লিজ পুকুরে সেচপাম্পে পানি তুলে পাট জাগ!

খাল-বিল-মুক্ত জলাশয় জলশূন্য

কুষ্টিয়ার খোকসায় পুকুর লিজ নিয়ে সেচ মেশিন দিয়ে পানি উত্তোলন করে পাট জাগ দিচ্ছেন কৃষকরা। আবার কেউ কেউ পাট কেটে বাড়ির পাশেই ডোবা অথবা নালার পানিতে জাগ দেয়ার চেষ্টা করছেন।

শ্রাবণের মাঝামাঝিও কাক্সিক্ষত বৃষ্টি না হওয়ায় পাট চাষিরা যেমন বিপাকে পড়েছে তেমনি আমন ধান চাষিরা বীজতলা থেকে চারা রোপণ করতে পারছে না। জলবায়ু পরিবর্তন ও আবহার বিরূপ প্রতিকূলতায় কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার কৃষি ক্ষেত্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া আসবে বলে আশঙ্কা করছে উপজেলা কৃষি বিশেষজ্ঞরা। ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভর করে যেভাবে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে তাতে উপরিভাগের পানির হৃাসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় পানি বিশেষজ্ঞরা। একদিকে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে কৃষকের এখন নাভিশ্বাস হয়ে পড়েছে। অর্থকারী ফসল পাট উৎপাদনে ব্যয় বৃদ্ধি হওয়ায় এবার লাভের অংশ দেখছে না কৃষকরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৩শ হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে ৪৫.১০ হেক্টর। অর্থাৎ লক্ষমাত্রা থেকেও প্রায় সাড়ে ২.১০ শ হেক্টর জমিতে পাটের বেশি আবাদ করেছে স্থানীয় চাষীরা। উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মোট ২৮টি কৃষি ব্লকে এবার এই পাটের আবাদ হয়েছে। এবার উপজেলায় উন্নত জাতের তোষা পাট-৮ (রবি-১) বেশি চাষ হয়েছে। উপজেলার কৃষকেরা পাট জাগ দেওয়া নিয়ে পড়েছে বিপাকে। কেউ কেউ আবার পাট কেটে বাড়ির পাশেই ডোবা নালায় পানিতে পাট জাগ দেয়ার চেষ্টা করছে। অপরদিকে কেউ কেউ পুকুর লিজ নিয়ে সেচ মেশিনের পানি উত্তোলন করে সেখানে পাট জাগ দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

শিমুলিয়া ইউনিয়নের বশোয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই বলেন, চলতি মৌসুমে ৪০ শতক জমিতে পাট চাষ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, পাট কেটেছি কিন্তু জাগ দেওয়ার কোন জায়গা পাচ্ছি না। একই গ্রামের কৃষক শরাফ উদ্দিন বলেন, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। এবার মেশিন দিয়ে পানি তুলে পুকুর লিজ নিয়ে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে। উপজেলার জয়ন্তীহাজরা গ্রামের কৃষক রমজান আলী। এবার তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি বলেন, গত বছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় এবার বেশি করে পাট চাষ করেছি। তবে আশানুরূপ পানি না পাওয়ায় পাট জাগ দিতে পারছি না শেষ পর্যন্ত কি হবে জানিনা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সবুজ কুমার সাহা বলেন, আমরা কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ে দেখাশোনা করায় ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদিত পাট জাগ দেয়ার জন্য বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা বেশ বিপাকে রয়েছে। তবে পাটের ফলনের ঘাটতি হবে বলে ধারণা করছি। এদিকে ভাসমান বৃষ্টির পানি না থাকায় বদ্ধ পানিতে পাট জাগ দিয়ে পাটের আঁশ সংগ্রহ করে নিম্নমানের পাটের রং ধারণ করছে, যা কৃষক বিক্রয় করে প্রকৃত মূল্য পাবে না বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় কৃষকরা।

সোমবার, ০১ আগস্ট ২০২২ , ১৭ শ্রাবণ ১৪২৯ ২ মহররম ১৪৪৪

লিজ পুকুরে সেচপাম্পে পানি তুলে পাট জাগ!

