মায়ানমারে চলছে গোলাগুলি, বিস্ফোরণের শব্দে প্রকম্পিত সীমান্ত গ্রামগুলো

মায়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষে গোলাগুলি, হাল্কা ও ভারি অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের শব্দে কম্পিত হচ্ছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু, বাইশফারি, ফাত্রাঝিরি, রেজু আমতলি, গর্জবনিয়াসহ সীমান্ত লাগোয়া গ্রাম। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফাটল ধরেছে মাটি দিয়ে তৈরি ঘরের দেয়াল। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউ।

সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে তিন শতাধিক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাবাসীর তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।

তুমব্রু সীমান্ত পরিদর্শনে গেছেন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। স্থানীয়রা জানিয়েছে, গত শুক্রবারের ঘটনার পর থেকে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিজিবির সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, জোরদার করা হয়েছে বিজিবির টহল। সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে তুমব্রু সীমান্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ রাখা হয়েছে। আশপাশের বিদ্যালয়গুলো খোলা থাকলেও উপস্থিতি কম। নিরাপদ ও স্বাভাবিকভাবে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ইতোমধ্যেই ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্র সরিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং নেয়া হয়েছে।

তুমব্রু সীমান্তের বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করেছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক(ডিসি) ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি। এ সময় তিনি নো ম্যান্স ল্যান্ডসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন। ঘুমধুম থেকে স্থানান্তরিত হওয়া উখিয়ার কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরে ইয়াছমিন পারভীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মায়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি ও বাংলাদেশ সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে গত শনিবার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উখিয়ার কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সীমান্তের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে থাকে, এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সীমান্ত থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বাচাই করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে পরিবারগুলোর মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হবে বলে জানান ডিসি।

এর আগে গত রোববার সকালে সীমান্তের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে নাইক্ষ্যংছড়িতে উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় স্থানীয়দের সরিয়ে নেয়াসহ বৈঠকে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব জেলা প্রশাসক বরাবরে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা ফেরদৌস জানান, ‘গত রোববার জরুরি বৈঠকে সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব আসে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তাদের সরিয়ে নেয়া হতে পারে।’

জেলা পুলিশ সুপার(এসপি) তারিকুল ইসলাম জানান, সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, গেল গত শুক্রবার এপারে মর্টার শেল এসে হতাহতের পর একটু উদ্বেগ থাকলেও পুলিশের পক্ষে প্রশাসনের নিদের্শনা মতে কাজ করার প্রস্তুতি রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট মায়ানমার থেকে নিক্ষেপ করা ২টি মর্টার শেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় ঘুমধুমের তুমব্রু’র উত্তরপাড়া মসজিদের কাছে পড়ে। এ ঘটনার পাঁচ দিন পর গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘুমধুম এলাকায় দুটি গোলা পড়ে এবং ৯ সেপ্টেম্বর একে ৪৭ এর গুলি এসে পড়ে। তবে গত শুক্রবার মাইন বিস্ফোরণ ও গুলি-মর্টার শেল নিক্ষেপে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে বসবাসরত রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ , ০৪ আশ্বিন ১৪২৯ ২২ সফর ১৪৪৪

মায়ানমারে চলছে গোলাগুলি, বিস্ফোরণের শব্দে প্রকম্পিত সীমান্ত গ্রামগুলো

প্রতিনিধি, বান্দরবান ও কক্সবাজার

image

তুমব্রু সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন পারভীন তিবরীজি -সংবাদ

মায়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষে গোলাগুলি, হাল্কা ও ভারি অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের শব্দে কম্পিত হচ্ছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু, বাইশফারি, ফাত্রাঝিরি, রেজু আমতলি, গর্জবনিয়াসহ সীমান্ত লাগোয়া গ্রাম। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফাটল ধরেছে মাটি দিয়ে তৈরি ঘরের দেয়াল। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউ।

সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে তিন শতাধিক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাবাসীর তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।

তুমব্রু সীমান্ত পরিদর্শনে গেছেন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। স্থানীয়রা জানিয়েছে, গত শুক্রবারের ঘটনার পর থেকে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিজিবির সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, জোরদার করা হয়েছে বিজিবির টহল। সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে তুমব্রু সীমান্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ রাখা হয়েছে। আশপাশের বিদ্যালয়গুলো খোলা থাকলেও উপস্থিতি কম। নিরাপদ ও স্বাভাবিকভাবে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ইতোমধ্যেই ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্র সরিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং নেয়া হয়েছে।

তুমব্রু সীমান্তের বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করেছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক(ডিসি) ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি। এ সময় তিনি নো ম্যান্স ল্যান্ডসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন। ঘুমধুম থেকে স্থানান্তরিত হওয়া উখিয়ার কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরে ইয়াছমিন পারভীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মায়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি ও বাংলাদেশ সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে গত শনিবার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উখিয়ার কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সীমান্তের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে থাকে, এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সীমান্ত থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বাচাই করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে পরিবারগুলোর মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হবে বলে জানান ডিসি।

এর আগে গত রোববার সকালে সীমান্তের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে নাইক্ষ্যংছড়িতে উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় স্থানীয়দের সরিয়ে নেয়াসহ বৈঠকে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব জেলা প্রশাসক বরাবরে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা ফেরদৌস জানান, ‘গত রোববার জরুরি বৈঠকে সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব আসে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তাদের সরিয়ে নেয়া হতে পারে।’

জেলা পুলিশ সুপার(এসপি) তারিকুল ইসলাম জানান, সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, গেল গত শুক্রবার এপারে মর্টার শেল এসে হতাহতের পর একটু উদ্বেগ থাকলেও পুলিশের পক্ষে প্রশাসনের নিদের্শনা মতে কাজ করার প্রস্তুতি রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট মায়ানমার থেকে নিক্ষেপ করা ২টি মর্টার শেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় ঘুমধুমের তুমব্রু’র উত্তরপাড়া মসজিদের কাছে পড়ে। এ ঘটনার পাঁচ দিন পর গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘুমধুম এলাকায় দুটি গোলা পড়ে এবং ৯ সেপ্টেম্বর একে ৪৭ এর গুলি এসে পড়ে। তবে গত শুক্রবার মাইন বিস্ফোরণ ও গুলি-মর্টার শেল নিক্ষেপে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে বসবাসরত রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।