অপ্রতিরোধ্য কিশোর গ্যাং কুম্ভকর্ণের ঘুমে প্রশাসন!

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতর-বাহির এবং পৌরশহরের অলি-গলিতে কিশোর গ্যাংয়ের রাজত্ব চলছে। আর এই বেপরোয়া কিশোরদের প্রতিনিধিত্ব করছে কয়েকটি কিশোর দল। অপরিণত বয়সেই তারা হাতে তুলে নিয়েছে লোহার রড, পকেটে রাখছে ধারালো ছুরি ও সাইকেলের চেইনসহ নানান ধাতব অস্ত্র। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নানা অপরাধমূলক কর্মকা-ে কিশোররা ব্যবহৃত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অপরাধের ধরণও পাল্টে যাচ্ছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই থেকে শুরু করে খুনাখুনিসহ নানা অপরাধে কিশোর-তরুণরা জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসা ও দখলবাজিতেও তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। সুযোগ পেলেই মাদকের আড্ডা জমিয়ে তুলছে যেখানে - সেখানে।

স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের ইভটিজিং আর ছেলেদের মারপিট করাসহ ছোটখাটো ছিনতাই করা এখন তাদের নিত্যদিনের কাজ। এদের অধিকাংশই পড়ালেখা করে না আর কিছু অংশ সামান্য পড়াশোনা করেও বাউন্ডুলে জীবন যাপন করছে। কিছু হলেই লাঠিসোঁটা, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাজির হয় মারপিটে। প্রতিনিয়তই ঘটছে পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এমন মারপিটের ঘটনা, মানে না সিনিয়র-জুনিয়র। নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক চুনারুঘাট পৌরশহরে আগত ও ব্যবসায়ীরা বলেন, চুনারুঘাট পৌরশহরের মধ্য বাজারের গোল চত্বরসহ শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অলি-গলিতে কিশোরের গ্যাংয়ের বিছরণ দেখা যায়। তাদের নেতৃত্বে প্রায়ই গ্রুপিং, মারপিটসহ বিভিন্ন অপরাধে দেখা যায়।

এসব কিশোর গ্যাং এতই বেপরোয়া যে বাজারের ব্যবসায়ীসহ আগত মানুষজন এদের ধমক দিতে চিন্তা করে এবং ভয় পায়। হাতের কাছে যা পায় তা দিয়েই এরা প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এই ব্যাপারে তাদের অভিভাবকরা বেশ উদাসীন, আবার অনেকেই পরিবারের অবাধ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্রেণীভিত্তিক এসব কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে থাকে একজন। তাকে ঘিরেই গড়ে উঠে কিশোর গ্যাং। এসব কিশোর গ্যাং ছাত্র এবং বখাটেদের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিচালিত। একই বিদ্যালয়ে একাধিক গ্যাং থাকায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোন একটি গ্যাংয়ের সাথে যোগ দিতে হয় সাধারণ ছাত্রদের। না হলে তার ওপর নেমে আসে অমানসিক নির্যাতন। স্কুল শেষে হাটবাজারে এরা দাপিয়ে বেড়ায়। এক পক্ষ আরেক পক্ষের সাথে লড়াই করে। সচেতনমহল চুনারুঘাটে শিক্ষার পরিবেশ এবং সামজিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এখনই এসব কিশোর গ্যাং ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার (ওসি) মো. আলী আশরাফ বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্সে। সম্প্রতি পুলিশের পক্ষ থেকে অনেক কাজ করা হচ্ছে, রাত ১০টার পর পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে কিশোররা অযথা ঘুরাঘুরি করলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিয়ে আসা হচ্ছে । সেই সাথে হুঁশিয়ারি করে দেয়া হচ্ছে।

চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মহসিন আল মুরাদ বলেন, যখন-যেখানে কিশোর গ্যাং সক্রিয় থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

বুধবার, ০৩ আগস্ট ২০২২

অপ্রতিরোধ্য কিশোর গ্যাং কুম্ভকর্ণের ঘুমে প্রশাসন!

