এসএসসি : মোট পরীক্ষার্থী কমেছে, বেড়েছে বিজ্ঞানে

এবার এসএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী কমেছে। তবে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থী বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে দুই লাখ ১৭ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী কমেছে। আর মাদ্রাসা ও ভোকেশনালসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী কমেছে দুই লাখ ২১ হাজারের বেশি।

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার সংবাদকে বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে ব্যবসায় শিক্ষায় পরীক্ষার্থী কমছে। বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থী বাড়ছে।’

এবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী খুব একটা নেই-জানিয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি আরও বলেন, ‘সাধারণত মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী বেশি থাকে। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা খুব কমই ফেল (অকৃতকার্য) করে।’

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এ পরীক্ষা নিয়ে গতকাল নিজ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, যানজট পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ১০টার পরিবর্তে সকাল ১১টায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গত ৩১ জুলাই আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করে। রুটিন বা সূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন ১১টা থেকে তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা হবে। তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা ১ অক্টোবর শেষ হবে। এরপর ১০ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।

পরীক্ষার্থীদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এরমধ্যে সাধারণ ৯টি বোর্ডের অধীনে ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১১ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে দুই লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৬২ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসবে বলে জানান মন্ত্রী।

গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি বোর্ডের অধীনে অংশ নিয়েছিল ২২ লাখ ৪৩ হাজার ২৫৪ জন। এ হিসেবে এক বছরে মোট পরীক্ষার্থী কমেছে দুই লাখ ২১ হাজার ৩৮৬ জন।

আর এ বছর ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। গত বছর আট বোর্ডে অংশ নিয়েছিল ১৮ লাখ ১৭ হাজার ১১৬ জন পরীক্ষার্থী। এ হিসেবে এক বছরে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে দুই লাখ ১৭ হাজার ৪০৫ জন পরীক্ষার্থী কমেছে।

বিজ্ঞানে পরীক্ষার্থী বেড়েছে

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগে পাঁচ লাখ আট হাজার ২৩৬ জন, মানবিক বিভাগে সাত লাখ ৯০ হাজার ৯১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষায় তিন লাখ এক হাজার ৩৮৪ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

গত বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে বিজ্ঞান বিভাগে পাঁচ লাখ ছয় হাজার ৮৩১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এ হিসেবে এক বছরে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে এক হাজার ৪০৫ জন।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এবার মোট তিন হাজার ৭৯০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে বিদেশের কেন্দ্র সংখ্যা আটটি। ২০২১ সালের তুলনায় এবছর কেন্দ্র বেড়েছে ১১১টি এবং প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৫৫৬টি।

পরীক্ষার্থী কমার কারণ সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবছর অনিয়মিত পরীক্ষার্থী থাকে। গতবছর আমরা মাত্র তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা নিয়েছিলাম সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। সে কারণে পাসের হারও বেশি ছিল। এ কারণে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে।’

বৈশ্বিক মহামারীকরোনাভাইরাসের কারণে পরীক্ষার বিষয়, নম্বর ও সময় কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পুনর্বিন্যাস করা সিলেবাসে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। পরীক্ষার সময় তিন ঘণ্টা থেকে কমিয়ে দুই ঘণ্টা করা হয়েছে। এরমধ্যে এমসিকিউ ২০ মিনিট এবং সিকিউ এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট করা হয়েছে।

এ বছর এসএসসিতে তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে না। পরীক্ষা হবে বিভাগভেদে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, কৃষিশিক্ষা, সংগীত, আরবি, সংস্কৃতি, পালি, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া, চারু ও কারুকলা, পদার্থবিজ্ঞান, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, রসায়ন, পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ব্যবসায় উদ্যোগ, ভূগোল ও পরিবেশ, উচ্চতর গণিত, হিসাববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, অর্থনীতি বিষয়ে।

পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, কোন কারণে দেরি হলে তার প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করে বোর্ডে পাঠাতে হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসি প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী স্ক্রাইব (শ্রুতি লেখক) সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় দেয়া হবে।

এছাড়া প্রতিবন্ধী (অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম, সেরিব্রাল পালসি) পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ২০ মিনিটসহ শিক্ষক বা অভিভাবক বা সাহায্যকারীর বিশেষ সহায়তায় পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার ছাড়াও মন্ত্রণালয় এবং বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সামনে রেখে গতকাল সচিবালয়ে জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।’

আর এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করে দীপু মনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সবার জন্যই গৃহীত ব্যবস্থাসমূহ অত্যন্ত সন্তোষজনক হবে।’

মহামারীর কারণে চার মাস পিছিয়ে গত ১৯ জুন চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগ মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা দেখা দেয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের এ সমাপনী পরীক্ষার নতুন সূচি প্রকাশ করা হয় ৩১ জুলাই। এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হবে পুনর্বিন্যস্ত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী। সকাল ১১টা থেকে দুই ঘণ্টা পরীক্ষা নেয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১১ জন। দাখিল পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৫ জন। আর ভোকেশনাল শিক্ষার্থী ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ জন।

