এসআইর বিরুদ্ধে দুই নারীর যত অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানায় কর্মরত এসআই আল-মামুনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের বরাবরে পৃৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেছে ২ নারী। এদের মধ্যে রোজিনা বেগম নামের নারী তার কাছ হতে চেক আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত শনিবার অভিযোগ দায়ের করেন। অপর এক নারী তার পরবিারকে দেহ ব্যবসায়ী বলে অপবাদ, গালিগালাজ ও তার পরিবারকে মিথ্যা হয়রানির অভিযোগে এনে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্ত এস আই মামুন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

উপজেলার নিতিরা গ্রামের হোসেন দপ্তরির মেয়ে রুজিনা বেগমের অভিযোগ ও তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার চানপাড়া গ্রামের গিয়াসউদ্দিন ঠাকুরের ছেলে সাহা উদ্দিন ঠাকুর তাহার ভাইকে বাড়ি নির্মাণের পাথর দেয়ার কথা বলে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আতœসাত করে। এ বিষয়ে তিনি গত ১০ জুলাই ২২ইং তারিখে মুন্সীগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সি.আর মামলা দায়ের করেন।

এই মামলার তদন্তভার টঙ্গীবাড়ি থানার এসআই আল মামুনের ওপর ন্যাস্ত হয়। এসআই আল মামুন তদন্তের জন্য ১২ জুলাই ২২ইং তারিখ ওই নারীর বাড়িতে যান। পরে মামলার তদন্ত কাজ শেষে ওই নারীকে প্রতারক সাহা উদ্দিন ঠাকুরের দেওয়া ব্র্যাক ব্যাংকের এক লাখ টাকার একটি চেক প্রতারণার মাধ্যমে পরবর্তীতে দিয়ে দেয়ার কথা বলে নিয়ে আসে এসআই আল মামুন। পরে একাধিকবার উক্ত চেকটি ওই নারী ও তার ভাই মাওলানা ওদুদ হোসেন এসআই আল-মামুন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেরত চাইলেও সে ফেরত দিচ্ছে না। বিভিন্ন তালবাহানা করছে এসআই মামুন।

অপর অভিযোগকারী উপজেলার বালিগাঁও গ্রামের সোনিয়া আক্তার বলেন, আমার ছোট ভাই সিপন বেপারীর স্ত্রী তানিয়া বিগম গত ২৭ মে বুধবার সন্ধ্যার দিকে তার কোলের শিশু তাসফিয়া জাহানকে ( ১ মাস) নিয়ে তার ঘরের খাটের ওপর বসেছিল। এ সময় আমাদের বাড়ির পাশের প্রতিবেশী কাওছার সরদার (১৯) আমার ভাইয়ের ঘরে ঢুকে তাহার স্ত্রী তানিয়া বেগমকে (২০) ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় আমার ভাইয়ের বৌ তানিয়া বেগম চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসিলে এনিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে কাউছার সরদার (১৯) তার বোন ফাহিমা বেগম (২১) এবং মা বিলকিছ বেগম (৪৫) আমার ভাইয়ের বৌ তানিয়া বেগমকে কিল, ঘুষি লাথি মেরে সমস্ত শরীরে নীলাফুলা জখম করে এবং আমার ভাইয়ের ১ মাস বয়সি মেয়ে তাসফিয়া জাহানকে কোল হতে নিয়া ফেলে দেয়। উক্ত বিষয় নিয়ে আমার ভাই শিপন বেপারী বাদী হয়ে টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে গত বৃহস্পতিবার দুপুর অনুমান দেড়টার দিকে টঙ্গীবাড়ী থানায় কর্মরত এসআই মামুন আমাদের বাড়িতে যায়। বাড়িতে যাওয়ার পরে আমাকে অশালীন ভাষায় এসআই মামুন গালিগালাজ করে আর বলে আমার পরিবাররের সবাই খারাপ আমার পরিবাররের সবাই দেহ ব্যবসা করে। এ সময় আমি প্রতবিাদ করলে এসআই মামুন আমার ভাইয়ের দায়ের করা অভিযোগে বিবাদীদের ডেকে বলে তোমরা আদালতে এদের বিরুদ্ধে মামলা দাও আমি ওদের সব ধরে নিয়ে যাব।

