ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, থাকছে না প্রশাসক

দেশের শীর্ষস্থানীয় বীমা কোম্পানি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে থাকছে না প্রশাসক। নতুন করে কোম্পানিতে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই লক্ষ্যে ডেল্টা লাইফের মালিক পক্ষ থেকে নানা তৎপরতা চলছে। তারা প্রশাসক প্রত্যাহার করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভবাগে গত জুলাই মাসে আবেদন করেছেন। এমন খবরে ডেল্টা লাইফের গুলশানের প্রধান কার্যালয়সহ সব অফিসে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি।

অন্যদিকে প্রশাসকের আমলে ডেল্টা লাইফের মাস্ক কেলেঙ্কারীসহ নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতরা এখন আতঙ্কে আছেন। আর দাপটশালী ডিএমপি ডিএমডি মাওলার চিফ অপারেটিং অফিসার পদবি ইতোমধ্যে প্রশাসক বাতিল করেছেন বলে ডেল্টা লাইফের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ডেল্টা লাইফের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ডেল্টা লাইফ অফিসের একাধিক সূত্র জানায়, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোশাররফ হোসেন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। কিন্তু ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কর্তৃপক্ষ ঘুষ না দেয়ায় কোম্পানির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করে। প্রশাসক নিয়োগেই শেষ নয়। এরপর নানাভাবে মামলা ও হয়রানি করতে থাকে।

কিন্তু ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে থেকে এর প্রতিবাদ ও আইনি পদক্ষেপ নেয়। এ নিয়ে দৈনিক সংবাদসহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ড. মোশাররফের আর্থিক কেলেঙ্কারীর বিষয় তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে। তাদের তদন্ত রিপোর্ট উচ্চ পর্যায়ে জমা দেয়া হয়। এভাবে নানা দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর ড. মোশাররফ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত জুন মাসে পদত্যাগ করেন। তার স্থলে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়।

বর্তমান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়। ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কর্তৃপক্ষ ও বীমা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধান করার আহ্বান জানান একই সঙ্গে বর্তমান প্রশাসক বাতিল করে সেখানে নতুন করে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের উদ্যোগ নেয়।

ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির মালিক পক্ষের একজন সংবাদকে জানান, এখনও পরিচালনা পর্ষদ গঠন প্রক্রিয়াধীন আছে। বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। আর ডেল্টা লাইফের পক্ষে ও বিপক্ষে যেসব মামলা রয়েছে, ওইসব মামলা সমাঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার দাবি জানিয়েছে ডেল্টা লাইফ কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত জুলাই মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে করা আবেদনে প্রশাসকে প্রত্যাহার করার দাবি জানান। আর পনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে যাতে কোম্পানি পরিচালনা করা যায় তার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তবে এখনও আদালয়ের দায়েরকৃত মামলাগুলো চলমান আছে। এসব মামলা সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলে এবং পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করলে পরিস্থিত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করে প্রশাসক বসিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এরপর প্রশাসক বদল হয় তিন বার। প্রশাসক বসানোর পর ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ের একজন ডিএমডি মঞ্জুরে মাওলা প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তার দাপটে অনেকেই কর্মস্থলে টটস্থ ছিলেন। ওই সময় মাস্ক কেলেঙ্কারীসহ নানা অনিয়ম ঘটেছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কর্মস্থলে কাউকে বিনা অপরাধে সাজা দিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দের লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়েছেন। আর একের পর এক মামলা নিয়ে হয়রানির চেষ্টা করেছে। গুলশানের ডেল্টা লাইফের প্রধান কার্যালয়ে ডাটা নিয়ে অনিয়মের খবর অফিসের কেউ না জানলেও মতিঝিল বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ অফিস থেকে তাদের ওপর দমন-পীড়ন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে মালিক পক্ষ ও বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের হয়রানি করছে। যাদের মধ্যে এখন কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিলেছে।

গত সোমবার রাতে ডেল্টা লাইফের একজন সিনিয়র অফিসার সংবাদকে জানান, প্রশাসক থাকছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে হরিলুটকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা অনেকেই নানা অজুহাতে টাকা পয়সা লুট করেছে। মাস্ক কেনাকাটায় কেলেঙ্কারী, সম্মেলন নানাভাবে যারা হরিলুট করেছে তারা টেনশনে আছে বলে জানান।