মঙ্গলবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ , ২২ ভাদ্র ১৪২৯ ৯ সফর ১৪৪৪

এসএসসি : মোট পরীক্ষার্থী কমেছে, বেড়েছে বিজ্ঞানে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

এবার এসএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী কমেছে। তবে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থী বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে দুই লাখ ১৭ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী কমেছে। আর মাদ্রাসা ও ভোকেশনালসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী কমেছে দুই লাখ ২১ হাজারের বেশি।

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার সংবাদকে বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে ব্যবসায় শিক্ষায় পরীক্ষার্থী কমছে। বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থী বাড়ছে।’

এবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী খুব একটা নেই-জানিয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি আরও বলেন, ‘সাধারণত মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী বেশি থাকে। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা খুব কমই ফেল (অকৃতকার্য) করে।’

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এ পরীক্ষা নিয়ে গতকাল নিজ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, যানজট পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ১০টার পরিবর্তে সকাল ১১টায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গত ৩১ জুলাই আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করে। রুটিন বা সূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন ১১টা থেকে তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা হবে। তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা ১ অক্টোবর শেষ হবে। এরপর ১০ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।

পরীক্ষার্থীদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এরমধ্যে সাধারণ ৯টি বোর্ডের অধীনে ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১১ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে দুই লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৬২ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসবে বলে জানান মন্ত্রী।

গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি বোর্ডের অধীনে অংশ নিয়েছিল ২২ লাখ ৪৩ হাজার ২৫৪ জন। এ হিসেবে এক বছরে মোট পরীক্ষার্থী কমেছে দুই লাখ ২১ হাজার ৩৮৬ জন।

আর এ বছর ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। গত বছর আট বোর্ডে অংশ নিয়েছিল ১৮ লাখ ১৭ হাজার ১১৬ জন পরীক্ষার্থী। এ হিসেবে এক বছরে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে দুই লাখ ১৭ হাজার ৪০৫ জন পরীক্ষার্থী কমেছে।

বিজ্ঞানে পরীক্ষার্থী বেড়েছে

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগে পাঁচ লাখ আট হাজার ২৩৬ জন, মানবিক বিভাগে সাত লাখ ৯০ হাজার ৯১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষায় তিন লাখ এক হাজার ৩৮৪ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

গত বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে বিজ্ঞান বিভাগে পাঁচ লাখ ছয় হাজার ৮৩১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এ হিসেবে এক বছরে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে এক হাজার ৪০৫ জন।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এবার মোট তিন হাজার ৭৯০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে বিদেশের কেন্দ্র সংখ্যা আটটি। ২০২১ সালের তুলনায় এবছর কেন্দ্র বেড়েছে ১১১টি এবং প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৫৫৬টি।

পরীক্ষার্থী কমার কারণ সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবছর অনিয়মিত পরীক্ষার্থী থাকে। গতবছর আমরা মাত্র তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা নিয়েছিলাম সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। সে কারণে পাসের হারও বেশি ছিল। এ কারণে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে।’

বৈশ্বিক মহামারীকরোনাভাইরাসের কারণে পরীক্ষার বিষয়, নম্বর ও সময় কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পুনর্বিন্যাস করা সিলেবাসে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। পরীক্ষার সময় তিন ঘণ্টা থেকে কমিয়ে দুই ঘণ্টা করা হয়েছে। এরমধ্যে এমসিকিউ ২০ মিনিট এবং সিকিউ এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট করা হয়েছে।

এ বছর এসএসসিতে তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে না। পরীক্ষা হবে বিভাগভেদে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, কৃষিশিক্ষা, সংগীত, আরবি, সংস্কৃতি, পালি, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া, চারু ও কারুকলা, পদার্থবিজ্ঞান, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, রসায়ন, পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ব্যবসায় উদ্যোগ, ভূগোল ও পরিবেশ, উচ্চতর গণিত, হিসাববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, অর্থনীতি বিষয়ে।

পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, কোন কারণে দেরি হলে তার প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করে বোর্ডে পাঠাতে হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসি প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী স্ক্রাইব (শ্রুতি লেখক) সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় দেয়া হবে।

এছাড়া প্রতিবন্ধী (অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম, সেরিব্রাল পালসি) পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ২০ মিনিটসহ শিক্ষক বা অভিভাবক বা সাহায্যকারীর বিশেষ সহায়তায় পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার ছাড়াও মন্ত্রণালয় এবং বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সামনে রেখে গতকাল সচিবালয়ে জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।’

আর এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করে দীপু মনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সবার জন্যই গৃহীত ব্যবস্থাসমূহ অত্যন্ত সন্তোষজনক হবে।’

মহামারীর কারণে চার মাস পিছিয়ে গত ১৯ জুন চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগ মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা দেখা দেয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের এ সমাপনী পরীক্ষার নতুন সূচি প্রকাশ করা হয় ৩১ জুলাই। এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হবে পুনর্বিন্যস্ত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী। সকাল ১১টা থেকে দুই ঘণ্টা পরীক্ষা নেয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১১ জন। দাখিল পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৫ জন। আর ভোকেশনাল শিক্ষার্থী ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ জন।