এছাড়া আমার নানি নীলুফা বেগমকে এস আই মামুন বলে তোকে হেন্ডকাফ পরাইয়া থানায় নিয়ে যাব। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে এসআই মামুন আমাদের বাড়িতে গিয়ে আমার ছোট ভাই শিপন বেপারী ও রিফাতকে দৌড়াইয়া বাড়ি থেকে তাড়াইয়া দেয়। আমি ও আমার পরিবার এস আই মামুন এর ভয়ে বাড়ি হতে পালাইয়া বেরাইতাছি। এ ব্যাপারে আমি পুলিশ সুপারের বরাবরে অভিযোগ দায়ের করছি তারা বলছে অন্য এক পুলিশ দিয়ে তদন্ত করে বিষয়টি দেখবে।

ভুক্তভোগী তানিয়া বেগম বলেন, আমার প্রতিবেশী আমার ঘরে গিয়ে আমাকে নির্যাতন করে। আমার একমাস বয়সী মেয়েকে আমার কোল হতে টেনে ফেলে দেয়। আমার মেয়ের শরীরে এখনও ব্যাথায় জ¦র এসে পড়েছে। আমরা থানায় মামলা করলে পুলিশ আমাদের উল্টো গালিগালাজ করে। এ সকল অভিযোগ এছাড়াও মামুনের বিরুদ্ধে মামলা তদন্তের নামে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। এক অডিও রেকডিংয়ে শুনা যায় এসআই আল মামুন বলেন, আমি অনেকবার এই জেলায় শ্রেষ্ঠ পুলিশ হইছি আমাকে পুলিশ সুপার চেনে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এসআই মামুন রোজিনার কাছ হতে চেক নেয়ার বিষয়ে বলেন, আমি চেক নিয়ে আদালতে প্রেরণ করেছি। আপনি তার চেক তার সম্মতিতে নিয়েছেন কি না এবং আদালত কি আপনাকে চেক উদ্ধার করতে বলছে কি না এমন পশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

আপর অভিযোগকারী সোনিয়া আক্তারের অভিযোগের বিষয়ে এসআই মামুন বলেন, আমি কাউকে দেহ ব্যবসায়ী বলে গালিগালাজ করিনি। সমুদয় বিষয়টি অস্কীকার করেন তিনি।

মঙ্গলবার, ০২ আগস্ট ২০২২ , ১৮ শ্রাবণ ১৪২৯ ৩ মহররম ১৪৪৪

এসআইর বিরুদ্ধে দুই নারীর যত অভিযোগ

প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানায় কর্মরত এসআই আল-মামুনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের বরাবরে পৃৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেছে ২ নারী। এদের মধ্যে রোজিনা বেগম নামের নারী তার কাছ হতে চেক আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত শনিবার অভিযোগ দায়ের করেন। অপর এক নারী তার পরবিারকে দেহ ব্যবসায়ী বলে অপবাদ, গালিগালাজ ও তার পরিবারকে মিথ্যা হয়রানির অভিযোগে এনে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্ত এস আই মামুন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

উপজেলার নিতিরা গ্রামের হোসেন দপ্তরির মেয়ে রুজিনা বেগমের অভিযোগ ও তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার চানপাড়া গ্রামের গিয়াসউদ্দিন ঠাকুরের ছেলে সাহা উদ্দিন ঠাকুর তাহার ভাইকে বাড়ি নির্মাণের পাথর দেয়ার কথা বলে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আতœসাত করে। এ বিষয়ে তিনি গত ১০ জুলাই ২২ইং তারিখে মুন্সীগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সি.আর মামলা দায়ের করেন।

এই মামলার তদন্তভার টঙ্গীবাড়ি থানার এসআই আল মামুনের ওপর ন্যাস্ত হয়। এসআই আল মামুন তদন্তের জন্য ১২ জুলাই ২২ইং তারিখ ওই নারীর বাড়িতে যান। পরে মামলার তদন্ত কাজ শেষে ওই নারীকে প্রতারক সাহা উদ্দিন ঠাকুরের দেওয়া ব্র্যাক ব্যাংকের এক লাখ টাকার একটি চেক প্রতারণার মাধ্যমে পরবর্তীতে দিয়ে দেয়ার কথা বলে নিয়ে আসে এসআই আল মামুন। পরে একাধিকবার উক্ত চেকটি ওই নারী ও তার ভাই মাওলানা ওদুদ হোসেন এসআই আল-মামুন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেরত চাইলেও সে ফেরত দিচ্ছে না। বিভিন্ন তালবাহানা করছে এসআই মামুন।