বৃহস্পতিবার, ০৪ আগস্ট ২০২২ , ২০ শ্রাবণ ১৪২৯ ৫ মহররম ১৪৪৪

ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, থাকছে না প্রশাসক

বাকী বিল্লাহ

দেশের শীর্ষস্থানীয় বীমা কোম্পানি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে থাকছে না প্রশাসক। নতুন করে কোম্পানিতে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই লক্ষ্যে ডেল্টা লাইফের মালিক পক্ষ থেকে নানা তৎপরতা চলছে। তারা প্রশাসক প্রত্যাহার করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভবাগে গত জুলাই মাসে আবেদন করেছেন। এমন খবরে ডেল্টা লাইফের গুলশানের প্রধান কার্যালয়সহ সব অফিসে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি।

অন্যদিকে প্রশাসকের আমলে ডেল্টা লাইফের মাস্ক কেলেঙ্কারীসহ নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতরা এখন আতঙ্কে আছেন। আর দাপটশালী ডিএমপি ডিএমডি মাওলার চিফ অপারেটিং অফিসার পদবি ইতোমধ্যে প্রশাসক বাতিল করেছেন বলে ডেল্টা লাইফের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ডেল্টা লাইফের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ডেল্টা লাইফ অফিসের একাধিক সূত্র জানায়, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোশাররফ হোসেন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। কিন্তু ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কর্তৃপক্ষ ঘুষ না দেয়ায় কোম্পানির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করে। প্রশাসক নিয়োগেই শেষ নয়। এরপর নানাভাবে মামলা ও হয়রানি করতে থাকে।

কিন্তু ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে থেকে এর প্রতিবাদ ও আইনি পদক্ষেপ নেয়। এ নিয়ে দৈনিক সংবাদসহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ড. মোশাররফের আর্থিক কেলেঙ্কারীর বিষয় তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে। তাদের তদন্ত রিপোর্ট উচ্চ পর্যায়ে জমা দেয়া হয়। এভাবে নানা দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর ড. মোশাররফ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত জুন মাসে পদত্যাগ করেন। তার স্থলে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়।

বর্তমান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়। ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কর্তৃপক্ষ ও বীমা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধান করার আহ্বান জানান একই সঙ্গে বর্তমান প্রশাসক বাতিল করে সেখানে নতুন করে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের উদ্যোগ নেয়।

ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির মালিক পক্ষের একজন সংবাদকে জানান, এখনও পরিচালনা পর্ষদ গঠন প্রক্রিয়াধীন আছে। বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। আর ডেল্টা লাইফের পক্ষে ও বিপক্ষে যেসব মামলা রয়েছে, ওইসব মামলা সমাঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার দাবি জানিয়েছে ডেল্টা লাইফ কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত জুলাই মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে করা আবেদনে প্রশাসকে প্রত্যাহার করার দাবি জানান। আর পনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে যাতে কোম্পানি পরিচালনা করা যায় তার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তবে এখনও আদালয়ের দায়েরকৃত মামলাগুলো চলমান আছে। এসব মামলা সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলে এবং পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করলে পরিস্থিত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করে প্রশাসক বসিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এরপর প্রশাসক বদল হয় তিন বার। প্রশাসক বসানোর পর ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ের একজন ডিএমডি মঞ্জুরে মাওলা প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তার দাপটে অনেকেই কর্মস্থলে টটস্থ ছিলেন। ওই সময় মাস্ক কেলেঙ্কারীসহ নানা অনিয়ম ঘটেছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কর্মস্থলে কাউকে বিনা অপরাধে সাজা দিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দের লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়েছেন। আর একের পর এক মামলা নিয়ে হয়রানির চেষ্টা করেছে। গুলশানের ডেল্টা লাইফের প্রধান কার্যালয়ে ডাটা নিয়ে অনিয়মের খবর অফিসের কেউ না জানলেও মতিঝিল বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ অফিস থেকে তাদের ওপর দমন-পীড়ন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে মালিক পক্ষ ও বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের হয়রানি করছে। যাদের মধ্যে এখন কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিলেছে।

গত সোমবার রাতে ডেল্টা লাইফের একজন সিনিয়র অফিসার সংবাদকে জানান, প্রশাসক থাকছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে হরিলুটকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা অনেকেই নানা অজুহাতে টাকা পয়সা লুট করেছে। মাস্ক কেনাকাটায় কেলেঙ্কারী, সম্মেলন নানাভাবে যারা হরিলুট করেছে তারা টেনশনে আছে বলে জানান।