শুক্রবার, ০৫ আগস্ট ২০২২, ২১ শ্রাবণ ১৪২৯ ৬ মহররম ১৪৪৪

তাইওয়ান ইস্যুতে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ অব্যাহতভাবে ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। পাশাপাশি তাইওয়ান প্রশ্নে চীনের আইনসম্মত ও ন্যায্য অবস্থান বুঝবে ও সমর্থন করবে বাংলাদেশ -এমনটাই মনে করেন রাষ্ট্রদূত। এদিকে, তাইওয়ান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ। সে সঙ্গে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার ন্যান্সি পোলোসির তাইওয়ান সফরকে কেন্দ্র করে গতকাল এক বিবৃতিতে এমন আশা প্রকাশ করেন লি জিমিং। আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি রক্ষায় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে উল্লেখ করে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বিশ্বাস করে এ অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য বেইজিংয়ের সঙ্গে কাজ করবে ঢাকা।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও চীন ভালো প্রতিবেশী, বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার। সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভূখন্ডের অখন্ডতার মতো মৌলিক স্বার্থের বিষয়ে উভয় দেশ সবসময় একে অপরকে বোঝে ও সমর্থন করে। ‘ওয়ান-চায়না’ নীতি ও তাইওয়ানের স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থান নেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সন্তুষ্টি জানায় চীন।

লি জিমিং বলেন, স্পিকার পেলোসির এই সফর তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করবে। পাশাপাশি এটি এ অঞ্চলে উদ্বেগ ও সংঘাত ডেকে আনতে পারে। এর ফলে সারাবিশ্ব আরও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।

বিবৃতিতে চীনা রাষ্ট্রদূত পেলোসির তাইওয়ান সফরকে এক চীন নীতি এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যৌথ ইশতেহারের ধারার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন।

চীনের কড়া হুঁশিয়ারির পরও ২ আগস্ট তাইওয়ানে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নœকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।

গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তাইওয়ান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ। এ ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং এই অঞ্চলে ও এর বাইরে শান্তি-স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে এমন কোন কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ‘এক চীন’ নীতির প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের মতপার্থক্য নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আহ্বান জানায়।

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছে।

শুক্রবার, ০৫ আগস্ট ২০২২ , ২১ শ্রাবণ ১৪২৯ ৬ মহররম ১৪৪৪

‘এক চীন’ নীতিতে সমর্থন দেবে ঢাকা, আশা রাষ্ট্রদূতের

তাইওয়ান ইস্যুতে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ অব্যাহতভাবে ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। পাশাপাশি তাইওয়ান প্রশ্নে চীনের আইনসম্মত ও ন্যায্য অবস্থান বুঝবে ও সমর্থন করবে বাংলাদেশ -এমনটাই মনে করেন রাষ্ট্রদূত। এদিকে, তাইওয়ান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ। সে সঙ্গে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার ন্যান্সি পোলোসির তাইওয়ান সফরকে কেন্দ্র করে গতকাল এক বিবৃতিতে এমন আশা প্রকাশ করেন লি জিমিং। আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি রক্ষায় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে উল্লেখ করে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বিশ্বাস করে এ অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য বেইজিংয়ের সঙ্গে কাজ করবে ঢাকা।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও চীন ভালো প্রতিবেশী, বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার। সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভূখন্ডের অখন্ডতার মতো মৌলিক স্বার্থের বিষয়ে উভয় দেশ সবসময় একে অপরকে বোঝে ও সমর্থন করে। ‘ওয়ান-চায়না’ নীতি ও তাইওয়ানের স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থান নেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সন্তুষ্টি জানায় চীন।

লি জিমিং বলেন, স্পিকার পেলোসির এই সফর তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করবে। পাশাপাশি এটি এ অঞ্চলে উদ্বেগ ও সংঘাত ডেকে আনতে পারে। এর ফলে সারাবিশ্ব আরও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।

বিবৃতিতে চীনা রাষ্ট্রদূত পেলোসির তাইওয়ান সফরকে এক চীন নীতি এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যৌথ ইশতেহারের ধারার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন।

চীনের কড়া হুঁশিয়ারির পরও ২ আগস্ট তাইওয়ানে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নœকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।

গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তাইওয়ান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ। এ ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং এই অঞ্চলে ও এর বাইরে শান্তি-স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে এমন কোন কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ‘এক চীন’ নীতির প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের মতপার্থক্য নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আহ্বান জানায়।

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছে।