হারারেতে তারুণ্যের আগমনী বার্তা

সহজ জয়ে সিরিজে ফিরলো বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ে সফরের তিন ম্যাচ টি-২০ সিরিজের জন্য তারুণ্য নির্ভর দল গড়েছিলেন বাংলাদেশের নির্বাচকরা। নেতৃত্বও তুলে দেয়া হয়েছিল নুরুল হাসান সোহানের কাঁধে। প্রথম ম্যাচে কিছুটা এলোমেল বোলিং আর ফিল্ডিংয়ের কারণে বাংলাদেশ দল হেরে গেলেও হারারে স্পোর্টস ক্লাবে গতকাল অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে শোনা গেছে তারুণ্যের আগমনী বার্তা। পঞ্চপান্ডব বিহীন বাংলাদেশ দলও যে বিদেশের মাটিতে জেতার ক্ষমতা রাখে এই জয়ে অন্তত সেই আত্মবিশ্বাসটা পাবে তারুণ্য নির্ভর দলটা। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ে দলের দাপটের বিপরীতে সিরিজে সমতা ফেরানো এই ম্যাচে সব ডিপার্টমেন্টেই ছিলো বাংলাদেশের দাপট।

বেশ কিছুদিন পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে মাত্র ২০ রানের বিনিময়ে পাঁচ উইকেট শিকারের মধ্য দিয়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংসটাকে ১৩৫ রানে আটকে দিয়েছেন। পরে লিটন কুমার দাসের হাফ সেঞ্চুরির সঙ্গে আফিফ হোসেন (অপরাজিত ৩০) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (অপরাজিত ১৯) কার্যকর ইনিংস খেললে ১৫ বল হাতে রেখেই সাত উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ দল। এই জয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে টাইগাররা।

বাংলাদেশের জয়ের লক্ষ্য ছিল মাত্র ১৩৬ রানের। ব্যাটারদের ওপর তেমন চাপ ছিল না। তারপরও সুবিধা করতে পারেননি ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার। আরও একবার ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তবে লিটন কুমার দাসের ব্যাটে ছোটোখাটো ঝড়ই দেখেছে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠ। লিটনের ঝড়ে ২৭ বলে ৩৭ রানের পার্টনারশিপ হয় প্রথম উইকেটে। কিন্তু আগের ম্যাচে ২ রান করা মুনিম ৭ বলে ৭ রান করেই বোল্ড হয়েছেন রিচার্ড এনগারাভার বলে। অর্থাৎ ৩৭ রানে প্রথম উইকেট হারানোর সময়টাতে বাকি ৩০টা রানই লিটনের।

বাংলাদেশ দলে ধারাবাহিকতার প্রতীক হয়ে ওঠা লিটন তার স্টাইলিশ ব্যাটিংয়ে মাত্র ৩০ বলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টি-২০ হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই। কিন্তু শন উইলিয়ামসকে সুইপ করতে গিয়ে ভুল করে লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হলে থেমে যায় লিটনের ৩৩ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় গড়া ৫৬ রানের ইনিংসটা।

এর তিন বল পর আরও একটি উইকেটের পতন ঘটে। এনামুল হক বিজয় ১৫ বলে ১৬ রানের ইনিংস খেলে সিকান্দার রাজার শিকারে পরিণত হন। মাসাকাদজার হাতে বিজয় ধরা পড়ার সময়ে ৮১ রানে ৩ ব্যাটারকে সাজঘরে পায় বাংলাদেশ।

এরপর আর দলকে কোন বিপদে পড়তে দেননি নাজমুল হোসেন শান্ত ও আফিফ হোসেন। চতুর্থ উইকেটে ৪৮ বলে ৫৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তারা। আফিফ ২৮ বলে ৩০ আর ২১ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন।

এর আগে টস জিতে জিম্বাবুইয়ানরা ব্যাটিংয়ে নামলে বাংলাদেশ পায় স্বপ্নের সূচনা। যা কিনা জিম্বাবুয়ের জন্য ছিলো ঘোর দুঃস্বপ্নের। স্বাগতিকদের প্রথম ৬ ব্যাটারের পাঁচজনকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠিয়ে রেকর্ড গড়েন অল রাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এরপর সিকান্দার রাজা আর রায়ান বার্লের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৫ রানের পুঁজি পায় জিম্বাবুয়ে।

