শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সেতুবন্ধন

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। মেরুদণ্ডহীন কোন প্রাণী যেমন শিড় দাঁড়া উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। শিক্ষা ছাড়াও কোন জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। আর এই শিক্ষা দেয়ার মহান ব্রতে যিনি নিয়োজিত থাকেন তিনিই শিক্ষক। শিক্ষকরা জ্ঞানের আলো দ্বারা যুগের সব অন্ধকার দূর করে মানুষের জন্য সভ্য পৃথিবী সৃজন করেন। মানুষের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও নৈতিক বিকাশ অব্যাহত রাখতে সমাজে শিক্ষকের গুরুত্ব অপরিসীম।

সঠিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিক্ষকরা মানুষের ভেতর সত্যিকারের মানুষ সৃজন করেন। তাই শিক্ষককে বলা হয় সন্তানের দ্বিতীয় জন্মদাতা। সত্যি তো, জন্মদাতা পিতা শুধু জন্ম দিয়েই থাকেন; কিন্তু তাকে সত্যিকার মানুষরূপে গড়ে তোলেন তার শিক্ষক। শিক্ষকদের মর্যাদা জাতিসংঘের শিক্ষাবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও সনদেও স্বীকৃত।

শিক্ষক জাতির জন্য আলোর দিশারী। জ্ঞানের আলো বিতরণ করে শিক্ষার্থীদের আলোকিত করে। ভুল পথে গমন করা কিংবা পথ হারা শিক্ষার্থীদের সঠিক পথের সন্ধান দেখান একজন শিক্ষক। আঁধারে ডুবে থাকা বা আলোর সঙ্গে আড়ি দেওয়া শিক্ষার্থীকে আলোর মাঝে ফিরিয় আনেন শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক আত্মত্যাগের গল্প লুকিয়ে থাকে একজন শিক্ষকের। একজন শিক্ষার্থীকে হাতে ধরে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে শিক্ষক। সকল আদব, কাযদা, আচার, আচরণ শিক্ষকের কল্যাণে একজন শিক্ষার্থী সুচারুভাবে রপ্ত করতে পারে।

শিক্ষক অসম্ভব সুন্দর গুণ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীরা বার বার ভুল করে, পরবর্তীতে আবার ভুল করবে জেনেও ক্ষমা চাওয়া মাত্রই ক্ষমা করে দেন। এখানেই একজন শিক্ষকের মহত্ত্ব ফুটে উঠে। সেই শিক্ষকের সঙ্গে কখনো শিক্ষার্থীর সম্পর্ক হতে পারে না সাংঘর্ষিক।

সম্প্রতি শিক্ষক শিক্ষার্থীর কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা আমাদের হৃদয়ে নাড়া দিযেছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে শত শত পুলিশ ও মানুষের মধ্য দিয়ে এক লোক হেঁটে আসছেন তার গলায় জুতার মালা আর হাত দুটি ক্ষমা প্রার্থনার মতো করে উত্তোলিত। নড়াইলে এক কলেজ অধ্যক্ষকে পুলিশের সামনে গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনায় সারা দেশের মানুষের মনে যখন ক্ষোভ চলছে, লজ্জায় আর অপমানে যখন প্রতিটি বিবেকমান মানুষ ক্ষতবিক্ষত হচ্ছিল তখনই জানা গেল আরেক শিক্ষককে পিটিয়ে মেরেছে তারই ছাত্র। ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে এক সংসদ সদস্য কান ধরে ওঠবস করান। সেই ঘটনায় সংসদ সদস্যের তেমন কোন বিচার হয়নি। শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শিক্ষকের সঙ্গে এমন ঘটনা কভু শোভা পায় না। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না যেন অদূর ভবিষ্যতেও না হয় সেটাই প্রত্যাশা।