অপর অভিযোগকারী উপজেলার বালিগাঁও গ্রামের সোনিয়া আক্তার বলেন, আমার ছোট ভাই সিপন বেপারীর স্ত্রী তানিয়া বিগম গত ২৭ মে বুধবার সন্ধ্যার দিকে তার কোলের শিশু তাসফিয়া জাহানকে ( ১ মাস) নিয়ে তার ঘরের খাটের ওপর বসেছিল। এ সময় আমাদের বাড়ির পাশের প্রতিবেশী কাওছার সরদার (১৯) আমার ভাইয়ের ঘরে ঢুকে তাহার স্ত্রী তানিয়া বেগমকে (২০) ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় আমার ভাইয়ের বৌ তানিয়া বেগম চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসিলে এনিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে কাউছার সরদার (১৯) তার বোন ফাহিমা বেগম (২১) এবং মা বিলকিছ বেগম (৪৫) আমার ভাইয়ের বৌ তানিয়া বেগমকে কিল, ঘুষি লাথি মেরে সমস্ত শরীরে নীলাফুলা জখম করে এবং আমার ভাইয়ের ১ মাস বয়সি মেয়ে তাসফিয়া জাহানকে কোল হতে নিয়া ফেলে দেয়। উক্ত বিষয় নিয়ে আমার ভাই শিপন বেপারী বাদী হয়ে টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে গত বৃহস্পতিবার দুপুর অনুমান দেড়টার দিকে টঙ্গীবাড়ী থানায় কর্মরত এসআই মামুন আমাদের বাড়িতে যায়। বাড়িতে যাওয়ার পরে আমাকে অশালীন ভাষায় এসআই মামুন গালিগালাজ করে আর বলে আমার পরিবাররের সবাই খারাপ আমার পরিবাররের সবাই দেহ ব্যবসা করে। এ সময় আমি প্রতবিাদ করলে এসআই মামুন আমার ভাইয়ের দায়ের করা অভিযোগে বিবাদীদের ডেকে বলে তোমরা আদালতে এদের বিরুদ্ধে মামলা দাও আমি ওদের সব ধরে নিয়ে যাব।

এছাড়া আমার নানি নীলুফা বেগমকে এস আই মামুন বলে তোকে হেন্ডকাফ পরাইয়া থানায় নিয়ে যাব। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে এসআই মামুন আমাদের বাড়িতে গিয়ে আমার ছোট ভাই শিপন বেপারী ও রিফাতকে দৌড়াইয়া বাড়ি থেকে তাড়াইয়া দেয়। আমি ও আমার পরিবার এস আই মামুন এর ভয়ে বাড়ি হতে পালাইয়া বেরাইতাছি। এ ব্যাপারে আমি পুলিশ সুপারের বরাবরে অভিযোগ দায়ের করছি তারা বলছে অন্য এক পুলিশ দিয়ে তদন্ত করে বিষয়টি দেখবে।

ভুক্তভোগী তানিয়া বেগম বলেন, আমার প্রতিবেশী আমার ঘরে গিয়ে আমাকে নির্যাতন করে। আমার একমাস বয়সী মেয়েকে আমার কোল হতে টেনে ফেলে দেয়। আমার মেয়ের শরীরে এখনও ব্যাথায় জ¦র এসে পড়েছে। আমরা থানায় মামলা করলে পুলিশ আমাদের উল্টো গালিগালাজ করে। এ সকল অভিযোগ এছাড়াও মামুনের বিরুদ্ধে মামলা তদন্তের নামে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। এক অডিও রেকডিংয়ে শুনা যায় এসআই আল মামুন বলেন, আমি অনেকবার এই জেলায় শ্রেষ্ঠ পুলিশ হইছি আমাকে পুলিশ সুপার চেনে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এসআই মামুন রোজিনার কাছ হতে চেক নেয়ার বিষয়ে বলেন, আমি চেক নিয়ে আদালতে প্রেরণ করেছি। আপনি তার চেক তার সম্মতিতে নিয়েছেন কি না এবং আদালত কি আপনাকে চেক উদ্ধার করতে বলছে কি না এমন পশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

আপর অভিযোগকারী সোনিয়া আক্তারের অভিযোগের বিষয়ে এসআই মামুন বলেন, আমি কাউকে দেহ ব্যবসায়ী বলে গালিগালাজ করিনি। সমুদয় বিষয়টি অস্কীকার করেন তিনি।