হয়ে যাবে : সিইসি

নির্বাচন যদি না থাকে তাহলে রাজনীতিও থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তার মতে, রাজনীতির স্বার্থেই নির্বাচনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

গতকাল নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অষ্টম দিনে সিইসি এ মন্তব্য করেন। সকালে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ এবং দুপুরে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির সঙ্গে মতবিনিময় করেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা।

মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর নেতৃত্বে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল সংলাপে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে ১১ দফা প্রস্তাব পেশ করে। ‘অর্থ ও পেশিশক্তি’ ব্যবহারের কারণে ইসির ‘অসহায়ত্বের’ অতীত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে দলটি।

সিইসির ভাষায়, ‘এখানে অপসংস্কৃতি হয়ে গেছে, পয়সা ঢালছে, মস্তান ভাড়া করছে। একজন প্রফেশনাল কিলারকে হায়ার করতে খুব বেশি পয়সা লাগে না, আজকাল যেটা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘অর্থশক্তি, পেশিশক্তিকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সবাইকে সামাজিক আন্দোলন করতে হবে। মাঠে আপনাদের থাকতে হবে। আমাদের তথ্য দিলে আমরা আপনাদের সাহায্য করব।’

সিইসি আবারও দাবি করেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের দায় বর্তমান ইসির নয়। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সব দায়িত্ব তারা নেবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, এই প্রতিশ্রতির কিছু মূল্য থাকা তো উচিত। একেবারে যে আমরা ডিগবাজি খেয়ে যাব, তা তো না। সেটা হওয়ার কথা নয়।’

গোপনে টাকা দিয়ে ভোট কেনার যে অভিযোগ নির্বাচনের সময় আসে, তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হলেও এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে মনে করেন সিইসি। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও কিছু দায়িত্ব নেয়ার অনুরোধ করেন সিইসি।

দুপুরে বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়। সব কেন্দ্রে ইভিএম, সামরিক বাহিনীর অন্তত ৫ জন করে সদস্যকে কেন্দ্রে মোতায়েরসহ সাত দফা প্রস্তাব দলটি পেশ করে।

বৈঠকে সিইসি আশ্বস্ত করেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নেবেন। নির্বাচনকালীন ইসি আইন-বিধি বিধান অনুযায়ী চলবে। সরকারের সহযোগিতাও থাকবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে সিইসি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই চাপে রাখবেন। আমাদের সতর্কতা সজাগ থাকবে। আমাদের ওপর অনাস্থা থাকতেই পারে। সেই অনাস্থা আমাদেরই দূর করতে হবে কাজের মধ্য দিয়ে।’

বিকেলে চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালুর নেতৃত্বে এনপিপির একটি প্রতিনিধি দল ইসির সংলাপে অংশ নেয়। দলটির পক্ষ থেকে তফশিল ঘোষণার পর কোন রাজনৈতিক মামলা না দেয়া, প্রার্থী বা কর্মীদের অযথা হয়রানি না করাসহ ১৬ দফা সুপারিশ করা হয়।

নির্বাচনের সময় ‘রাজনীতির কারণে পুলিশি হয়রানি’ যাতে না হয় সে দিকে ইসি ‘লক্ষ্য রাখবে’ বলে কমিশন আশ্বস্ত করে সংলাপে।

গতকাল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকেও আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ইসি, তবে তাদের কোন প্রতিনিধি দল যায়নি।

ধারাবাহিক এ সংলাপে আজ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, জাকের পার্টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সঙ্গে বসবে কমিশন।

বুধবার, ২৭ জুলাই ২০২২ , ১২ শ্রাবণ ১৪২৯ ২৮ জিলহজ ১৪৪৩

নির্বাচন না থাকলে রাজনীতি উধাও হয়ে যাবে : সিইসি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

নির্বাচন যদি না থাকে তাহলে রাজনীতিও থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তার মতে, রাজনীতির স্বার্থেই নির্বাচনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

গতকাল নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অষ্টম দিনে সিইসি এ মন্তব্য করেন। সকালে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ এবং দুপুরে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির সঙ্গে মতবিনিময় করেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা।

মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর নেতৃত্বে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল সংলাপে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে ১১ দফা প্রস্তাব পেশ করে। ‘অর্থ ও পেশিশক্তি’ ব্যবহারের কারণে ইসির ‘অসহায়ত্বের’ অতীত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে দলটি।

সিইসির ভাষায়, ‘এখানে অপসংস্কৃতি হয়ে গেছে, পয়সা ঢালছে, মস্তান ভাড়া করছে। একজন প্রফেশনাল কিলারকে হায়ার করতে খুব বেশি পয়সা লাগে না, আজকাল যেটা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘অর্থশক্তি, পেশিশক্তিকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সবাইকে সামাজিক আন্দোলন করতে হবে। মাঠে আপনাদের থাকতে হবে। আমাদের তথ্য দিলে আমরা আপনাদের সাহায্য করব।’

সিইসি আবারও দাবি করেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের দায় বর্তমান ইসির নয়। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সব দায়িত্ব তারা নেবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, এই প্রতিশ্রতির কিছু মূল্য থাকা তো উচিত। একেবারে যে আমরা ডিগবাজি খেয়ে যাব, তা তো না। সেটা হওয়ার কথা নয়।’

গোপনে টাকা দিয়ে ভোট কেনার যে অভিযোগ নির্বাচনের সময় আসে, তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হলেও এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে মনে করেন সিইসি। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও কিছু দায়িত্ব নেয়ার অনুরোধ করেন সিইসি।

দুপুরে বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়। সব কেন্দ্রে ইভিএম, সামরিক বাহিনীর অন্তত ৫ জন করে সদস্যকে কেন্দ্রে মোতায়েরসহ সাত দফা প্রস্তাব দলটি পেশ করে।

বৈঠকে সিইসি আশ্বস্ত করেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নেবেন। নির্বাচনকালীন ইসি আইন-বিধি বিধান অনুযায়ী চলবে। সরকারের সহযোগিতাও থাকবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে সিইসি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই চাপে রাখবেন। আমাদের সতর্কতা সজাগ থাকবে। আমাদের ওপর অনাস্থা থাকতেই পারে। সেই অনাস্থা আমাদেরই দূর করতে হবে কাজের মধ্য দিয়ে।’

বিকেলে চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালুর নেতৃত্বে এনপিপির একটি প্রতিনিধি দল ইসির সংলাপে অংশ নেয়। দলটির পক্ষ থেকে তফশিল ঘোষণার পর কোন রাজনৈতিক মামলা না দেয়া, প্রার্থী বা কর্মীদের অযথা হয়রানি না করাসহ ১৬ দফা সুপারিশ করা হয়।

নির্বাচনের সময় ‘রাজনীতির কারণে পুলিশি হয়রানি’ যাতে না হয় সে দিকে ইসি ‘লক্ষ্য রাখবে’ বলে কমিশন আশ্বস্ত করে সংলাপে।

গতকাল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকেও আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ইসি, তবে তাদের কোন প্রতিনিধি দল যায়নি।

ধারাবাহিক এ সংলাপে আজ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, জাকের পার্টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সঙ্গে বসবে কমিশন।