প্রতিনিধি, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতর-বাহির এবং পৌরশহরের অলি-গলিতে কিশোর গ্যাংয়ের রাজত্ব চলছে। আর এই বেপরোয়া কিশোরদের প্রতিনিধিত্ব করছে কয়েকটি কিশোর দল। অপরিণত বয়সেই তারা হাতে তুলে নিয়েছে লোহার রড, পকেটে রাখছে ধারালো ছুরি ও সাইকেলের চেইনসহ নানান ধাতব অস্ত্র। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নানা অপরাধমূলক কর্মকা-ে কিশোররা ব্যবহৃত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অপরাধের ধরণও পাল্টে যাচ্ছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই থেকে শুরু করে খুনাখুনিসহ নানা অপরাধে কিশোর-তরুণরা জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসা ও দখলবাজিতেও তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। সুযোগ পেলেই মাদকের আড্ডা জমিয়ে তুলছে যেখানে - সেখানে।

স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের ইভটিজিং আর ছেলেদের মারপিট করাসহ ছোটখাটো ছিনতাই করা এখন তাদের নিত্যদিনের কাজ। এদের অধিকাংশই পড়ালেখা করে না আর কিছু অংশ সামান্য পড়াশোনা করেও বাউন্ডুলে জীবন যাপন করছে। কিছু হলেই লাঠিসোঁটা, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাজির হয় মারপিটে। প্রতিনিয়তই ঘটছে পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এমন মারপিটের ঘটনা, মানে না সিনিয়র-জুনিয়র। নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক চুনারুঘাট পৌরশহরে আগত ও ব্যবসায়ীরা বলেন, চুনারুঘাট পৌরশহরের মধ্য বাজারের গোল চত্বরসহ শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অলি-গলিতে কিশোরের গ্যাংয়ের বিছরণ দেখা যায়। তাদের নেতৃত্বে প্রায়ই গ্রুপিং, মারপিটসহ বিভিন্ন অপরাধে দেখা যায়।

এসব কিশোর গ্যাং এতই বেপরোয়া যে বাজারের ব্যবসায়ীসহ আগত মানুষজন এদের ধমক দিতে চিন্তা করে এবং ভয় পায়। হাতের কাছে যা পায় তা দিয়েই এরা প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এই ব্যাপারে তাদের অভিভাবকরা বেশ উদাসীন, আবার অনেকেই পরিবারের অবাধ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্রেণীভিত্তিক এসব কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে থাকে একজন। তাকে ঘিরেই গড়ে উঠে কিশোর গ্যাং। এসব কিশোর গ্যাং ছাত্র এবং বখাটেদের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিচালিত। একই বিদ্যালয়ে একাধিক গ্যাং থাকায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোন একটি গ্যাংয়ের সাথে যোগ দিতে হয় সাধারণ ছাত্রদের। না হলে তার ওপর নেমে আসে অমানসিক নির্যাতন। স্কুল শেষে হাটবাজারে এরা দাপিয়ে বেড়ায়। এক পক্ষ আরেক পক্ষের সাথে লড়াই করে। সচেতনমহল চুনারুঘাটে শিক্ষার পরিবেশ এবং সামজিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এখনই এসব কিশোর গ্যাং ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার (ওসি) মো. আলী আশরাফ বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্সে। সম্প্রতি পুলিশের পক্ষ থেকে অনেক কাজ করা হচ্ছে, রাত ১০টার পর পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে কিশোররা অযথা ঘুরাঘুরি করলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিয়ে আসা হচ্ছে । সেই সাথে হুঁশিয়ারি করে দেয়া হচ্ছে।

চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মহসিন আল মুরাদ বলেন, যখন-যেখানে কিশোর গ্যাং সক্রিয় থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।