তারুণ্যনির্ভর দলের নেতৃত্ব পাওয়া নুরুল হাসান সোহান বেশ চমক দেখিয়েই বোলিং উদ্বোধন করান পার্টটাইমার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে দিয়ে। প্রথম বলেই রেজিস চাকাভাকে (০) অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের ক্যাচ বানানোর পর শেষ বলে ওয়েসলি মাধভেরেকে (৪) শেখ মেহেদির হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে মোসাদ্দেক বড় ধাক্কা দেন স্বাগতিকদের ইনিংসে। এরপর নিজের স্পেলের পরের তিন ওভারেও তিনটি উইকেটের পতন ঘটান তিনি। দ্বিতীয় ওভারে মোসাদ্দেক তৃতীয় শিকার হিসাবে ফেরান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন (১) কে। স্বাগতিক দলের অধিনায়ক স্লিপে ধরা পড়েন লিটন দাসের হাতে। দলীয় ৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ততক্ষনে খাদের কিনারায় জিম্বাবুয়ে। মোসাদ্দেকের ধ্বংসজ্ঞের চতুর্থ শিকার শন উইলিয়ামস (৮) হন কট এন্ড বোল্ড। নিজের কোটার শেষ ওভার করতে এসে মোসাদ্দেক ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখান। তার পঞ্চম শিকার মিল্টন সিমবা (৩) স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মিডউইকেটে হাসান মাহমুদের অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন। মোসাদ্দেকের আগে টি-২০ ফরম্যাটে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ইলিয়াস সানি, সাকিব আল হাসান এবং মোস্তাফিজুর রহমান। এই পাঁচ উইকেট শিকারের পথে মোসাদ্দেক খরচ করেছেন মাত্র ২০ রান। বাংলাদেশের হয়ে কোন ডানহাতি অফ স্পিনারের এটাই সেরা বোলিং ফিগার। আবার ইনিংসের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকারি প্রথম বাংলাদেশী বোলার হিসাবেও নিজের নামটা রেকর্ড বইয়ে লিখিয়েছেন মোসাদ্দেক।

মাত্র ৩১ রানে ৫ উইকেট হারানো দলকে টেনে তোলেন আগের ম্যাচের নায়ক সিকান্দার রাজা এবং রায়ান বার্ল। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুজন গড়েন ৬৫ বলে ৮০ রানের জুটি। ক্যারিয়ারের পঞ্চম তথা চলতি সিরিজে টানা দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরিও তুলে নেন সিকান্দার রাজা। এই জুটির অবসান ঘটে হাসান মাহমুদের বলে ৩২ রান করা রায়ান বার্ল বোল্ড হলে। এরপর ৫৩ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৬২ রান করা সিকান্দার রাজা ফেরেন মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার হয়ে। রান-আউট হন ওয়েলিংটন মাসাকাদজা (৬)। লুক জঙ্গুই অপরাজিত থাকেন ১১ রানে।

সোমবার, ০১ আগস্ট ২০২২ , ১৭ শ্রাবণ ১৪২৯ ২ মহররম ১৪৪৪

হারারেতে তারুণ্যের আগমনী বার্তা

সহজ জয়ে সিরিজে ফিরলো বাংলাদেশ

ক্রীড়া বার্তা পরিবেশক

image

জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক আরভিনকে ফিরিয়ে মোসাদ্দেক সৈকতের উল্লাস

জিম্বাবুয়ে সফরের তিন ম্যাচ টি-২০ সিরিজের জন্য তারুণ্য নির্ভর দল গড়েছিলেন বাংলাদেশের নির্বাচকরা। নেতৃত্বও তুলে দেয়া হয়েছিল নুরুল হাসান সোহানের কাঁধে। প্রথম ম্যাচে কিছুটা এলোমেল বোলিং আর ফিল্ডিংয়ের কারণে বাংলাদেশ দল হেরে গেলেও হারারে স্পোর্টস ক্লাবে গতকাল অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে শোনা গেছে তারুণ্যের আগমনী বার্তা। পঞ্চপান্ডব বিহীন বাংলাদেশ দলও যে বিদেশের মাটিতে জেতার ক্ষমতা রাখে এই জয়ে অন্তত সেই আত্মবিশ্বাসটা পাবে তারুণ্য নির্ভর দলটা। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ে দলের দাপটের বিপরীতে সিরিজে সমতা ফেরানো এই ম্যাচে সব ডিপার্টমেন্টেই ছিলো বাংলাদেশের দাপট।

বেশ কিছুদিন পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে মাত্র ২০ রানের বিনিময়ে পাঁচ উইকেট শিকারের মধ্য দিয়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংসটাকে ১৩৫ রানে আটকে দিয়েছেন। পরে লিটন কুমার দাসের হাফ সেঞ্চুরির সঙ্গে আফিফ হোসেন (অপরাজিত ৩০) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (অপরাজিত ১৯) কার্যকর ইনিংস খেললে ১৫ বল হাতে রেখেই সাত উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ দল। এই জয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে টাইগাররা।

বাংলাদেশের জয়ের লক্ষ্য ছিল মাত্র ১৩৬ রানের। ব্যাটারদের ওপর তেমন চাপ ছিল না। তারপরও সুবিধা করতে পারেননি ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার। আরও একবার ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তবে লিটন কুমার দাসের ব্যাটে ছোটোখাটো ঝড়ই দেখেছে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠ। লিটনের ঝড়ে ২৭ বলে ৩৭ রানের পার্টনারশিপ হয় প্রথম উইকেটে। কিন্তু আগের ম্যাচে ২ রান করা মুনিম ৭ বলে ৭ রান করেই বোল্ড হয়েছেন রিচার্ড এনগারাভার বলে। অর্থাৎ ৩৭ রানে প্রথম উইকেট হারানোর সময়টাতে বাকি ৩০টা রানই লিটনের।

