‘গুমের তালিকার ৩৫ জনকে সরকারই খুঁজছে’

মানবাধিকার সংস্থার গুমের তালিকায় থাকা ৩৫ জনকে সরকার নিজেই খুঁজছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

সম্প্রতি মানবাধিকার সংগঠনগুলো দেশে গত কয়েক বছরে গুমের একটি হিসাব প্রকাশ করে। এর আগে গুমের অভিযোগ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক হয় সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনকে তুলে নেয়া বা গুম করার অভিযোগ হয়ে আসছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করছেন।

গতকাল সেই ইস্যুতে মন্ত্রী আবারও বলেছেন, গুমের কথা বলে হাজার হাজার। তখন আমি বললাম তালিকা দেন। এরপর মানবাধিকার সংস্থা থেকে লিস্ট এলো ৭৬ জনের। পরে দেখা গেলো এর মধ্যে ১০ জন বিএনপির অ্যাক্টিভিস্ট, যারা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। আর ৩৫ জনকে আমরা নিজেরাই খুঁজছি, যারা জ্বালাও-পোড়াওয়ের সঙ্গে জড়িত। আবার একজনকে দেখা গেলো জেলে রয়েছেন। আরেকবার শুনলাম ৬০০ জন গুম।

দেশে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলেছিলেন। এখানে আমরা সবাই বাঙালি, সেই চেতনা ধারণ করে এগিয়ে চলছি। তবে দু-এক জায়গায় অসঙ্গতি যে হয়নি তা বলবো না। সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই, আমরা সবাই বাঙালি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা কেন সংখ্যালঘুর কথা বলেন আমার জানা নেই। এখানে আমরা সবাই একসঙ্গে চলি। তাই সংখ্যালঘু বলবেন না। যদি এটি বলতেই থাকেন তাহলে আমরা ব্যথিত হই। সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু আমি বুঝি না, আমি বুঝি সবাই বাঙালি। সবাই মিলে আমরা এগিয়ে যাব।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ অর্জিত। এখানে হিন্দু-বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান না মুসলিমের রক্ত আমরা নির্দিষ্ট করে বলতে পারবো না।

ভূমি দখলের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আপনারা ভূমি দখলের কথা বললেন, এর সঠিক ফিগারটা আমার জানা নেই। তবে আপনাদের কাছে আমি এর বিস্তারিত চাই। কোথায় কার দ্বারা কবে, ঘটনার বাদী-বিবাদী ডিটেইল চাই। আমি দেখবো কেন বিচার হয়নি, কেন প্রতিকার হয়নি।

নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বললেন, কীভাবে তাদের এগিয়ে যেতে হবে সেই পথনকশা দিলেন। ফলে নারীরা আজ সবক্ষেত্রে তাদের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে এগিয়ে চলছেন। তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে আলোকিত বাংলাদেশের লক্ষ্যে পৌঁছাবো। নারীদের সহযোগিতা ছাড়া আমরা এগিয়ে যেতে পারবো না।

সেমিনারটির আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদ। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সুবর্ণা মুস্তফা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুন্নী সাহা প্রমুখ।

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ , ২৭ ভাদ্র ১৪২৯ ১৪ সফর ১৪৪৪

‘গুমের তালিকার ৩৫ জনকে সরকারই খুঁজছে’

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

মানবাধিকার সংস্থার গুমের তালিকায় থাকা ৩৫ জনকে সরকার নিজেই খুঁজছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

সম্প্রতি মানবাধিকার সংগঠনগুলো দেশে গত কয়েক বছরে গুমের একটি হিসাব প্রকাশ করে। এর আগে গুমের অভিযোগ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক হয় সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনকে তুলে নেয়া বা গুম করার অভিযোগ হয়ে আসছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করছেন।

গতকাল সেই ইস্যুতে মন্ত্রী আবারও বলেছেন, গুমের কথা বলে হাজার হাজার। তখন আমি বললাম তালিকা দেন। এরপর মানবাধিকার সংস্থা থেকে লিস্ট এলো ৭৬ জনের। পরে দেখা গেলো এর মধ্যে ১০ জন বিএনপির অ্যাক্টিভিস্ট, যারা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। আর ৩৫ জনকে আমরা নিজেরাই খুঁজছি, যারা জ্বালাও-পোড়াওয়ের সঙ্গে জড়িত। আবার একজনকে দেখা গেলো জেলে রয়েছেন। আরেকবার শুনলাম ৬০০ জন গুম।

দেশে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলেছিলেন। এখানে আমরা সবাই বাঙালি, সেই চেতনা ধারণ করে এগিয়ে চলছি। তবে দু-এক জায়গায় অসঙ্গতি যে হয়নি তা বলবো না। সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই, আমরা সবাই বাঙালি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা কেন সংখ্যালঘুর কথা বলেন আমার জানা নেই। এখানে আমরা সবাই একসঙ্গে চলি। তাই সংখ্যালঘু বলবেন না। যদি এটি বলতেই থাকেন তাহলে আমরা ব্যথিত হই। সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু আমি বুঝি না, আমি বুঝি সবাই বাঙালি। সবাই মিলে আমরা এগিয়ে যাব।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ অর্জিত। এখানে হিন্দু-বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান না মুসলিমের রক্ত আমরা নির্দিষ্ট করে বলতে পারবো না।

ভূমি দখলের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আপনারা ভূমি দখলের কথা বললেন, এর সঠিক ফিগারটা আমার জানা নেই। তবে আপনাদের কাছে আমি এর বিস্তারিত চাই। কোথায় কার দ্বারা কবে, ঘটনার বাদী-বিবাদী ডিটেইল চাই। আমি দেখবো কেন বিচার হয়নি, কেন প্রতিকার হয়নি।

নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বললেন, কীভাবে তাদের এগিয়ে যেতে হবে সেই পথনকশা দিলেন। ফলে নারীরা আজ সবক্ষেত্রে তাদের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে এগিয়ে চলছেন। তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে আলোকিত বাংলাদেশের লক্ষ্যে পৌঁছাবো। নারীদের সহযোগিতা ছাড়া আমরা এগিয়ে যেতে পারবো না।

সেমিনারটির আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদ। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সুবর্ণা মুস্তফা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুন্নী সাহা প্রমুখ।