খাল-বিল-মুক্ত জলাশয় জলশূন্য

প্রতিনিধি, খোকসা (কুষ্টিয়া)

image

খোকসা (কুষ্টিয়া) : পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পেরে মাঠে ফেলে রেখেছে কৃষকরা -সংবাদ

কুষ্টিয়ার খোকসায় পুকুর লিজ নিয়ে সেচ মেশিন দিয়ে পানি উত্তোলন করে পাট জাগ দিচ্ছেন কৃষকরা। আবার কেউ কেউ পাট কেটে বাড়ির পাশেই ডোবা অথবা নালার পানিতে জাগ দেয়ার চেষ্টা করছেন।

শ্রাবণের মাঝামাঝিও কাক্সিক্ষত বৃষ্টি না হওয়ায় পাট চাষিরা যেমন বিপাকে পড়েছে তেমনি আমন ধান চাষিরা বীজতলা থেকে চারা রোপণ করতে পারছে না। জলবায়ু পরিবর্তন ও আবহার বিরূপ প্রতিকূলতায় কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার কৃষি ক্ষেত্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া আসবে বলে আশঙ্কা করছে উপজেলা কৃষি বিশেষজ্ঞরা। ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভর করে যেভাবে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে তাতে উপরিভাগের পানির হৃাসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় পানি বিশেষজ্ঞরা। একদিকে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে কৃষকের এখন নাভিশ্বাস হয়ে পড়েছে। অর্থকারী ফসল পাট উৎপাদনে ব্যয় বৃদ্ধি হওয়ায় এবার লাভের অংশ দেখছে না কৃষকরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৩শ হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে ৪৫.১০ হেক্টর। অর্থাৎ লক্ষমাত্রা থেকেও প্রায় সাড়ে ২.১০ শ হেক্টর জমিতে পাটের বেশি আবাদ করেছে স্থানীয় চাষীরা। উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মোট ২৮টি কৃষি ব্লকে এবার এই পাটের আবাদ হয়েছে। এবার উপজেলায় উন্নত জাতের তোষা পাট-৮ (রবি-১) বেশি চাষ হয়েছে। উপজেলার কৃষকেরা পাট জাগ দেওয়া নিয়ে পড়েছে বিপাকে। কেউ কেউ আবার পাট কেটে বাড়ির পাশেই ডোবা নালায় পানিতে পাট জাগ দেয়ার চেষ্টা করছে। অপরদিকে কেউ কেউ পুকুর লিজ নিয়ে সেচ মেশিনের পানি উত্তোলন করে সেখানে পাট জাগ দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

শিমুলিয়া ইউনিয়নের বশোয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই বলেন, চলতি মৌসুমে ৪০ শতক জমিতে পাট চাষ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, পাট কেটেছি কিন্তু জাগ দেওয়ার কোন জায়গা পাচ্ছি না। একই গ্রামের কৃষক শরাফ উদ্দিন বলেন, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। এবার মেশিন দিয়ে পানি তুলে পুকুর লিজ নিয়ে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে। উপজেলার জয়ন্তীহাজরা গ্রামের কৃষক রমজান আলী। এবার তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি বলেন, গত বছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় এবার বেশি করে পাট চাষ করেছি। তবে আশানুরূপ পানি না পাওয়ায় পাট জাগ দিতে পারছি না শেষ পর্যন্ত কি হবে জানিনা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সবুজ কুমার সাহা বলেন, আমরা কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ে দেখাশোনা করায় ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদিত পাট জাগ দেয়ার জন্য বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা বেশ বিপাকে রয়েছে। তবে পাটের ফলনের ঘাটতি হবে বলে ধারণা করছি। এদিকে ভাসমান বৃষ্টির পানি না থাকায় বদ্ধ পানিতে পাট জাগ দিয়ে পাটের আঁশ সংগ্রহ করে নিম্নমানের পাটের রং ধারণ করছে, যা কৃষক বিক্রয় করে প্রকৃত মূল্য পাবে না বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় কৃষকরা।