‘নকল পুলিশ সেজে ছিনতাই, অপহরণ, ধর্ষণে বেপরোয়া রুবেলের ১০ বছর’

পড়াশোনায় মাধ্যমিকের গণ্ডিও পার হননি। ৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেই পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে ওয়াকিটকি ও পিস্তল নিয়ে দাফিয়ে বেড়াতেন ২৮ বছর বয়সী যুবক শাকিল আহমেদ রুবেল। আর এ পরিচয়ে হাজারের বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। শুধু ছিনতাই নয়, নারীদের টার্গেট করে তুলে নিয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণও করেছেন কোন কোন সময়। অথচ গত ১০ বছর ধরে নকল পুলিশের এসব কাণ্ড নজরে পড়েনি আসল পুলিশের। যার ফলে নকল পুলিশ রুবেল সব সময় ছিলেন অধরা।

রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে ভ্যানিটিব্যাগ ছিনতাই ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার মূল হোতা রুবেল সম্পর্কে এমন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। যদিও ওই ঘটনায় আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে পুলিশের দাবি, এরা শাকিলের এসব কাণ্ডের সহযোগী।

সম্প্রতি কল্যাণপুর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। দিন দুপুরে ওই শিক্ষাথীকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায়। সেখানে তাকে আটকে ছিনিয়ে নেয়া হয় ভ্যানিটিব্যাগ। এ সময় ওই শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হলে শিক্ষার্থীর চিৎকারে এক ব্যক্তি এগিয়ে আসলে পুলিশ পরিচয় দেয়া ছিনতাইকারী পালিয়ে চলে যায়। পরে ওই শিক্ষার্থী ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কল্যাণপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার ছায়াতদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে যে ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে গেছে, একটি চক্র নকল পুলিশের পরিচয়ে ছিনতাই অপহরণসহ নানা কাণ্ড ঘটাচ্ছে। চক্রের মূল হোতা ও তার সহযোগীদের ধরতে অভিযানে নামে ডিবি পুলিশ।

গত শনিবার ডিবি উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) আছমা আরা জাহানের তত্ত্বাবধানে ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে ঘটনার মূল হোতা রুবেলসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি উত্তরা বিভাগ। গ্রেপ্তার অন্যরা হলোÑ আকাশ শেখ (২২), দেলোয়ার হোসেন (৫৫) ও হাবিবুর রহমান। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন, একটি ওয়্যারলেস সেট, দুটি পুলিশ স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল ও ছয়টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রুবেলসহ চারজনকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত রুবেলের তিন দিন আর বাকি আসামিদের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

গ্রেপ্তারের তথ্য জানাতে গিয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) হারুন অর রশিদের দাবি, রুবেল একজন পেশাদার ছিনতাইকারী। এখন পর্যন্ত দেড় হাজারের মতো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। ছিনতাইয়ের পাশাপাশি তিনি নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণও করতেন। রুবেলের মূল টার্গেট ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের মেয়ে শিক্ষার্থীরা। পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের অর্ধশতাধিক মেয়েদের তুলে নিয়ে শ্লীলতাহানির পাশাপাশি একাধিক মেয়েকে ধর্ষণও করেছে।

পুলিশ পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে তুলে নেয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে হারুন অর রশিদ দাবি করেন, ঢাবির শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে ছিনতাইয়ের আগে রুবেল গত ১২ আগস্ট উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর থেকে একটি মোটরসাইকেল ছিনতাই করে। সেই মোটরসাইকেলে পুলিশের স্টিকার লাগিয়ে ঢাবির শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে দিয়াবাড়ীতে নিয়ে ছিনতাই করে। রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তার বাড়ি গাজীপুর। তবে আরও দুটি ঠিকানা পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে রুবেল ঢাকায় কোন বাসা ভাড়া নেয়নি। সে রাজধানীর বিভিন্ন হোটেলে রুম ভাড়া নিয়ে অবস্থান করত। তারপর মোটরসাইকেল ছিনতাই কিংবা ভাড়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিংবা কলেজ শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে এসব ঘটনা ঘটাতো।

জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল জানায়, সে এখন পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে দেড় হাজারের বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর মধ্যে ছিনতাইয়ের পর ৫০ জন মেয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছে। ছিনতাইয়ের পর মেয়েদের সঙ্গে সে অশালীন আচরণ করতো, যেন ভুক্তভোগী মেয়েরা লোকলজ্জার ভয়ে কোন কথা না বলে বা অভিযোগ না করে। এসব কাজের জন্য সে নির্জন স্থান বেছে নিত। মেয়েদের মোটরসাইকেলে উঠিয়ে রাজধানীর ৩০০ ফিট, দিয়াবাড়ী ও পূর্বাচল এলাকায় নিয়ে যেত।

ঢাবির একজন শিক্ষার্থী কিভাবে এত সহজে রুবেলের খপ্পরে পড়ে যায়, জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, আসলে তার হাতে ওয়াকিটকি, পিস্তল ও গাড়িতে পুলিশের স্টিকার দেখে হয়তো ওই ছাত্রী তাকে পুলিশ ভেবে নেয়। তবে ওই ছাত্রী যদি আশপাশের লোকজনকে ডেকে রুবেলকে চ্যালেঞ্জ করত, তাহলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটতো না। সে পুলিশের ছদ্মবেশে এই কাজগুলো করে আসছিল। একাধিকবার জেলেও গিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তার তিন সহযোগী বিভিন্ন সময় রুবেলকে নানাভাবে সহযোগীতা করত। কেউ মোটরসাইকেল ভাড়া করে এনে দিত, আবার কেউ অন্যভাবে সহযোগীতা করত। ওয়াকিটকি, পিস্তল ও ডিএমপির লগোর বিষয়ে রুবেলকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে এমন বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে ডিবিপ্রধান বলেন, কেউ পুলিশ পরিচয় দিলে যেন তার মোটরসাইকেলে কেউ না উঠে। তাকে যেন চ্যালেঞ্জ করে এবং তার পরিচয় জানার চেষ্টা করে। পুলিশ কখনো মোটরসাইকেল করে কোন আসামি নিয়ে যায় না। একটু সতর্ক থাকলে রুবেলের মতো মানুষকে আটকানো যাবে।

এডিসি আছমা আরা জাহান জানান, রুবেলের শ্বশুরবাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ। সে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সেখানেও চুরি করেছে। ওই চুরি মামলায় সে জেলও খেটেছে। গত মাসের ১৭ তারিখে সেই মামলায় জামিনে বের হয়। এরপরই এ ঘটনাটি ঘটনায়।

ছিনতাই কী রুবেলে পেশা নাকি নেশা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা রুবেলের পেশা ও নেশা দুটোই। তিনি পুলিশের ছদ্মবেশে এগুলো করতেন। এটা বুঝতে বুঝতে দেড় হাজারের মতো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছেন। তার চার সহযোগীদের কাজ কী- জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা রুবেলকে বিভিন্ন সময় নানাভাবে সহযোগিতা করতেন। কেউ মোটরসাইকেল ভাড়া করে এনে দিতেন আবার কেউ অন্যভাবে সহযোগিতা করতেন।

ওয়াকিটকি, পিস্তল ও ডিএমপির লোগো রুবেল কীভাবে পেল- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা রিমান্ডে এনে তার কাছ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব। ভুয়া পুলিশের ঘটনা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে আটকানো যাচ্ছে না কেন- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় অনেকে মামলা করতে থানায় যায় না। মামলা করলে এসব বিষয়ের শক্ত পদক্ষেপ নেয়া হয়। মামলা না হলে তো আমরা এসব বিষয় জানতে পারি না। তার পেছনে সত্যিকারের কোন পুলিশ সদস্য আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা রিমান্ডে এনে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করব। তার সঙ্গে আর কে কে জড়িত রয়েছে।

সোমবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ , ২১ ভাদ্র ১৪২৯ ৮ সফর ১৪৪৪