জুবায়েদ মোস্তফা

আরও খবর

মঙ্গলবার, ০২ আগস্ট ২০২২ , ১৮ শ্রাবণ ১৪২৯ ৩ মহররম ১৪৪৪

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সেতুবন্ধন

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। মেরুদণ্ডহীন কোন প্রাণী যেমন শিড় দাঁড়া উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। শিক্ষা ছাড়াও কোন জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। আর এই শিক্ষা দেয়ার মহান ব্রতে যিনি নিয়োজিত থাকেন তিনিই শিক্ষক। শিক্ষকরা জ্ঞানের আলো দ্বারা যুগের সব অন্ধকার দূর করে মানুষের জন্য সভ্য পৃথিবী সৃজন করেন। মানুষের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও নৈতিক বিকাশ অব্যাহত রাখতে সমাজে শিক্ষকের গুরুত্ব অপরিসীম।

সঠিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিক্ষকরা মানুষের ভেতর সত্যিকারের মানুষ সৃজন করেন। তাই শিক্ষককে বলা হয় সন্তানের দ্বিতীয় জন্মদাতা। সত্যি তো, জন্মদাতা পিতা শুধু জন্ম দিয়েই থাকেন; কিন্তু তাকে সত্যিকার মানুষরূপে গড়ে তোলেন তার শিক্ষক। শিক্ষকদের মর্যাদা জাতিসংঘের শিক্ষাবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও সনদেও স্বীকৃত।

শিক্ষক জাতির জন্য আলোর দিশারী। জ্ঞানের আলো বিতরণ করে শিক্ষার্থীদের আলোকিত করে। ভুল পথে গমন করা কিংবা পথ হারা শিক্ষার্থীদের সঠিক পথের সন্ধান দেখান একজন শিক্ষক। আঁধারে ডুবে থাকা বা আলোর সঙ্গে আড়ি দেওয়া শিক্ষার্থীকে আলোর মাঝে ফিরিয় আনেন শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক আত্মত্যাগের গল্প লুকিয়ে থাকে একজন শিক্ষকের। একজন শিক্ষার্থীকে হাতে ধরে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে শিক্ষক। সকল আদব, কাযদা, আচার, আচরণ শিক্ষকের কল্যাণে একজন শিক্ষার্থী সুচারুভাবে রপ্ত করতে পারে।

শিক্ষক অসম্ভব সুন্দর গুণ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীরা বার বার ভুল করে, পরবর্তীতে আবার ভুল করবে জেনেও ক্ষমা চাওয়া মাত্রই ক্ষমা করে দেন। এখানেই একজন শিক্ষকের মহত্ত্ব ফুটে উঠে। সেই শিক্ষকের সঙ্গে কখনো শিক্ষার্থীর সম্পর্ক হতে পারে না সাংঘর্ষিক।

সম্প্রতি শিক্ষক শিক্ষার্থীর কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা আমাদের হৃদয়ে নাড়া দিযেছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে শত শত পুলিশ ও মানুষের মধ্য দিয়ে এক লোক হেঁটে আসছেন তার গলায় জুতার মালা আর হাত দুটি ক্ষমা প্রার্থনার মতো করে উত্তোলিত। নড়াইলে এক কলেজ অধ্যক্ষকে পুলিশের সামনে গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনায় সারা দেশের মানুষের মনে যখন ক্ষোভ চলছে, লজ্জায় আর অপমানে যখন প্রতিটি বিবেকমান মানুষ ক্ষতবিক্ষত হচ্ছিল তখনই জানা গেল আরেক শিক্ষককে পিটিয়ে মেরেছে তারই ছাত্র। ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে এক সংসদ সদস্য কান ধরে ওঠবস করান। সেই ঘটনায় সংসদ সদস্যের তেমন কোন বিচার হয়নি। শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শিক্ষকের সঙ্গে এমন ঘটনা কভু শোভা পায় না। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না যেন অদূর ভবিষ্যতেও না হয় সেটাই প্রত্যাশা।

জুবায়েদ মোস্তফা