নাসিকের মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘ইনসিনারেটর প্ল্যান্ট’

পরিবেশগত দিক বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সৌরশক্তি ও ডিজেলচালিত বিশেষ ‘ইনসিনারেটর প্ল্যান্ট’ স্থাপন করা হয়েছে। নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালকুড়িতে স্থাপিত এই প্ল্যান্টে দৈনিক দেড় টন মেডিকেল বর্জ্য পোড়ানো যাবে। তবে বিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগে কার্বন নিঃসরণ কম এবং সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুতের একটি অংশ জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গতকাল দুপুরে নগরভবনের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্মিত এই প্ল্যান্টের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। উদ্বোধনের পর প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে ‘বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এই প্ল্যান্ট স্থাপনে সহযোগিতা করেছে ওয়েস্ট কনসার্ন নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

নাসিকের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারসন ডিকসন, নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম, জেলা সিভিল সার্জন মুশিউর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন, নাসিকের নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম, ওয়েস্ট কনসার্নের পরিচালক ইফতেখার এনায়েতুল্লাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেননি।

ওয়েস্ট কনসার্নের পরিচালক ইফতেখার এনায়েতুল্লাহ জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলাতে ৫২১টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সদর উপজেলাতেই ১৯৭টি প্রতিষ্ঠান। দৈনিক এসব প্রতিষ্ঠানে প্রচুর পরিমাণে মেডিকেল বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। অন্য সাধারণ বর্জ্যরে মতো এগুলো ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব নয়। বিপজ্জনক এই মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ইনসিনারেটর প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। দৈনিক দেড় টন মেডিকেল বর্জ্য পোড়াতে সক্ষম এই প্ল্যান্টে ডিজেল ও সৌরশক্তি ব্যবহার করা হবে। প্ল্যান্টে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করা হবে। এর পরিমাণ বছরে অন্তত ১০ মেগাওয়াট হবে বলে জানান তিনি।

ইফতেখার বলেন, প্ল্যান্টে বর্জ্য পোড়ানোর পর ছাই সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে ব্যবহার করা হবে। পানিও পরিশোধন করে পুনর্ব্যবহার করা হবে। বায়ুম-লের ওপর যাতে কোন প্রভাব না পড়ে সেদিক বিবেচনায় রেখে এসব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে বায়ুম-লে কার্বন নিঃসরণও কম হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রবিবার, ৩১ জুলাই ২০২২ , ১৬ শ্রাবণ ১৪২৯ ১ মহররম ১৪৪৪

নাসিকের মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘ইনসিনারেটর প্ল্যান্ট’

প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

পরিবেশগত দিক বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সৌরশক্তি ও ডিজেলচালিত বিশেষ ‘ইনসিনারেটর প্ল্যান্ট’ স্থাপন করা হয়েছে। নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালকুড়িতে স্থাপিত এই প্ল্যান্টে দৈনিক দেড় টন মেডিকেল বর্জ্য পোড়ানো যাবে। তবে বিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগে কার্বন নিঃসরণ কম এবং সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুতের একটি অংশ জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গতকাল দুপুরে নগরভবনের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্মিত এই প্ল্যান্টের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। উদ্বোধনের পর প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে ‘বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এই প্ল্যান্ট স্থাপনে সহযোগিতা করেছে ওয়েস্ট কনসার্ন নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

নাসিকের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারসন ডিকসন, নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম, জেলা সিভিল সার্জন মুশিউর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন, নাসিকের নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম, ওয়েস্ট কনসার্নের পরিচালক ইফতেখার এনায়েতুল্লাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেননি।

ওয়েস্ট কনসার্নের পরিচালক ইফতেখার এনায়েতুল্লাহ জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলাতে ৫২১টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সদর উপজেলাতেই ১৯৭টি প্রতিষ্ঠান। দৈনিক এসব প্রতিষ্ঠানে প্রচুর পরিমাণে মেডিকেল বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। অন্য সাধারণ বর্জ্যরে মতো এগুলো ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব নয়। বিপজ্জনক এই মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ইনসিনারেটর প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। দৈনিক দেড় টন মেডিকেল বর্জ্য পোড়াতে সক্ষম এই প্ল্যান্টে ডিজেল ও সৌরশক্তি ব্যবহার করা হবে। প্ল্যান্টে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করা হবে। এর পরিমাণ বছরে অন্তত ১০ মেগাওয়াট হবে বলে জানান তিনি।

ইফতেখার বলেন, প্ল্যান্টে বর্জ্য পোড়ানোর পর ছাই সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে ব্যবহার করা হবে। পানিও পরিশোধন করে পুনর্ব্যবহার করা হবে। বায়ুম-লের ওপর যাতে কোন প্রভাব না পড়ে সেদিক বিবেচনায় রেখে এসব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে বায়ুম-লে কার্বন নিঃসরণও কম হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।