‘নকল পুলিশ সেজে ছিনতাই, অপহরণ, ধর্ষণে বেপরোয়া রুবেলের ১০ বছর’

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

পড়াশোনায় মাধ্যমিকের গণ্ডিও পার হননি। ৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেই পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে ওয়াকিটকি ও পিস্তল নিয়ে দাফিয়ে বেড়াতেন ২৮ বছর বয়সী যুবক শাকিল আহমেদ রুবেল। আর এ পরিচয়ে হাজারের বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। শুধু ছিনতাই নয়, নারীদের টার্গেট করে তুলে নিয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণও করেছেন কোন কোন সময়। অথচ গত ১০ বছর ধরে নকল পুলিশের এসব কাণ্ড নজরে পড়েনি আসল পুলিশের। যার ফলে নকল পুলিশ রুবেল সব সময় ছিলেন অধরা।

রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে ভ্যানিটিব্যাগ ছিনতাই ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার মূল হোতা রুবেল সম্পর্কে এমন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। যদিও ওই ঘটনায় আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে পুলিশের দাবি, এরা শাকিলের এসব কাণ্ডের সহযোগী।

সম্প্রতি কল্যাণপুর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। দিন দুপুরে ওই শিক্ষাথীকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায়। সেখানে তাকে আটকে ছিনিয়ে নেয়া হয় ভ্যানিটিব্যাগ। এ সময় ওই শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হলে শিক্ষার্থীর চিৎকারে এক ব্যক্তি এগিয়ে আসলে পুলিশ পরিচয় দেয়া ছিনতাইকারী পালিয়ে চলে যায়। পরে ওই শিক্ষার্থী ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কল্যাণপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার ছায়াতদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে যে ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে গেছে, একটি চক্র নকল পুলিশের পরিচয়ে ছিনতাই অপহরণসহ নানা কাণ্ড ঘটাচ্ছে। চক্রের মূল হোতা ও তার সহযোগীদের ধরতে অভিযানে নামে ডিবি পুলিশ।

গত শনিবার ডিবি উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) আছমা আরা জাহানের তত্ত্বাবধানে ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে ঘটনার মূল হোতা রুবেলসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি উত্তরা বিভাগ। গ্রেপ্তার অন্যরা হলোÑ আকাশ শেখ (২২), দেলোয়ার হোসেন (৫৫) ও হাবিবুর রহমান। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন, একটি ওয়্যারলেস সেট, দুটি পুলিশ স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল ও ছয়টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রুবেলসহ চারজনকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত রুবেলের তিন দিন আর বাকি আসামিদের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

গ্রেপ্তারের তথ্য জানাতে গিয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) হারুন অর রশিদের দাবি, রুবেল একজন পেশাদার ছিনতাইকারী। এখন পর্যন্ত দেড় হাজারের মতো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। ছিনতাইয়ের পাশাপাশি তিনি নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণও করতেন। রুবেলের মূল টার্গেট ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের মেয়ে শিক্ষার্থীরা। পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের অর্ধশতাধিক মেয়েদের তুলে নিয়ে শ্লীলতাহানির পাশাপাশি একাধিক মেয়েকে ধর্ষণও করেছে।

পুলিশ পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে তুলে নেয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে হারুন অর রশিদ দাবি করেন, ঢাবির শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে ছিনতাইয়ের আগে রুবেল গত ১২ আগস্ট উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর থেকে একটি মোটরসাইকেল ছিনতাই করে। সেই মোটরসাইকেলে পুলিশের স্টিকার লাগিয়ে ঢাবির শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে দিয়াবাড়ীতে নিয়ে ছিনতাই করে। রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তার বাড়ি গাজীপুর। তবে আরও দুটি ঠিকানা পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে রুবেল ঢাকায় কোন বাসা ভাড়া নেয়নি। সে রাজধানীর বিভিন্ন হোটেলে রুম ভাড়া নিয়ে অবস্থান করত। তারপর মোটরসাইকেল ছিনতাই কিংবা ভাড়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিংবা কলেজ শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে এসব ঘটনা ঘটাতো।

জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল জানায়, সে এখন পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে দেড় হাজারের বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর মধ্যে ছিনতাইয়ের পর ৫০ জন মেয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছে। ছিনতাইয়ের পর মেয়েদের সঙ্গে সে অশালীন আচরণ করতো, যেন ভুক্তভোগী মেয়েরা লোকলজ্জার ভয়ে কোন কথা না বলে বা অভিযোগ না করে। এসব কাজের জন্য সে নির্জন স্থান বেছে নিত। মেয়েদের মোটরসাইকেলে উঠিয়ে রাজধানীর ৩০০ ফিট, দিয়াবাড়ী ও পূর্বাচল এলাকায় নিয়ে যেত।

ঢাবির একজন শিক্ষার্থী কিভাবে এত সহজে রুবেলের খপ্পরে পড়ে যায়, জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, আসলে তার হাতে ওয়াকিটকি, পিস্তল ও গাড়িতে পুলিশের স্টিকার দেখে হয়তো ওই ছাত্রী তাকে পুলিশ ভেবে নেয়। তবে ওই ছাত্রী যদি আশপাশের লোকজনকে ডেকে রুবেলকে চ্যালেঞ্জ করত, তাহলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটতো না। সে পুলিশের ছদ্মবেশে এই কাজগুলো করে আসছিল। একাধিকবার জেলেও গিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তার তিন সহযোগী বিভিন্ন সময় রুবেলকে নানাভাবে সহযোগীতা করত। কেউ মোটরসাইকেল ভাড়া করে এনে দিত, আবার কেউ অন্যভাবে সহযোগীতা করত। ওয়াকিটকি, পিস্তল ও ডিএমপির লগোর বিষয়ে রুবেলকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে এমন বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে ডিবিপ্রধান বলেন, কেউ পুলিশ পরিচয় দিলে যেন তার মোটরসাইকেলে কেউ না উঠে। তাকে যেন চ্যালেঞ্জ করে এবং তার পরিচয় জানার চেষ্টা করে। পুলিশ কখনো মোটরসাইকেল করে কোন আসামি নিয়ে যায় না। একটু সতর্ক থাকলে রুবেলের মতো মানুষকে আটকানো যাবে।

এডিসি আছমা আরা জাহান জানান, রুবেলের শ্বশুরবাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ। সে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সেখানেও চুরি করেছে। ওই চুরি মামলায় সে জেলও খেটেছে। গত মাসের ১৭ তারিখে সেই মামলায় জামিনে বের হয়। এরপরই এ ঘটনাটি ঘটনায়।

ছিনতাই কী রুবেলে পেশা নাকি নেশা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা রুবেলের পেশা ও নেশা দুটোই। তিনি পুলিশের ছদ্মবেশে এগুলো করতেন। এটা বুঝতে বুঝতে দেড় হাজারের মতো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছেন। তার চার সহযোগীদের কাজ কী- জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা রুবেলকে বিভিন্ন সময় নানাভাবে সহযোগিতা করতেন। কেউ মোটরসাইকেল ভাড়া করে এনে দিতেন আবার কেউ অন্যভাবে সহযোগিতা করতেন।

ওয়াকিটকি, পিস্তল ও ডিএমপির লোগো রুবেল কীভাবে পেল- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা রিমান্ডে এনে তার কাছ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব। ভুয়া পুলিশের ঘটনা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে আটকানো যাচ্ছে না কেন- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় অনেকে মামলা করতে থানায় যায় না। মামলা করলে এসব বিষয়ের শক্ত পদক্ষেপ নেয়া হয়। মামলা না হলে তো আমরা এসব বিষয় জানতে পারি না। তার পেছনে সত্যিকারের কোন পুলিশ সদস্য আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা রিমান্ডে এনে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করব। তার সঙ্গে আর কে কে জড়িত রয়েছে।