বাংলাদেশ দলে ধারাবাহিকতার প্রতীক হয়ে ওঠা লিটন তার স্টাইলিশ ব্যাটিংয়ে মাত্র ৩০ বলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টি-২০ হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই। কিন্তু শন উইলিয়ামসকে সুইপ করতে গিয়ে ভুল করে লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হলে থেমে যায় লিটনের ৩৩ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় গড়া ৫৬ রানের ইনিংসটা।

এর তিন বল পর আরও একটি উইকেটের পতন ঘটে। এনামুল হক বিজয় ১৫ বলে ১৬ রানের ইনিংস খেলে সিকান্দার রাজার শিকারে পরিণত হন। মাসাকাদজার হাতে বিজয় ধরা পড়ার সময়ে ৮১ রানে ৩ ব্যাটারকে সাজঘরে পায় বাংলাদেশ।

এরপর আর দলকে কোন বিপদে পড়তে দেননি নাজমুল হোসেন শান্ত ও আফিফ হোসেন। চতুর্থ উইকেটে ৪৮ বলে ৫৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তারা। আফিফ ২৮ বলে ৩০ আর ২১ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন।

এর আগে টস জিতে জিম্বাবুইয়ানরা ব্যাটিংয়ে নামলে বাংলাদেশ পায় স্বপ্নের সূচনা। যা কিনা জিম্বাবুয়ের জন্য ছিলো ঘোর দুঃস্বপ্নের। স্বাগতিকদের প্রথম ৬ ব্যাটারের পাঁচজনকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠিয়ে রেকর্ড গড়েন অল রাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এরপর সিকান্দার রাজা আর রায়ান বার্লের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৫ রানের পুঁজি পায় জিম্বাবুয়ে।

তারুণ্যনির্ভর দলের নেতৃত্ব পাওয়া নুরুল হাসান সোহান বেশ চমক দেখিয়েই বোলিং উদ্বোধন করান পার্টটাইমার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে দিয়ে। প্রথম বলেই রেজিস চাকাভাকে (০) অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের ক্যাচ বানানোর পর শেষ বলে ওয়েসলি মাধভেরেকে (৪) শেখ মেহেদির হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে মোসাদ্দেক বড় ধাক্কা দেন স্বাগতিকদের ইনিংসে। এরপর নিজের স্পেলের পরের তিন ওভারেও তিনটি উইকেটের পতন ঘটান তিনি। দ্বিতীয় ওভারে মোসাদ্দেক তৃতীয় শিকার হিসাবে ফেরান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন (১) কে। স্বাগতিক দলের অধিনায়ক স্লিপে ধরা পড়েন লিটন দাসের হাতে। দলীয় ৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ততক্ষনে খাদের কিনারায় জিম্বাবুয়ে। মোসাদ্দেকের ধ্বংসজ্ঞের চতুর্থ শিকার শন উইলিয়ামস (৮) হন কট এন্ড বোল্ড। নিজের কোটার শেষ ওভার করতে এসে মোসাদ্দেক ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখান। তার পঞ্চম শিকার মিল্টন সিমবা (৩) স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মিডউইকেটে হাসান মাহমুদের অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন। মোসাদ্দেকের আগে টি-২০ ফরম্যাটে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ইলিয়াস সানি, সাকিব আল হাসান এবং মোস্তাফিজুর রহমান। এই পাঁচ উইকেট শিকারের পথে মোসাদ্দেক খরচ করেছেন মাত্র ২০ রান। বাংলাদেশের হয়ে কোন ডানহাতি অফ স্পিনারের এটাই সেরা বোলিং ফিগার। আবার ইনিংসের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকারি প্রথম বাংলাদেশী বোলার হিসাবেও নিজের নামটা রেকর্ড বইয়ে লিখিয়েছেন মোসাদ্দেক।

মাত্র ৩১ রানে ৫ উইকেট হারানো দলকে টেনে তোলেন আগের ম্যাচের নায়ক সিকান্দার রাজা এবং রায়ান বার্ল। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুজন গড়েন ৬৫ বলে ৮০ রানের জুটি। ক্যারিয়ারের পঞ্চম তথা চলতি সিরিজে টানা দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরিও তুলে নেন সিকান্দার রাজা। এই জুটির অবসান ঘটে হাসান মাহমুদের বলে ৩২ রান করা রায়ান বার্ল বোল্ড হলে। এরপর ৫৩ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৬২ রান করা সিকান্দার রাজা ফেরেন মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার হয়ে। রান-আউট হন ওয়েলিংটন মাসাকাদজা (৬)। লুক জঙ্গুই অপরাজিত থাকেন ১১ রানে।